তালিবানদের পঞ্জশির দখলের নেপথ্যে কি পাক বাহিনী?

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) শেষ জঙ্গি বিরোধী এলাকার পতন হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা প্রবল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে অবশেষে পঞ্জশির উপত্যকার (Panjshir valley) গভর্নর হাউসে নিজেদের পতাকা উড়িয়ে দিল।

আরও পড়ুন আফগানিস্তান: রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক মহাসচিবের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধি দলের বৈঠক

দীর্ঘদিন ধরে পঞ্জশির তালিবানদের দখলমুক্ত ছিল। অবশেষে তা দখল করেছে আফগানিস্তানি জঙ্গি সংগঠন। তারপরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদ ফায়েজের তদারকিতে কয়েক হাজার পাক সেনা পঞ্জশিরে মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে তালিবানকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন High Alert: ভারত-আফগানিস্তান সীমান্তে স্যাটেলাইট বিমানঘাঁটি সক্রিয় করল পাকিস্তান


আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

এর আগে একাধিক নিহত তালিবানি যোদ্ধার কাছ থেকে পাকিস্তানি সেনার পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছিল নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। পাকিস্তানি সেনার ‘নর্দার্ন লাইট ইনফ্যান্ট্রি’ (এনএলআই) এবং এলিট ‘স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ’ (এসএসজি) কমান্ডোরাই তালিবানিদের হয়ে লড়ছেন বলে জানিয়েছে বহু সংবাদমাধ্যাম। একই অভিযোগ করেছন নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা আহমেদ মাসুদও।

আরও পড়ুন Afgan Updates: পঞ্জশির দখল পেতে তালিবান হয়ে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ড্রোন হামলা

পঞ্জশির বরাবর তালিবান বিরোধী এলাকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই এলাকার শাসক আহমেদ মাসুদ (Ahmed Masud) এখনও লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর আফগান রেজিস্টেন্স বাহিনি রবিবার রাতে প্রবল প্রত্যাঘাতে তালিবান জঙ্গিদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়।কিন্তু সোমবার সকালেই মাসুদ বাহিনীর কমান্ডার ও মুখপাত্রের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়। এর পর আহমেদ মাসুদের তরফে গেরিলা হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পঞ্জশিরের বড় অংশ এখন তালিবান জঙ্গি কবলিত। তবে গেরিলা হামলা চলছেই।

কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে পঞ্জশির দখলে তালিবান প্রথম সাফল্য পেল। আশঙ্কা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ ও অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে কোনও মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। আফগান রেজিস্টেন্স ফোর্স জানিয়েছে লড়াই চলবে।

জাভেদের RSS-তালিবান তুলনায় ক্ষুব্ধ দেশবাসী

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই এবার নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসবেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত।

আরও পড়ুন তালিবানদের বিরুদ্ধে সরব হোক দেশের মুসলিমরা: RSS

যখন তালিবান ইস্যু নিয়ে নড়েচড়ে বসছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, ঠিক তখনই আরএসএস’এর সঙ্গে তালিবানের তুলনা করলেন জাভেদ আখতার। তালিবান এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একই কয়েনের দুটি পিঠ বলে কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের প্রবীণ শিল্পীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু নেটিজেনরাই নন, হাত জোড় করে জাভেদকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাম কদম।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি


আরও পড়ুন নজরে নীলছবি, আফগান পর্নস্টার খুঁজে পেলেই মাথা কাটবে তালিবানরা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার বলেন, ‘‘তালিবান যেমন ইসলাম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তেমন আর একদল মানুষও হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এরা একই মানসিকতার। তালিবান বর্বর। যাঁরা আরএসএস, বজরং দলকে সমর্থন করেন, তারাও বর্বরই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটনাগরিকরা।

আরও পড়ুন তালিবানদের বিপ্লবী আখ্যা দিয়ে বিপাকে কংগ্রেস বিধায়ক আনসারি


আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

https://twitter.com/AdvAshutoshDube/status/1434136441571926023?s=20

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করে জাভেদ অসংখ্য মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই বিজেপি নেতা। স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীদের এবং অনুগামীদের কাছে বলিউডের প্রবীন শিল্পী ক্ষমা না চাইলে ভারতের মাটিতে তাঁর একটি ছবিও মুক্তি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

https://twitter.com/Alleged_RW/status/1434199630888116224?s=20

তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর সে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। এবারেও আগের ছবিই দেখা যাচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে।  

তালিবানদের বিরুদ্ধে সরব হোক দেশের মুসলিমরা: RSS

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। দিনকয়েক আগেই এই দাবি তুলেছিলেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এবার সেই তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই এবার নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ।

আরও পড়ুন পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসবেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত। যদিও শুধু তালিবান এবং ভারত নয়, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কথা বলা।

