বাংলাদেশের আলোচিত নায়িকা সামসুন্নাহার স্মৃতি (পরীমনি) মা হয়েছেন, এমন খবরে রুপোলি মহল টলিউডেও আলোড়ন। ঢাকাইয়া ছবি অর্থাৎ ঢালিউড নায়িকা টলিউডেও বিশেষ পরিচিত।
নায়িকা পরীমনি অন্তঃসত্ত্বা। সন্তানের বাবা বাংলাদেশেরই তরুণ অভিনেতা শরিফুল রাজ। সোমবার পরীমণি নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত বছরের ১৭ অক্টোবর শরিফুল রাজকে বিয়ে করেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘গুণীন’–এর শুটিং করতে গিয়ে প্রেমে পড়েন তারা।
পরীমনি বলেন,কয়েকদিন ধরেই বুঝতে পারছিলাম। সোমবার ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার আমাদের নিশ্চিত করেন। খবরটি পেয়ে আমরা দুজনই কেঁদে ফেলেছি। ডাক্তার আমাকে এখন একটু সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন। শুটিং থেকেও আমি এখন নিজেকে দূরে রাখছি। আগামী দেড় বছর কোনো শুটিং করব না। একদম ছুটি, আমার দেড় বছরের ছুটি। বাচ্চাকে সুন্দরভাবে পৃথিবীতে আনতে চাই। প্রপারলি সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে চাই।
রাজের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে পরীমনি বলেন, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাজ আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। সার্বক্ষণিক আমার পাশে ছিল। সেই সময়ই আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। যা দ্রুত ভালোবাসায় রূপ নেয়। এরপরই আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।
সোমবার দুপুরে রাজের ফেসবুক আইডি থেকে পরীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ নিজেই। সোমবার দুপুরে একটি ছবি শেয়ার শরিফুল রাজ লিখেছেন, ‘অভিনন্দন রাজ। ধন্যবাদ পরী।
]]>বন্দি নুর হোসেনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সে জেল থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়ে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভোট করানোর তালিম দিচ্ছিল। ঢাকার গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর কনডেম সেলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে মোবাইল।
নুর হোসেনের ফাঁসির সাজা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এমন অবস্থায় নির্বিকার এই আন্তর্জাতিক অপরাধী। ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৫ জানুয়ারি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ (সংশোধনাগার) এর কনডেম সেল থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ।
জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর কনডেম সেলে নূর হোসেনসহ তিনজন বন্দি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি প্রাক্তন কাউন্সিলর নূর হোসেন। সে কনডেম সেলে বসে গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছে। ওই কনডেম সেল থেকে একটি মিনি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিল নুর হোসেন। সে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (পুর নিগম) এর প্রাক্তন কাউন্সিলর।
আলোচিত সাত খুন মামলা
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ কেঁপে গিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার সহ সাতজনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে।
অভিযোগ ছিল প্রকাশ্যে এই সাতজনকে অপহর়ন করিয়েছিল নূর হোসেন। এতে জড়িত সেনাবাহিনী ও ব়্যাব বাহিনীর কিছু সদস্য অফিসার। মৃতদের আত্মীয়দের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই মামলার মোড় নেয় নূর পলাতক হওয়ার পর। চাপের মুখে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের সাহায্য নেয়। নূর হোসেনকে কলকাতার কাছে বাগুইআটি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের কিছু অফিসারদের মদতে ভয়াবহ এই সাত খুন মামলায় বিশ্বজোড়া চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধৃত নূরকে কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে।
নূর হোসেনের অপরাধ জালের বিস্তার কনডেমড সেল পর্যন্ত ছড়ানো। এতেই চমক। যার ফাঁসি হবে সে কী করে প্রভাব খাটিয়ে কনডেমড সেল পর্যন্ত মোবাইল নিতে পারে, জেলের রক্ষীদের মধ্যে কে তার ঘনিষ্ঠ এই নিয়ে প্রশাসনের কড়া সমালোচনা চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি। সেখানকার দুটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভাই-ভাইপোকে জেতাতে মরিয়া নূর। জেলের কনডেম সেলে বসেই মোবাইল ফোনে ভোট কীভাবে হবে তার তালিম দিয়ে যাচ্ছিল নূর হোসেন।
]]>নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশি দেশের এমন জয়ে অভিনন্দন এসেছে ভারত থেকে।
বাংলাদেশ-ভারত এই দুই দেশের কূটনৈতিক মৈত্রী সম্পর্কের ৫০ বছর চলছে। এই প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির তরফে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন বার্তা যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে টেলিফোন করে অভিনন্দন বার্তা দেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকায় বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের টুইট বার্তায় জানানো হয়, “টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বিদেশমন্ত্রী)”।
৫ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের নেতৃত্বে বছরের প্রথম টেস্টে শক্তিশালী কিউইদের হারিয়ে বেশ কিছু রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকা নিউজিল্যান্ড ১৭ টেস্ট পর প্রথম পরাজয় বরণ করলো।
বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ইংরাজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী টুইটে জানান ২০২১ সাল ছিল আমাদের গভীর সংহতি এবং বন্ধুত্বের বছর। ২০২২ সালে সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্মাণ করব বলে সম্মত হয়েছি। টুইটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান ড. এস জয়শংকর।
উপমহাদেশের দেশগুলিতে বিশেষত ভারত, পাকিস্তানের মধ্যে বারবার ক্রিকেট কূটনীতি হয়। এই কূটনীতিতে ক্রমে বাংলাদেশ ঢুকেছে। বাংলাদেশেের ক্রিকেট সফলতা এর কারণ।
কূটনৈতিক মহলের আরও ধারণা, সাম্প্রতিক তানিবান কব্জায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দ্বিতীয়বার চলে যাওয়ার পর কাবুল থেকেও ক্রিকেট কূটনীতি চলছে। তালিবান শাসকরা নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরেছে।
]]>বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বায়ু মানের সূচক (একিউআই) ছিল ১৯৭ যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও উত্তর ম্যাসিডোনিয়ার স্কোপজ শহর যথাক্রমে ১৮৯ ও ১৮৪ একিউআই সূচক নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরণ বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩) কে ভিত্তি করে।
গবেষণায় এসেছে, একিউআই সূচক ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
একিউআই সূচক ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। একিউআই সূচক ৩০১ থেকে ৫০০ বা তারও বেশি হলে বাতাসের মান ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়।
প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোনো ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়।
এই হিসেবে ঢাকা ও নয়াদিল্লি একে অপরকে টপকে যেতে মরিয়া দৌড় শুরু করেছে। এই দৌড় যে মরণ দৌড় তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
]]>বাংলাদেশেও ফের করোনা সংক্রমণের গতি বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাতেই সংক্রমণ সর্বাধিক। পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন খুলনা, রাজশাহি, রংপুর বিভাগগুলির পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এই বিভাগগুলিতেই বিভিন্ন সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী বেশি।

মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, যদি কারোর টিকা না নেওয়া থাকে সেই ব্যক্তি কোনও রেস্তোরাঁয় ঢুকতে পারবেন না। মাস্ক ব্যবহার না করলে জরিমানা ধার্য হবে।
পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের জেরে ফের আরোপিত হয়েছে বিধিনিষেধ। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি বিচার করে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করার কথা চিন্তা করছে শেখ হাসিনার সরকার। জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে।
বাড়তে থাকা সংক্রমণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, আমরা সারাক্ষণই করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আমাদের মনে হয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য ক্লাস কমাতে হবে, কমিয়ে দেব। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হবে।
দীপু মনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে মার্চ মাসে এদেশে সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। তাই মার্চ মাস না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বোঝা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মানলে আমরা সংক্রমণ কম রাখতে পারব। এরইমধ্যে কয়েকজনের দেহে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তাই আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
মার্চ-এপ্রিলে আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মহম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের পুরো প্রস্তুতি জানুয়ারিতে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৪০ জন।
]]>সুন্দরবনের ভয়াল রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঢুকেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার লোকালয়ে। এই নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানীর নগর জীবন সরগরম।
আস্ত একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার এসেছে ছাগল খেতে। ক্ষুধার্ত সুন্দরবনের এক রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে উদ্ধার করেছেন ধামরাইয়ের স্থানীয় জনতা।বাঘটি এই উপজেলার নবগ্রাম চরপাড়ায় মহম্মদ আব্দুল হালিমের তত্বাবধানে রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বেনাপোল, হিলি অথবা পার্বতীপুর সীমান্ত পথে ভারতে এই বাঘটি পাচার করা হচ্ছিল। কোনওরকমে সেটি পালন। এরপর জঙ্গল, কলাবাগান কিংবা কবরস্থানের ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয়। খিদে পেলে বাঘটি লোকালয়ে আসে।
শুক্রবার ধামরাইয়ের কৃষক মহম্মদ আব্দুল হালিমের বাড়ির একটি ছাগল ধরে নিয়ে আমবাগানের ভেতর খাচ্ছিল ওই বাঘটি। পথচারীরা শব্দ শুনতে পেয়ে ভয়ে আঁতকে ওঠে। পরে এলাকাবাসী লাঠিসোটা আর মোটা সুতার জাল নিয়ে বাঘটিকে ঘেরাও করে আটক করেন।
ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহম্মদ সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, বাঘটি লোকালয়ে ছাগল খাওয়ার জন্য এসে জনতার হাতে ধরা পড়ে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলেই বাঘটি হস্তান্তর করা হবে।
