सूत्रों के मुताबिक, बुधवार सुबह से ही नगालैंड के कई हिस्सों में लगातार बारिश हो रही है। बारिश के कारण कई जगह भूस्ख्लन होने से यातायात बाधित हो गया है। मुख्य रूप से राष्ट्रीय राजमार्ग-29, जो कि राजधानी कोहिमा को दिमापुर को जोड़ता है, में कई जगह भूस्खलन हुआ है।
इस कारण यातायात बाधित हुआ है। इसके साथ ही कई जगह भूस्खलन से घरों को भी नुकसान पहुंचा है। हालांकि, अभी तक इसमें किसी के हताहत होने की खबर नहीं है। राहत और बचाव का कार्य जोरशोर से शुरू कर दिया गया है।
]]>সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন আফস্ফা (afspa) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক এমনই দাবি নাগাল্যান্ড সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলবাসীরা। এই দাবিকে সমর্থন করছে নাগাল্যান্ড, মেঘালয় সরকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বরাবরই আফস্ফার প্রত্যাহারের পক্ষে। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার আফস্ফার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে বলে জানাল।
গত ৩ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে অসম রাইফেলের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবি আরও জোরদার হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবিতে পথে নামে। নাগাল্যান্ড এবং মণিপুর, মেঘালয়ের সরকার কেন্দ্র সরকারের কাছে বিতর্কিত আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগাল্যান্ড বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। মোদী সরকার আফস্পা জারি রেখেছে।
বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ছয় মাস নাগাল্যান্ড উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বজায় থাকবে আফস্ফা। উল্লেখ্য, একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, সেনাবাহিনী তাদের এই বিশেষ আইন বলে সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। তাই এই আইন প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে দীর্ঘদিন ধরেই।
উল্লেখ্য, নয়ের দশকে অসম, নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের প্রায় সব রাজ্যকেই উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীর হাতে এই বিশেষ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি ছয় মাস অন্তর আফস্ফার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। ডিসেম্বরের প্রথমে ওটিং গ্রামে নিরীহ গ্রামবাসীদের মৃত্যুর পর অনেকেই মনে করেছিলেন, কেন্দ্র হয়তো আর নতুন করে আফস্ফার মেয়াদ বাড়াবে না।
স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে আফস্পা আইন থেকেই যায় তাহলে কি ওটিংয়ের ঘটনার যথাযথ তদন্ত আদৌ হবে? ছড়াচ্ছে ক্ষোভ।
]]>এমন উৎসবের দিনে কবরখানার নিঝুম ঠান্ডা ঘিরে রেখেছে নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামকে। এদিক ওদিক কিছু বেলুন হাওয়ায় দুলছে। গ্রামের মুখে স্যান্টাবুড়ো আছেন। তিনিও ঢুকতে সাহস পাননি। কারণ, ওটিং গ্রামে বড়দিন পালিত হবে না।

কয়েকদিন আগেই রক্তাক্ত হয়েছে এই গ্রাম। জঙ্গি সন্দেহে অসম রাইফেলস জওয়ানরা গুলি করে মারে ওটিং গ্রামের ১৪ জনকে। সবাই খনি শ্রমিক। সামনেই বড়দিন উপলক্ষে তখন ওটিং গ্রামে চলছিল প্রস্তুতি। গত ৩-৫ ডিসেম্বর ওটিং গ্রাম, উরি গ্রামের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছে। অসম রাইফেলসের গুলি, গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে পরপর রক্ষী ক্যাম্পে আগুন, ফের গুলি আরও একজনের মৃত্যু, জনতার রোষে এক জওয়ানের মৃত্যু সবই হয়েছে।
নাগাভূমির ওটিং গ্রাম ততক্ষণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত। সেই ভয়াবহ তারিখগুলো পেরিয়ে পুরো উত্তর পূর্বাঞ্চল জুড়ে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) বাতিল দাবি সরকারিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষোভে দুঃখে সরকারি ক্ষতিপূরণ ফিরিয়েছেন ওটিংবাসী।
সার সার দেহ সমাধিস্থ হয় এই গ্রামেই। ভয়াবহ করুণ এই দৃশ্য গোটা দেশকে নড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বড়দিন ব্রাত্য ওটিং গ্রামে। পুরো উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে চলেছে বিক্ষোভ।
শনিবার বড়দিন পালনে নামমাত্র কিছু মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবেন উরি-ওটিং গ্রামের বাসিন্দারা। চার্চে প্রার্থনা হবে। ব্যাস এইটুকুই। কালো বড়দিন পালিত হবে নাগাভূমির মন জেলায়।

ওটিং গ্রামের ঘরে ঘরে নিহতদের স্মরণে চাপা কান্না। থেকে থেকে চোয়াল শক্ত হয়েছে। নাগা জাতির সর্বব্যাপী সংগঠন নাগা হো হো জারি করেছে সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের সঙ্গে সবরকম অসহযোগিতার নির্দেশ। বৃহত্তর নাগা সম্প্রদায় কন্যাক গোষ্ঠির তরফে উত্তর পূর্বের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় বার্তা গেছে, আফস্পা আইন বাতিলে বৃহত্তর সংগ্রাম শুরু হবে।
