হার্টের ঝুঁকি এড়াতে চান, তবে অবশ্যই ডায়েটে রাখুন এই খাবারগুলি

heart

অতিরিক্ত মেদ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যাএগুলোও হার্টের সমস্যার অন্যতম কারণ। তাই এই অসুখগুলির হাত থেকে রেহাই পেলে হার্টও ভাল থাকবে। আমাদের খাবার পাতেও আসলে অনেক রোগের সমাধান লুকিয়ে থাকে। তবে ডায়েটের দিকেও নজর দিতে হবে। জেনে রাখা যাক, হার্ট ভালো রাখতে কী কী খাবার খাওয়া উচিত-

গ্রিন টি:
সকাল-বিকেল অন্তত ২ কাপ গ্রিন টি পাণ করুন । মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর এটি। গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।

ব্রকোলি:
শাক সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন কে। ফলে পাতে রাখুন ভিটামিন কে । ধমনীর স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ও রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে তাই বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই সবজি।

আনার বা বেদানা:
শরীরে আয়রনের জোগান দিয়ে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে ও রক্ত শোধন করতে বিশেষ সাহায্য করে আনার। ফাইটোকেমিক্যাল নামের যে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ধমনীকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে তার অনেকটাই মেলে আনার বা বেদানা থেকে।

বেরি জাতীয় ফল:
রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে এই ধরনের ফল। তাই সুযোগ পেলেই ফলের স্যালাডে মিশিয়ে নিন ক্রানবেরি, ব্লু বেরিদের।

যৌবন ধরে রাখতে চান, তবে হাতের কাছে থাকা রসুন হতে পারে দাওয়াই

হাতের নাগালেই পাওয়া যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি। সহজলভ্য এই রসুনে এমন সব গুন আছে যা শরীরের জন্য মহার্ঘ্য হিসেবে কাজ করে। বিশেষত, শারীরিক সৌন্দর্য ও যৌবন ধরে রাখতে কিংবা হারানো যৌবন ফিরে পেতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। এছাড়াও নানা রোগের কার্যকর ওষুধ হিসেবেও রসুন খুবই কার্যকরী।

আজকাল খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে বিবাহবিচ্ছেদের রমরমা খবর। কারণ হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উল্লেখ করা হয় দাম্পত্য কলহের কথা। যার মূলে থাকে শারীরিক সম্পর্ক, রূপ অনেক ক্ষেত্রেই। অনেকক্ষেত্রে যার পরিণামে ডেকে আনে বিচ্ছেদ।

food

অথচ আপনি চাইলেই যৌবনে পরাতে পারেন রাজটীকা। এবং সেটা খুব সহজে। এক কোয়া রসুন আপনার হারানো যৌবন শক্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। স্ত্রীর চোখে আপনি হতে পারেন আস্থাশীল পুরুষ।

মধু ও লেবুর রসের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে এক কোয়া রসুন মিশিয়ে খান। দেখবেন বয়সটা তখন আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। তারুণ্য ফিরে পাবেন সকল কাজে। বাড়বে যৌবনশক্তি।

<

p style=”text-align: justify;”>রসুন আবার গ্যাসটিকের রোগী কিংবা যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্যও দারুণ কার্যকরী। ত্বকের যেকোনও দাগ মুছে ফেলতে ও ত্বককে আরও কোমল করতেও রসুনের বিকল্প মেলা কঠিন।

Election Reforms: ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডেরও সংযুক্তিকরণ করতে হবে

india election reforms

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: নির্বাচনী সংস্কারের (election reforms) ক্ষেত্রে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্র জানিয়েছে, আধার ও ভোটার কার্ডের (Aadhar and voter card linking) সংযুক্তিকরণ করা হবে। অর্থাৎ এবার আধার কার্ডও ভোটার কার্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

জানা গিয়েছে, যারা প্রথমবার ভোট দেবেন তাঁরা ভোটার তালিকায় (voter list) নাম তোলার জন্য বছরে চারটি সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের ভোট প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনতে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র।

এতদিন মানুষ প্যান ও আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া দেখেছে। ঠিক সেই একই পদ্ধতিতে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত করা হবে। তবে প্যান ও আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণ ছিল বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে অবশ্য সংযুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ কেউ চাইলে আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযুক্ত করতে পারেন। না চাইলে সেটা নাও করতে পারেন। দেশের শীর্ষ আদালত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার সংক্রান্ত যে রায় দিয়েছিল তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত যে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছিল তাতে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। কমিশনের দাবি আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের সংযুক্তিকরণ হলে জাল ভোট দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ একই লোকের দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। ভোটার তালিকাও সুরক্ষিত থাকবে। কমিশন আরও জানিয়েছে, নতুন যারা ভোটার হবেন তাঁরা বছরে চারবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বছরে একবারই ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকে নতুন ভোটারদের কাছে। এবার সেটাই বেড়ে চারবার হচ্ছে।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ভোটার আইনকে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ করার উদ্যোগও নিয়েছে। সার্ভিস অফিসারদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে কোন মহিলা অফিসারের স্বামী ভোট দিতে পারবেন। বর্তমান আইনে কেবলমাত্র কোনও পুরুষ সার্ভিস অফিসার স্ত্রীর ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। মহিলা সার্ভিস অফিসারের স্বামীরা এতদিন সেই সুযোগ পেতেন না

CDS: সেনা সর্বাধিনায়ক পদে নিয়োগ করতে সরকারের এত টালবাহানা কেন, উঠছে প্রশ্ন

india next CDS

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াতের (Bipin Rawat) মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে ৮ দিন। কিন্তু ৮ দিনের মধ্যেও সেনা সর্বাধিনায়কের (CDS) মত এত গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন কাউকে নিয়োগ করা হচ্ছে না, ইতিমধ্যেই তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেনা সর্বাধিনায়কের মত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ কোনওভাবেই ফাঁকা রাখা ঠিক নয়।

সেনাবাহিনীর (army) প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনও পদের শীর্ষ কর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে বিদায় গ্রহণ করেন। বিদায় অনুষ্ঠানে দুইজন একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন ও অভিনন্দন জানান। কিন্তু বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুর পর ৮ দিন কেটে গেলেও নতুন সেনা সর্বাধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্র (central government) বিষয়টি নিয়ে এত গড়িমসি করছে কেন? কেন্দ্রের এই টালবাহানায় স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, বিপিন রাওয়াতকে যখন সেনা সর্বাধিনায়ক নিয়োগ করা হয়েছিল তখন তাঁর উত্তরসূরির সম্পর্কে কোনও রকম চিন্তাভাবনাই করা হয়নি। রাওয়াতকে তো একদিন না একদিন অবসর নিতেই হত। কিন্তু তারপর কে ওই পদে অভিষিক্ত হবেন সে বিষয়ে কেন্দ্র কোনও পরিকল্পনাই করেনি। কেন্দ্রের এ ধরনের আচরণ শুধু যে সিডিএস-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের মর্যাদাহানি করছে তা নয়, দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সিডিএস-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও কি শাসক দল বিজেপি তাদের প্রতি আনুগত্য আছে এমন কাউকে উপহার হিসেবে দিতে চায়?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলেছেন, এই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর তিন শাখার প্রধানরা কেউই অবসর নেওয়ার মত জায়গায় নেই। তাই তাঁদের মধ্য থেকেই কাউকে অবিলম্বে সেনা সর্বাধিনায়ক পদে নিয়োগ করা উচিত। বর্তমান সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে পরবর্তী সেনা সর্বাধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন। কিন্তু ৮ দিন কেটে গেলেও তাঁকে এখনও ওই পদে নিয়োগ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে সিডিএস-এর মত এত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে এত টালবাহানা কেন! দেশের চলতি নীতি অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কোনও শীর্ষকর্তা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ৮ দিন কেটে গেলেও এখনও সেনা সর্বাধিনায়কের পদে কারও নামটুকু ঘোষণা করা হল না।