]]>ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ওই নারী বেশধারী ধর্ষক নিজেকে গুনিন পরিচয় দিয়েছে। তার নাম আবদুল মান্নান। অভিযুক্তর মেডিকেল টেস্টের পর প্রমাণ হয় আবদুল মান্নান নারী রূপ নিয়ে কিশোরীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে। তার ছদ্ম নাম অ্যানি জাহান।
তদন্তে উঠে এসেছে, মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকা এক কিশোরীকে গুনিনের কাছে নিয়ে যান মা বাবা। অভিযোগ, প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রাতে রোগীকে তার বাসায় থাকতে হবে বলে নিদান দেয় গুনিন আবদুল মান্নান ওরফে অ্যানি জাহান। সে ঘোষণা করে, পোষা জিন ডেকে চিকিৎসা করাবে। মেয়েটির অভিভাবক তাতে রাজি হন। প্রায় দেড় বছর চিকিৎসা হলেও রোগ আর সারেনি।
কিশোরীর অসুস্থতা বাড়ে। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে আসে ধর্ষণের ঘটনা। অভিযোগ, আবদুল মান্নান নারী ছদ্মবেশে চিকিৎসার নামে কিশোরীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেছে দিনের পর দিন। পুরো ঘটনা সামনে আসতেই নিজেকে নারী দাবি করে অভিযোগ খণ্ডানোর চেষ্টা করে আবদুল মান্নান ওরফে অ্যানি জাহান। মামলায় জামিনও মেলে তার। পরে পুলিশের তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায়, সে আসলে পুরুষ। মেয়েটিও ধর্ষণের শিকার।
কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার সিকদার মহিতুল আলম জানান, ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আবদুল মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধর্ষিতা কিশোরী মানসিক সমস্যার শিকার। তার এক আত্মীয়ার মৃত্যুর পর থেকে সে ভয় পেতে শুরু করেছিল। তার আচরণ অস্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রতিবেশীদের পরামর্শে কামরাঙ্গীরচরের খলিফাঘাট এলাকার গুনিন অ্যানি জাহানের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সে জানায়, কিশোরীর ওপর জিনের নজর পড়েছে। জিন ছাড়াতে হলে তার কাছে সপ্তাহে দু রাত থাকতে হবে।
অন্ধ বিশ্বাসের ফলে মেয়েকে গুনিনের কাছে রেখে চলে আসেন মা-বাবা। পরে মেয়ের শরীরে আঁচড়ের দাগ দেখে তারা কারণ জানতে চান। গুনিন ব্যাখ্যা দেয়, রাতে জিন তাকে আঁচড় দিয়েছে। এভাবেই সময় গড়াতে থাকে। কবিরাজের নির্দেশে কিশোরীকে নিয়ে চলতি বছরের জুন মাসে মেয়েটির সিলেটে যায় গুনিন। সেখানে হোটেলে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ঢাকায় আসার পর কিশোরীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করে গুনিন অ্যানি জাহান ওরফে আবদুল মান্নান। এর পরেই মামলার মোড় নেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তার মেডিকেল টেস্ট হয়। আপাতত পুলিশের জালে নারী বলে নিজেকে পরিচয় দেওয়া আসলে পুরুষ ধর্ষক আবদুল মান্নান।
]]>ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১০ জন যাত্রীর প্রত্যেকে ক্রিটিক্যাল এমনই জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা। লঞ্চের আগুন জখম আরও ৭০ জনের চিকিৎসা চলছে বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শতাধিক যাত্রীর কোনও খোঁজ নেই।
বরিশাল বিভাদের ঝালকাঠিতে এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা। কারণ, লঞ্চে আগুন ধরে যাওয়ায় তারা জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ মেরেছিলেন। যারা কোনওরকমে পাড়ে উঠতে পেরেছেন তারা ভয়াবহ মুহূর্তে বর্ণনা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে বরিশালের বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে আগুন ধরে। সুগন্ধা নদীর উপর আগুনে জ্বলছিল পুরো লঞ্চ।
যাত্রীরা জানিয়েছেন ইঞ্জিনরুমের পাশে ক্যান্টিন, সেই ক্যান্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ধরে যায় ডিজেলে। এর পরেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, লঞ্চে পাঁচ শতাধিক যাত্রী থাকলেও আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তবে ঠিক কতজন লোকের মৃত্যু হয়েছে এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।
এই দুর্ঘটনার জেরে বাংলাদেশ নৌ পরিবহণ মন্ত্রক চরম বিতর্কে। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অভিযোগ, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও দেশের নৌ পথ পরিবহণ ব্যবস্থা যে কত খারাপ তার উদাহরণ এই দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর শোক জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিহত ও আহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নিহতদের প্রতি পরিবারকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুর্ঘটনাস্থল জুড়ে হাজার হাজার মানুষের কান্না। পুড়ে যাওয়া লঞ্চ এমভি অভিযান থেকে সারি সারি মৃতদেহ বের করা হয়েছে।
]]>মানবপাচার চক্রের চক্রের দলপতি রেজাউল হক ওরফে সেলিম। তার দুই সহযোগী মহম্মদ বুলবুল আহমেদ মলিক ও নিরঞ্জন পাল। ধৃতদের জেরা করে কলকাতা ও দিল্লির টর্চার সেলের সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।
কলকাতায় কারা এই চক্রে জড়িত?
ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে কলকাতার রাজিব খান, মানিক ও দিল্লির রবিন সিং এই চক্রের এজেন্ট। গত কয়েক বছর ধরে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মানব পাচার করে আসছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও অষ্ট্রেলিয়ার পাঠানোর কথা বলে চাকরি প্রার্থীদের গোপনে ভারতে আনা হতো। কলকাতা ও দিল্লির টর্চার সেলে চলত অকথ্য নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ভিকটিমদের আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়ে আদায় করা হতো লাখ লাখ টাকা।
