Kazakhstan: রান্নার গ্যাসে রক্তাক্ত বিদ্রোহ, দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ কাজাখস্তানে

রাস্তায় রাস্তায় রুশ সেনার হুঙ্কার

500

কাজাখস্তানে (Kazakhstan)  গণবিক্ষোভ সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ কোনও সতর্কীকরণ ছাড়াই সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে তিনি বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু, হামলাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করা হবে। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর।

কাজাখস্তানের পূর্বতন রাজধানী শহর আলমাটিতে এখন রুশ সেনার টহল চলছে। কাজাখ প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রাশিয়া সরকার পাঠিয়েছে সেনা। আলমাটি শহরে রুশ বাহিনী পজিশন নিয়েছে।

সরকারের তরফে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির পরেই কাজখস্তানে শুরু হয় গণবিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভ রক্তাক্ত আকার নিয়েছে। হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে সরকারের পতন হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ১৮ জন পুলিশকর্মীকে খুন করেছে। দুই পুলিশ কর্মীর মাথা কাটা হয়। পুলিশের গুলিতে তিরিশ জনের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

কাজাখস্তানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া সেনা পাঠানোর জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।

কাজখস্তানে কেন রুশ সেনার অভিযান?
পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য ছিল কাজাখস্তান। সোভিয়েত পতনের পর কাজাখস্তান স্বাধীনতা দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশ (সিএসটিও) অন্তর্ভুক্ত কাজাখস্তান।  অংশীদার দেশগুলি হলো রাশিয়া, কাজাখস্তান, বেলারুশ, তাজিকিস্তান এবং আর্মেনিয়া।

আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্লেষণ, আমেরিকার নেতৃত্বে যেমন ন্যাটো একটি যৌথ মঞ্চ। তেমনই রাশিয়ার নেতৃত্বে সিএসটিও একটি মঞ্চ। এখানেই সাবেক সোভিয়েতের রাজ্যগুলির সমন্বয় করা হয়েছে।

কাজাখস্তানের বিদ্রোহ পরিস্থিতি রক্তাক্ত আকার নিতেই দেশটির প্রেসিডেন্ট সরাসরি সিএসটিও মঞ্চে সেনা সাহায্য চান। এর পরেই রাশিয়া তাদের প্যারাট্রুপার বাহিনী পাঠিয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে কাজাখস্তানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) রাতে দেশটির সবচেয়ে বড় শহর আলমাটিতে বিক্ষোভকারী ও রুশ সেনার মধ্যে সংঘর্ষে তীব্র গুলিবর্ষণের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন বিবিসির এক সাংবাদিক।

রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবর, ২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। রুশ সেনার হুঙ্কার এখন কাজাখস্তানের রাজপথে।

বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন ফেলেছে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কাজাখ জনতার মারমুখী অবস্থান ও সরকার ফেলে দেওয়ার ঘটনা। পরিস্থিতি এমনই যে কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতান বা পূর্বতন আস্তানা শহরেও নিরাপত্তার কড়াকড়ি। তবে দেশটির বৃহত্তম শহর আলমাটিতে রক্তাক্ত পরিস্থিতি। সেখানে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা।

কাজাখস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সেখানে রুশ সেনার কার্যকলাপ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এমনই জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র  খোলাখুলিভাবে দেখবে সেখানে কোনও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় কিনা। এছাড়া কোনও কাজাখ প্রতিষ্ঠান রুশ বাহিনীর দখল হয়ে যাচ্ছে কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করা হবে।