মিথ্যা অভিযোগ করায় সাত বছর পর প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিনোদ রাই

334
Ex-CAG Vinod Rai tenders apology to Sanjay Nirupam

News Desk: দীর্ঘ সাত বছর পর প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সঞ্জয় নিরুপমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন প্রাক্তন ক্যাগ বিনোদ রাই। সাত বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালে বিনোদ রাই অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন কংগ্রেস সাংসদ সঞ্জয় নিরুপম তাঁকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নাম টুজি কেলেঙ্কারি রিপোর্টে না রাখার জন্য চাপ দিয়ে চলেছেন।

২০১৪ সালে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিনোদ বলেছিলেন, কয়েকজন কংগ্রেস সাংসদ তাঁর উপরে প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন। তাঁরা চান, টুজি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত রিপোর্টে যেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নাম না থাকে। ওই অভিযোগ করতে গিয়েই রাই শুধুমাত্র সঞ্জয়ের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

‘নট জাস্ট অ্যান অ্যাকাউন্টেন্ট, দ্য ডাইরি অফ নেশনস কনসায়েন্স কিপার’ নামে একটি বই লিখেছিলেন প্রাক্তন ক্যাগ বিনোদ রাই। ওই বইটি প্রকাশের আগেই কংগ্রেস সাংসদ নিরুপমের বিরুদ্ধে টুজি কেলেঙ্কারির রিপোর্ট থেকে মনমোহন সিংয়ের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টির কথা বলেছিলেন। ওই বক্তব্যের জন্য অবশ্য বিনোদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন সঞ্জয় নিরুপম।

কিন্তু রাই কেন হঠাৎ করে নিরুপমের নাম বলেছিলেন? এ বিষয়ে বিনোদ জানিয়েছেন, আসলে ওইদিন সাক্ষাৎকার চলাকালীন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অসাবধানতায় এবং ভুলবশত মুখ ফসকে তিনি সঞ্জয় নিরুপমের নাম বলে ফেলেছিলেন। তাঁর ওই মন্তব্যের কারণে সঞ্জয় এবং তাঁর পরিবারকে যে কতটা কষ্ট ও আঘাত পেতে হয়েছে সেটা তিনি বুঝতে পেরেছেন। সে কারণেই নিজের কাজে তিনি অনুতপ্ত। তাই তিনি প্রকৃত সত্যটা আদালতের সামনে প্রকাশ করে দিলেন।

প্রাক্তন ক্যাগের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতে বৃহস্পতিবারই টুইট করেছেন সঞ্জয়। তিনি বলেছেন, বিনোদের উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। সঞ্জয় টুইট করেন, শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন ক্যাগ বিনোদ রাই আমার দায়ের করা মানহানির মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেন নয়াদিল্লির পাতিয়ালা হাউসে। তবে শুধু আমার কাছে ক্ষমা চাওয়াটা কোন বড় কথা নয়। বিনোদের উচিত টুজি ও কয়লা ব্লক কেলেঙ্কারির বিষয়ে যে সমস্ত ভুল রিপোর্ট পেশ করেছেন সেজন্য গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। একইসঙ্গে সঞ্জয় জানিয়েছেন, বিনোদ ভুল স্বীকার করার পর তাঁর দিক থেকে তিনি প্রাক্তন ক্যাগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, তাঁদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল তার অবসান হয়ে গিয়েছে। পাতিয়ালা হাউস আদালতে সঞ্জয় এই কথা জানালে তাঁর বয়ান রেকর্ড করে মামলাটির অবসান ঘোষণা করেন বিচারক।