প্রশ্ন উঠেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক কি পরবর্তী সিডিএস নিয়োগের জন্য কারও বিশেষ নির্দেশের অপেক্ষা করছে! অনেকেই মনে করছেন, সেনা সর্বাধিনায়ক নিয়োগের বিষয়টি এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হলে সন্ত্রাসবাদীরাই উৎসাহিত হবে। তারা এই সুযোগে বিভিন্নভাবে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করবে। এভাবে সেনা সর্বাধিনায়ক পদে নিয়োগের বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে মোদীসরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারকেই দুর্বল করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

Bangladesh 50: পচা লাশ পেরিয়ে ঢুকলাম আগরতলায়, স্মৃতিতে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কন্যা

bangladesh Tajuddin's daughter Simeen Hussein recall

News Desk: এই প্রতিবেদন মূলত স্মৃতিকথা ভিত্তিক। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ত্রিপুরায় এসেছিলেন। ৫০ বছর  (Bangladesh 50) আগে তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু শরণার্থীর মতো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলায় এসেছিলেন কিশোরী অবস্থায়। ত্রিপুরা ছিল বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম ঘাঁটি। জীবন হাতে করে আগরতলা পৌঁছনোর দীর্ঘ যাত্রা কেমন ভয়ানক ছিল, সেটাই জানিয়েছেন।

সিমিন হোসেন রিমির (Simeen Hussein) পিতা তাজউদ্দিন আহমদ (first prime minister of Bangladesh Tajuddin)। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করা হয়। সেই সামরিক অভ্যুত্থানে তাজউদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মুজিব সহযোগী তাজউদ্দিন সহ চার শীর্ষ নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়। ভয়াবহ মুহূর্তগুলো জীবন স্মৃতিতে দগদগে হয়ে আছে সিমিন হোসেনের।

bangladesh Tajuddin's daughter Simeen Hussein recall
মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় সফর করা তাজউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমির স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের সেই পরিস্থিতি আমরা তুলে ধরলাম।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতের পর থেকে পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে বাঁচতে ঢাকার এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা এভাবে ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের বাড়ি দরদরিয়া পৌঁছাই আমরা। চারিদিকে অগুন্তি লাশ। পচে যাওয়া দেহ কাক কুকুরে খাচ্ছিল। ভয়াবহ পরিস্থিতি। গ্রামের বাড়িতেও হামলার ঠিক আগের মুহূর্তে গভীর রাতে নদী পথে অনির্দিষ্ট যাত্রা শুরু হলো।

bangladesh Tajuddin's daughter Simeen Hussein recall

তিনি লিখেছেন, তারপর কত এলাকা, কতপথ ঘুরে কুমিল্লা হয়ে শরণার্থী আমরা ভারত সীমান্ত পার করি। আগরতলার বক্সনগর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলাম। পথে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আশঙ্কা। পাক সেনার মুখোমুখি হবার প্রবল ভয় নিয়ে পচা লাশে ঢেকে থাকা বাংলাদেশের জমি ছেড়ে ঢুকলাম ইন্ডিয়াতে। পুরো সীমান্ত জুড়ে তখন হাজার হাজার শরণার্থী। সেই শরণার্থী স্রোতের সাথে সীমান্ত ধরে ২৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সীমান্ত ঘেঁষা ত্রিপুরার সোনামুড়ায় পৌঁছাই। সেই সময় সোনামুড়ার মহকুমা প্রশাসক ছিলেন হিমাংশু মোহন চৌধুরী।

স্মৃতিতে সিমিন হোসেন লিখেছেন, সোনামুড়ার যে টিলার ওপর হিমাংশু মোহন চৌধুরী যে বাড়িতে থাকতেন, সেই সরকারি বাড়িটি এখনও একই রকম আছে। শুধু বাড়ির পাশে দেয়াল হয়েছে।

পঞ্চাশ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে সিমিন হোসেন রিমি লিখেছেন, সেই সবুজ ঘাসের উঠান, টিনের চালা ঘর। আমরা ৪ ভাইবোন চার জায়গায় আছি। আম্মা নেই। আজ আমি যখন ঘরের ভেতর ঢুকলাম, আমি তখন ছোট বেলার আমি। আমি অবাক হয়ে দেখছি আশপাশ। আমি আমার পঞ্চাশ ছয় মাস বছর আগের স্মৃতিকে স্পর্শ করলাম ৯ ডিসেম্বর ২০২১সালের বৃহস্পতিবার। মনে মনে বলছিলাম চোখ তুমি ভিজে যেওনা। কিন্তু গড়িয়ে পরতে থাকল আনন্দ বেদনার মিলিত অশ্রু।

bangladesh Tajuddin's daughter Simeen Hussein recall

ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়াম দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে একটি কক্ষ আছে। সংরক্ষিত ছবি, খবরের কাগজ ইত্যাদি দেখছিলাম আর পড়ছিলাম গভীর মনোযোগে। যে দিন (১৫ অক্টোবর ১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন, তাঁদের হাতের লেখা দেখলাম। জাদুঘরে ছবি তোলা নিষেধ। কিউরেটর অভিভূত হলেন পরিচয় জেনে। শুধু বাংলাদেশের ওই অংশের ছবি তুলতে দিলেন।

বাবা ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর বিপ্নবী সাথী। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পকিবারকে যে অপশক্তি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে, তারাই আমার বাবাকে বন্দি করে খুন করেছে। তবুও তারা সফল নয়। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী অটুট থাকবেই।

<

p style=”text-align: justify;”>(আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সিমিন হোসেন রিমির স্মৃতিকথা তাঁর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।)

Pulwama: জঙ্গিহানায় শহিদ জওয়ানের বোনের বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাল সহকর্মীরা

CRPF soldiers walked Constable Shailendra Pratap Singh's sister

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: গতবছর পুলওয়ামায় (Pulwama) কর্তব্যরত অবস্থায় জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান শৈলেন্দ্র প্রতাপ সিং (Shailendra Pratap Singh)। সিআরপিএফ-এর ১১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন শৈলেন্দ্র প্রতাপ। সোমবার ছিল শৈলেন্দ্রর বোন জ্যোতির বিয়ে। 

