AFC U23: ভারত ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত, দুরন্ত গোলকিপিং ধীরাজ সিংয়ের

India and Kyrgyzstan match update

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমার্ধে AFC U23 এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের খেলার ফলাফল গোলশূন্য ছিল। ভারত ফাস্ট হাফের ৪৩ মিনিটে ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ৪৯ মিনিটে অফ টার্গেট কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের। গোলের বিশাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ। বোরুবায়েভ বাঁ দিক থেকে বল পায়ে শট। ইগুলভ মাকসাটের বক্সের ভিতরে হেডার, কিন্তু বল বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটে শুকুরভের দূরপাল্লার শট। কিন্তু ভারতীয় গোলকিপার ধীরাজ সিং বল শট ধরে ফেলে।

ম্যাচের ৬১ মিনিটে ধীরাজ সিং এর একক প্রচেষ্টায় ভারত বিপদ কাটিয়ে উঠলো।কিরগিজ প্রজাতন্ত্রর বাঁ দিক থেকে ক্রস আসে। বলটি তাপায়েভের কাছে পড়ে যিনি বলকে চেস্ট করেন এবং বক্সের ৬ গজ থেকে একটি শক্তিশালী শট নেন। ধীরজ সিং লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং বলটি তার বুকে এসে লাগে এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত গোলকিপিং ধীরাজের। ৬৪ মিনিটে ধীরাজের দুরন্ত সেভ। গোটা ম্যাচে এদিন তাপায়েভ ভারতীয় ডিফেন্সকে স্বস্তির দম ফেলতে দিচ্ছে না। তাপায়েভ ডান দিক থেকে কেটে তার বাঁ পায়ে বলে শটে নেয়। শট ধীরজের হাতে জমা পড়ে। গোলশূন্য খেলার ফল।

৬৯ মিনিটে দারুণ প্রচেষ্টা ভারতের। দীপকের সাইকেল কিক নেয়, তবে কিরগিজ গোলরক্ষক তার বাঁ দিকে নিচু হয়ে একটি ভাল সেভ করেন। ভারত কিরগিজ প্রজাতন্তের বিরুদ্ধে ম্যাচে লড়ছে,কিন্তু গোল পায়নি, গোলশূন্য স্কোরলাইন।

৮৪ মিনিটে এরনাজ ভারতীয় বক্সের ভিতরে জায়গা খুঁজে পায়, এবং আনমার্ক আর্লেনের কাছে স্কোয়ার করে বল, কিন্তু ধীরাজ সিং ভারতীয় গোলকিপার আরেকটি সেভ তৈরি করে।

৮৯ মিনিটে সুরেশ কিরগিজ বক্সে ফ্রি কিক মারেন। ওই শট কিরগিজ ডিফেন্স হেড পায়, কিন্তু বল রিবাউন্ড হয়ে দীপক টাংরির কাছে পড়ে, টাংরি ভলি করে, কিন্তু কিরগিজ গোলকিপার ওই ভলি রক্ষা করে। ৯০ মিনিটে খেলার ফলাফল গোলশূন্য। খেলা অতিরিক্ত সময়ে ৫ মিনিটের জন্য গড়ায়। অতিরিক্ত সময়েও ভারত এবং কিরগিজ প্রজাতন্তের মধ্যে ম্যাচের ফলাফল গোলশূন্য থাকে।

AFC U23: প্রথমার্ধে ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত ভারত, কিরগিজ দলের বিরুদ্ধে

India and Kyrgyzstan match update

Sports Desk: AFC U23 এশিয়ান কাপ যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে দুবাই’র ফুজাইরাহ স্টেডিয়াম শনিবার ভারত মুখোমুখি কিরগিজ প্রজাতন্তের। ইগর স্টিম্যাচের ছেলেদের এটা তিন নম্বর ম্যাচ।

ভারত পিছন থেকে খেলা পরিচালনা করে এবং কিরগিজদের জন্য প্রথম রক্ষণের লাইন ভেঙে দেয়। বল বাম দিকে রাহুলের দিকে খেলা হয় মার্কারকে এড়িয়ে গিয়ে। রাহুল বাইলাইনে পৌঁছে কাটব্যাকের চেষ্টা করেন কিন্তু কিরগিজিস্তানের ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করে ভারত কর্নার পায়, কিন্তু গোল করতে পারেনি কর্ণার থেকে।