আরও পড়ুন পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের


আরও পড়ুন ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ছড়ানোয় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে দেশের ওয়েব পোর্টালের একাংশ

কারণ, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী কয়েকদিন আগেই দাবি করেছেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের।

আরও পড়ুন সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা

অন্যদিকে তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের মুসলিম সমাজকে এককাট্টা করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সংঘ।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন গোয়া, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট আসন্ন। তা নিয়েও দু’দিনের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে নাগপুরের সংঘের দফতরে।  গত বছরের নভেম্বর থেকে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলনে বসে রয়েছেন কৃষকেরা। মূলত পঞ্জাব এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যের ওই কৃষকদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচন হয়েছে সংঘের সদর দফতরে।

নজরে নীলছবি, ‘আফগান পর্নস্টার’ খুঁজে পেলেই মাথা কাটবে তালিবানরা

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার পর থেকেই নারী স্বাধীনতায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

আরও পড়ুন পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

এবার এক প্রতিবেদনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। হন্যে হয়ে পর্ন সাইট খুঁজছে তালিবানরা। যদিও তাদের উদ্দেশ্য পর্ন ভিডিও দেখা নয়, উদ্দেশ্য সেই ভিডিও থেকে ‘আফগান পর্নস্টার’ খুঁজছে জেহাদিরা। বিশেষত নীলছবির সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের খুন করার পরিকল্পনা করেছে তারা।

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

সরকার গঠনের পরই যৌনকর্মীদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হতে পারে। সমস্ত পর্ন সাইটগুলিও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তালিবানিরা। শরিয়তি আইন অনুযায়ী কোনও ভিনদেশী পুরুষের সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে জড়িত হয়েছিলেন, এমন কোনও আফগান মহিলাকে পেলেই তাঁকে খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে মহিলাদের মুখে এভাবেই কালি মাখাচ্ছে জেহাদিরা।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া। ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত করে দেওয়া হয়েছিল মহিলাদের, ছিল না কাজ করার অধিকারও। উঁচু স্বরে কথা বলা, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া একা বাড়ি থেকে বেরনোর মতো অপরাধেও জনসমক্ষে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হত তাদের। এবারও সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে আফগানিস্তানে।

তালিবানদের ‘বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে বিপাকে কংগ্রেস বিধায়ক আনসারি

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও পড়ুন পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের এক নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” এবার তালিবানদের প্রকাশ্যে সমর্থন করে বিতর্ক উসকে দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক ইরফান আনসারি। আফগানিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীকে ‘বিপ্লবী’ তকমা দিয়ে বিপাকে ঝাড়খণ্ডের ওই রাজনীতিবিদ।

 

এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান আনসারি বলেন, “আফগানিস্তানে এতদিন ধরেই অত্যাচার চালাচ্ছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। মায়েদের, বোনেদের ও শিশুদের উপর অত্যাচার করত তারা। এবার তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করায় আফগানিস্তানের মানুষ খুশি।” তালিবানকে শুধু প্রশংসাই নয়, আমেরিকাকেও তোপ দেগেছেন তিনি। জানিয়েছেন, “আমেরিকার সেনা যেখানেই যায় সেখানেই সবার উপর অত্যাচার চালায় তারা। এবার আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে।” তাঁর এই কথাতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সমালোচনায় ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে আনসারিকে। পদ্মশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “জামতাড়ার কংগ্রেস বিধায়ক একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন করছেন। যারা আফগানিস্তানের মহিলা ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত। তালিবানের ভয়ে সে দেশের নাগরিকরা আফগানিস্তান ছেড়ে পালাচ্ছে। ইরফান আনসারি কি চাইছেন যে ভারতেও এমনটা হোক।” প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। এবারেও আগের ছবিই দেখা যাচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে।  

শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

নিউজ ডেস্ক: উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিৎ অঞ্চলের আগের নাম ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’। বর্তমান এই অঞ্চল চিনের জিনজিয়াং প্রদেশে। ৯০ লাখ মুসলিম অধ্যুষিত এ অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ উইঘুর নারী-পুরুষ বন্দি রয়েছে বন্দি শিবিরে। চিন সরকার এ বন্দি শিবিরকে ‘চরিত্র সংশোধনাগার’ নাম দিয়েছে। চরিত্র সংশোধনাগারের নামে চিন সরকার এ সব মুসলিমদের প্রতি চরম অত্যাচার ও নির্যাতন করছে।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে না