পরিবারের অন্যতম রোজগেরে সদস্য শৈলেন্দ্রকে হারিয়ে কিভাবে জ্যোতির বিয়ে হবে তা নিয়ে তার পরিবারের চিন্তার শেষ ছিল না। জ্যোতির বাবা যথেষ্টই বৃদ্ধ হয়েছেন। মেয়ের বিয়ের জন্য আর ছুটোছুটি করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। এই অবস্থায় জ্যোতির বিয়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন শৈলেন্দ্রর সহকর্মীরা। শৈলেন্দ্র সহকর্মীরা সকলেই সোমবার ছুটে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশে।

বোনের বিয়েতে দাদার যে কর্তব্য পালন করা উচিত শৈলেন্দ্র সহকর্মীরা জ্যোতির বিয়েতে সোমবার তার পুরো দায়িত্বই বহন করেছেন। সিআরপিএফ জওয়ানরা টুইট করে যে সমস্ত ছবি প্রকাশ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সেনাবাহিনীর পোশাকেই জ্যোতির বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শুধু বিয়ের আচার-আচরণ পালন নয়, অথিতি অভ্যাগতদের আপ্যায়ন থেকে তাঁদের খাওয়া-দাওয়া সব দিকেই ছিল জওয়ানদের সজাগ দৃষ্টি।

শৈলেন্দ্রর সহকর্মীদের এই ব্যবহারে রীতিমতো আপ্লুত হয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা। শৈলেন্দ্রর বাবা জানিয়েছেন, আমার ছেলে আজ এই দুনিয়ায় নেই। কিন্তু আমি আজ বহু সিআরপিএফ জওয়ানকে নিজের ছেলে হিসেবে পেয়েছি। তাঁরা আজ আমার বা আমার পরিবারের জন্য যা করেছেন তা আমি সারা জীবনেও ভুলব না। জঙ্গিরা আমার এক ছেলেকে কেড়ে নিয়ে অনেক ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। জওয়ান দাদাদের কথা বারবার বলেছেন সদ্য বিবাহিত জ্যোতি। তিনি বলেছেন, দাদারা না থাকলে হয়তো আমার বিয়েটাই হত না। ওঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। জওয়ান দাদাদের ভূমিকায় নতুন জামাইও বাকহারা।

শৈলেন্দ্রর সহকর্মীরা অবশ্য তাঁদের এই কর্তব্য পালনকে বিশেষ কোনও গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁরা পাল্টা বলেছেন, জ্যোতিও আমাদের বোন। তাই বোনের বিয়েতে যা করা দরকার তাঁরা শুধুমাত্র সেটুকুই করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর শ্রীনগরে জঙ্গিরা টহলরত জওয়ানদের ওপর আচমকাই গুলি চালায়। ওই ঘটনায় দুইজন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর জখম হয়েছিলেন ৫ জন।

ATK Mohun Bagan: রয় কৃষ্ণ’র ইস্যুতে বিব্রত সবুজ-মেরুনের হেডকোচ হাবাস

Roy Krishna

Sports desk: আগামী বৃ্হস্পতিবার, বাম্বোলিম স্টেডিয়ামে ATK মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan) খেলতে নামছে বেঙ্গালুরু এফসি’র(BFC) বিরুদ্ধে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) BFC’র বিরুদ্ধে রয় কৃষ্ণ নিজের ৫০ তম ম্যাচ খেলতে নামবে। সবুজ মেরুন সমর্থকরা চাইছে এই ম্যাচেই নিজের অফ ফর্ম কাটিয়ে গোলের সারণিতে ফিরে আসুক রয় কৃষ্ণ।

চলতি ISL’এ বেঙ্গালুরু এফসি’র পারফরম্যান্স আহামরি না হলেও সবুজ মেরুন হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস আসন্ন ম্যাচকে হাল্কা ভাবে নিতে নারাজ, সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী গোলের খরা কাটিয়ে উঠবে স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণ।

ISL’এ রয় কৃষ্ণ’র গোলের খরা প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হাবাস বলেন,”স্ট্রাইকারদের ক্ষেত্রে এমন ব্যাডপ্যাচ আসে। তবে এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার রয় কৃষ্ণ, শীঘ্র ফর্মে ফিরে আসবে”।

বেঙ্গালুরু এফসির অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী চলতি টুর্নামেন্টের শততম ম্যাচে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে বসেন এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। গোল মিস করতেই ভারত অধিনায়ক ছেত্রী হতাশায় ভেঙে পড়েন। ওই ম্যাচ BFC হেরে যায়, এফসি গোয়ার কাছে ২-১ গোলে।

ISL’এ বেঙ্গালুরু এফসি ৬ ম্যাচে এক ম্যাচে জয় এবং এক ম্যাচে ড্র সঙ্গে ৪ ম্যাচে হারের মুখ দেখে লিগ টেবিলে নয় নম্বরে।

কিন্তু ATK মোহনবাগানের হেডস্যার হাবাস বেঙ্গালুরু এফসিকে হাল্কা ভাবে নিতে নারাজ। হাবাসের কথায়, কারণ বিপক্ষ দলে সুনীল ছেত্রীর মতো খেলোয়াড় আছে, ছেত্রী যেকোন সময়ে ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারে, সুনীল ভারতীয় ফুটবলের লিজেন্ড এবং তরুণ ফুটবলারদের কাছে সুনীল ছেত্রী আদর্শ”।

অন্যদিকে, ফিজিয়ান “গোল্ডেন বয়” রয় কৃষ্ণর ডাক পড়েছে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন ম্যাচে ফিজির জাতীয় দলে খেলার জন্য। আগামী ১০ জানুয়ারি ফিজির ন্যাশনাল ক্যাম্পে রিপোটিং’র ডেডলাইন রয় কৃষ্ণ’র কাছে। এই নিয়ে আন্তোনিও লোপেজ হাবাস যথেষ্ট বিব্রত ভঙ্গিতে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার ছলে প্রতিক্রিয়া, “আমার এই বিষয়ে কিছু জানা নেই”।

ফিজির জাতীয় দলে রয় কৃষ্ণ’র ডাক পাওয়ার খবরে সবুজ মেরুন সমর্থকরাও হতাশ। হাবাস নিজেও অন্ধকারে রয় কৃষ্ণ’র ইস্যুতে হাবাসের প্রতিক্রিয়ায়।

সব মিলিয়ে ATKMB ৫ ম্যাচে দুটো জয়, একটা ড্র এবং দুটো হার হজম করে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হেডকোচ হাবাস। এই প্রসঙ্গে হাবাসের যুক্তি, ২০১৯ ISL’এ চেন্নাইন এফসি’র পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ফাইনালে গিয়ে সেকেন্ড পজিশন পাওয়ার উদাহরণ সামনে আনছেন, তিন ম্যাচে ৮ পয়েন্ট হারিয়েও।

ISL’র ৪৯ টি ম্যাচে রয় কৃষ্ণ’র মোট গোল সংখ্যা ৩১, গোল করাতে ১৬, দুবারের টপ স্কোরার চলতি টুর্নামেন্টে, এই সমস্ত পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও নামে এবং ধারে এগিয়ে রাখছে ATKMB’কে বেঙ্গালুরু এফসি’র বিরুদ্ধে।