মুক্তিপণের ব্যবসা
ঢাকার মিরপুর থেকে ধৃত মানব পাচারকারীদের কাছে নকল পাসপোর্ট, ভিসা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চাকরি প্রার্থীদের বলা হতো, ভারত থেকে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া সুবিধা তাই কলকাতা ও দিল্লি যেতে হবে। ভারতে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমদের প্রথমে সেফ হাউসে রাখা হতো। তারপর তাদের ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন। এসব নির্যাতন চিত্রের ভিডিওধারণ করে বাংলাদেশে থাকা ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাত চক্রটি। পরিবারকে তারা এসব ভিডিও দেখিয়ে বলত, মুক্তিপণ না দিলে ভিকটিমকে মেরে ফেলবে। প্রিয়জনকে বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি করে চক্রটির সদস্যদের হাতে টাকা তুলে দিতেন আত্নীয়রা।
মঙ্গলবার র্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তিকে ভারত পাচার করে চক্রটি। কলকাতায় আটক থাকেন জাহাঙ্গীর। কলকাতার টর্চার সেলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তার পরিবারকে চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করে পাচারকারী চক্রটি। দেশে এসে জাহাঙ্গীর চক্রটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দেওয়া তথ্য ও অভিযোগ যাচাই করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই চক্রের মূলহোতা সহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
]]>পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের দিনও একইভাবে বাংলাদেশের নজরে ছিলেন। রাজধানী ঢাকা সহ সব বিভাগের সংবাদপত্রের ওয়েব সংস্করণ, টিভি চ্যানেল ও ওয়েব পোর্টালের শিরোনামটিও দখল করেছিলেন মমতা।
বাংলাদেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপরিচিত। তবে সমালোচিতও। কারণ, তাঁর অনড় অবস্থানে ‘তিস্তা পানি বন্টন’ (জল বন্টন) হয়নি। যদিও ভারত সরকার আগ্রহী এই চুক্তিতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি দৌত্য ব্যর্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘না’ মনোভাবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, শুখা মরশুমে তিস্তার জল এমনিতেই কম থাকে, তখন কোনওভাবেই প্রতিবেশি দেশে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ঢাকার যুক্তি, তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়মে এই জলের অংশীদার বাংলাদেশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জমানার আগে বামফ্রন্ট জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ও কূটনৈতিক অবস্থানে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি হয়। সেই কারণে প্রয়াত জ্যোতি বসুর বিশেষ কদর এখনও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের এখন ভোটের ভাঁড়ে মা ভবানী। বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামেরা।
ঢাকায় আলোচনা, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তিস্তা চুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হলে সেই চুক্তির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছেন। তাঁর অবস্থান বদলাবে না। ফলে তিস্তা চুক্তি এখন দুরাশা।
এত সবের পরেও মমতার খবরেই নজর বাংলাদেশের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা রংপুর, রাজশাহি, খুলনার মফস্বলে চলছে চর্চা।
]]>
সৌরভ সেন: ১৯৭১। আমার কিশোরবেলা। তখন এ-বাংলায় রাজনৈতিক কারণে হানাহানি ও অস্থিরতা আমাদের দ্রুত ‘বড়’ করে তুলছে। কাগজে রাজনৈতিক খবর পড়ায় বেশ আগ্রহ। আগের বছর, মানে ১৯৭০-এ স্কুলে হাফ-ইয়ারলি, অ্যানুয়েল কোনও পরীক্ষাই হতে পারেনি। সরাসরি পরের ক্লাসে। ‘মন্থর বিকেলে শিমুল তুলোর ওড়াউড়ি’র মতন সোডার বোতল ছোড়াছুড়িও সহজ, ছন্দোময় হয়ে উঠেছে। চোখের সামনে পেটো পড়া-ও তখন দৃষ্টি বা শ্রুতিতে গ্রাহ্য। এধার-ওধার থেকে খুনের খবর আসে। পাড়ায়-পাড়ায় সিআরপি-র রুট মার্চ কিংবা কুম্বিং অপারেশনে বাড়িতে ঢুকে মাঝরাতে পুলিশের খানাতল্লাশি তখন নগরজীবনের অঙ্গ।
এহেন সময়ে স্বাধীন বাংলা-র হিল্লোল! পাক-বাহিনীর বর্বরতার ছবি কাগজে-কাগজে, হত্যালীলার বিবরণ। গুলিতে হত্যা, বেয়োনেটে খুঁচিয়ে হত্যা— কত যে প্রকার! ইয়াহিয়া খান একটা আস্ত জল্লাদ, এমন একটা ছবি মনে আঁকা হয়ে গেছে। অনেক পরে শিল্পী কামরুল হাসান-চিত্রিত জল্লাদের (জানোয়ার) ছবিটি দেখে অবাক হই। মনে-আঁকা ছবির সঙ্গে প্রায় মিলে যাচ্ছে! লক্ষ-লক্ষ শরণার্থীর স্রোত। প্লাস্টিক ছাউনিতে, কংক্রিটের পাইপে তাদের আস্তানা। ধু-ধু সল্ট লেক তখন সবে গড়ে উঠতে শুরু করেছে। সেখানেও ৭২ ইঞ্চি পাইপের মধ্যে বসতি। ইতিমধ্যে লোকসভা ভোটে জিতে ইন্দিরা গান্ধী নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব আরও পোক্ত করে নিয়েছেন। দেশে-দেশে তাঁর দৌত্য, ছুটোছুটি কাগজে পড়ছি। নিক্সন, কিসিঞ্জার— এসব নাম শুনলে গা রি-রি করে। অন্য দিকে মনে পড়ছে— সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে ঘুরলেন। কাগজে প্রথম পাতায় বিবরণ। শরণার্থীদের ত্রাণের জন্য বিপুল খরচের বোঝা ভারত সরকারের কাঁধে। খবরের কাগজ, সিনেমার টিকিট— এসবের ওপর অতিরিক্ত মাশুল চাপল। চিঠিপত্রে ডাকমাশুল বাড়ল ৫ পয়সা। একটি অতিরিক্ত স্ট্যাম্প সাঁটতে হত। প্রথম-প্রথম ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের ডাকটিকিটে ‘রিফিউজি রিলিফ’ ছাপ মারা হত, পরে নতুন টিকিট ছাপা হল।

মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি চলেছিল আরেক যুদ্ধ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের— যাকে অনেক পরে গোটা বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘ওআরএস’ বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন। তখন সীমান্ত-অঞ্চলে শরণার্থী শিবিরগুলোয় কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক ভাবে। এপারের ডা. দিলীপ মহলানবিশ, ওপারের ডা. রফিকুল ইসলাম ওআরএস-এর সফল প্রয়োগ শুরু করলেন। এছাড়াও, নলজাতকের স্রষ্টারূপে চিরস্মরণীয় ডা. সুভাষ মুখোপাধ্যায় শরণার্থীদের অপুষ্টি-রোধে বানিয়েছেলেন ‘ফিশ প্রোটিন কনসেনট্রেট’।
মুক্তিযুদ্ধের খবর আসছে। ছবিও ছাপা হচ্ছে। ‘রাজাকার’, ‘আল বদর’ নামগুলো জানতে শুরু করেছি। এপারের অনেক সাংবাদিক ওপারে গিয়ে জীবন্ত বিবরণ আনছেন। কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে অন্তর্বর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়ে গেছে, মুজিবনগরে। টিভি তো তখন আসেনি। আকাশবাণী কিন্তু এক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল! নিয়াজি-র আত্মসমর্পণের ছবিতে প্রথম সারিতে দিল্লির সংবাদপাঠক সুরজিৎ সেন! কানে শুনতে পাচ্ছি সেই মন্দ্র কণ্ঠ— “দিস ইজ অল ইন্ডিয়া রেডিও, নিউজ রেড বাই সুরজিৎ সেন…”। কলকাতা কেন্দ্রের প্রণবেশ সেন, উপেন তরফদার, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা স্মরণে থেকে গেছে। ‘সংবাদ-বিচিত্রা’য় গ্রাউন্ড লেভেলের সরাসরি রিপোর্ট। রেডিও-য় শুনে-শুনে প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল শেখ মুজিবের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতা— “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম…”। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’। কলকাতারই এক ঘাঁটি থেকে চলত সম্প্রচার। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ অধিবেশন শুরু হত, যদ্দূর মনে পড়ছে। ও-বাংলার সময়ানুযায়ী বেলা একটা নিশ্চয়ই। শুরুতেই বাজানো হত গান : “জয় বাংলা, বাংলার জয়…”।
তারপর তো ডিসেম্বরের তিন তারিখে পাকিস্তানের বোমাবর্ষণ, ভারতের যুদ্ধঘোষণা। পুব ও পশ্চিম রণাঙ্গন। মার্কিন সপ্তম নৌবহর আসছে! কী হয়, কী হয়! রসিকজনের রটনা কিনা জানা নেই, তবে ছড়িয়ে গেল— আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবনবাবু নাকি অক্লেশে বলেছেন : আমাদেরও আই এনএস বিক্রান্ত্ আছে! বিক্রান্ত্ ছিল তখন ভারতের একমাত্র এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার। তবে সপ্তম নৌবহরের কাছে নস্যি! যা হোক, বিক্রান্ত্ কিন্তু খুলনা থেকে চট্টগ্রাম অবধি নাগাড়ে পাহারা দিয়ে গেছে। সেই বিক্রান্ত্-কে বছর-আষ্টেক আগে লোহার দরে বেচে দেওয়া হল। দু’ ফোঁটা চোখের জল কেউ ফেলেছিল কি?
যুদ্ধ চলছে। ফেনি, আখাউড়া, ঝিনাইদহ, হিলি, বয়রা, ঝিকরগাছা ইত্যাদি নামগুলো ম্যাপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নিচ্ছি। পালাতে গিয়ে পাক-সেনারা সেতু, রেলপথ, ভবন সব নষ্ট করে দিচ্ছে। পদ্মার ওপরে সুবিখ্যাত সারা (হার্ডিঞ্জ) ব্রিজের একটা গার্ডার ধ্বংস করা হল। বয়োজ্যেষ্ঠরা হায়-হায় করে উঠলেন। কলকাতায় ব্ল্যাক-আউট চলছে। সন্ধের পর বাইরে কুপকুপে অন্ধকার। ঘরের মধ্যে আলো না-ঠিকরানো বিশেষ ল্যাম্পশেড। একচিলতে আলোও বাইরে গেলে পুলিশে সতর্ক করে যায়। আকাশে প্লেনের আওয়াজে হামলার আশঙ্কা। টালা ট্যাঙ্ক, হাওড়া ও বালী ব্রিজ নাকি ‘দুশমনে’র পয়লা নিশানা!
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়। যুদ্ধ শেষ। জন্ম নিল স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। সারা দেশে উচ্ছ্বাস। এ-বাংলায় অন্য এক উন্মাদনা। দেয়ালে-দেয়ালে লিখন। দু’ দেশের জাতীয় পতাকার ছবি। তবে তখন কিন্তু বাংলাদেশের পতাকা আঁকা ছিল বেশ ঝঞ্ঝাটের! কারণ মধ্যিখানে ছিল সে-দেশের মানচিত্র। সেটি নিখুঁত আঁকা বেশ কষ্টসাধ্য। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামের আগে জুড়ে গেল বিশেষণ ‘এশিয়ার মুক্তিসূর্য’, যা এ-বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরবর্তী কয়েক বছর ব্যবহৃত হয়েছে।
’৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভাষার জোর এতটাই যে ধর্মকে পরাভূত করে সেই রাষ্ট্রের জঠর থেকে নতুন এক রাষ্ট্র জন্ম নিল দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ এক অনন্য নজির।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় এ-বাংলার শিল্পসাহিত্যেও দাগ রেখে গেছে। গান, কবিতা ও অন্যান্য সৃষ্টিতে মাতোয়ারা হয়েছিল মানুষ। আজ ইচ্ছে করলে সেসবের আস্বাদ নেওয়া যায়। বৈদ্যুতিন তথ্যভাণ্ডার এখন অতি সমৃদ্ধ। শুধু একটি গানের হদিশ পেতে ব্যর্থ হয়েছি। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা ‘পারাপার’ :
আমরা যেন বাংলা দেশের/ চোখের দুটি তারা।/ মাঝখানে নাক উঁচিয়ে আছে—/ থাকুক গে পাহারা।/ দুয়োরে খিল/ টান দিয়ে তাই/ খুলে দিলাম জানলা।/ ওপারে যে বাংলাদেশ/ এপারেও সেই বাংলা।।
<
p style=”text-align: justify;”>পঞ্চাশ বছর আগে এটি গান হিসেবে গাওয়া হত। সুরারোপ কার জানা নেই। আমি নিজে অনুপ ঘোষাল-কে অনুষ্ঠানে গাইতে শুনেছিলাম। ছোট্ট গান, জমজমাট সুর, এখনও দিব্যি মনে আছে। তবে কোনও মাধ্যমেই আর শুনি না, খোঁজ পাই না। পুনরুদ্ধার করা যায় কি?