অন্যদিকে তালিবানি শাসন কায়েম হয়েছে আফগানিস্তানে। ক্ষমতায় এসেই তালিবান জানিয়েছে, ইসলামের শরিয়তি আইন অনুসারেই এবার থেকে দেশ চলবে। আফগানিস্তানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ইসলামিক ইমিরেটস অব আফগানিস্তান”। একদিকে আফগানিস্তানের জনগন যেমন মুসলিম নীতির আতঙ্কে রয়েছেন, অন্যদিকে আতঙ্কে ভুগছেন উইঘুর মুসলিমরাও। আফগানিস্তানে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় হাজার দুয়েক পরিবারের বাস। যাদের চিনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন।

প্ল্যাকার্ড হাতে জিনপিং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এক মুসলিম।

কিন্তু একদিকে ইসলামিয় নীতি মেনে চলছে তালিবানরা। অন্যদিকে চিন বহুদিন ধরেই মুসলিমদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করছে। তাও সেখানেই কেন উইঘুর মুসলিমদের পাঠাবে তালিবান?

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে মানবাধিকার সংগঠন উমর উইঘুর ট্রাস্টের সভাপতি মহম্মদ উইঘুর জানিয়েছেন, “এখন তালিবানের হাতেই আফগানিস্তানের সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে। আর তালিবানদের ক্ষমতায় আসার পেছনে চিনের মদত রয়েছে।” কয়েকদিন আগেই একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিল উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট এবং অক্সাস সোসাইটি ফর সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স। সেই রিপোর্টে লেখা হয়, “চিনের তরফে তালিবানরা উইঘুরদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। চিনে বহু উইঘুরদের হত্যা করা হয়েছে। বন্দী শিবিরেও পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় তাদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। একই কাজ করা হচ্ছে আফগানিস্তানেও।”

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

উইঘুদের ওপর অত্যাচার, মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংসে কি কি করছে চিন ?

  •  জিনজিয়াং প্রদেশের কোনো পুরনো মসজিদ সংস্কার করতে না দেয়া। তাছাড়াও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন না দেয়া।
  •  প্রকাশ্যে ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা।
  •  পবিত্র হজযাত্রার অনুমতি না দেওয়া।
  •  নামাজ পড়ার সময় এক হাজার মুসলিমের জন্য একশ পুলিশ মসজিদ ঘিরে রাখে।
  • প্রাচীন মসজিদগুলিতে মুসলিমদের নামাজ পড়তে না দেওয়া।
  • মুসলিম মেয়েদের অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো হচ্ছে। 
  • ১৯৯৬ সাল থেকে জিনজিয়াং প্রদেশের ৪০টি শহর ও গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মুসলিমদের।
  • জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের তুর্কি ভাষা ও আরবি বর্ণমালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, তালিবানদের প্রশংসা করায় আফ্রিদিকে একহাত নিলেন নেটিজেনরা

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট হোক কিংবা রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য- শহীদ আফ্রিদি প্রায়ই পাকিস্তানে আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। তবে গত কয়েকদিন আফ্রিদি পাকিস্তানের চেয়ে ভারতেই বেশি আলোচনায় ছিলেন। আফ্রিদি বলেন, “এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই তালিবানরা এবারে অনেক ইতিবাচক। যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আল্লাহ যদি চান, যদি সব ঠিক থাকে তবে তালিবানরা এবারে নারীদের চাকরি, লেখাপড়া, রাজনীতি সবই করতে দেবে।”

আরও পড়ুন একে একে কমিছে বিধায়ক, বঙ্গে ক্রমশ ব্যাকফুটে বিজেপি

শুধু আফগানিস্তান এবং তালিবান নিয়ে নয়, আফ্রিদি মন্তব্য করেছিলেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়েও। তিনি জানান, “”তালেবানরা অন্য সবকিছুর মতো ক্রিকেটেরও নিয়ন্ত্রণ নেবে এতে করে আফগানিস্তানের ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কমে যাবে।” আফ্রিদি দাবি করেন, তার সাথে আফগানিস্তানের অনেক ক্রিকেটার যোগাযোগ করেছেন এবং তারা সবাই একমত আফগানিস্তানে ক্রিকেট আগের মতোই চলবে, তালিবানরা ক্রিকেটের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন না।”

এবার সেই ঘটনাতেই আফ্রিদিকে রীতিমতো ধুইয়ে দিলেন নেটিজেনরা। টুইটারে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘এবার তালিবান প্রিমিয়ার লিগের দায়িত্বে থাকবে আফ্রিদি।’ আরেকজন লিখেছেন, “ক্রিকেট নিয়ে বললেই, নারী অধিকার নিয়ে কথা বলার ‘অধিকার’ আফ্রিদিকে কে দিয়েছে?”