Andhra Pradesh: সেতু ভেঙে নদীতে বাস পড়ে মৃত ৯, জখম ২৫

bus fell into the river

নিউজ ডেস্ক: সেতু ভেঙে নদীতে পড়ল বাস। এই ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাসচালক-সহ নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ অন্ধপ্রদেশের (Andhra Pradesh) জাল্লেরু নদীতে এই বাসটি সেতু থেকে গড়িয়ে পড়ে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

বুধবার দুপুরে অন্ধপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার জাঙ্গারেড্ডিগুডেম মন্ডলের জিলেরুভাগুতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি ভেলেরুপাদু থেকে জাঙ্গারেড্ডিগুমের দিকে যাচ্ছিল। জানা গিয়েছে, অন্ধপ্রদেশ স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির বাসটি এদিন যখন সেতুর উপর দিয়ে যাচ্ছিল সে সময় উল্টো দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে আসে একটি ট্রাক। বাসচালক ওই ট্রাকটিকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপরই বাসটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে নদীতে গড়িয়ে পড়ে।

জেলার পুলিশ সুপার রাহুল দেব, জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাসচালকও আছেন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আটজন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এখনও পর্যন্ত ২৫ জন জখম হয়েছেন। অভিশপ্ত বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে পুলিশের অনুমান।

পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরাই ওই বাসের সব যাত্রীকে উদ্ধার করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বেশ কিছু যাত্রীকে বাসের জানালা ভেঙে বের করে আনেন তাঁরা। আহতদের সকলকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করায় হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমানো গিয়েছে

এদিনের দুর্ঘটনার খবরে মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি। একইসঙ্গে মৃতদের পরিবারের নিকট আত্মীয়কে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Ajay Mishra: মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকের বুম কেড়ে নিতে গেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

Union Minister Ajay Mishra

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: লখিমপুর খেরিতে একটি অক্সিজেন প্লান্টের (Oxyzen plant) উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র (ajay mishra) । সেখানেই সাংবাদিকরা তাঁকে তাঁর ছেলে আশিস মিশ্র সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

বিশেষ করে সিটের (special investigation team) তদন্ত রিপোর্টে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের (planned murder) চেষ্টার যে কথা বলা হয়েছে সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন। এক সাংবাদিককে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মন্ত্রী। প্রথমে ওই সাংবাদিকের মাইক বন্ধ করার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর তিনি ওই সাংবাদিকের হাতে থাকা বুমটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ওই সাংবাদিকের প্রতি কটুক্তি করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার লখিমপুরে ওই অক্সিজেন প্লান্টের উদ্বোধন গিয়েই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মন্ত্রী। ২৪ ঘন্টা আগে সিট তার তদন্ত রিপোর্টে জানিয়েছে, লখিমপুরের ওই ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এমনকী, মন্ত্রীর ছেলের গাড়ি থেকে গুলি চালানোর কথাও স্বীকার করে নিয়েছে সিট। বুধবারই সিটের পক্ষ থেকে আদালতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করার জন্য আর্জি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত সেই আর্জি মেনেও নিয়েছে।

এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে মন্ত্রী প্রথমে ওই সাংবাদিককে বলেন, আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? কেন এ ধরনের বোকা বোকা প্রশ্ন করছেন। এরপরই মন্ত্রী ওই সাংবাদিকের মাইকটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় একসময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বুমটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে মন্ত্রীকে ওই সাংবাদিককে চোর বলতেও শোনা গিয়েছে।

ওই ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই ফের নতুন করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয়। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা একাধিকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছে। এরইমধ্যে মঙ্গলবার সিটের তদন্ত রিপোর্টে লখিমপুরে ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলায় বিরোধীদের সেই দাবি আরও জোরদার হল। বিভিন্ন মহল থেকে চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত যদি অজয় মিশ্রকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তবে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি চাপে পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Uttar Pradesh: লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারা যোগের অনুমতি আদালতের

video proved that the farmers were crushed to death by the wheel of the car

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা (Uttar Pradesh) নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে লখিমপুর খেরি কাণ্ডে (Lakhimpur Kheri) বিজেপির অস্বস্তি ততই বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার লখিমপুর কাণ্ডে সিটের তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। কৃষকদের খুন করতে রীতিমতো চক্রান্ত করা হয়েছিল।

ঘটনার জেরে সিট আদালতের কাছে লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করার আবেদন জানায়। সেই আবেদনে সাড়া দিল আদালত। বুধবার আদালত অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধেই খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করার অনুমতি দিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্রও (Ashish Mishra)। আদালতের এই নির্দেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবির নিশ্চিতভাবেই চাপে পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

লখিমপুরের ঘটনায় বিরোধীরা প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে, বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীর ছেলে এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। তারা পরিকল্পনা করেই এই কাজ করেছে। বিরোধীদের সেই অভিযোগকে মান্যতা দিয়েছে সিটের রিপোর্ট।

ministers-son-ashish-mishra

প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে আইপিসির ২৭৯, ৩৩৮ এবং ৩০৪এ (অবহেলায় মৃত্যু ঘটা) ধারা ছিল। কিন্তু সিটের রিপোর্টে ঘটনাটি সুপরিকল্পিত, ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়। সিট তার রিপোর্টে স্পষ্ট জানায়, এটি কোনও দুর্ঘটনা বা অসতর্কতামূলক ঘটনা বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। সাক্ষ্য প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিচার করে বলা যায় রীতিমতো পরিকল্পনা করেই কৃষকদের পিষে মারা হয়েছিল। তাই অভিযুক্তদের প্রতি কোনওভাবেই নরম মনোভাব দেখান উচিত নয়। এর পরই সিটের তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯-ধারার পরিবর্তে ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ৩২৬ (স্বেচ্ছায় বিপজ্জনক অস্ত্রের দ্বারা গুরুতর আঘাত করা) ধারার মত বিভিন্ন ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানান। পাশাপাশি এই ঘটনায় ৩০৪-এ ধারা বাতিল করার কথা জানায় সিট। ৩০৪ ধারার পরিবর্তে ৩০৭ ধারা-সহ বাকি ধারা যোগ করার অনুমতি চায় সিট। সিটের এই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয় আদালত। এদিন আদালত নির্দেশ দেয়, লখিমপুর কাণ্ডে ধৃতদের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে মৃত্যু’র পরিবর্তে ৩০৭ ধারা তথা ‘খুনের চেষ্টা’র ধারা যোগ করার।

<

p style=”text-align: justify;”>উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর লখিমপুর খেরিতে মন্ত্রী-পুত্র আশিসের গাড়ি পিষে দেয় বিক্ষোভরত চার কৃষকে। আহত হন অনেকে। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয়ের দাবি, ঘটনার সময় তাঁর ছেলে আশিস গাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার সময় তাঁর ছেলে অন্য একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। তবে মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে শুধু পিষে খুন করার অভিযোগই নয়, গুলি চালানোরও অভিযোগও উঠেছে। ৯ অক্টোবর আশিসকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। উদ্ধার হয় তাঁর বন্দুক। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ধৃতদের সকলের বিরুদ্ধেই খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনতে চলেছে সিট।