১১ মিনিটে ধীরজ সিং আরও একবার নিজের জাত দেখিয়ে দিলেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্র এর ফুটবলার জাপারভ কাছে থাকা তাপায়েভকে লক্ষ্য করে বল বাড়িয়ে দেয়। তাপায়েভ একটি শক্তিশালী নিচু শট নেয়, কিন্তু ভারতীয় গোলকিপার ধীরাজ সিং ঠিক সময়ে নিচে নেমে বলটি দূরে সরিয়ে দেয়, ওই বল অপুয়ার কাছে পড়তেই বলটি ক্লিয়ার করে। খেলার ফলাফল গোলশূন্য।

১৫ মিনিটে কিরগিজ দল কর্নার পেতেই ভারত চাপে পড়ে। একটি দুর্বল ক্রস ভারতীয় ডিফেন্ডার ঠিক মতো ক্লিয়ার করতে না পারায়, বিপদ ঘনিয়ে আসে। কিন্তু তিনকাঠির নীচে ধীরাজ সহজেই তা রক্ষা করে।

ভারতের অনূর্ধ্ব ২৩ দল অনেকটা জায়গা জুড়ে বলের দখল রেখেও গোলের মুখ খুলতে পারছে না। যা কোচ ইগর স্টিম্যাচের কপালের চিন্তার ভাঁজকে ফুটিয়ে তুলেছে।

ম্যাচের ২১ মিনিটে ভারত ফাইনাল থার্ডে জায়গা খুঁজে পায়। বল রহিম আলীর পা খেলা থেকে বিক্রম প্রতাপ সিংয়ের কাছে ফেলা হয়। বিক্রমের বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৮ মিনিটে কিরগিজ ফুটবলার তাপায়েভের হেডার অফ টার্গেট হয়।

৩০ মিনিটে ভারতীয় গোলকিপার ধীরাজ সিং’র দুরন্ত সেভ।সুপার সেভ। ধীরাজ আবার নিজের ক্লাস চেনালেন। কিরগিজ আক্রমণ এবার মাঝমাঠ থেকে বোরুবায়েভ হয়ে শুকুরভের পায়ে বল। ভারতীয় রক্ষণের শেষ লাইনের মুখোমুখি, ধীরাজের বিরুদ্ধে ওয়ান-অন ওয়ান। গোলরক্ষক ধীরাজ সিং ঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে লাইনের বাইরে চলে আসে, জায়গা বড় করে এবং শুকুরভের শটটি আটকে দেয়।

৩১ মিনিটে আশিস লবস করে বল বিক্রমকে দেয়, কিন্তু বিক্রমের হেড অফ টার্গেট হয়। ভারত শেষ ১০ মিনিটে কিরগিজিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে,কিন্তু গোলের লকগেট খুলতে পারছে না। খেলার ফলাফল গোলশূন্য।

৪০ মিনিটে কিরগিজিস্তানের অফ টার্গেট শট। জাপারভের বাঁ দিক ধরে আক্রমণ করে।জাপারভের ক্রস ওভারহিট হয় এবং ক্রসটি ডান দিক থেকে আসায় বলের দখল কিরগিজ ফুটবলারদের। কিরগিজ ফুটবলার হেড দিয়ে গোলের চেষ্টা করেও বল বারের ওপর দিয়ে যায়।

৪৩ মিনিটে ভারত পেনাল্টি দাবি করে, কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দিতে অস্বীকার করে। রহিম আলী বক্সের ভেতরে চলে গেলেও রেফারি তাকে উঠে খেলতে বলেন। আর্টিউকভের কাছে বল আছে এবং ব্যাকপাসে যায়। আর্টিউকভের আন্ডারহিটে রহিম ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু রেফারি ভারতের আন্ডারহিটের দাবি মেনে নেয়নি। পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত ভারত। খেলার প্রথমার্ধের ফলাফল গোলশূন্য।

UAE: মরুদেশে ক্রিকেটে ভারত হারলেও ফুটবলে বাজিমাত

AFC U23

স্পোর্টস ডেস্ক:  বাইশ গজে দুবাই’তে রবিবার, ভারতের সিনিয়র ক্রিকেট টিম টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার ১২ নক আউট স্টেজে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেরে গেল। বাবর আজমরা ১০ উইকেটে জিতলো, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় বোলারদের পিটিয়ে ক্লাব স্তরে নামিয়ে নামিয়ে এনে। অন্যদিকে, AFC U23 যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে ভারতের জুনিয়ররা ওমানকে হারালো ২-১ গোলের ব্যবধানে, দুবাইতে, সেই রবিবার রাতে,২৪ অক্টোবর।