]]>আক্ষরিক অর্থেই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেষ হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি শাসন। ঢাকার গভর্নর জেনারেল ড. আবদুল মোতালেব মালিক (ড. মালিক) কাঁপা কাঁপা হাতে পদত্যাগ পত্রে দস্তখত করেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান সরকার পতনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী লন্ডনের ‘The Daily Observer’ সংবাদপত্রের ঢাকা প্রতিনিধি ডেভিড ইয়ং (Gavin David Young)।

বোমা হামলায় গভর্নর হাউসের ছাদ ভাঙার পর
মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে ১৪ ডিসেম্বর পাক সেনা পরিবেষ্টিত গভর্নর হাউসে (এখনকার বঙ্গভবন) ঢুকেছিলেন ডেভিড ইয়ং। ভিতরে চলছিল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালিকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পদত্যাগ নাকি যুদ্ধ চলবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গভর্নর দ্বিধান্তিত ছিলেন। সেই বৈঠক চলার মাঝেই ঢাকার আকাশ জুড়ে ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের চক্কর কাটা শুরু হয়। অলি গলি, বিভিন্ন বাড়ির ছাদে জীবন হাতে রেখে উঠে এসে ঢাকাবাসী চিৎকার শুরু করলেন জয় বাংলা আ আ আ…।

ঢাকার আকাশে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্যারাট্রুপার অপারেশন শুরু
গভর্নর হাউসে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিনিধি ও রয়টার্স সংবাদ সংস্থার সঙ্গে হাজির ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ইয়ং সংবাদে লিখেছেন, বৈঠকের মাঝে শুরু হয়ে গেল ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণ। বৃষ্টির মতো বোমা পড়তে শুরু করেছে। পরপর বোমা হামলায় গভর্নর হাউসের বিখ্যাত দরবার হলের ছাদ হড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল।
জীবন বাঁচাতে পাক গভর্নর ড মালিক দৌড়ে বাগানে ট্রেঞ্ঝের ভিতর ঝাঁপ দিলেন। এমনই সংবাদ ছিল রয়টার্সের।
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ইয়ং লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের সরকার থাকবে না পদত্যাগ করবে এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিল ভারতীয় বিমান হামলা। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝে অফিসের একটা বাতিল সাদা কাগজে বল পয়েন্ট পেন দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে পদত্যাগ পত্র লিখলেন গভর্নর ড. মালিক।
পদত্যাগ পত্র লেখার আগে গভর্নর ড.মালিক ধর্মীয় কিছু নিয়ম পালন করেন। বোমা হামলার মাঝেই তিনি এসব করেছিলেন। সংবাদে এমনই লিখেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ইয়ং।

বর্তমান বঙ্গভবন
পঞ্চাশ বছর আগের ১৪ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের পতন হয়ে গেছিল। গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেই ড. আবদুল মোতালেব মালিক রাষ্ট্রসংঘ প্রতিনিধির সাহায্যে আশ্রয় নিলেন আন্তর্জাতিক রেডক্রস অধীনস্ত যুদ্ধনিরপেক্ষ স্থান ঢাকার বিখ্যাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। শেষ হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তানের শাসন।
ঢাকার সেই গভর্নর হাউস বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি বাসভবন। বঙ্গভবন হিসেবে সুপরিচিত। এই ঐতিহাসিক ভবন ঘিরে বারবার সেনা বাহিনীর বন্দুক বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি করেছে। বিশেষত ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর বঙ্গভবন ঘিরে সেনাবাহিনীর দু পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান-ক্ষমতা দখলের রোমহর্ষক মুহূর্ত।
]]>উপমহাদেশের ইতিহাসে এত বড় মাপের বুদ্ধিজীবী খুনের কারণ কী? গবেষণায় উঠে এসেছে, পাকিস্তান সরকার চেয়েছিল যে ভূখণ্ড হাতছাড়া হতে চলেছে তাদের সরকার যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। মেধাশূন্য জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করুক।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সংঘর্ষ শুরু থেকে টানা নয় মাসের পুরো সময়ে পাকিস্তানি সেনা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জ্ঞানী-গুণী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হত্যা করেছে। ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব না, তখন তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দুর্বল এবং পঙ্গু করে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে।
জেনারেল রাও ফরমান আলির পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী শুরু করল অভিযান। কবি সাহিত্যিক, শিক্ষক, অধ্যাপক, আইনজীবী, শিল্পী, কলাকুশলী, নাট্যকার, যাকে যেমন পারল তুলে আনল পাক সেনা। এর পর শুরু হয় গণহত্যা। তাদের ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত দেহ ঢাকার রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে পরে মিলেছিল। অনেকের দেহ শনাক্তও করা যায়নি। বহুজন এখনও নিখোঁজ।
১৯৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরের এই গণহত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। পাক বাহিনী আত্মসমর্পণের পর নবগঠিত বাংলাদেশের সরকার পাক জেনারেল রাও ফরমান আলির নোটবুক বাজেয়াপ্ত করে। সেই নোটবুকেই লেখা ছিল বহু নাম।
]]>বাংলাদেশি শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার স্বামী ভারতীয় তথা পশ্চিমবঙ্গের চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ফলে তিনিও বিতর্কের মুখে পড়ছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি নীরব।
মিথিলা জানিয়েছেন, ইভ্যালি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় তিনি এখনও শমন (নোটিশ) পাননি। ইভ্যালির কারণে উল্টো তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, যাদের নাম দেখে ইভ্যালিতে যুক্ত হয়েছিলাম, তাদের নাম বলতে পারব না। তাদের নাম বললে তো বাংলাদেশেই থাকতে পারব না। তারা অসম্ভব ক্ষমতাধর মানুষ। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি বেশি কিছু বলতে পারব না। মামলা যেহেতু হয়েছে, এখন আমাকে আমার মতো আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশের সংস্থা ইভ্যালির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে হওয়া মামলায় ঢালিউডের অভিনেতা ও গায়ক তাহসান খান, অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়া সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জল্পনা।
