""
Sunday, October 2, 2022
Homeপুরাণ কথাপুরাণ কথা: জগন্নাথ ও রথযাত্রার ইতিহাস-দ্বিতীয় পর্ব

Latest Posts

পুরাণ কথা: জগন্নাথ ও রথযাত্রার ইতিহাস-দ্বিতীয় পর্ব

আগামী সোমবার, ২৭ আষাঢ় অর্থাৎ ইংরাজির ১২ জুলাই শুভ রথযাত্রা৷ প্রথম পর্বে জগন্নাথ মূর্তি ও মন্দিরের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আমরা জেনেছি৷ দ্বিতীয় পর্বে আমরা জানবো রথযাত্রা কী এবং কেন হয়? যা নিয়ে লিখলেন টিঙ্কু মণ্ডল৷

- Advertisement -

সোমবার, ২৭ আষাঢ় অর্থাৎ ইংরাজির ১২ জুলাই শুভ রথযাত্রা৷ প্রথম পর্বে জগন্নাথ মূর্তি ও মন্দিরের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আমরা জেনেছি৷ দ্বিতীয় পর্বে আমরা জানবো রথযাত্রা কী এবং কেন হয়? যা নিয়ে লিখলেন টিঙ্কু মণ্ডল

রথযাত্রা হল হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ এই উৎসবটি কাঠের তৈরি রথে করে কাঠের তৈরি বিগ্রহকে পরিভ্রমণ করানো হয়৷ কথিত আছে, দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে নিয়ে রথে করেই বৃন্দাবনে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন৷ সেই স্মৃতি মাথায় রেখেই আজও এই উৎসব পালিত হয়৷ প্রকৃত অর্থে রথ উৎসব শুরু হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দিয়ে৷ এখন জেনে নেওয়া যাক, কী এই স্নানযাত্রা?

- Advertisement -

প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পুরীতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা আয়োজিত হয়৷ এদিন মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি তুলে এনে স্নান মন্ডপে তা স্থাপন করা হয়৷ তারপর সুগন্ধি জল দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়৷ স্নানের পর শুরু হয় মূর্তির সাজসজ্জা৷ কথিত আছে, ১০৮ ঘড়া জলে স্নানের পর জ্বরে কাবু হয়ে পড়েন জগন্নাথ দেব৷ তাই এই সময় তাঁকে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়৷ রথ পর্যন্ত বিশ্রাম নেন তিনি৷ ফলে সেই সময় ভক্তদের দর্শন দেন না জগন্নাথ দেব৷ এমনকী এই ক’দিন জগন্নাথের পুজোও বন্ধ থাকে৷ তারপর জ্বর থেকে উঠে রথে চেপে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন জগন্নাথ দেব৷ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা রথ চড়ে ‘গুন্ডিচার’ বাড়ি যান৷ যা জগন্নাথ দেবের ‘মাসির বাড়ি’ নামে পরিচিত৷ জগন্নাথ দেবের ‘মাসির বাড়ি’ পর্যন্ত রথ চড়ে যাওয়াকে বলে ‘সোজা রথ’৷ এরপর সাতদিন মাসির বাড়িতে থাকার পর সেই রথে চড়েই পুনরায় নিজের মন্দিরে ফেরেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা৷ তাঁর মাসির বাড়ি থেকে মন্দিরে ফিরে আসার এই যাত্রা ‘উল্টো রথ’ নামে প্রসিদ্ধ৷

রথযাত্রায় তিনটি বিগ্রহ তিনটি আলদা আলাদা রথে থাকে৷ এই রথ গুলির বিশিষ্ট্যও আলাদা৷ সবার প্রথমে থাকে বড় ভাই বলরামের রথ৷ এই রথের নাম তালধ্বজ৷ ১৪টি চাকা বিশিষ্ট এই রথটির উচ্চতা ৪৪ ফুট৷ আর রথের আবরণ নীল রঙের হয়৷ তারপর থাকে সুভদ্রার রথ৷ যার নাম দর্পদলন৷ এই রথটি ১২টি চাকা-সহ ৪৩ ফুট উচ্চতার অধিকারী৷ এই রথের মাথায় একটি পতাকা থাকে৷ যার মধ্যে একটি পদ্মচিহ্ন আঁকা আছে৷ তাই এই রথটিকে পদ্মধ্বজও বলা হয়৷ এই রথটি আবরণ লাল রঙের হয়৷

সর্বশেষে থাকে জগন্নাথ দেবের রথ৷ এই রথটির উচ্চতা ৪৫ ফুট৷ আর এই রথে থাকে ১৮টি চাকা৷ এই রথটির নাম নন্দীঘোষ৷ এই রথের মাথায় যে পতাকা থাকে, তাতে কপিরাজ হনুমানের মূর্তি আঁকা থাকে৷ তাই এই রথের আর এক নাম কপিধ্বজ৷ জগন্নাথ দেবের রথটি সম্পূর্ণ লাল ও হলুদ কাপড় দিয়ে মোড়া থাকে৷ রথের দিন প্রতিটি রথকে ৫০ গজ দঁড়িতে বেঁধে আলাদা আলাদা করে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মাসির বাড়ির দিকে৷ এই রথকে আমাদের দেহ এবং বিগ্রহগুলিকে আমাদের আত্মার সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে৷

প্রতি বছর পুরীর রথযাত্রার উদ্বোধন করেন এখানকার রাজা৷ রাজত্ব না-থাকলেও বংশপরম্পরায় পুরীর রাজপরিবার আজও আছে এবং সেই নিয়মানুসারে যিনি রাজা উপাধি পান তিনি পরপর তিনটি রথের সামনের অংশ সোনার ঝাড়ু এবং সুগন্ধি জল দিয়ে ঝাঁট দেন৷ তারপর পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন এবং রথের দঁড়িতে টান পড়ে৷

কথিত আছে, যে ব্যক্তি রথে চড়ে জগন্নাথ দেবকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দর্শন করাবেন ভগবান তাঁদের প্রতি অশেষ কৃপা বর্ষণ করবেন৷ ‘বৃহন্নারদীয়’ পুরাণে ভগবান নারায়ণ স্বয়ং লক্ষ্মী দেবীকে বলেছেন, ‘‘পুরুষোত্তম ক্ষেত্র নামক ধামে আমার কেশব মূর্তি বিরাজওমান৷ মানুষ যদি কেবল সেই শ্রী বিগ্রহ দর্শন করেন, তবে খুব সহজেই আমার ধামে আমার কাছে ফিরে আসতে পারবে৷’’

আজ আমরা জানলাম, ভারতের সব থেকে প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান গুলোর মধ্যে ওডিশার পুরী অন্যতম বিশেষ তীর্থস্থান রূপে প্রতিষ্ঠিত৷ পুরীর রথযাত্রার মাহাত্ম্যও প্রচুর৷ তবে কালক্রমে শুধু পুরীতেই নয়, এই উৎসবের প্রচলন ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভ্ন্ন অঞ্চলে৷ এর মধ্যে হুগলির শ্রীরামপুরে মাহেশের রথযাত্রা, পুর্বমেদিনীপুরের মহিষাদলের রথযাত্রা, মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরের রথযাত্রা খুবই প্রসিদ্ধ৷ এমনকী বাংলাদেশের ধামরাই জগন্নাথের রথ বিশেষ প্রসিদ্ধ৷ তৃতীয় অর্থাৎ শেষ পর্বে আমরা এই অঞ্চলের রথ উৎসব সম্পর্কে জানবো৷
‘জয় জগন্নাথ’

- Advertisement -

Video News

Top News Headlines

Latest Posts

Don't Miss