নাগাল্যান্ড সরকার চিন্তিত। মন জেলায় জারি করা হয়েছে নৈশকালীন কার্ফু নিয়ম। সশস্ত্র নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির তরফে এসেছে প্রত্যাঘাতের হুমকি।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগুরু অংশ বসবাস করেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়ে। বিভিন্ন উপজাতি জনজীবনের মধ্যে পারস্পরিক বৈরিভাব থাকলেও সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFPSA) প্রয়োগ বাতিলে সবাই একাট্টা। এবারের বড়দিনের উৎসবকে কালো উৎসব চিহ্নিত করে আইনটি বাতিলের দাবিতে উত্তর পূর্বের রাজনৈতিক মহল গরম হচ্ছে।
<
p style=”text-align: justify;”>নাগাভূমির সর্বত্র বলা হচ্ছে ‘অমিত শাহ মিথ্যেবাদী’। কোহিমা, ডিমাপুরে জনসমাবেশ থেকে ক্রমাগত উঠছে আফস্পা বিরোধী স্লোগান।
]]>নাগাল্যান্ডের মন জেলায় নিহত ১৫ জন গ্রামবাসীর কবরের উপর রাখা আছে কিছু শুকনো ফুল। ওটিং গ্রামের ঘরে ঘরে নিহতদের স্মরণে চাপা কান্না। থেকে থেকে চোয়াল শক্ত হয়েছে।
নাগা জাতির সর্বব্যাপী সংগঠন নাগা হো হো জারি করেছে সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের সঙ্গে সবরকম অসহযোগিতার নির্দেশ। বৃহত্তর নাগা সম্প্রদায় কন্যাক গোষ্ঠির তরফে উত্তর পূর্বের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় বার্তা গেছে, আফস্পা আইন বাতিলে বৃহত্তর সংগ্রাম শুরু হবে।
নাগাল্যান্ড সরকার চিন্তিত। পরিস্থিতি যে কোনওসময় বিগড়ে যেতে পারে। মন জেলায় জারি করা হয়েছে নৈশকালীন কার্ফু নিয়ম। সশস্ত্র নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির তরফে এসেছে প্রত্যাঘাতের হুমকি।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগুরু অংশ বসবাস করেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়ে। বিভিন্ন উপজাতি জনজীবনের মধ্যে পারস্পরিক বৈরিভাব থাকলেও সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFPSA) প্রয়োগ বাতিলে সবাই একাট্টা। এবারের বড়দিনের উৎসবকে কালো উৎসব চিহ্নিত করে আইনটি বাতিলের দাবিতে উত্তর পূর্বের রাজনৈতিক মহল গরম হচ্ছে।
নাগাভূমির সর্বত্র বলা হচ্ছে ‘অমিত শাহ মিথ্যেবাদী’। কোহিমা, ডিমাপুরে জনসমাবেশ থেকে ক্রমাগত উঠছে আফস্পা বিরোধী স্লোগান।
]]>এনপিএফের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যের ১৫টি বিধানসভা আসনে তারা লড়াই করবে। তাৎপর্যপূর্ণ, এই আলাদা লড়াই করার কথা জোটে আলোচনা না করেই একতরফা ঘোষণা করা হয়েছে।
শরিক দলের অবস্থানে চিন্তিত বিজেপি। কারণ, রাজ্যের নাগা জাতি অধ্যুষিত এলাকায় এনপিএফ শক্তি দেখাতে মরিয়া। ১৫ টি আসনে তাদের একলা লড়াইয়ে বিজেপির ভোটে প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
একনজরে মনিপুর বিধানসভার অঙ্ক
মোট আসন ৬০
সরকারপক্ষের দখলে ৩৭টি
বিজেপি ২৮
এনপিপি ৪
এনপিএফ ৪
নির্দল ১
বিরোধীপক্ষ কংগ্রেসের দখলে ১৫
তৃণমূল কংগ্রেস ১
আসন খালি আছে ৭টি
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যে এমনও অনেক নেতা আছেন যারা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এদের নজরে রাখা হচ্ছে। জনসভা থেকেই পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মু়খ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরেই মনিপুর সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে আলোড়ন ছড়ায়। এন বীরেন সিংয়ের মন্তব্যে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের আলোচনা।
]]>অসম পুলিশ জানাচ্ছে, রাজ্যের কাছাড় জেলার সঙ্গে মনিপুরের সীমানাবর্তী এলাকা জিরিঘাট। এখানকার শামটিলায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জখম ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
অসমের কাছাড় জেলার সঙ্গে মনিপুরের আন্ত:রাজ্য সীমানা। হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান কাছাড় জেলা পুলিশ সুপার রমনদীপ কাউর সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রমনদীপ কাউর, পুলিশ সুপার, কাছাড় জেলা
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে মনিপুরের দিক থেকে হামলা চালানো হয়। এতে জড়িত নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনঅসসিএন (আই-এম) গোষ্ঠী। কাছাড়ের পুলিশ সুপার বলেছেন, মনিপুর সীমামায় শামটিলা গ্রামে কিছু নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবেশ করে। এই গ্রামে থাকা নাগা জাতির কয়েকজনের সঙ্গে বচসা হয়। এর পরেই গুলি চালায় নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন (আই-এম) জঙ্গিরা।
এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছে। কী করে তারা গুলি চালাতে পারে তাও প্রশ্নের। কাছাড় জেলা পুলিশ জানিয়েছে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। পরবর্তীতে আরও জানানো হবে।
অসমের কাছাড় জেলার সঙ্গে মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামের আন্ত:রাজ্য সীমানা। এই এলাকাগুলিতে বারবার হামলার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি অসম ও মিজোরাম আন্ত:রাজ্য সীমানায় দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে গুলির লড়াই হয়েছিল। এতে অসম পুলিশের একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়।
অসম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও মিজোরামের এই আন্ত:রাজ্য সীমানা এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি সক্রিয়। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বিচ্ছন্নতাবাদী নাগা গোষ্ঠী এনএসসিএন এখন কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। মূল দুই গোষ্ঠী হলো এনএসসিএন (আইএম) ও এনএসসিএন খাপলাং। দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি নাশকতা ঘটানো ও সেনা বাহিনীর উপর বিভিন্ন সময় হামলা করেছে।