কাবুল দখল নেওয়ার পর নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

আরও পড়ুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-তালিবান আলোচনা শুরু, বড়সড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। সেই বিষয়েই আফ্রিদির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেটিজেনরা।

তালিবানযোগে গোয়েন্দাদের নজরে বাংলার তিন যুবক

old look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের তালিবানদের সঙ্গে ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন মহলে। এবার তালিবানযোগে আবার নাম জড়াল বাংলার। এই রাজ্য থেকে আফগানিস্তান গিয়েছে বলে খবর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকে আফগানিস্তান গিয়েছে বেশ কয়েকজন। শুধু বাংলাদেশি যুবকরা নয়, অসমের চার যুবকও রয়েছে ওই তালিকায়। এছাড়াও এই রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও তিন যুবকের গতিবিধিও বেশ সন্দেহজনক।

১৫ আগস্ট তালিবানরা কাবুল দখল করে। তার কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল তালিবানি আগ্রাসন। সে সময়েই ওই যুবকরা আফগানিস্তানে গিয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, ওই যুবকদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গি কার্যকলাপে রীতিমতো প্রশিক্ষিত। এই পুরো ঘটনার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই’এর হাত রয়েছে।

পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি। আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।”

আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা। সেই নাশকতার কাজেই এই যুবকদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

Taliban government

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সংবাদ মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় হেকমতিয়ারের ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের সর্বচ্চো তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।
তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত।

কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে। যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ?

কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

আরও পড়ুন শতাধিক মৃতদেহে রক্তাক্ত কাবুল, CIA-তালিবান বৈঠকের পরেই কেন বিস্ফোরণ ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সম্প্রচার মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।

তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত। কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে।

যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ? কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

আমি বেঁচে আছি, টুইট করে জানালেন টলো নিউজের ‘মৃত’ সাংবাদিক

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে। রোজই শোনা যাচ্ছে তাদের অকথ্য অত্যাচারের গল্প। শরিয়তি আইনের পালন এবং নিজেদের নৃশংস মানসিকত্যার নতুন নতুন নজির তাঁরা সৃষ্টি করছে রোজ। হঠাৎ করে আফগানিস্তান থেকে উধাও হয়েছে গণতন্ত্র। চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকেও ছাড়ছে না তালিবানি জঙ্গিরা। কয়েকদিন আগে খবর পাওয়া গিয়েছিল কাবুলে রিপোর্ট করার সময় তালিবানরা টলো নিউজের আফগান রিপোর্টার, জিয়র ইয়াদ এবং তাঁর সহকারী চিত্র সাংবাদিককে মারধর করে। বিভিন্ন মিডিয়ার করা খবর অনুযায়ী, তালিবানদের অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও সহকারী ক্যামেরাপার্সনের বিষয়ে বিশদে কিছু জানা যায়নি।

https://twitter.com/ziaryaad/status/1430771529101479943?s=20

এবার বিশ্বের নানা প্রান্তের মিডিয়ায় মেরে দেওয়া সাংবাদিক নিজে টুইট করে জানালেন, তিনি বেঁচে আছেন। টোলো নিউজের রিপোর্টার জিয়ার ইয়াদ টুইট করে জানিয়েছেন, “কাবুলের নিউ সিটিতে আমাকে তালিবানরা আমাকে মারধর করেছিল। ক্যামেরা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং আমার মোবাইল ফোনও ছিনতাই করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দিয়েছে যা মিথ্যা। তালেবানরা একটি সাঁজোয়া ল্যান্ড ক্রুজার থেকে বের হয়ে আমাকে বন্দুকের আঘাত করে। আহত হলেও আমার মৃত্যুর খবর ভুয়ো।”

আরও পড়ুন কথা রাখল তালিবান, কাবুল এয়ারপোর্টে বিস্ফোরণে রক্তাক্ত, ভারতীয়দের খবর নেই

আরেকটি টুইটে তিনি লিখেছেন, “আমি এখনও জানি না কেন তালিবানরা হঠাৎ আমাকে আক্রমণ করেছিল। বিষয়টি তালিবান নেতাদের জানানো হয়েছে; তবে, অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণমাধ্যমের ওপর হামলা মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।” 

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

যদিও তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর থেকেই কাবুলে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে৷ রাজধানী শহর কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলি চলার খবর জানাচ্ছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থাটি৷ সংবাদমাধ্যম সহ অন্যান্যদের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটছে গোটা আফগানিস্তান জুড়েই। 

তা-লি-বা-ন জঙ্গি ! What a look

New look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখলের কিছু সময় আগে আফগানিস্তান থেকে করা কিছু টুইটে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। টুইট লেখকরা দাবি করেছিলেন নিউ লুক তালিবান এসেছে। তবে যে তালিবান জঙ্গিদের দেখে অভ্যস্ত বিশ্ব তাদের মতো আলখাল্লা পরা হামলাকারীদের সঙ্গে এই নিউ লুক বেমানান। ফলে কেউই মানতে চাননি।

তবে তালিবান তার লুক পাল্টেছে! যে কোনও ইউরোপীয় দেশের সেনা সদস্যরা যেমন পোশাকে থাকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান সেরকমই বেশভুষা নিতে চলেছে। আর পুরনো রীতির জঙ্গিরাও আছে।

