বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ! অপহরণকারী সিআইডি, মুক্তিপণের দরকষাকষিতেও ওস্তাদ

492

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে ফের অপহরণের অভিযোগ। ফের শেখ হাসিনার সরকার বিব্রত। বিবিসি জানাচ্ছে, অপহরণে জড়িত সিআইডি বিভাগ। পুলিশের একাংশের এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ব্যবসায় বারবার আলোড়িত হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিণতি জানতে চেয়ে সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল চিঠি পাঠায়। জানা গিয়েছে এই চিঠির ধাক্কায় বিব্রত শেখ হাসিনার সরকার।

বিবিসি জানাচ্ছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বাড়ি থেকে দুজনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির তিনজন সদস্যকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর ও রংপুরের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চিরিরবন্দর উপজেলা সদরের সোলেমান শাহপাড়ায় সোমবার রাতে নাটকীয় কায়দায় বাড়ি থেকেই মা ও ছেলেকে অপহরণ করে নেয় একদল ব্যক্তি। পরে জানা গিয়েছে অপহরণকারীরা রংপুরের পুলিশ বিভাগের কর্মী। ওই নারীর স্বামী ও এক আত্মীয়কে ফোন করে তাদের মুক্তির জন্য পনের লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আট লাখ টাকা মুক্তিপণ রফা হয়।

মঙ্গলবার অপহরণকারীদের টাকা নিতে আসতে বলা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। ধাওয়া করে দিনাজপুর সদরের দশমাইল নামক স্থান থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ঘটনাটি স্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে বারবার অপহরণের অভিযোগে ঢাকার রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত হয়েছে। কখনও সেনাবাহিনির বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সেই অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতা কর্মীরা পুলিশ কর্তৃক অপহরণের শিকার হন।

অপহরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের চিঠি এসেছে স্বীকার করেছ্ন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন। তিনি জানান, অবশ্যই জবাব দেব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণকে কাছে সেই চিঠি পাঠিয়েছি। উত্তর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে জবাব পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, এমন ধরনের কোনও চিঠির জবাব ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড দেয় না। মায়ানমার পাত্তাও দেয় না। আমরা সজাগ আছি বলে উত্তর দিই।

রাষ্ট্রসংঘের পাঠানো চিঠিতে অপহৃতদের তালিকায় বেশিরভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এই চিঠির প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সবকিছু গুরুত্ব নিয়ে দেখে। কেউ অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে দেখে।