মলের পরিবর্তে টয়লেটে মেলে কমলা

303

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার করলে আয় করা যায় ডিজিটাল মুদ্রা৷ সেই মুদ্রায় শুধু কমলা নয়, অনেক ধরনের ফলের পাশাপাশি কফি এবং আরও প্রচুর কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও কেনা যায়৷

উলসানের ওই টয়লেটটির ডিজাইন করেছেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএনআইএসটি)-র আর্বান অ্যান্ড এনভায়র্নমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক চো জায়-এয়ন৷ পরিবেশবান্ধব ওই শৌচাগারের নাম দিয়েছেন বীভি৷ Bee এবং Vision শব্দ দুটোর প্রথম অংশ নিয়ে তৈরি এই নামেই শুধু নয়, এর কার্যকারিতায়ও দূরদর্শিতার ছাপ রেখেছেন চো জায়-এয়ন৷ নইলে টয়লেট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখা যাবে, সেই বিদ্যুতে আলো জ্বলবে ভবনে, আর তাই মলত্যাগ করেও অর্থ আয় করা যাবে৷ যা এতদিন এমন কথা কে ভাবতে পারেনি

চো শুধু তার পরিকল্পনা ভাবেননি, বাস্তবায়নও করেছেন৷ তাই বীভি-তে রয়েছে মল, অর্থাৎ শৌচালয়কে মাটির নীচের এক ট্যাংকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা৷ ভবনের পাশেই রয়েছে ল্যাবরেটরি৷ মাটির নীচে মল থেকে তৈরি হয় মিথেন গ্যাস৷ ল্যাবরেটরিতে রাখা এক যন্ত্রের সহায়তায় সেই মিথেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ৷

একজন ব্যক্তি গড়ে প্রতিদিন ৫০০ গ্রামের মতো মলত্যাগ করে৷ সেই মল দিয়ে তৈরি হয় ০.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ৷ যা দিয়ে একটা গাড়ি অনায়াসে ১.২৫ কিলোমিটার পথ চলতে পারে৷

টয়লেটে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেননি প্রফেসর চো৷ মলের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থাও রেখেছেন৷ জিগুল নামের এমন এক ভার্চুয়াল মুদ্রা তৈরি করেছেন৷ যার বিনিময়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের দোকান থেকে নিয়মিত বই, নুডলস, বিভিন্ন ধরনের ফল, কফি কিনছেন৷

একবার টয়লেটে গেলে আয় হয় ১০ জিগুল৷ যার যত জিগুল জমবে, তত বেশি পণ্য কিনতে পারবে সে৷ শিক্ষার্থী হেও হুই-জিন তো মহাখুশি৷ তিনি বলছেন, ‘‘এতদিন মনে করতাম মল খুব নোংরা জিনিস৷ এখন সেই জিনিসই আমার কাছে খুব মূল্যবান৷ এখন তো খাওয়ার সময়ও কোনও বই কেনার কথা মাথায় এলে মল নিয়ে কথা বলি!”