পরনে ইউনিফর্ম, বুট, হেলমেট দিয়ে পুরোপুরি সামরিক সাজে তালিবান সদস্যদের এই রূপ দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া। নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ বাহিনির এমন ছবি প্রকাশ করেছে তালিবান। সেই আফগান পোশাক পরিচিক তালিবান জঙ্গিরা সাথে এই তালিবানের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

old look of taliban militant
পুরোনো তালিবান বাহিনী৷ সেই আলখাল্লা পরা৷

তালিবান তাদের এই বিশেষ বাহিনির নাম রেখেছে বদরি ওয়ান থ্রি ওয়ান। অতীতের চেয়ে বর্তমানের তালিবান কতটা সুসজ্জিত সেটা বোঝাতেই বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠনটি।

রাশিয়ার তৈরি কালাশনিকভ রাইফেলের বদলে তালিবানের বিশেষ বাহিনির কাঁধে দেখা গেছে এম ফোরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেল। চোখে দেখা গেছে নাইট ভিশন গগলস।

এ কী তালিবানের নতুন রূপ। যে তালিবান আফগান গুহায় থাকে তাদের এমন রূপ ! দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করার পর তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিল, নতুন তালিবান দেখা যাবে। সেই লুক দেখা যাচ্ছে।

ঘানি-বাইডেন বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, বিস্ফোরক আফগান সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দু’দশক ধরে বিদেশী সেনাবাহিনীর সাহায্য পেয়েছে আফগানিস্তান সেনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর সাহায্য এবং প্রশিক্ষণই শুধু নয়, আমেরিকার থেকে পেয়েছিল প্রচুর অস্ত্র, যুদ্ধে ব্যবহৃত আধুনিক মানের গাড়ি প্রভৃতি। কয়েকদিন আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, আগামী তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করবে তালিবানরা। সে অনুমানকে নস্যাৎ করে কয়েকদিনেই গোটা আফগানিস্তানে আধিপত্য কায়েম করেছে তালিবান।

আরও পড়ুন তালিবানদের এত দ্রুত আফগানিস্তান দখলে আমরা অবাক, মন্তব্য বিপিন রাওয়াতের

আফগানিস্তান সেনা তাদের সামনে শুধু পিছুই হটেনি, রীতিমতো ধরাশায়ীও হয়েছে। গোটা দেশের একমাত্র পঞ্জশির, জালালাবাদ বাদে কোথাও প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি সেভাবে। তাও প্রতিরোধ এসেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। আফগান প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি দেশ ছেড়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এত প্রশিক্ষণ, টাকা খরচের পরেও আফগান সেনা কোনওরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না কেন ? অনেক বিশেষজ্ঞ ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন ‘সাবোতাজ’ এরও। এবার দেশ দখল হওয়ার দশদিন পর মুখ খুললেন আফগানিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সামি সাদাত। কার্যত শীলমোহর দিলেন ‘সাবোতাজ’ এর অভিযোগেই।

Ghani discusses troop withdrawal decision with Biden | Ariana News

সামি সাদাত জানিয়েছেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং রাষ্ট্রপতিরা তাঁর সেনাবাহিনীকে ব্যর্থ করেছে। শুধু আসরাফ ঘানি নন, সাদাতের নিশানায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেনও। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে সাদাত লিখেছেন যে জো বাইডেনের তাড়াহুড়ো করে সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত দেশের অবস্থা আরও খারাপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তি না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলেও অভিযোগ আফগান সেনাপ্রধানের।

আরও পড়ুন তালিবানদের সাহায্যেই কাশ্মীর দখলের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

সাদাত লিখেছেন, “যুদ্ধের শেষ দিনগুলো ছিল অকল্পনীয়। আমরা তালিবানদের বিরুদ্ধে গুলির লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলাম, আমেরিকান যুদ্ধবিমান আমাদের মাথার উপরে চক্কর দিচ্ছিল সরব দর্শকের মতো। আমেরিকার পাইলটরা আমাদের বলেছেন আমাদের দেখে তাদের খারাপ লাগলেও আমাদের সাহায্য করতে তাঁরা অক্ষম, রাষ্ট্রের নির্দেশ অমান্য করতে পারবেন না তাঁরা।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “রাজনীতি এবং রাষ্ট্রপতিরা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটা শুধু আফগান-তালিবান যুদ্ধ ছিল না, একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ছিল, এতে অনেক দেশের সামরিক কর্মীরা জড়িত ছিল। ফলে একা আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষে তালবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অসম্ভব। এটা আমাদের সামরিক পরাজয় নয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা।”