ভারতের ছোটরা মরুদেশে ওমানের বিরুদ্ধে ফুটবলে জয় ছিনিয়ে আনলো। আর বিরাটের ভারত এখন টি -২০ বিশ্বকাপে নক আউটের দ্বিতীয় ম্যাচ, ৩১ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘বাউন্স ব্যাক’ করতে পারবে কি না তাইই নিয়ে চলছে জোর চর্চ্চা। সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বড়দের লজ্জার, হতশ্রী পারফরম্যান্সের ময়নাতদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে, বাবর আজমদের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে যাওয়ার মূহুর্ত থেকেই।

AFC U23 যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম এনকাউন্টার ম্যাচে ভারতের হয়ে গোল করেছেন রহিম আলি(৬) এবং বিক্রম প্রতাপ সিং’র দ্বিতীয় গোলে(৩৭) ভারত লিড পায়,দুবাই ‘র ফুজাইরাহ স্টেডিয়ামে। ওমানের হয়ে ওয়ালিদ সেলিম অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল করলেও, এই গোল ভারতের তিন পয়েন্টের ‘পথের কাটা’ হয়ে দাঁড়ায় নি।

সম্প্রতি, ইগর স্তিম্যাচ মালদ্বীপে SAFF চ্যাম্পিয়নশিপে হোঁচট খেয়ে প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ার জায়গা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং অষ্টম বারের জন্য ভারতকে SAAF চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। ২০১৩ সালে AFC U23 টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো AFC অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপ উজবেকিস্তান ২০২২ যোগ্যতা অর্জনের জন্য কাজ করে চলেছেন ভারতীয় কোচ স্তিম্যাচ।

ওমান টিমের ম্যাচে ছন্দ জোগাড় হওয়ার আগেই, ইগর স্তিম্যাচের ছেলেরা উভয় উইং থেকে আক্রমণ শুরু করে এবং ম্যাচের ৫ মিনিটে বিক্রম একটি পেনাল্টি অর্জন করে যা রহিম আলী শান্তভাবে ওমানের জালে বল জড়িয়ে দেয়। ওমানি গোলরক্ষক ইব্রাহিম ইউসুফ সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন, কিন্তু রহিম স্পট-কিক নিখুঁতভাবে রাখার কারণে বলটি সোজা হয়ে গিয়েছিল এবং সাইড-নেটিংয়ে বাস করেছিল।

বাঁ দিক থেকে আকাশের একটি সুন্দর ক্রস ভেসে ওঠে কিন্তু ওমানি গোলরক্ষক অনিকেতের ওপরে লাফিয়ে ওঠে এবং কোনও অঘটন ঘটার আগেই বলের দখল গ্লাভসে চলে নিয়ে ফেলে। বিক্রম এবং রাহুল তাদের বিদ্যুৎ গতির ডুয়েলে, ওমানি মিডফিল্ডকে তাদের পায়ের জাদুতে জুড়ে রেখেছিল, যা ম্যাচের ৩৭ মিনিটে বিক্রম প্রতাপ সিং’র গোলে ভারতকে দ্বিতীয় গোলে লিড পেতে সাহায্য করেছিল।

রেগুলেশন টাইমের শেষ মিনিটে ওমানি ফুটবলার ওয়ালিদ সেলিম আব্দুল্লাহ মহম্মদ আল বালুশিকে ফাঁকা জায়গাতে দেখতে পেয়ে ক্রস বাড়িয়ে দেয় এবং ওমান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের একমাত্র গোল করে। কিন্তু ওমানের এই গোল ভারতের তিন পয়েন্ট হাসিলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। রেফারির শেষ বাঁশি বেজে উঠতেই ভারতের ছোটরা জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে।২৭ অক্টোবর বুধবার, ভারতের পরের ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে।

হেডকোচ ইগর স্তিম্যাচের বয়স বিতর্কে বিক্ষোভের মশাল হাতে তুলে নিল যুব ভারতীয় ফুটবল দল

