লালফৌজ না থাকলেও আফগান সীমান্তে তালিবান নিধনে রুশ স্নাইপার ও মিসাইল প্রস্তুত

670
Russian missile Afghan border

বিশেষ প্রতিবেদন: সোভিয়েত বিলুপ্ত। নেই সেই দুরন্ত লালফৌজ যাদের ভয়ে হিটলার গোপন বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেছিল। যাদের আক্রমণে আফগানিস্তানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি গুটিয়ে গেছিল। তবে রাশিয়া আছে। সাবেক সোভিয়েত যুদ্ধনীতির পদ্ধতি রয়েছে। সেটাই আফগানিস্তানের মাটিতে ফের একবার প্রয়োগ করতে চান সোভিয়েত জমানার গুপ্তচর তথা কেজিবি এজেন্ট বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বিবিসি ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, সাবেক সোভিয়েত আফগান সীমান্ত যেটি এখন তাজিকিস্তানের অধীনে পড়ে সেখানেই বিপুল পরিমান রুশ সেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া সরকার। তাদের সঙ্গে রয়েছে তাজিক সেনা ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সেনাকর্মীরা।

নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অবলুপ্ত হয়। তখনই তাজিকিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। এর পরেও তাজিকিস্তানে রুশ সেনার সবথেকে বড় সেনা ঘাঁটি রয়েছে। ক্রেমলিন কোনওদিনই আফগান সীমান্তকে অবহেলা করেনি।

Russian missile Afghan border

বিবিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তানের একটার পর একটা প্রদেশ তালিবান দখলে চলে যাচ্ছে। সবকটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা তালিবান দখলে। তাজিকিস্তান সীমান্তের সত্তর শতাংশ জঙ্গি সংগঠনটির কব্জায়। আফগান সেনা, জনগণ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করলেও তালিবান হামলায় তারা টিকতে পারছেনা। রাজধানী শহর কাবুল ঘিরে এগিয়ে আসছে তালিবান।

আশির দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সুযোগে সে দেশে ঢুকেছিল ততকালীন সোভিয়েত লাল ফৌজ। তাদের সঙ্গে আফগান ধর্মীয় সংগঠনগুলির সংঘর্ষ হয়। তবে আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।নব্বই দশকে সোভিয়েত পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরে যায় লাল ফৌজ। দেশটির দখল নিতে ধর্মীয় গেরিলা সংগঠনগুলি থেকে জন্ম নেয় তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে আফগানিস্তানে তাদের জয় হয়, এটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তালিবান জঙ্গি সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা, আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস, আল কায়েদা সংগঠনের প্রধান লাদেনের আফগানিস্তানে আত্মগোপন সবমিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায় এ দেশে। সম্প্রতি সেই সেনা সরতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তালিবান ফের হামলা চালাচ্ছে। প্রায় অরক্ষিত আফগানিস্তানে এবার কি তালিবান নিধনে রুশ সেনা ঢুকবে?

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, রাশিয়া আরও অপেক্ষা করতে পারে। কারণ কাবুল এখনও জঙ্গি কব্জান যায়নি। যদি তালিবান ফের আফগানিস্তানের সরকার কায়েম করে, তাহলেই ক্রেমলিন থেকে আসবে হামলার সংকেত। আপাতত আফগান সীমান্তে রুশ সেনার মহড়া চলছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার সীমান্তের ওপারের থেকে দেখছে তালিবান জঙ্গিরা।