তালিবানদের এত দ্রুত আফগানিস্তান দখলে আমরা অবাক, মন্তব্য বিপিন রাওয়াতের

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। তাতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের এক নেত্রী দাবী করেছেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।”

আরও পড়ুন এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

এর পরেই আফগানিস্তান সম্পর্কে প্রথম মন্তব্য করলেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তালিবানদের আফগানিস্তান দখলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তালিবানদের আফগানিস্তান দখল প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু এত দ্রুত তারা আফগানিস্তান দখল করেছে, গোটা বিষয়টাই আমাদের অবাক করেছে”। পেন্টাগনও জানিয়েছিল, আগামী তিনমাসের মধ্যে কাবুল দখল করবে তালিবানরা। সেই রিপোর্টও ভুল প্রমাণ করে কয়েকদিনেই কাবুলে ঢুকেছিল তারা।

আরও পড়ুন তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

একটি অনুষ্ঠানে জেনারেল রাওয়াত জানান, “গত কয়েকদিন ধরে যা কিছু ঘটেছে তা প্রত্যাশিতই ছিল। শুধুমাত্র সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালিবানদের হাতে যাবে আমরা ভাবি নি।” অন্যদিকে পাকিস্তানি বিভিন্ন সংগঠনের মন্তব্যে ভারতে নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জানিয়েছেন, “আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম কিভাবে আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভারতে ঢুকতে পারে। এর জন্য আমাদের কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং চলছিল। এখন আমরা এর জন্য প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন সমর্থন ইঙ্গিত

ভারত আফগানিস্তান থেকে বেশ কিছু নাগরিককে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে। আফগানদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু শিখ এবং হিন্দুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ভারত সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেলে বাকি আটকে থাকা ভারতীয়দের আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তালিবান-সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স আঁতাত, সরগরম বিশ্ব রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনই দোহায় শান্তিচুক্তির নামে একপ্রকার ‘শর্তসাপেক্ষে’ তালিবানদের আফগানিস্তান দখলে শীলমোহর দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তারপর থেকেই আফগানিস্তানের অবস্থার জন্য পরোক্ষে আমেরিকাকেই দায়ী করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। ঠিক সেই সময়েই কাবুলে তালিবান নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রধান। এবার সে খবরেই তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালিবানের অন্যতম শীর্ষনেতা আবদুল ঘানি বরাদরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন সিআইএ (Central Intelligence Agency) প্রধান উইলিয়াম বার্নস। কাবুল বিমানবন্দর এখনও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আর সেখান দিয়েই মার্কিন ও বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সমস্ত লোককে উদ্ধার না করা গেলে ৩১ আগস্টের পরও আফগানিস্তানে সেনা রাখতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অন্যদিকে আমেরিকা সেনা না সরালে লড়াইয়ের ঈঙ্গিত দিয়েছে তালিবানরাও। এই অবস্থায় সিআইএ প্রধানের সঙ্গে তালিবানের বৈঠক যথেষ্ট ঈঙ্গিতপূর্ন বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন তালিবানদের জয়ে আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

যদিও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, এজেন্সির চিফের বিষয়ে বিশদে কিছু জানানো যায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েই বৈঠক করেছেন ওই দুই শীর্ষ নেতা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ ২৪ ঘণ্টায়ও প্রায় ২১৬০০ জনকে কাবুল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন ‘সমর্থন ইঙ্গিত’

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবান নিয়ন্ত্রণ হলেও এখনও জঙ্গিরা সরকার গড়েনি। দ্রুত সরকার গড়ার কাজ শেষ হবে জানিয়েছে তালিবান। কাবুল এখন বিশ্ব রাজনৈতিক ঘনঘটার কেন্দ্র। আফগানিস্তানে এই জঙ্গি তালিবান সরকারের প্রতি আগেই প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে এখন তালিবানই নিয়ন্ত্রক, এই বাস্তবতা মানছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে ক্রেমলিন চায় আফগানিস্তানে যেন দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হোক।

এদিকে পুতিনের ইঙ্গিতপূর্ণ সমর্থন আসতেই কাবুলে তালিবান জঙ্গি নেতৃত্বের মধ্যে উল্লাস ছড়ায়। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অন্যতম চিন ও রাশিয়া ক্রমে নিকট হচ্ছে তালিবানের।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আফগান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনা তৈরি করেছে বিশ্বজোড়া কৌতূহল। আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন ভারত কি আফগানিস্তানে সরকার গড়তে চলা তালিবানকে সমর্থন দেবে ?

