ভারতের রহস্যময় দুর্গে উধাও হয়েছিল বরযাত্রী

479
mysterious fort of India

নিউজ ডেস্ক: ভারত একদিকে যেমন মন্দিরের দেশ ঠিক তার পাশাপাশি আমাদের দেশে দুর্গের অভাব নেই ।দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক দুর্গ আছে যার বিষয়ে কেউ জানে না। প্রাচীনকালে তৈরি দুর্গের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য রহস্য ।এমন অনেক রহস্য রয়েছে যা এখনও ভেদ করা সম্ভব হয়নি।

ঠিক এমনই একটি রহস্যময় দুর্গ হল গঢ়কুন্ডার দুর্গ। এই দুর্গটি উত্তরপ্রদেশ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।হাজার হাজার বছর আগে এই দুর্গটি তৈরি করা হয়েছে ।এই দুর্গটিতে পাঁচটি তলা আছে।দুটি তলা মাটির তলায় এবং বাকি তিনটি মাটির উপরে। এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গটি। এটি কবে এবং কে বানিয়েছি তার তথ্য আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনুমান করা হয় দুর্গটি প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ বছর পুরনো ।এখানে চন্দেলো, বুন্দেলো এবং খঙ্গারের মতো শাসকেরা শাসন করেছেন।

গঢ়কুন্ডার দুর্গটি সুরক্ষার দৃষ্টি থেকে তৈরি করা এমন একটি শক্তপোক্ত নমুনা যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেবে। দুর্গটী এমন ভাবে বানানো হয়েছে ম যে এই দুর্গটি ৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়। কিন্তু কাছাকাছি আসতেই আর দেখা যাবে না দুর্গটি। যে রাস্তা থেকে আপনি দুর্গটি দেখতে পাচ্ছেন যদি সেই রাস্তা থেকেই দুর্গে পৌঁছাতে চান তাহলে আপনি অন্য কোথাও পৌঁছে যাবেন। দুর্গটিতে যাওয়ার জন্য অন্য একটি গুপ্ত পথ রয়েছে।

গঢ়কুন্ডার এই দুর্গ ভারতের সবথেকে রহস্যময় দুর্গের মধ্যে একটি ।স্থানীয় লোকেরা বলেন অনেক বছর আগে এই গ্রামে একটি বরযাত্রী এসেছিল। বরযাত্রী দুর্গটিতে ঘুরতে আসে। দুর্গটির ভেতরে ঢুকে দুর্গটিকে দেখতে চায়। কিন্তু রহস্যময় ভাবে বরযাত্রীর একজনেরও আর কোনদিন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের সঙ্গে কি হয়েছে,তারা কোথায় গেছেন তা আজ পর্যন্ত অজানা ।এরপরেও এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে এই রহস্যময় দুর্গটিতে যার ফলে ভেতরে ঢোকার জন্য নিচের যে দরজা রয়েছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই দুর্গটি কোন ভুল ভুলাইয়ার থেকে কম নয়। ভালো করে তথ্য না থাকলে ভেতরে গিয়ে যে কোন মানুষ পথ হারিয়ে ফেলবে। ভিতরটা এতটাই অন্ধকার যে দিনের বেলায় মানুষ দুর্গটি দেখে রীতিমত ভয় পায়।
বলা হয় দুর্গটির মধ্যে একটি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। যেটা খোঁজার চেষ্টা করায় একাধিক মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ইতিহাস বলছে এখানকার রাজাদের কাছে বিপুল পরিমাণের গুপ্ত ধন ছিল ।তবে তার খোঁজ করার চেষ্টা অনেকে করলেও এখনও পর্যন্ত কেউই সফলতার মুখ দেখেনি।