Bhaichung Bhutia: জন্মদিনে “পাহাড়ি বিছের” কথা ভুলে গেল ভারতের ফুটবল ফেডারেশন

Bhaichung Bhutia's birthday

Sports desk: তারিখটা ১৫,ডিসেম্বর। ভারতীয় ফুটবলের আইকন, দেশের ফুটবল ভক্তদের আদুরে দেওয়া নাম “পাহাড়ি বিছে” ভাইচুং ভুটিয়ার (Bhaichung Bhutia) বুধবার জন্মদিন। এমন দিনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) কাছে ব্রাত্যজন হয়ে রইলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া।

এমন মাহেন্দ্রক্ষণে অবশ্য এসসি ইস্টবেঙ্গল বাইচুং’কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে মোটেও ভুলে যায়নি। শুভেচ্ছা বার্তায়, নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার পেজে পোস্ট,”এখানে ভারতীয় ফুটবল এবং ক্লাব আইকন @bhaichung15 𝙖 𝙫𝙚𝙧𝙮 𝙝𝙖𝙥𝙥𝙮 𝙗𝙞𝙧𝙩𝙝𝙖𝙮!
সমগ্র এসসি ইস্ট বেঙ্গল পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালবাসা পাঠানো হচ্ছে। এটি শীর্ষে আছে, কিংবদন্তি!
#শুভ জন্মদিন ভাইচুং”।

তবে সকলের অজান্তে ভাইচুং ভুটিয়া নিজের পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন নিজের গ্রাম টিঙ্কিতমে। একজন দায়িত্বশীল পিতা হিসেবে ভাইচুং ভুটিয়া কতটা সিরিয়াস সেটা ভাইচুং’র ইনস্ট্রাগ্রাম পোস্ট দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, যেখানে নিজের বাড়ির ছবি পোস্ট করে ক্যাপসনে লিখেছেন,”শীতের এক সন্ধ্যায় আমার বাড়ির ছবি শেয়ার করছি। আমার বাচ্চাদের ছুটিতে বাড়িতে আসার জন্য অপেক্ষা করছি। @eagles_nest03 #gangtok #sikkim”।

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) সামাজিক মাধ্যমে ভাইচুং’র জন্মদিন উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা বার্তায় পোস্ট করেছে,”একজন ভারতীয় ফুটবল কিংবদন্তি 🇮🇳⭐
এখানে ভাইচুং ভুটিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি! 🎂
সিকিমিজ স্নাইপারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থেকে আপনার প্রিয় স্মৃতি কী”?

শুধু তাইই নয়, ইনস্ট্রাগ্রাম ভাইচুং ভুটিয়া নিজের গ্রাম টিঙ্কিতমের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি পোস্টের ক্যাপসনে লিখেছেন,”আমার গ্রামের টিঙ্কিতমের কিছু ছবি শেয়ার করছি। ফুটপাথ হল যেখানে আমরা আমাদের শৈশবের দিনগুলিতে ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে নিকটবর্তী শহরে পৌঁছতাম। #স্মৃতি #টিঙ্কিতম #সিকিম”।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে বেশ কয়েকটি লাল হলুদ ফ্যান্স গ্রুপ “পাহাড়ি বিছে” ভাইচুং ভুটিয়া’র জন্মদিন উপলক্ষ্যে ভাইচুংকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

শুধু AIFF নয়, ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল পর্যন্ত নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ভাইচুং ভুটিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কোন শুভেচ্ছা বার্তা সহ টুইট পোস্ট করেন নি।

ভাইচুং ভুটিয়া ১৯৯৩ সালে কলকাতার ইস্টবেঙ্গলের ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপিয়ে পেশাদার ফুটবল জগৎ’এ আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এবং ওই বছর কলকাতা লীগে ৯ ম্যাচে ৪ গোল করেছিলেন। ক্লাব ফুটবলে ভাইচুং’কে মোহনবাগানের জার্সি গায়েও খেলতে দেখা যায়, এরপর দলবদল করে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ফিরে আসেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে, ১৯৯৫ সালের ১০ মার্চ নেহরু কাপে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভুটিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়। ওই টুর্নামেন্টে ভুটিয়া উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি গোল করে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড বুক করেন।

২০০৫ সালের SAFF চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ভুটিয়াকে ভারতের ফুটবল দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল। ভারত ফাইনালে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

ভুটিয়া একটি গোল করেছিলেন এবং টুর্নামেন্টে যে দুটি গোল করেছিলেন তার একটি অংশ ছিল। টুর্নামেন্টের ২০০৮ সংস্করণে, ভুটিয়া মাত্র একটি গোল করেছিল এবং ভারতকে ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল যেখানে তারা মালদ্বীপের কাছে ১-৯ গোলে হেরেছিল।

ভাইচুং ২০০৮ AFC চ্যালেঞ্জ কাপ জিতেছিল এবং তিনটি গোল করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। ভুটিয়ার ১০০ তম ক্যাপ এসেছিল ২০০৯ সালে, নেহরু কাপে, তিনিই প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড় যিনি এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। ফাইনালে বাদ পড়া সত্ত্বেও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন। ভাইচুং ভুটিয়া টিম ইন্ডিয়ার হয়ে মোট ১০৪ ম্যাচে ৪০ টি গোল করেছেন।

ভাইচুং ভুটিয়া প্রথম ভারতীয় ফুটবলার যিনি, ১৯৯৯ সালে ইউরোপে একটি পেশাদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ম্যানচেস্টার-ভিত্তিক দল বারি ক্লাব দলে খেলার জন্য। টানা তিন মরুসুমে আশানুরূপ ফল না পাওয়াতে,৩৭ ম্যাচে তিন গোল এমন পারফরম্যান্সের পরে ভারতে ফিরে এসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব জয়েন করেন।

ভাইচুং ভুটিয়া ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ভাইচুং ভুটিয়া’র অবসরের মুহুর্তকে চির স্মরণীয় করার লক্ষ্যে একটি ফেয়ার ওয়েল

ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভুটিয়া তারপর ২০১৫ সালে ইউনাইটেড সিকিমে তার শেষ ক্লাব ম্যাচ খেলে গৌরবময় ফুটবল কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘটায়।

<

p style=”text-align: justify;”>ভাইচুং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের ফুটবল প্রতিভার সঠিক উন্নয়নের টার্গেট নিয়ে ভাইচুং ভুটিয়া ফুটবল আবাসিক আকাদেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন, দিল্লী’র বেদাসে।
দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তরুণ প্রতিভা অম্বেষণের খোঁজে নেমে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের(AIFF) কাছে ভাইচুং ভুটিয়া ব্রাত্য যে জন! 