]]>নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ডিমাপুর থেকে উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চিতা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল।
২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ডিমাপুরের সেই দুর্ঘটনায় চিতা হেলিকপ্টারটি মাটি থেকে উঠেই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পড়ে গিয়েছিল। ভিতরে ছিলেন বিপিন রাওয়াত ও অন্যান্যরা। অল্পের জন্য সবাই বেঁচে যান। পরে তদন্তে জানা যায় কোনও ষড়যন্ত্র নয় আসলেই ছিল দুর্ঘটনা।
২০১৫ সালে বিপিন রাওয়াতের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা প্রতিবেশি মায়ানমারের ঢুকে সেখানে থাকা নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই বছরেই মনিপুরে সেনা কনভয়ে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠী এনএসসিএন (খাপলাং) হামলা চালায়। এই হামলায় ১৮ জওয়ানের মৃত্যু হয়। এর প্রত্যাঘাত করতেই নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপর হামলা চালিয়েছিল সেনা বাহিনী।
নাগাল্যান্ড ফের রক্তাক্ত। গত শনিবার রাজ্যের মন জেলায় অসম রাইফেলসের গুলিতে ১৫ জন কয়লা খনির শ্রমিক মারা গেছে। ক্ষোভের মুখে পড়ে এক জওয়ান মৃত। মোট মৃত ১৬ জন। অসম রাইফেলস ঠান্ডা মাথায় গ্রামবাসীদের খুন করেছে বলে অভিযোগ মৃতদের আত্মীয় ও নাগা সংগঠনগুলির।এর জেরে নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী এনএসসিএন (আই-এম) গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখা নাগা আর্মি প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছে।
নাগাল্যান্ডের বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে তামিলনাডুতে বায়ু সেনার কপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলেন জেনারেল রাওয়াত। তিনি ছিলেন দেশের সর্বাধিক আগ্রাসী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র নাগা সংগঠনের কাছে আতঙ্ক।
]]>শনিবার অসম রাইফেলসের গুলিতে রক্তাক্ত হয়েছে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রাম। গুলিতে নিহত ১৫ জনের বেশিরভাগ ওটিং গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গুলি চালিয়ে এতজনকে খুনের পিছনে অসম রাইফেলসের নিশ্চই কোনও উদ্দেশ্যে ছিল।
বিভিন্ন নাগা সংগঠনের অভিযোগ, কেন্দ্রের এনডিএ সরকার চায়না নাগা শান্তি আলোচনা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাক। সেই আলোচনা বানচাল করতে অসম রাইফেলসকে ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থল ওটিং গ্রাম থেকে যে ছবি এসেছে তাতে স্থানীয়রা দাবি করেছেন,গুলি করে মেরে মৃতদের বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল অসম রাইফেলস। তাদের ফেলে যাওয়া গাড়িতে মিলেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএসসিএন সদস্যদের পোশাক। গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিরোধের মুখে সেটা করতে পারেনি জওয়ানরা।

গুলি চালিয়ে কয়লা খনির শ্রমিকদের মেরে ফেলার প্রতিবাদে চরম বিবৃতি দিয়েছে নাগা আর্মি। এই সশস্ত্র সংগঠনটি নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী এনএসসিএনের একটি শাখা।
পড়ুন: Nagaland: বড়দিনের আগেই রক্তাক্ত নাগাভূমি, নাগা পাহাড়ে ভয়ের মেঘ
নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগালিম বা এনএসসিএন নামে পরিচিত। ‘নাগালিম’ অর্থাৎ বৃহত্তর স স্বশাসিত নাগাল্যান্ড। এই দাবিতে দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে এনএসসিএন ভেঙে যায়। মূল এনএসসিএন ভেঙে প্রধান দুই গোষ্ঠী হল এনএসসিএন (আই-এম) ও এনএসসিএন (খাপলাং)।
নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দেলনের প্রধান তিন নেতা আইসাক চিচিসু, টি মুইভা ও এসএস খাপলাং। প্রথম দু়ই নেতার সংগঠন এনএসসিএন (আই-এম)। তাদের সদর দফতর ডিমাপুরের কাছে ক্যাম্প হেব্রন।
ভারতে থেকেও এই ক্যাম্প হেব্রনে কোনও ভারতীয় নিয়ম খাটে না। এখানে এনএসসিএন (আই-এম) গোষ্ঠাীর বিশেষ নিয়ম চলে। এলাকাটি নিয়ন্ত্র়ন করে সশস্ত্র বাহিনী নাগা আর্মি।
সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাঝে একাধিকবার হেব্রন ক্যাম্প ছেড়ে নাগা আর্মির সদস্যরা মায়ানমার গিয়ে অন্যান্য নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এক্ষেত্রে তীব্র আক্রমণাত্মক খাপলাং গোষ্ঠীর সঙ্গে নাগা আর্মির সংযোগ স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে।
<
p style=”text-align: justify;”>ভারি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত নাগা আর্মি ভারতীয় সেনার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করতে স্বক্ষম বলেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছেন। ভারতীয় সেনার নাগা রেজিমেন্ট যেমন বীরত্বের পরিচয় দেয়, ঠিক একইরকম আগ্রাসী নাগা আর্মি।