Modi with putin

প্রধানমন্ত্রী মোদী আফগানিস্তান ইস্যুতে ২৬ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, বৈঠকে লোকসভা ও রাজ্যসভার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের উপর আর্থিক চাপ বিরাট। কারণ বিদেশে ভারতের সর্বাধিক বিনিয়োগের খাতায় আফগানিস্তান অন্যতম। বিদেশমন্ত্রক জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে পরিকাঠামো নির্মাণে ভারত ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আসন্ন তালিবান সরকারের আমলে আফগানিস্তানে সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

সরকারে বিজেপি। তালিবান যখন ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রথমবার আফগানিস্তানে জঙ্গি নাশকতার সরকার কায়েম করেছিল সেই সময় ঘটেছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের মতো মারাত্মক ঘটনা। ১৯৯৯ সালের সেই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। চাপের মুখে জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারের মুক্তির বিনিময়ে ভারতীয় যাত্রীদের জীবন বাঁচানো হয়।

ভারতে এখন এনডিএ সরকার। ক্ষমতার কেন্দ্রে বিজেপি। আফগানিস্তানে ফের তালিবান নিয়ন্ত্রণ শুরু। ফলে বাজপেয়ী জমানার সঙ্গে মোদী জমানার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

মোদীর আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারপক্ষ বিজেপি ছাড়া বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআইএম, সিপিআই সহ বিভিন্ন দল থাকবে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা থাকছে। তিনি কী বার্তা দেবেন মোদীকে সেটি বিশেষ আলোচিত। তেমনই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। কারণ তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি তৎপরতা বেড়েছে।

তবে এই ধরণের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বার্তা বিশেষ গুরুত্ব দেয় কেন্দ্র। ইউপিএ বা এনডিএ যে কোনও সরকারের আমলেই বিদেশ সংক্রান্ত নীতির উপর বারবার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্ম সমালোচনা করেন ইয়েচুরি।

কংগ্রেস কী বার্তা দেয় তাও লক্ষ্যনীয়। ইউপিএ আমলেই আফগানিস্তানে বড়সড় বিনিয়োগের সূত্রপাত হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এখনও অনেক ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে দিল্লি থেকে কাবুল পর্যন্ত বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করেছে সরকার।

তালিবানদের ‘জয়ে’ আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

One week after taliban occupied Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ইসলামীয় ধর্ম সংগঠনগুলি। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সংবাদসংস্থা আইএএনএস (Indo-Asian News Service) সূত্রে খবর, তালিবানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের ইসলামীয় সংগঠনগুলি। বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠন মদত দিয়ে আসছে। এবার সরকারীভাবে ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

Pakistan and Taliban: Back to where it all began - The Week

পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সেই অনুষ্ঠান এবং তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে। তালিবানের জন্ম হয় পাকিস্তানেই। পাকিস্তানেই মহিলাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করা শুরু হয়েছিল, গুলি করা হয়েছিল মালালা ইউসুফজাইকেও।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

এরপর আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য ফিরে যাওয়ার পর মুজাহিদিনরা রীতিমতো ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। আইএসআইয়ের হাত থেকে তাদের রাশ বেরিয়ে যায়। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদের মতো মুজাহিদ কমান্ডাররা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তোলে। মুজাহিদিনদের শায়েস্তা করতেই নয়ের দশকে তালিবান প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। ফলে তাঁর কথায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পঞ্জশির দখলে মরিয়া তালিবানরা, প্রস্তুত নর্দান অ্যালায়েন্সও

বিশেষ প্রতিবেদন: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে৷ তাসত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

এবার পঞ্জশির দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল তালিবানরা। রাজধানী কাবুলের খুব কাছেই এই উপত্যকাটি৷ এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি। এবার সেই উপত্যকার দখল নিতে মরিয়া তালিবানরা। অন্যদিকে, তালিবানদের রুখতে তৈরি নর্দান অ্যালায়েন্সও।

দিনকয়েক আগেই বিখ্যাত তালিবান-বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ অস্ত্র সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। জানিয়েছিলেন যে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি তাদের আছে, কিন্তু তার জন্য আমেরিকার সাহায্য দরকার। আহমেদ মাসুদ বলেন, “আমি পঞ্জশির উপত্যকা থেকে লিখছি, আমার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য আমি প্রস্তুত। মুজাহিদিন যোদ্ধারা আবারও তালিবানদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।”

আশরফ গনি জমানার ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও রয়েছেন তাঁর সঙ্গে। আফগান বাহিনীর একটা অংশও যোগ দিয়েছে তাঁদের সঙ্গে। এই বাহিনীর সামনে পড়ে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার পিছু হটেছে তালিবান। সেই পঞ্জশির দখলে এ বার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে তালিবানরা। সম্প্রতি তালিবানের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘পঞ্জশিরের স্থানীয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করছে রাজি হয়নি। তাই ইসলামিক আমিরশাহির শতাধিক মুজাহিদিন সদস্য পঞ্জশির দখল‌ে‌র জন্য যাচ্ছে।’

Afghanistan-Taliban Crisis Highlights: Ashraf Ghani Says "In Talks To  Return Afghanistan