Young Indian football team

স্পোর্টস ডেস্ক: হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের কোচিং’এ অষ্টম বারের জন্য ভারত সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, নেপালের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতে। এবার হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের কাছে পাখির চোখ ভারতীয় যুব দলকে AFC U23 এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করানো।

এআইএফ এফের ওয়েবসাইটে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ভারতীয় U23 দলের হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচ বিতর্ক উস্কে দিয়ে বলে ফেলেন,”প্রত্যেক দেশেরই প্রতিভাবান তরুণ এবং অনূর্ধ্ব -২৩ খেলোয়াড় যারা ইতিমধ্যে নিজের দেশের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে খেলছে, এবং আমরাও তাই। কিন্তু আমাদের এই দলে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে।”

লেলেংমাওয়িয়া এবং সুরেশ সিং আর জুনিয়র নয়। AFC U23 এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের জন্য দুবাইয়ে থাকা U23 জাতীয় দলের স্কোয়াডে হঠাৎ করেই তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। তাদের কাঁধে সিনিয়র দলের ব্যাজ রয়েছে, এবং সম্প্রতি, তাদের গলায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্ণপদক ঝুলেছে। এই তালিকাতে নাম রয়েছে রহিম আলী এবং ধীরাজ সিং’র। আর এই বিতর্কে যুব ভারতীয় দলের সদস্যরা নিজেদের ভিতরে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতীয় যুব দল অর্থাৎ U23 দলের হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচ।

হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুবাই’তে থাকা যুব ভারতীয় দলে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ইগর স্তিম্যাচের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন যুব ভারতীয় দলের ফুটবলারেরা ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে। ফলে অস্বস্তির মুখে পড়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কেননা ২৪ অক্টোবর থেকে ভারত শুরু করতে চলেছে AFC U23 এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ। তার আগে এই বয়স নিয়ে বিতর্ক টিমের ফোকাসড টলিয়ে দিতে পারে, ম্যাচের পারফরম্যান্সে ছাপ পড়তে পারে। ইতিমধ্যে দল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মাটি ছুঁয়ে ফেলেছে। “একেবারে না, ”আমরা এখনও জুনিয়র। সুরেশ সিং ওয়াংজ্যাম মন্তব্য করেন, “আমরা এখনও U17 বিশ্বকাপ দলের সদস্য।” পাশে থাকা লেলেংমাওয়িয়া মাথা নেড়ে সমর্থন জানায়।

এই জুটি সিনিয়র স্কোয়াডের পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলাকে U23 দলে নিয়ে এসেছে। বর্তমান সতীর্থরা যাদের অধিকাংশই তাদের সঙ্গে ছিল U17 বিশ্বকাপ দলে, এবং ইন্ডিয়ান Arrows টিমে থাকার সময়ে তারা যেভাবে মনপ্রাণ দিয়ে ফুটবল খেলেছিল,সেই সুযোগ ভোলার নয়।

মালদ্বীপে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল একটি বিশাল শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। একজন ফুটবলারের জীবনে মাঠে যা করা হচ্ছে তা সবটা নয়, বরং খেলা বন্ধ রাখা এবং এটি জীবনেরবড় অংশ’ এইভাবে লেলেংমাওয়িয়া নিজের ফুটবল বোধ প্রকাশ করেছেন।

সাফ কাপে ১০ জনের বাংলাদেশকে পেয়েও ১-১ গোলের ড্র আর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশের ফুটবল মহলে বিস্তর কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছিল। কোচ ইগর স্তিম্যাচের ফুটবল বোধ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠেছিল। সাফ কাপ ফাইনালে ভারত ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে অষ্টম বারের জন্য সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে নেপালের বিরুদ্ধে ৫০ মিনিটে সুরেশ সিং ওয়াংজ্যাম গোল করেন, ভারতের হয়ে দ্বিতীয় গোল। আর ৯০ মিনিটের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর বদলি হিসেবে নামা সাহাল আব্দুল সামাদ তিন নম্বর গোল করে।