]]>মূলত, নাগাল্যান্ডে আধা সেনার গুলিতে গ্রামবাসীদের মৃত্যুর ঘটনার পর সরব হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। পরের দিনই নাগাল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের। কিন্তু নাগাল্যান্ডে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেই কর্মসূচি বাতিল হয়। এবার নাগাল্যান্ড নিয়ে অমিত শাহকে স্মারকলিপি দেবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। এদিন অমিত শাহের (amit shah) সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল। এর আগে, সাক্ষাতের সময় চেয়ে অমিত শাহকে (Amit Shah) চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া অডিটোরিয়ামে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করার সময় নাগাল্যান্ড গুলিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএসএফের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন থানার আইসি ও বিডিওরা সজাগ থাকুন। বিএসএফের ডিজি-র সঙ্গে কথা বলুন।’ বিএসএফের কথা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘বিএসএফ গ্রামে গ্রামে ঢুকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে, অভিযোগ আসে। এমনকী ভোটের লাইনেও তাদের দেখা যায়। তোমরা কী কখনও বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছ? পুলিশকে জানিয়ে মাত্র ১৫-২০ কিমি আসার কথা। কিন্তু পুলিশকে না জানিয়ে যেখানে সেখানে ঢুকে যায় ওরা।’
]]>সোশ্যাল সাইটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নিহত নাগাদের কাছে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতো পোশাক পরা কেউ ছিল না। কারোর মৃতদেহে তেমন কিছু মেলেনি। অথচ অসম রাইফেলসের টহলদার বাহিনীর কাছে কেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতো পোশাক ছিল?

স্থানীয় নাগা বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসম রাইফেলস আফস্পা আইনের অপব্যবহার করেছে। তারা নিরীহদের গুলি করে মেরে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সাজিয়ে দিতে চেয়েছিল। গ্রামবাসীরা সেটা রুখে দিতে পেরেছেন।
শনিবার নাগাল্যান্ডের মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রামের কাছে অসম রাইফেলসের গুলিতে মারা যান স্থানীয় কয়লা খনির শ্রমিকরা। সেই রেশ ধরে রবিবার অসম রাইফেলসের ক্যাম্পে হামলা করেন গ্রামবাসীরা। দুদিনের দফায় দফায় সংঘর্ষে মোট ১৬ জন মৃত। এদের মধ্যে ১৫ জন গ্রামবাসী ও এক জওয়ান। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও শোক প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ, শনিবার রাতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা জওয়ানদের ঘিরে ধরেন। তখন তাদের উপর আরেক দফা গুলি চালায় জওয়ানরা। গুলিবিদ্ধ দেহগুলি ঘটনাস্থলে পড়েছিল। কয়েকজন জখম হন। তাদের পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওটিং গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিহতদের দেহ একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অসম রাইফেলস জওয়ানরা। আরও অভিযোগ, মৃতদের দেহে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পোশাক পরিয়ে, আগ্নেয়াস্ত্র রেখে দেওয়ার ছক রুখে দেন গ্রামবাসীরা। তখনই অসম রাইফেলস ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আরেকদফা বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়।
ইতিমধ্যে গত শনিবার রাতে ওটিং গ্রামে গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থলে মৃতদেহ নিয়ে গ্রামবাসী ও জওয়ানদের বচসার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ভিডিও ঘিরে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্র উভয়পক্ষ।
]]>শনিবার দু’দফায় গুলি চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে নাগাল্যান্ডের মন জেলায় তুরি-ওটিং গ্রামে ১৫ জনকে গুলি করে অসম রাইফেলস। ক্ষোভের মুখে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকে দেশ তোলপাড়।
নিহত গ্রামবাসীরা কয়লা খনির শ্রমিক। তারা সবাই কন্যাক গোষ্ঠিভুক্ত। ফলে কন্যাক গোষ্ঠী প্রবল ক্ষুব্ধ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও নিজে কন্যাক গোষ্ঠীর। তিনিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দাবি করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা আইন বা আফস্পা বাতিলের।
কন্যাক ইউনিয়নের তরফে নাগাল্যান্ড জুড়ে চলছে শোক দিবস। সংগঠনের তরফে পিটিআই কে জানানো হয়, শোক পালনের এই এক সপ্তাহে জওয়ানদের টহল বরদাস্ত করা হবে না। এই হুঁশিয়ারি না মানলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ি থাকবে।
নাগাল্যান্ড সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্বত্র চলছে গুলি চালিয়ে খনি শ্রমিকদের মেরে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ। মিজোরাম ও মেঘালয় সরকারের তরফে আফস্পা আইন তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা, গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমাপুর ও মন জেলার সর্বত্র ক্ষোভ তীব্র। রাস্তায় টহলরত জওয়ানদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন উত্তেজিত যুবকরা। কোনওরকমে উর্ধ্বতন অফিসাররা সামাল দিচ্ছেন।
পড়ুন: Nagaland killings: প্যালেস্টাইন নয়! তবে সেরকমই বিদ্রোহী মেজাজ নাগাল্যান্ডে