অন্যদিকে তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকেরা পঞ্জশিরে জড়ো হচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের স্বপ্ন পূরনে মরিয়া তাঁরা। আহমেদ মাসুদও এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পূর্বতন আফগান সরকারের বহু সেনা পঞ্জশিরে এসেছেন। তালিবানদের মোকাবিলা করার জন্য নর্দান অ্যালায়েন্স এবং অন্যান্যরা তৈরি।’’

আফগানিস্তানের পঞ্জশির এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো এমন যে, কোন সেনাবাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারে না। চারদিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই অঞ্চলের মাঝখানে সমতল ভূমি রয়েছে। সেখানকার গোলকধাঁধা সবার জন্য সহজ হয় না৷ কার্যত গোটা দেশ দখলের পর এই এলাকায় বাধা পেয়েছে বিপজ্জনক তালিবানরা। এবার আগামী কয়েকদিনে তারা এই এলাকা দখল করতে পারে, না নর্দান অ্যালায়েন্স নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম রাখে সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

 

ভারত আশ্রয় দিয়েছে, উচ্ছ্বসিত আফগান মহিলারা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে আফগান নাগরিকদের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজে। কালই এক মার্কিন মহিলা উদ্ধার করেছেন আফগান মহিলা রোবোটিক্স টিমকে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। এবার দেশেই সেই পরিস্থিতির কথাই ভারতে আসার পর জানালেন এক আফগান শরণার্থী। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর (Asian News International) কাছে ওই মহিলা দাবি করেন যে আফগানিস্তানে তাঁর ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে তালিবানরা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে এসেছেন তিনি। ভারতে এসে ওই শরনার্থী জানান, ‘আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভালো নয়। তালিবানরা অত্যাচার করছে গোটা দেশ জুড়ে, আমার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের ভাই-বোনেরা ওই অবস্থা থেকে আমাদের উদ্ধার করেছে। ভারতকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

Afghan nationals in Jaipur plead for help from Government of India - Cities  News

এদিন ভারতে আসা সকল ভারতীয় এবং আফগান শরণার্থীদের করোনা পরীক্ষা করানো হয় বিমানবন্দরেই। পরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ভারতে আসা সকল আফগানকে পোলিও টিকা দেবে ভারত। এদিকে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ভারতীয় এবং শরণার্থীদের বের করে আনতে প্রতিদিন দু’টি করে বিমান ওঠা-নামা করানোর অনুমতি পেল ভারত। তালিবানের হাতে দখল হয়ে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে আটকে পড়া মানুষকে দেশে ফেরানোর জন্য আমেরিকা এবং NATO-র তরফে এই অনুমতি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

ভারত ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনও আফগান শরনার্থীদের উদ্ধারের কাজে এগিয়ে এসেছে। কাবুল এয়ারপোর্টেও গত কয়েকদিনে দেখা গিয়েছে ওই ছবি। প্রচুর মানুষ তালিবানদের ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছেন। আজও তিন দফায় ৩০০ জনের বেশি মানুষকে ভারতে আনা হয়েছে কাবুল থেকে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ ভারতীয়। রয়েছেন বহু আফগান নাগরিকও।

আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে আফগান নাগরিকদের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজে। কালই এক মার্কিন মহিলা উদ্ধার করেছেন আফগান মহিলা রোবোটিক্স টিমকে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কাবুলের দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না ভারতীয় সৈন্যরাও। কাবুলে আটক ভারতীয় সদস্যদের ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে এনেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এবার আফগানিস্তানে বদলি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের দুই মহিলা কনস্টেবল।

আরও পড়ুন ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

প্রথমদিনেই মামলা খারিজ করে দেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব সহায় এবং অমিত বনসল। যদিও যুদ্ধবিদ্ধস্ত কাবুলে যেতে চান, এই ঘটনাটিতেই অবাক হয়ে গিয়েছেন বিচারপতিরা। যদিও এই মামলার আবেদন এবং খারিজ দুটোই তালিবানদের কাবুল দখলের আগে হয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিকে মামলা খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট বলে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান হিসেবে আইটিবিপির (Indo-Tibetan Border Police) জওয়ানদের যেকোনও জায়গায় মোতায়েন করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাবে আফগানিস্তানে নিযোগ চাওয়ার কোনও এক্তিয়ার জওয়ানদের নেই। ফলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হল। তবে পড়শি দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তাদের নিজে থেকে আফগানিস্তানে মোতায়েন চেয়ে আবেদন করায় আমরা হতবাক।’

ওই দুই আইটিবিপি কনস্টেবলদের দাবি, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁদের কাবুলের দূতাবাসে নিয়োগ করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। ফলে কাবুলে দুই বছর থাকা তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকে আফগানিস্তান থেকে ৯৯ জন আইটিবিপি জওয়ানকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।