পাকিস্তানের জয়ে উল্লাসকারীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ যোগীর

310
Pakistan victory

News Desk Kolkata: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের পর যারা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতা বা ইউএপিএ ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর উত্তরপ্রদেশের পাঁচ জেলায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সাতজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়া এবং পাকিস্তানের জয় উদযাপন করার মতো অভিযোগ উঠেছে। এই ৫ জনকে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশের দাবি ওই পাঁচজন সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক প্রচার চালিয়ে ছিল। এখনও পর্যন্ত পুলিশ যে পাঁচজনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তারা আগ্রা, সীতাপুর, লখনউ ও বরেলির বাসিন্দা ।

পুলিশে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের পর কিছু সমাজবিরোধী বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানি মূলক প্রচার চালিয়েছে। দেশ বিরোধী স্লোগান দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ এ ধরনের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত- পাকিস্তানের খেলার পরে গোটা দেশজুড়ে একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই ম্যাচের পর বেশ কিছু পাকিস্তান সমর্থক উল্লাস প্রকাশ করেন। যদিও তারা ভারতের নাগরিক।

পাশাপাশি বেশ কিছু পাকিস্তান সমর্থককে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগও ওঠেছে। দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এর আগে জম্মু-কাশ্মীরে দুটি মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন ছাত্র পাকিস্তানের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। ওই ডাক্তারি ছাত্রদের বিরুদ্ধে ও ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের জয়ে কয়েকজন মেডিক্যাল পড়ুয়ার উল্লাস প্রকাশের ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন ডাক্তারি পড়ুয়া এক তরুণী। অনন্যা জয়সোয়াল নামে ওই তরুণীকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অনন্যার অভিযোগ, আবদুল্লা গাজী নামে এক ব্যক্তি টুইট করে তাঁকে কালপ্রিট, পুলিশ ও আরএসএসের চর বলে কটাক্ষ করেছেন।

অনন্যার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অনন্যা বলেছেন, পাকিস্তানের জয়ের পর কয়েকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। তিনি তার প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। অনন্যার দাবি, তিনি পুলিশ বা সংঘ পরিবার কারও চর নন।