কন্যাক ইউনিয়নের তরফে দাবি করা হয়েছে, গুলি চালনায় অভিযুক্ত ২১ জন অসম রাইফেলস জওয়ানদের বিচার করতেই হবে। বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা চলবে না। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন জাতির সংগঠনগুলি। সর্বত্র দাবি, আফস্পা তুলে নেওয়া হোক।
]]>হর্নবিল উৎসব বিশ্ববিখ্যাত পর্যটন উৎসবগুলির একটি। করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে গত ২ ডিসেম্বর এই আকর্ষনীয় পর্যটন মেলা শুরু হয়েছিল। নাগা উপজাতি সংস্কৃতি ভিত্তিক উৎসব দেখতে বিভিম্ন রাজ্য থেকে পর্যটকরা আসেন। তেমনই আসেন বিদেশিরা। এবারেও তাই হয়েছিল।
উৎসব চলাকালীন গত শনিবার নাগাল্যান্ডের মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রামে অসম রাইফেলস জওয়ানরা জঙ্গি সন্দেহে স্থানীয় কয়লা খনির শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের উপর দু দফায় গুলি চালায়। ১৫ জন গ্রামবাসীরা মৃত। ক্ষোভের মুখে পড়ে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জেরে দেশ আলোড়িত। নতুন করে দাবি উঠেছে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা আইন বা আফস্পা বাতিলের। গুলি চালানোর এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিখ্যাত হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল বন্ধ হয়। বিভিন্ন নাগা সংগঠন কালো দিন পালন করে। নাগাল্যান্ড জুড়ে চলছে ক্ষোভ ও শোকপালন। ক্ষোভ ছড়িয়েছে মনিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরার উপজাতিদের মধ্যে।
রাজ্যের মন জেলার তুরি ওটিং গ্রামে এখন বিষাদ ছায়া। পাশাপাশি দুটি গ্রামের বাসিন্দারা মৃত প্রিয়জনদের সমাধিতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, আফস্পা আইন। অভিযোগ এই আইনের অপপ্রয়োগ করেই অসম রাইফেলস গুলি চালিয়েছিল। যদিও কেন্দ্র সরকারের দাবি, জওয়ানরা মনে করেছিল জঙ্গিরা পালাচ্ছে। সেই কারণেই গুলি চালানো হয়। ভুল স্বীকার করেছে অসম রাইফেলস।
নাগাল্যান্ডে যে কোনও সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী এনএসসিএন খাপলাং গোষ্ঠীর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রবল। রাজ্যবাসীর ক্ষোভ চরমে। মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও নিহতদের পরিবার পিছু আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্র সরকারও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
]]>রাজধানী শহর কোহিমা হোক গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমাপুর বা রাজ্যটির অন্যত্র, যখন তখন সরাসরি অসম রাইফেলস জওয়ানদের ঘিরে নিচ্ছেন উত্তেজিত স্থানীয়রা। উগ্র মূর্তিতে জওয়ানদের সঙ্গে চলছে কথা কাটাকাটি। কিছু ক্ষেত্রে বয়স্করা এগিয়ে এসে যুবকদের সামলাচ্ছেন। আর উর্ধ্বতন অফিসাররা পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নাগাল্যান্ডের মন জেলায় অসম রাইফেলসের গুলিতে ১৫ জন শ্রমিক ও গ্রামবাসী নিহত। ক্ষোভের মুখে এক জওয়ান মৃত। মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। জঙ্গি সন্দেহে ভুল করে দফায় দফায় গুলি চালানোর ঘটনায় মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রাম দুটি রক্তাক্ত। এই ঘটনার জেরে পুড়েছে অসম রাইফেলস ক্যাম্প। বিভিন্ন সরকারি দফতরে হামলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দিয়ে জঙ্গি সন্দেহে গুলি চালানোর ঘটনা স্বীকার করেছেন।
তবে বিক্ষোভে ফুটছে নাগাল্যান্ড। ক্ষোভ ছড়িয়েছে মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও অসমে। এই রাজ্যগুলির পার্বত্য উপজাতি ও নাগা গোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রবল ক্ষোভ।

যে কোনও পরিস্থিতিতে নাগাল্যান্ড জুড়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে মন জেলায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। নাগা গোষ্ঠির ডাকা বনধ চলেছে সোমবার দিনভর। এই বনধের মাঝে প্রতিমুহূর্তে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন অসম রাইফেলস জওয়ানরা। কোথাও যুবকরা ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কোথাও তাদের বোঝাতে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন জওয়ানরা।
সশস্ত্র নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী NSCN খাপলাংয়ের হামলার আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। সেই কারণে টহলরত জওয়ানদের কনভয় ঘুরছে। তাদের দেখে ক্রমাগত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে স্থানীয়রা।
]]>শ্রমিকদের উপর অসম রাইফেলসের জওয়ানরা গুলি চালায় শনিবার। ঘটনাস্থলে ১৩ জন শ্রমিক মারা যায়। পরে আরও দু’জন মারা যায়। গুলিতে মোট ১৫ গ্রামবাসী মৃত। গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সপ্তাহ শেষের আনন্দে কয়লা খনির শ্রমিকরা নিজের ভাষায় আনন্দের গান গাইছেন। বাকিরা সেই গানে তাল মেলাচ্ছেন। এরা সবাই নাগাল্যান্ডের মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রামের বাসিন্দা বলেই দাবি করা হয়েছে।
তুরি-ওটিং দুটি গ্রামেরই বাসিন্দাদের দাবি, ভিডিওটি তোলা হয়েছিল অসম রাইফেলসের গুলি চালানোর আগে। তাঁরা আরও একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন। এই ভিডিও ভয়াবহ। এতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির উপর মৃতদেহের স্তূপ। একটার পর একটা দেহ গুলিবিদ্ধ। রক্তাক্ত দেহগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। চিতকার শোনা যাচ্ছে।