AFSPA in West Bengal: বাংলা-পাঞ্জাবে আফস্পা চালু সম্পর্কে ‘বিস্ফোরক’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

AFSPA in West Bengal

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকার আইন সংশোধন করে পশ্চিমবঙ্গ পাঞ্জাব-সহ কয়েকটি রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (bsf) বা বিএসএফের আওতাধীন এলাকা অনেকটাই বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (west bengal goverment)। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (home ministry) কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জহর সরকার (jahawar sircar)।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জানতে চান এভাবে বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়িয়ে কেন্দ্র কি সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে তার ক্ষমতা জাহির করতে চাইছে? বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ৩২৪০০ স্কোয়্যার কিলোমিটার এলাকা বিএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু আইন সংশোধনের ফলে সেটা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৮৮ হাজার ৭৫২ স্কয়্যার কিলোমিটার হচ্ছে। একইসঙ্গে জহর সরকার জানতে চান, এভাবে বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকার সীমা বাড়িয়ে কেন্দ্র কি সরাসরি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উপর হস্তক্ষেপ করছে না? এভাবেই কি কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করতে চাইছে? আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবেও কি সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা চালু হতে পারে? আগামী দিনে বিএসএফ কি কোনও রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাতে ও বাজেয়াপ্ত করতে পারবে?

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, রাজ্যগুলির এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্য নিয়ে কখনওই বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ানো হয়নি। চলতি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে সমস্ত রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে সেই সব রাজ্যের সীমান্তে নিরাপত্তা আরও মজবুত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিএসএফের সীমানা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার করে নজরদারি চালাতে পারে সে কারণেই তাদের আওতাধীন এলাকার সীমা বাড়ানো হয়েছে। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের গতি রোধ করাই নয়, মাদক, অস্ত্র ও জাল নোট পাচার ঠেকানোর জন্যই বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ার ফলে সীমান্তে পশু পাচারও অনেকটাই কমবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র কখনওই রাজ্যগুলির আইনি ক্ষমতার উপর হস্তক্ষেপ করতে চায় না। বরং কেন্দ্র চায় রাজ্যগুলির সহযোগিতা নিয়েই সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটে থাকে। একই সঙ্গে জালনোট, গরু ও মাদক পাচার হয়ে থাকে। এই সমস্ত বেআইনি কাজ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যেই সরকার বিএসএফের এলাকা বাড়িয়েছে। তবে এই কাজে রাজ্য সরকারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। রাই আরও বলেন, নির্দিষ্ট আইন মেনেই বিএসএফ কোনও এলাকায় তল্লাশি চালাতে বা কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। তল্লাশি চালানো বা কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা কখনওই আইন বহির্ভূতভাবে করতে পারবেনা বিএসএফ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবে কখনওই সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আফস্পা প্রয়োগ করা হবে না।

BJP: সিঙ্গুরে কৃষক ধর্না ‘ফ্লপ’, শুভেন্দু-দিলীপ-সুকান্তকে নিয়ে ‘হতাশা’

BJP's three day agitation at Singur

News Desk: যত গর্জালেন তত বর্ষণ হলো কই ? সিঙ্গুরে কৃষক বিক্ষোভ বা কৃষক ধর্না ঘিরে হুগলি জেলা বিজেপি (BJP) নেতাদেরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতে দলের ভিতরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), বর্তমান সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার সবাই বিদ্ধ হচ্ছেন।

হুগলি জেলা বিজেপির আরও অস্বস্তিতে বাড়িয়েছেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি এই কৃষক ধর্না নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। দলের অভ্যন্তরে ‘বেসুরো’ লকেট।

এদিকে আবার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নামে নিখোঁজ পোস্টার পড়েছে। এতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক। হুগলির বিজেপি মহলে কানাঘুষো বেশিদিন আর নেই লকেট!

লকেট কি দলত্যাগ করবেন? বিধানসভা ভোটের পরথেকেই এই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দেখা গিয়েছিল। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা ভোটে প্রবল মোদী হাওয়ায় সাংসদ হন। তবে বিধানসভা ভোটে বিজেপি রাজ্যে বিরোধী দল হলেও সরকার গড়তে না পারায় ধস নামছে।

বিজেপি মহলে আশঙ্কা পুর ভোটের পরেই আরও কিছু ধাক্কা আসতে চলেছে। সিঙ্গুরে কর্মসূচি ‘ফ্লপ’ তা জেলার নেতারা স্বীকার করে নিয়েছেন। কিছুজনের বিস্ফোরক দাবি, দিলীপ-শুভেন্দু আর চলবে না। সুকান্তবাবু কে দিয়ে বিশেষ কিছু হবে না। সেই হাওয়া আর নেই।

সিঙ্গুরে বিজেপির তিন দিনের ধর্না কর্মসূচি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় কর্মসূচি। বুধবার বক্তারা ভিড় করলেও শ্রোতাদের ভিড় নেই। জেলা বিজেপি নেতাদের অনেকেই বলছেন, ফ্লপ করেছে ধর্না।

KMC Election: বুথের ভোটারকেই পোলিং এজেন্ট? মামলা করল বিজেপি

polling agents

News Desk: কলকাতা পুরভোট (KMC Election) নিয়ে আরও একটি মামলা বিজেপির। এ বার মামলা করলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায়। ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তিনি। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার একক বেঞ্চে মামলাটি করা হয়।

এ বারের ভোটে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভোটারকেই পোলিং এজেন্ট হতে হবে। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে দ্বারস্থ বিজেপি প্রার্থী। আদালতে তাঁর আবেদন, বুথভিত্তিক নয়, ওয়ার্ড ভিত্তিক পোলিং এজেন্ট বসানো হোক। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

কলকাতা পুরনিগম ভোটের আগেই ১১১টি পুরসভা ভোট সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার রায় বুধবার।রায় দেবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আইনজীবী মহল মনে করছে, বুধবারের রায়ে স্পষ্ট হবে ১১১টি টি পুরসভা ভোটের দিনক্ষণ এবং তার গণনার তারিখ।

Virat Kohli: বিতর্কে জল ঢেলে “বিরাট” সাফাই গাইলেন “কিং” কোহলি

Virat Kohli

স্পোর্টস ডেস্ক: ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে বিরাট কোহলিকে (Virat Kohli) সরিয়ে দেওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে আলোচনার বাজার তেঁতে উঠেছে। ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে চান না বিরাট কোহলি? রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) অধীনে না খেলা নিয়ে টুইটারে ট্রোলিং শুরু করেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তকুল। এই প্রেক্ষাপটে সমস্ত বিতর্কে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে বুধবার বিরাট কোহলি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘বিরাট” সাফাই গাইলেন।

রোহিত শর্মার সঙ্গে বিবাদের খবর উড়িয়ে দিয়ে বিরাট কোহলি সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে দোষারোপ করে বলেন, এখন তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দিতে ক্লান্ত। যা লেখা হচ্ছে তা “ফালতু”।

নিজের বিবৃতিতে কোহলি বলেছেন যে,” আমাদের মধ্যে এমনটা কখনও হয়নি। আমি এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দিতে ক্লান্ত। আমাদের মধ্যে এমনটা কখনো হয়নি”। কোহলি সাফাই দিতে গিয়ে বলেন,”আমি সবসময় দলের সাথে এগিয়ে এসেছি এবং সবসময় তা করব। আমার কোনো কাজই দলকে নিচে নামানোর জন্য হবে না”।

বুধবার অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরাট কোহলি বলেন, “রোহিত শর্মার সাথে খেলতে আমার কোনও সমস্যা হয়নি”। তিনি রোহিতের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা অবশ্যই তাকে টেস্ট দলে মিস করব, তবে এই সময়ে নতুন খেলোয়াড়রাও সুযোগ পাবে, এটি একটি ভাল দিক”।

