কৃষকদের হাত কেটে ও চোখ উপড়ে নেওয়ার হুমকি দিলেন বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা

504
Arvind Sharma

News Desk: আন্দোলনরত কৃষকদের হাত কেটে নেওয়া হবে। তাদের চোখও উপড়ে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিলেন হরিয়ানার (Hariyana) বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা (Arvind Sharma)। বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে যথারীতি দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এক বছর ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন।

প্রশ্ন হল, হঠাৎ করে কেন কৃষকদের এ ধরনের হুমকি দিলেন সাংসদ শর্মা। শুক্রবার হরিয়ানার বিজেপি নেতা মণীশ গ্রোভার রোহতকের Rohotak) কিলোই গ্রামে একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। মণীশের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু, রোহতকের মেয়র মনমোহন গয়াল (Monmohan Goyal), বিজেপি নেতা সতীশ নন্দাল-সহ (Satish Nandal) আরও কয়েকজন বিজেপি নেতা।

বিজেপি নেতা মণীশকে ওই মন্দিরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন স্থানীয় কৃষকরা। আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, বিজেপি নেতা মণীশ আন্দোলনরত কৃষকদের ‘বেকার, মদ্যপ, বাজে লোকজন’ বলে অভিহিত করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্য বিজেপি নেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে। যতক্ষণ না ওই বিজেপি নেতা ক্ষমা চাইবেন ততক্ষণ তাঁকে আটকে রাখা হবে। এভাবেই ওই বিজেপি নেতাকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেতে মনীশ কৃষকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন। ক্ষমা চাওয়ার পরই কৃষকরা মণীশকে মন্দির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দেন। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে মণীশ কৃষকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। শনিবার তিনি বলেছেন, আমাকে বাইরের লোকজনের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে বলা হয়েছিল। আমি হাত নেড়েছিলাম, কখনওই ক্ষমা চাইনি। আমার যখন ইচ্ছা হবে তখনই এই মন্দিরে আসব। দেখব আমায় কে আটকায়!

রাজ্যের মন্ত্রী-সহ অন্য নেতাদের এভাবে আটকে রাখার কারণে কৃষকদের ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ হন বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা। এই কীর্তিমান সাংসদ এদিন বলেন, যারা তাঁর বন্ধু মণীশ-সহ অন্য বিজেপি নেতাদের বিরোধিতা করবে তিনি তাদের চোখ উপড়ে নেবেন। এমনকী প্রয়োজনে হাত কেটে নিতেও দ্বিধা করবেন না।

যথারীতি বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হরিয়ানা, পাঞ্জাব সহ অন্যান্য রাজ্যের কৃষক নেতারাও ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। অনেকেই একধাপ এগিয়ে শর্মাকে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন। কেউ বলেছেন, ওই মন্তব্যের জন্য অরবিন্দ শর্মাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।