ভিডিও দুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল আলোড়ন ফেলেছে। নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অসম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশের সর্বত্র । সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পা (AFSPA) বাতিলের দাবি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে কেন্দ্র সরকারের উপর। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও ইতিমধ্যে আফস্পা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
]]>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নাগাল্যান্ডে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আগামী দিনে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা বাহিনী এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং এলাকায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি আত্মগোপন করে আছে। গোয়েন্দাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সেনাবাহিনীর ২১ জন কমান্ডো ওই সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিলেন। সে সময় একটি ট্রাক আসছিল। ট্রাকটিকে থামার নির্দেশ দেয় কমান্ডোরা। কিন্তু ট্রাকটি না থেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জওয়ানরা মনে করেছিলেন, ওই গাড়িতেই জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে। সে কারণেই তাঁরা ওই ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালান।
শাহ আরও জানিয়েছেন, ট্রাকটিতে থাকা আটজনের মধ্যে ৬ জন গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর দু’জনকে জওয়ানরাই নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
শাহ বলেন, গুলি চালানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে গ্রামবাসীরা এসে সেনাদের উপর চড়াও হয়। সেনাবাহিনীর দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের আক্রমণে এক জওয়ান শহিদ হন। কয়েকজন জখম হন। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের হাত থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার্থে ফের গুলি চালান জওয়ানরা। তাতেই আরও সাত গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করে চলেছে। সোমবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে এলাকা যথেষ্ট থমথমে এবং উত্তেজনা রয়েছে। শাহ আরও জানিয়েছেন, নাগাল্যান্ড পুলিশের ডিজি এবং পুলিশ কমিশনার ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন। তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। এক মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট মিলবে।
শাহ সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে আরও জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ফের অসম রাইফেলসের শিবিরে আরো প্রায় ৩০০ জন গ্রামবাসী আক্রমণ চালায়। আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। গ্রামবাসীদের হাত থেকে বাঁচতে সে সময় ফের গুলি চালাতে বাধ্য হন জওয়ানরা। এই গুলিতে আরও এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় যে সমস্ত জওয়ান জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং দোষী প্রমাণ হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। শাহ আরও বলেন, নাগাল্যান্ডের ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে কোনও সেনা অভিযানে যেন এমন দুর্ভাগ্যজনক না ঘটে তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে শাহ এদিন আরও একবার সংসদে জানিয়েছেন, শনিবারের ঘটনায় ওটিং গ্রামপ যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবার অবশ্যই উপযুক্ত বিচার পাবে।
]]>কিন্তু বিজেপির নাগাল্যান্ডের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তেমজেন ইম্মা আলং (temjen imma alang ) শনিবারের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ওটিং গ্রামে যা ঘটেছে সেটা যুদ্ধাপরাধের সামিল। নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়েছে সেখানে। অসম রাইফেলসের এই কাজের কোনও ব্যাখ্যা হতে পারে না। যে কারণেই এটা ঘটে থাকুক তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। একই সঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি তেমজেন বলেছেন, ঘটনার পর নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অসম রাইফেলস গোয়েন্দা দফতরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অজুহাত দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

শনিবারের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি বলেছেন, কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে নিহত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করা। মৃতদের পরিবারগুলির কোনও সদস্যকে চাকরি এবং যারা কোনও কারণবশত শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়বেন তাঁদের আজীবন দায়িত্বভার বহন করা।