সাম্প্রতিক সময়ে বিরাট কোহলিকে হঠাৎ করে ওডিআই দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, এরপরে তিনি রেগে গিয়েছেন এবং রোহিত শর্মার অধীনে সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলতে চান না, এমন খবরে ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিরাট বলেন, এখন যেটুকু সময় পাব আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করব। প্রসঙ্গত, আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর টিম ইন্ডিয়া প্রোটিয়ার্সদের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলতে উড়ে যাবে।

Hong Kong: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চলছে আগুনে মানুষে টানাটানি, দমবন্ধকর পরিস্থিতি

hong-kong-world-trade-fire

News Desk: হাজার হাজার মানুষের চোখ উপরে। মোবাইল বের করে ভয়াবহ মুহূর্তের ছবি তুলছেন অনেকে। ভিতরে অর্থাৎ হংকংয়ের (Hong Kong) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ছড়িয়েছে আগুন। চলছে আগুনে মানুষে টানাটানি।

সংবাদ সংস্থা এপি জানাচ্ছে, হংকংয়ের (Hong Kong) বিখ্যাত প্রাচ্যের ওয়ার্ন্ড ট্রেড সেন্টারে অগ্নিকান্ড। ভিতরে আটকে পড়েছেন কমপক্ষে ৩০০ জন।

চিনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়ার খবর, ভিতরে দমবন্ধকর পরিস্থিতি। যারা আটকে পড়েছেন কোনওরকমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফোন করে পরিচিতদের জানিয়েছেন।

hong-kong-world-trade-center

বিবিসি ও জাপান টাইমসের খবর, ভিতর থেকে কয়েকজনকে বের করা হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে হংকংয়ের কজওয়ে বে এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৩৮ তলা ভবনটিতে আগুন ধরে।

hong-kong-world-trade-center

ঘিঞ্জি বসতিপূর্ণ বিশ্বের অন্যতম ব্যাস্ত বাণিজ্য নগরীতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় দ্রুত। হংকং প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমেছে।

<

p style=”text-align: justify;”>হংকং প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দু’টি ওয়াটার জেটের মাধ্যমে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই ভবনটিতে বিভিন্ন দোকানের ক্রেতা এবং দুপুরের খাবারের জন্য রেস্টুরেন্টে যাওয়া ব্যক্তিরাও আটকে পড়েছেন।

Tax on Fuels: জনতার পকেট কেটে পেট্রোল-ডিজেল থেকে আট লক্ষ কোটি টাকা আয় নয়াদিল্লির

Finance Minister Nirmala Sitharaman

News Desk, New Delhi: পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার (Petrol, Disel, Lpg) গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল মানুষ। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে, মোদী সরকার (Modi Goverment) জ্বালানির ওপর অস্বাভাবিক শুল্ক (Tax on Fuels) আরোপ করার কারণেই দেশের বাজারে এভাবে পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে চলেছে।

বিরোধীদের সেই অভিযোগে কর্ণপাত করার প্রয়োজন মনে করেনি মোদী সরকার। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ও লোকসভা আসনের উপনির্বাচনে (Bielection) মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপি। একই সঙ্গে আগামী বছরের শুরুতেই আছে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের উপর শুল্ক কিছুটা কমিয়ে ছিল কেন্দ্র।

পেট্রোপণ্যের উপর মোদী সরকার যে অস্বাভাবিক শুল্ক ছাপিয়েছে বিরোধীদের এই অভিযোগকেই এদিন মেনে নিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। অর্থমন্ত্রী সংসদে জানালেন, শেষ তিন বছরে পেট্রোল ও ডিজেল থেকে শুল্ক বাবদ সরকার ৮.০২ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছে। এই আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে। এই অর্থবর্ষে কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেল থেকে ৩.৭১ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছে।

শেষ তিন বছরে পেট্রোল ও ডিজেলের শুল্ক থেকে কেন্দ্র কি পরিমাণ আয় করেছে তার বিস্তারিত পরিসংখ্যানও দিয়েছেন নির্মলা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে পেট্রোল ও ডিজেল থেকে শুল্ক বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ সালে শুল্ক বাবদ কেন্দ্রের ঘরে এসেছে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেল থেকে শুল্ক বাবদ আয় করেছে ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা।

রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে নির্মলা জানান, ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক ছিল ১৯.৪৮ টাকা। ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর সেটাই বেড়ে হয়েছে ২৭.৯০ টাকা। অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ডিজেলের উপর শুল্ক ছিল ১৫.৩৩ টাকা। ২০২১ সালে যা বেড়ে হয়েছে ২১.৮০ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুলাই মাসের মধ্যে পেট্রোপণ্যের দাম বিশ্ববাজারে অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু মোদী সরকার শুল্ক এতটুকুও কমায়নি। এরপর ২০২০ সালে করোনাজনিত কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তলানিতে নেমে এসেছিল। কিন্তু মোদী সরকার শুল্ক না কমিয়ে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ও লোকসভা উপনির্বাচনের বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর ৩ নভেম্বর মোদী সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলে ৫ টাকা এবং ডিজেল ১০ টাকা শুল্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। করোনাজনিত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মোদী সরকার যে মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবেই সমস্যার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে অর্থমন্ত্রীর কথাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল। অর্থাৎ বিরোধীরা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জনবিরোধী নীতি রূপায়নের যে দাবি করছিল সেটাই প্রমাণ হল।

Helicopter Crash: ৮ দিনের লড়াই শেষে নিয়তির কাছে হার মানলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং

Varun-Singh-dies-in-hospita

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: একটানা ৮ দিন লড়াই চালালেও শেষ রক্ষা হল না। শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে হাসপাতালেই প্রাণ হারালেন কপ্টার দুর্ঘটনায় (Helicopter crash) একমাত্র জীবিত সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং (Varun Singh)। ভারতীয় বায়ুসেনার (indian air force) পক্ষ থেকে বরুণ সিংয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

গত বুধবার তামিলনাড়ু কুন্নুরে (kannur) এমআই-১৭ কপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত (bipin rawat) এবং তার স্ত্রী মধুলিকা। একইসঙ্গে সেদিনের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন আরও ১৩ জন। একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে হাসপাতালে লড়াই চালাচ্ছিলেন বরুণ সিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই তরুণ গ্রুপ ক্যাপ্টেনও মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

কপ্টার দুর্ঘটনায় বরুণের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন তাঁকে ওয়েলিংটনের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে আরও ভাল চিকিৎসার জন্য তাঁকে বেঙ্গালুরু নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তিনি স্থিতিশীল আছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সেই আশ্বাস আর বাস্তবে মিলল না। বরং বরুণকেও কেড়ে নিল নিয়তি।

প্রয়াত গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংয়ের বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল কে পি সিং। কয়েকদিন আগে কে পি সিং জানিয়েছিলেন, তিনি নিশ্চিত যে তাঁর যোদ্ধা ছেলে মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ঘরে ফিরবেন। কিন্তু বাবার সেই আশা পূরণ হল না।