মিথিলার নাম মামলায় উঠে আসায় চাঞ্চল্য পশ্চিমবঙ্গে। টলিউডে কানাঘুষো চলছে। পরিচালক সৃজিতের সঙ্গে ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিথিলা।
অভিযোগ, বাংলাদেশের ই কমার্স সংস্থা ইভ্যালির সঙ্গে ঢালিউডের বেশ কয়েকজন কলাকুশলী জড়িত। গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধানমণ্ডি থানায় প্রতারণা মামলাটি করেন সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। অভিযুক্তরা যে কোনও সময় গ্রেফতার হতে পারেন। শুক্রবার এমনই জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ(ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান। এই সংবাদে ঢাকা ও কলকাতায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মূলত সৃজিত পত্লী মিথিলার কারণেই আলোচনা তুঙ্গে টলিউডে।
ইভ্যালির সঙ্গে তিনি নেই নিশ্চিত করেছেন মিথিলা। তিনি জানিয়েছেন, আমি ওই সমস্থায় যোগদানের পর দুই মাসের মধ্যে দেখি প্রতিষ্ঠানটিতে নানা জটিলতা চলছে। আগে তো এত কিছু টের পাইনি। তবে আমি চাই না এই সময়ে ইভ্যালি সংশ্লিষ্ট কোনো খবরে আসতে। আমার আরও অনেক কাজ আছে, সেগুলো নিয়েই এখন ব্যস্ত।
]]>নাগাল্যান্ডের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে ভারতের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারে। প্রতিবেশি দেশের নাগাল্যান্ড রাজ্যে কী ঘটেছে ও কেন ঘটেছে তার সদুত্তর সে দেশ থেকে চাক মার্কিন বিদেশ দফতর।
শুরু হয়ে গিয়েছে শেখ হাসিনা ও জো বাইডেন সরকারের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই। ঢাকা-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সংঘাতে গরম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ইস্যু।
সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ ও রাজস্ব দফতরের তরফে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত করেছেন দেশটির অন্যতম নিরাপত্তা বাহিনী ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (RAB) একাধিক প্রাক্তন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ করে বাতিল করা হয়েছে বর্তমান পুলিশ প্রধান সহ ব়্যাব বাহিনীর মোট ৭ শীর্ষ প্রাক্তন কর্তার ভিসা। তারা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনওভাবেই প্রবেশ করতে পারবেন না বলেই জানানো হয়।
বাংলাদেশে তদন্তের নামে গুমখুন, অপহরণ করার ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলি শেখ হাসিনার সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে। তবে সরকারের দাবি দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা হয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে এবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আগেই। আগামী ১৬ ডিসেম্বর হবে এই অনুষ্ঠান। আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, ভুটানের রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আসছেন। এর মাঝে মার্কিনি নিষেধাজ্ঞার ধাক্কায় বিড়ম্বিত শেখ হাসিনার সরকার।
তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, র্যাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক। যে কোনো অভিযোগ তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও প্রতিবছর ৬ লাখ লোক নিখোঁজ হন।
শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, বাংলাদেশ সরকারের তরফে ডেকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে। তার কাছে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনে পাঠানো হবে বলেই জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) বাহিনীর ভূমিকা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আলোচিত। অপরাধ ও জঙ্গি দমনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় এই সশস্ত্র বাহিনীকে। বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্তে অংশ নেয় এই বাহিনী। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, যাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি তো মনে করি তাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াটা বস্তুনিষ্ঠ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোধ হয় অতিরঞ্জিত কোনো খবর পেয়ে, সেটার ওপর ভিত্তি করে এটা করেছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যাদের নাম:
১. র্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
২. ব়্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
৩. ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মহম্মদ আজাদ
৪. ব়্যাবের প্রাক্তনঅতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার
৫. ব়্যাবের প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. জাহাঙ্গীর আলম
৬. ব়্যাবের প্রাক্রন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. আনোয়ার লতিফ খান।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও বিএনপির মধ্যে টানাপোড়েনের মাঝে আন্তর্জাতিক চাপ আসতে শুরু করল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিন। এই মর্মে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ড. আইভান স্টেফানেক। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে স্থানীয় সময় বুধবার এই চিঠি পাঠান তিনি। চিঠিতে ড. আইভান স্টেফানেক বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপির দাবি, তাদের দলনেত্রীকে মুক্তি দিতে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফেও আবেদন করা হয়েছে। সরকারে থাকা দল আওয়ামী লীগের দাবি, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি।
বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া এতিমখানা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত খালেদা জিয়ার মোট ১৭ বছরের জেলের সাজা হয়। তিনি জেলে ছিলেন । তবে করোনা সংক্রমণ ও বয়স জনিত অসুস্থতার কারণে জেল থেকে বাড়িতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
ঢাকার বাড়িতে থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। এরপর বেশ কয়েকবার তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া ফের অসুস্থ হন। তাঁকে ঢাকার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।