এই প্রসঙ্গে ফুটবলার সুরেশ সিং ওয়াংজ্যাম বলেন, “আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি, এবং চারদিকে হতাশা ছিল। এটা আমাদের জন্য কর বা মর পরিস্থিতি ছিল, সবাই আমাদের নিয়ে লিখছিল। সেখান থেকে যখন আমরা পয়েন্ট টেবিল ঘুরিয়েছিলাম – সবাই একসাথে মিলে – সিনিয়র খেলোয়াড়রা, আমরা ফুটবলার, টেকনিক্যাল এবং সাপোর্ট স্টাফ এবং অবশ্যই কোচ।” সুরেশের কথায়, “টিম স্পিরিট, একতাবদ্ধতা, আত্মবিশ্বাস আমাদের জিততে সাহায্য করেছে। আমরা ওই অভিজ্ঞতা চিরকাল বহন করে চলবো।”

U17 বিশ্বকাপের জন্য গোয়ায় AIFF একাডেমি প্রকল্পে তাদের সকলের যাত্রা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। জীবন কখনোই গোলাপের পাপড়ি বিছানা ছিল না, বিশেষ করে সেই (টেন্ডার এজড) শিশু বয়সে পরিবার থেকে দূরে থাকা, সেই বয়সেও স্লটের জন্য বিশাল প্রতিযোগিতার কথা ভুলে যাওয়ার নয়। কিন্তু দুজনেই প্রতিটি মুহূর্তকে প্রাণবন্তভাবে মনে রাখি।

নিজের ফুটবল জীবনের শুরুর দিনের স্মৃতিচারণায় লেলেংমাওয়িয়া বলেন, “আমরা বাচ্চা ছিলাম, শুধু আমাদের দুজন নয় – পুরো ব্যাচ। আমরা শুধু ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম। আমরা চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলাম, এবং খেলার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলাম, এবং খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। একমাত্র প্ল্যাটফর্ম ছিল এআইএফএফ-এ একাডেমি স্থাপন, এবং এইভাবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে এখানে আসা একটি স্বপ্ন ছিল, ”সুরেশ যোগ করেন। “এক্সপোজার আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। এবং এটা ভাল শুরু হয়েছে যখন সিনিয়র দলের সাথে সাফ জেতার জন্য। আমি ফাইনালেও গোল করেছিলাম, ”এই কথা বলতেই সুরেশের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

“যখন আমি ছোট ছিলাম, অথবা আমরা সবাই বাচ্চা ছিলাম, তখন আমরা সিনিয়র টিমের খেলা দেখতে টেলিভিশনের সামনে একত্রিত হতাম। সুব্রত পাল, জেজে লালপেখলুয়া এবং অন্যান্যদের সাথে সুনীল ছেত্রী ছিলেন আমাদের আদর্শ। এখন আমরা সিনিয়র দলের যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছি এবং সুনীল-ভাইয়ের সাথে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করাটা সত্যি কারে আশ্চর্যজনক বলে মনে হচ্ছে, ”রহিম আলির কথায় ফুটে উঠলো।

“আমাদের একটি স্বপ্ন ছিল – আমরা সবাই। আমরা এখনও সেই স্বপ্ন লালন করি। আমরা এর একটি অংশই অর্জন করেছি এবং এটি আমাদের আরও এবং আরও বেশি স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে, ” বলেন গোলকিপার ধীরাজ সিং। ২৪ অক্টোবর AFC U23 এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে ভারত ওমানের মুখোমুখি হবে, এরপর যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে।বৃ্হস্পতিবার থেকে ভারতীয় যুব ফুটবল দলের অনুশীলনে নামার কথা।

AFC U23: এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাই ম্যাচ খেলতে মরুদেশে ইগর স্তিম্যাচের যুব ভারতীয় ফুটবল

AFC U23 Asian Cup Qualifier Youth Indian Football

স্পোর্টস ডেস্ক: হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের কোচিং’এ অষ্টম বারের জন্য ভারত সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, নেপালের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতে। এবার হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের কাছে পাখির চোখ ভারতীয় যুব দলকে AFC U23 এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করানো।

ইগর স্তিম্যাচ ভারতী সিনিয়র ফুটবল দলের হেড কোচ হিসেবে প্রথম ট্রফি জিতেছে সদ্য সাফ কাপ ২০২১। এবার তার মিশন AFC U23 এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাই করা যুব ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়ে। AFC U23 এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলতে যুব ভারতীয় দল বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পৌছে গিয়েছে।

AFC U-23 এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জনের জন্য ভারতকে তিনটে ম্যাচ খেলতে হবে। ২৪ অক্টোবর ম্যাচ রয়েছে ওমানের বিরুদ্ধে। ২৭ অক্টোবর ইউএই’র বিরুদ্ধে এবং ৩০ অক্টোবর কিরগিজিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে ভারতীয় যুব দল।