বরুণ সিংয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, বরুণ সিংয়ের প্রয়াণে আমি মর্মাহত। বরুণ সিংয়ের অবদান চিরকাল মনে রাখবে দেশবাসী। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। বরুণ সিংয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও।

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট টিমকে “খুশামদী” জানিয়ে পাক ক্রিকেট ভক্তদের ক্ষোভের নিশানায় PCB

wasim akram

Sports desk: প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram) মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (PCB) প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সময় “করাচিতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়াম” দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড তাদের সফর বাতিল করার পর, পাকিস্তান ডিসেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ আয়োজন করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, উভয় দলের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দর্শকদের আসন খালি ছিল।

গোটা ঘটনার জেরে স্তম্ভিত পাকিস্তানের প্রাক্তন বাহাতি পেসার আক্রম টুইটে নিজের প্রতিক্রিয়ায় পোস্ট, “#PAKvWIt20-এর জন্য করাচিতে একটি খালি স্টেডিয়াম দেখে অবিশ্বাস্যভাবে দুঃখিত, বিশেষ করে গত মাসে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের পরে। আমি নিশ্চিত কেন আমি জানি কিন্তু আমি আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই! আমাকে বলুন, ভিড় কোথায় এবং কেন”?

https://twitter.com/wasimakramlive/status/1470669890394730496?s=20

পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি,প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রি সন্তোষজনক ছিল না। তবে সিরিজ এগিয়ে চলার সাথে সাথে দর্শকদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ওয়াসিম আক্রমের টুইট পোস্ট, “এটি খুবই উদ্বেগজনক। এটি একটি বাড়ির পিছনের দিকের খেলা নয় এটি একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ,” আক্রমের এই টুইটের রিপ্লাইং পোস্টে হিসবান মেমন একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্টের ক্যাপসনে লিখেছেন, “করাচীবাসীদের (স্থানীয় জনতা) অভিশাপ না দেওয়া যাক, নবাবশাহ থেকে লোকেরা দেখতে এসেছে কিন্তু তারা ইতিমধ্যে ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করেছে। এই বিষয়েও পিসিবির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত!”

শুধু তাইই নয়, খেলা দেখতে এসে টিকিট না পাওয়ার কারণে অনেক দূর থেকে আসা আরও অনেক ক্রিকেট ভক্তরা হেনস্থার শিকার হয়েছে,তবে এমন উত্তপ্ত আবহেও পাক ক্রিকেট ভক্তকুল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টিমকে “খুশামদী” অর্থাৎ স্বাগত জানিয়ে, আকারে ইঙ্গিতে পাক ক্রিকেট ভক্তরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ম্যাচ আয়োজনের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।

সোমবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৩ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেটের জয়ের সাথে, পাকিস্তান তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাদের লিড ২-০ তে বাড়িয়েছে।দুটি ম্যাচ করাচিতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই দলের মধ্যে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।

Bangladesh 50: ‘প্রিয় আবদুল্লাহ…আপনার দূত পাঠান’, চিরকুটে লিখলেন মেজর জেনারেল নাগরা

Bangladesh liberation war Witness to surrender

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: সৈনিক জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপেক্ষা করা সমীচিন নয়। পাকিস্তানি সেনার ঘেরাটোপে থাকা ঢাকা দখলের প্রথম গৌরবের হাতছানি। সবমিলে প্রবল মানসিক টানাপোড়েনে রয়েছেন ভারতীয় সেনার মেজর জেনারেল নাগরা। অপরপক্ষে তাঁর ‘বন্ধু’ এখন প্রতিপক্ষ ‘শত্রু’ পাকিস্তানি লেফট্যানেন্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। যুদ্ধ দুজনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মাঝে একটি সেতু। বিখ্যাত মিরপুর ব্রিজ।

তৎকালীন সময়ে তো বটেই এখনও ঢাকা মহানগরীর অন্যতম একটি সেতু। এই সেতুর দুই মুখে পজিশন নিয়েছে দু পক্ষ। একদিকে ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ সেনা অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনা।

Mirpur bridge dhaka

ঢাকার বিখ্যাত মিরপুর ব্রিজের পাকিস্তানের দিক থেকে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছিল। উত্তেজিত জেনারেল নাগরা ডেকে নিলেন তাঁর সহকারি অফিসারদের। তাঁর বাহিনীকে পুরো সহযোগিতা করছে কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর (বাঘা সিদ্দিকী) কাদেরিয়া বাহিনী।

৫০ বছর আগে মিরপুর সেতুতে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর টানা দুটো দিন ঘটেছিল সেই নাটকীয় মুহূর্তের প্রথম পর্বটি। এই সেতুর এক প্রান্ত থেকে পূর্ব পাকিস্তানের সেনা কমান্ডার নিয়াজির কাছে একটি চিরকুট পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় সেনা কর্তা গন্ধর্ব সিং নাগরা।

Bangladesh liberation war Witness to surrender

কী লিখেছিলেন মেজর জেনারেল নাগরা?
“My dear Abdullah, I am here. The game is up, I suggest you give yourself up to me and I will take care of you, Nagra”
(প্রিয় আবদুল্লাহ, আমি এখন মিরপুর ব্রিজে। ঘটনার পরিসমাপ্তি হয়েছে। পরামর্শ হচ্ছে, আপনি আমার কাছে আত্মসমর্পণ করুন। সেক্ষেত্রে আমরা আপনাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেব, শীঘ্র আপনার প্রতিনিধি পাঠান। নাগরা)

নাগরা ও নিয়াজি পরস্পর পরিচিত। দুই দেশের দুই শীর্ষ সেনা কর্তা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দুজনকে ঐতিহাসিক চরম মুহূর্তে টেনে এনেছিল।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা ‘আমি বিজয় দেখেছি’ বইতে নাগরা ও নিয়াজির সম্পর্ক লিখেছেন এম আর আখতার মুকুল। তিনি তৎকালীন মুজিবনগর সরকার (প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার) এর তরফে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কর্তা। তিনি লিখেছেন, ‘ বছর কয়েক আগে জেনারেল নাগরা যখন ইসলামাবাদে ভারকীয় দূতাবাসে মিলিটারি এট্যাচি হিসেবে চাকরি করতেন, তখন থেকে নিয়াজীর সঙ্গে তার পরিচয়’ (বানান অপরিবর্তিত)

<

p style=”text-align: justify;”>সেদিন নাগরার চিরকুট পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সেনা কর্তা আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি (এ এ কে নিয়াজি)। ঢাকার পাক সেনা কার্যালয়ের সেই গুমোট ভয়ানক পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন পাকিস্তানি আমলা সিদ্দিক সালিক তাঁর লেখা ‘Witness to surrender’ (আত্মসমর্পণের সাক্ষী) বইতে।
তিনি লিখেছেন, নাগরার বার্তা হাতে নিয়ে পড়ার পর নিয়াজির চেহারাটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি কোনও কথা না বলে চিঠিটা অন্যদের পড়তে দিলেন। সবাই বার্তাটা দেখলেন। মিনিট কয়েক জন্য সেখানে কবরের নিস্তব্ধব্ধতা নেমে এলো।