নাগাল্যান্ড বিজেপি সভাপতি আরও বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও নাগা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমস্যা যখন মেটার মুখে ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের ঘটনা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। কেন্দ্র ও নাগা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের অনেক বেশি সংযম ও ধৈর্য দেখানো উচিত ছিল। শনিবার ওটিং গ্রামের কিছু নিরীহ ও সাধারণ মানুষ সারাদিন খনিতে হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের হাতে টিফিনের কৌটো, জলের বোতল ছাড়া কোনও কিছুই ছিল না। কিন্তু তা সত্বেও জওয়ানরা যেভাবে গুলি চালিয়ে নিরীহ মানুষকে খুন করেছে এটা যুদ্ধাপরাধের সামিল। এটা গণহত্যা ছাড়া কিছু নয়।
গুলি চালানোর ঘটনাকে জঘন্যতম অপরাধ বলে উল্লেখ করে নাগাল্যান্ড বিজেপি সভাপতি তেমজেন দাবি করেন, অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিভাবে জওয়ানরা কিছু নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে এভাবে গুলি করে মারল তার জবাব দিতে হবে। শনিবার কিসের ভিত্তিতে কমান্ডিং অফিসার জওয়ানদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তা জানানো হোক?
অন্যদিকে অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে শনিবারের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, জওয়ানদের ওপর চড়াও হয়েছিল এলাকার মানুষ। এলাকায় অসম রাইফেলসের শিবিরের উপর তিনশ’রও বেশি স্থানীয় মানুষ আক্রমণ চালিয়েছিলেন। তাদেরকে সরিয়ে দিতেই জওয়ানরা শূন্যে গুলি চালায়। অসম রাইফেলসের এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তেমজেন পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, জওয়ানরা যদি শূন্যে গুলি চালিয়ে থাকে তাহলে কিভাবে এতগুলি নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরে গেল।
]]>
কিন্তু সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নাগাল্যান্ড সফর বাতিল (cancell) করার কথা জানানো হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং উত্তেজনাপূর্ণ। গোটা রাজ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। তাই সেখানে গেলে নতুন করে অশান্তি বাধার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই তৃণমূল প্রতিনিধি দলের এই সফর বাতিল করা হল।
সোমবার সকালে কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে নাগাল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের। বিমানে ওঠার কিছু আগেই খবর আসে গোটা নাগাল্যান্ডে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। সব ধরনের গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার। নাগাল্যান্ড যাওয়ার জন্য অসম সরকারের কাছ থেকেও সাহায্য চাইলেও কোনরকম সহযোগিতা মিলছে না। তাই বিমানে ওঠার আগেই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, এই মুহূর্তে নাগাল্যান্ডে যাওয়ার মত পরিস্থিতি নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে অযথা সেখানে যাওয়ার কোন দরকার নেই। অকারণে বিমানবন্দরে গিয়ে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই রাজ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেখানে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের ওটিং জেলায় তিরু গ্রামে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালীন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ১৫ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। সোমবারই নাগাল্যান্ডের ওই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মমতা তৃণমূলের চার সাংসদকে নাগাল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। যে চারজন সাংসদকে মমতা নাগাল্যান্ডে পাঠাচ্ছিলেন তাঁরা হলেন শান্তনু সেন, সুস্মিতা দেব, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপরুপা পোদ্দার। একইসঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবের।
তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন, এই মুহূর্তে নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ইতিমধ্যেই শনিবারের ঘটনার রেশ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে নাগাল্যান্ড গেলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব
]]>সোমবার নাগা সংগঠনগুলির ডাকা বনধ ঘিরে আরও অশান্তির আশঙ্কা। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস ৫ সদস্যদের প্রতিনিধি ঘটনাস্থল যাওয়া নিয়ে বিতর্ক চরমে। কারণ, তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। জঙ্গি উপদ্রুত নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি যে কোনও সময় ফের রক্তাক্ত হতে পারে এমনই আশঙ্কা। এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধিরা কী করে ঘটনাস্থলে যাবেন সেই নিয়ে প্রশ্ন।
শনিবার ও রবিবার জুড়ে অশান্ত নাগাল্যান্ডের মন জেলা। এই জেলার তুরি-ওটিং গ্রামের বাসিন্দাদের উপর গুলি চালায় অসম রাইফেলস। গুলিতে ১৫ জন গ্রামবাসী শ্রমিক মৃত। ক্ষোভের হামলায় এক জওয়ান মৃত। মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবারও সেই অশান্তির ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। মন জেলায় পালিত হচ্ছে বনধ। এই বনধের প্রভাব পড়েছে নাগা জাতি অধ্যুষিত উত্তর পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে। রবিবার রাতভর নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মনিপুরে হয়েছে প্রতিবাদ।
মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও জানিয়েছেন, অসম রাইফেলস গুলি চালায় হয় ভুল করে। তবে তাঁর বিবৃতির পরেই ক্ষোভের আগুন আরও ছড়ায়। এদিকে সোমবার কী করে টিএমসি প্রতিনিধিরা মন জেলায় যাবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কটাক্ষ, বনধ ও উগ্র পরিস্থিতির মাঝে প্রতিনিধিদের পাঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চটজলদি’ রাজনৈতিক প্রচারে আসতে চাইছেন।
]]>দলের তরফে রাজ্যসভার সাংসদ ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বিবৃতি দিয়ে এই ঘোষণা করেছেন। প্রতিনিধি দলে থাকছেন তৃণমূলের চার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরূপা পোদ্দার, সুস্মিতা দেব, শান্তনু সেন ও মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিত্ দেব।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সেনাবাহিনীর গুলিতে ১৩ জন নিরাপরাধ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত হন এক জাওয়ানও। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়। উত্তেজনা নিরসনে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও। নিরীহ গ্রামবাসীদের মৃত্যুর সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি টুইট করেছেন, ‘নাগাল্যান্ডের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। আমাদের অবশ্যই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সকল ভুক্তভোগী যেন ন্যায়বিচার পান!’
Worrisome news from #Nagaland.
Heartfelt condolences to the bereaved families. I pray for the speedy recovery of those who were injured.
We must ensure a thorough probe into the incident and ensure that all victims get justice!
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) December 5, 2021
প্রসঙ্গত, এই প্রথন নয়, এর আগেও দেশের নানাপ্রান্তে বিভিন্ন ঘটনার জেরে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে তৃণমূল। এনআরসির সময় অসমে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে তাঁদের বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনসুখিয়ায় পাঁচ বাঙালির হত্যার ঘটনার পরও অসমে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। দিল্লি সীমানায় কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গিয়েও দেখা করেছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ তৃণমূলের সাংসদ ও নেতারা। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের পিষে দেওয়ার ঘটনার পরও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল তৃণমূলের সাংসদের প্রতিনিধি দল। তবে সেখানে প্রিয়াঙ্কা-রাহুল সহ কংগ্রেস দল আটকে যান। এবার নাগাল্যান্ডে যাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
]]>নাগাল্যান্ডের ঘটনা সম্পর্কে জানা গিয়েছে, অনুপ্রবেশ বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। শনিবারের এই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক জওয়ান আছেন। আহতদের মধ্যে যেমন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আছেন, তেমনই আছেন একাধিক জওয়ান।
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে রাহুল টুইট করেন, নাগাল্যান্ডের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল মোদী সরকারকে তার জবাব দিতে হবে। কী করছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক? দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কেউই আর দেশের মাটিতে নিরাপদ নয়।
রাহুল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি তুলেছেন মমতা। অসমের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার পিছনে প্রকৃত সত্যটা কী তার সামনে আনার দাবিও জানিয়েছেন গগৈ।
অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের ঘটনায় শোক জ্ঞাপন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শাহ জানিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত চালাবে। মৃতদের পরিবার অবশ্যই উপযুক্ত বিচার পাবে।
জানা গিয়েছে বেশ কয়েকদিন ধরেই নাগাল্যান্ড- মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ চলছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় সেনা। সেই অভিযানেই সীমান্ত সংলগ্ন তিরু গ্রামে সেনাবাহিনী সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ১২ জন গ্রামবাসী একজন জওয়ান। জখম হয়েছেন বহু মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি মিনিট্রাকে করে গ্রামবাসীরা ওটিং গ্রাম থেকে খনির কাজ করে ফিরছিলেন। সে সময় রাতের অন্ধকারে জঙ্গি সন্দেহে ওই মিনিট্রাকটি লক্ষ্য করেই গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।
গতকালের এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ভুল স্বীকার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাতের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গোয়েন্দাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই অভিযান হয়েছিল। কিভাবে এটা ঘটল তা জানতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। শনিবার রাতের ঘটনায় বেশ কয়েকজন জওয়ান জখম হয়েছেন বলে সেনাবাহিনীর দাবি।
]]>