“প্রত্যেক দেশেরই প্রতিভাবান তরুণ এবং অনূর্ধ্ব -২৩ খেলোয়াড় যারা ইতিমধ্যে নিজের দেশের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে খেলছে, এবং আমরাও তাই। কিন্তু আমাদের এই দলে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে,” এমনই মত হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের।

“আমাদের জন্য ভালো বিষয় হল আমাদের এখানে ইতিমধ্যেই এই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় যারা জাতীয় দলের অংশ ছিল, এবং আবহাওয়া কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন এবং ভক্তদের প্রত্যাশাও কি সেটাও জানা , বলেন ইগর স্তিম্যাচ। সঙ্গে এও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময় একই, বাইরে গিয়ে প্রতিটি ম্যাচ জিততে হবে। কিন্তু এটা নির্ভর করে কতটা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আমরা বিপক্ষের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়ে বিপক্ষ দলের শক্তি সম্পর্কে তথ্য জোগার করছি।”

“আমি এই ছেলেদের সাথে অনেক বেশি করে জড়িয়ে আছি। খেলোয়াড়েরা যারা আমাদের বেঞ্চে রয়েছে, তাড়া অতিরিক্ত শক্তি জোগাচ্ছে। তারা বয়সে তরুণ এবং তাদের সাথে কাজ করা অনেক সহজ। আমাদের তাদেরকে বুঝতে হবে যে বয়সে তারা তরুণ, আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে দ্রুত তাদের শেখার সাথে সাথে তাদের তৈরি করতে পারি,” এমনটাই জানিয়েছেন হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচ। ভারতীয় যুব দল ২১ তারিখ,বৃ্হস্পতিবার অনুশীলনে নামবে।

গোটা সাফ কাপ টুর্নামেন্টে অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর ভারত কোন ম্যাচ হারেনি। বাংলাদেশকে ১০ জনে পেয়ে ১-১ গোলে ড্র এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র, সাফ কাপে ভারতের হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর হেড কোচ ইগর স্তিম্যাচের ফুটবল বোধ নিয়ে নানা বিতর্ক দানা বেধেছিল। কিন্তু নেপালের বিরুদ্ধে সুনীল ছেত্রীর করা একমাত্র গোলে ভারত আশা জিইয়ে রাখে। আর মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জিতে ভারত সাফ কাপের ফাইনালে চলে যায়। এরপর ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ভারত সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়,অষ্টম বারের জন্য।

মালদ্বীপে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর ধীরজ সিং, সুরেশ সিং, লেলেংমাওয়িয়া রালতে, জ্যাককসন সিং এবং রহিম আলীর মতো ফুটবলারেরা ব্যাঙ্গালুরুতে U-23 দলে যোগ দিয়েছিল। AFC U-23 এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জনের জন্য ২৮ জন ফুটবলারকে শিবিরে ডাকা হয়। এর মধ্যে সাহিল পানওয়ার ছাড়া বাকি সবাই বেঙ্গালুরুতে রিপোর্ট করেছেন। ওড়িশা এফসির মেডিকেল রিপোর্ট অনুসারে, সাহিল এখনও চোট লেগে ভুগছেন এবং তাই কোয়ালিফায়ারদের স্কোয়াড থেকে ছিটকে গিয়েছে।

AFC U-23 এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে ২৩ জন ফুটবলার হলেন
গোলকিপার: ধীরাজ সিং, প্রভুসুখন সিং গিল, মহম্মদ নওয়াজ।
ডিফেন্ডার: নরেন্দ্র গহলট, অ্যালেক্স সাজি, হরমিপাম রুইভা, অসীশ রাই, সুমিত রাঠি, আকাশ মিশ্র।
মিডফিল্ডার: সুরেশ সিং, অমরজিৎ সিং, লেলেংমাওয়িয়া, জ্যাককসন সিং, দীপক টাংরি, রাহুল কেপি, কোমল থাতাল, নিখিল রাজ, ব্রাইস মিরান্ডা, প্রিন্সটন রেবেলো।
ফরোয়ার্ড : বিক্রম প্রতাপ সিং, রহিম আলী, রোহিত দানু, অনিকেত যাদব।
হেড কোচ: ইগর স্তিম্যাচ।