গত বুধবার রাত থেকে খালেদা জিয়ার অন্ত্রে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা ইনজেকশন দিয়ে তা বন্ধ করতে সক্ষম হন। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও রক্তক্ষরণ হলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। তবে ওইদিন দুপুরের আগে তার সেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে বলে মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান।
]]>বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী অসৌজন্যমূলক কথা বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ। তাঁর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হচ্ছে মুরাদ হাসানকে।
বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বারবার অশালীন কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের এক মহিলা সদস্যকে নিয়েও অশ্লীল মন্তব্য করেন মুরাদ হাসান। এর জেরে বিএনপি সমর্থকরা সরাসরি মন্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এবার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে (মাহিয়া শারমিন আকতার নিপা) ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে তুলে আনার হুমকি। আরও অভিযোগ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ফোনেই নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি অডিও ক্লিপ। যেখানে কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অপর প্রান্তে ঢালিউড নায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহি। অভিযুক্ত মন্ত্রী বারবার নায়িকাকে চলে আসার জন্য বলছেন।
জানা গিয়েছে ফোনটি এসেছিল ঢালিউড নায়ক ইমনের কাছে। তাকে ফোন করেছিলেন মন্ত্রী। তিনি নায়িকা মাহির সঙ্গে কথা বলতে চান। ইমন ফোন ধরিয়ে দেয়। ইমনের সাফাই, এই ফোনে মাহির সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানি না। আর এটি বছর দেড়েক আগের কল।
নায়িকা মাহিয়া মাহি জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবে আছেন। ফোন আসার পর তাঁর উপর প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল।
]]>প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় বন্দি ছিলেন জেলে। কোভিড পরিস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। তবে দেশের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিদেশে করানোর দাবিতে সরব বিএনপি। শনিবার সকালে দলটির এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুব পরিষ্কার করে সরকারের কাছে বলতে চাই আর বিলম্ব করবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ দেশের জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। আপনাদেরকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে এবং এই আন্দোলনই হবে এই সরকার পতনের শুরু।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, অনেকে গুম হয়ে গেছে, অনেকে খুন হয়েছে, কারাগারে এখনও আমাদের ছাত্রনেতারা নির্যাতন ভোগ করছে। এ দেশকে মুক্ত করতে হলে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে আজকে যুবকদের জেগে উঠতে হবে, তরুণদের জেগে উঠতে হবে, ছাত্রদলকে জেগে উঠতে হবে। বাংলাদেশে সব বিজয় অর্জন হয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপি নেত্রীর বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিতে এই সমাবেশ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি হাতে নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে ব্যাপক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে এই সড়কে একটা পর্যায়ে যানবাহন চালাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
]]>সড়ক ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে পড়ুয়ারা। তাদের দাবি, ফুটবলে যেমন বেনিয়ম করলে রেফারি লাল কার্ড দেখায়, সড়কে বেনিয়ম করার জন্য তেমনই লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।
সম্প্রতি পরপর দুর্ঘটনার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পড়ুয়াদের মৃত্যু ও বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফের শুরু হয়েছে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপর ঢাকায় পরপর বাসে আগুন ধরানো হয়। পরে শুরু হয় আন্দোলন।
চাপের মুখে ঢাকা পরিবহণ পড়ুয়াদের ‘হাফ’ ভাড়ার দাবি মেনে নেয়। তবে পড়ুয়াদের দাবি, কেবল ঢাকা মহানগরে নয়, ‘হাফ’ ভাড়া চালু করতে হবে পুরো বাংলাদেশে।
১১ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শনিবার ঢাকার রামপুরা ব্রিজের জমায়েত থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে। তাদের দাবিগুলির অন্যতম, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধ, গাড়ি চালককে একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি ডিউটি দেওয়া যাবে না।
]]>News Desk: গণহত্যার চরম শাস্তি। ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে খুনের মামলায় দোষীদের ফাঁসির সাজা বাংলাদেশে (Bangladesh)। তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে সাজাপ্রাপ্তদের। সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে এতজনকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নেই, তেমন অন্য কোনও দেশেও ঘটেনি।
বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১১ সালে শবে বরাতের রাতে ঢাকার আমিনবাজারে ছয় জন ছাত্রকে গণপ্রহারে খুন করা হয়। সেই মামলায় ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।ওই মামলায় ২৫ জনকে নির্দোষ বলে খালাসের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
২০১১ সালের ১৭ই জুলাই শবে বরাতের রাতে ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজারে ওই ছয় জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
প্রথমে বলা হয়েছিল যে ডাকাত সন্দেহে ছাত্রদের গণপ্রহার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে প্রথমে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হশ্র। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত শেষে কমিটি নিহত ছাত্রদের নিরাপরাধ বলে মতামত দেয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে খুনের মামলায় এরপর তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ২০১২ সালে সিআইডি থেকে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন তদন্তের ভার নেয়।
তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে এই ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়।