AFSPA: বিতর্কিত আইনকে যুক্তিসঙ্গত করতে মরিয়া বিজেপি সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের মাথার উপর এখনো খাঁড়ার মতো ঝুলছে বিতর্কিত আফস্পা আইন। ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে মিলেছিল কেবল কিছু শব্দ মাত্র। কিন্তু উত্তর-পূর্বের বাসিন্দাদের অনেকেই চাইছেন আফস্পা আইনের পূর্ণ প্রত্যাহার। সরকার কি শুনবে সেই কথা?

এখনই হয়তো পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে না বিতর্কিত এই আইন। অন্তত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথায় মিলেছে তেমনি আভাস। রবিবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “অসমের ৫-৬ টি জেলা থেকে ইতিমধ্যে সেনা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০২২ সালে আফস্পা আইনে কিছু সংশোধন করা হতে পারে। যা হবে যুক্তিগ্রাহ্য।”

হিমন্ত জানিয়েছেন, “নাগাল্যান্ডের ঘটনা বিবরণী চেয়ে পুর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ প্যানেল। ৪৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কাগজপত্র জমা হওয়ার পর ইতিবাচক দিকে এগোনো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

আফস্পা আইন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি নয়। এই আইন লাগু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশে একাধিকবার হয়েছে আলোচনা। তা সত্বেও গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডে আফপ্সার প্রয়োগকাল আরও বৃদ্ধি করে কেন্দ্র। কারণ হিসেবে বলা হয় ‘নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি বিপজ্জনক এবং চিন্তাব্যঞ্জক’।

উল্লেখ্য,৪ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের৷ এরপর শুরু হয়েছিল অশান্তি। গ্রামবাসীরাও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ। মৃত্যু হয় আরও ৮ জন গ্রামবাসীর৷ এক জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল।

এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর স্বভাবতই আলোড়িত হয়েছিল দেশ। বিজেপি বিরোধী দলগুলো চাপ বাড়াতে থাকে কেন্দ্রের ওপর। নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা-ও বিরোধীতা করেছেন আফস্পা আইনের।

Nagaland: ওটিং গ্রামে ‘গণহত্যা’ তদন্তের মাঝে আফস্পা মেয়াদ বাড়াল সরকার

Nagaland

News Desk: আফস্ফার মেয়াদ ফের বাড়ল। এদিকে চলতি মাসেই ওটিং গ্রামে অসম রাইফেলসের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যুর জেরে আইনটি বাতিলের আন্দোলন চলছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য সরকার আফস্পা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন আফস্ফা (afspa) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক এমনই দাবি নাগাল্যান্ড সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলবাসীরা। এই দাবিকে সমর্থন করছে নাগাল্যান্ড, মেঘালয় সরকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বরাবরই আফস্ফার প্রত্যাহারের পক্ষে। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার আফস্ফার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে বলে জানাল।

গত ৩ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে অসম রাইফেলের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবি আরও জোরদার হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবিতে পথে নামে। নাগাল্যান্ড এবং মণিপুর, মেঘালয়ের সরকার কেন্দ্র সরকারের কাছে বিতর্কিত আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

আফস্ফা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগাল্যান্ড বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। মোদী সরকার আফস্পা জারি রেখেছে।

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ছয় মাস নাগাল্যান্ড উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বজায় থাকবে আফস্ফা। উল্লেখ্য, একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, সেনাবাহিনী তাদের এই বিশেষ আইন বলে সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। তাই এই আইন প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে দীর্ঘদিন ধরেই।

উল্লেখ্য, নয়ের দশকে অসম, নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের প্রায় সব রাজ্যকেই উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীর হাতে এই বিশেষ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি ছয় মাস অন্তর আফস্ফার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। ডিসেম্বরের প্রথমে ওটিং গ্রামে নিরীহ গ্রামবাসীদের মৃত্যুর পর অনেকেই মনে করেছিলেন, কেন্দ্র হয়তো আর নতুন করে আফস্ফার মেয়াদ বাড়াবে না।

স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে আফস্পা আইন থেকেই যায় তাহলে কি ওটিংয়ের ঘটনার যথাযথ তদন্ত আদৌ হবে? ছড়াচ্ছে ক্ষোভ।

X Mas: ‘কালো বড়দিন’ আসছে, মন খারাপ নাগাভূমির মন জেলায়

Mon district killing

News Desk: নামমাত্র কিছু মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবেন উরি-ওটিং গ্রামের বাসিন্দারা। চার্চে প্রার্থনা হবে। ব্যাস এইটুকুই। কালো বড়দিন পালিত হবে নাগাভূমির মন জেলায়। জঙ্গি সন্দেহের অসম রাইফেলসের গুলিতে খনি শ্রমিকদের মেরে ফেলা হয়েছিল এই ওটিং গ্রামেই। ঝলমলে বড়দিন নয়, কালো বড়দিন পালিত হবে পুরো নাগাভূমিতেই। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও বড়দিন তেমন আনন্দের নয় এবার।

নাগাল্যান্ডের মন জেলায় নিহত ১৫ জন গ্রামবাসীর কবরের উপর রাখা আছে কিছু শুকনো ফুল। ওটিং গ্রামের ঘরে ঘরে নিহতদের স্মরণে চাপা কান্না। থেকে থেকে চোয়াল শক্ত হয়েছে।

নাগা জাতির সর্বব্যাপী সংগঠন নাগা হো হো জারি করেছে সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের সঙ্গে সবরকম অসহযোগিতার নির্দেশ। বৃহত্তর নাগা সম্প্রদায় কন্যাক গোষ্ঠির তরফে উত্তর পূর্বের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় বার্তা গেছে, আফস্পা আইন বাতিলে বৃহত্তর সংগ্রাম শুরু হবে।

নাগাল্যান্ড সরকার চিন্তিত। পরিস্থিতি যে কোনওসময় বিগড়ে যেতে পারে। মন জেলায় জারি করা হয়েছে নৈশকালীন কার্ফু নিয়ম। সশস্ত্র নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির তরফে এসেছে প্রত্যাঘাতের হুমকি।

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগুরু অংশ বসবাস করেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়ে। বিভিন্ন উপজাতি জনজীবনের মধ্যে পারস্পরিক বৈরিভাব থাকলেও সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFPSA) প্রয়োগ বাতিলে সবাই একাট্টা। এবারের বড়দিনের উৎসবকে কালো উৎসব চিহ্নিত করে আইনটি বাতিলের দাবিতে উত্তর পূর্বের রাজনৈতিক মহল গরম হচ্ছে।

নাগাভূমির সর্বত্র বলা হচ্ছে ‘অমিত শাহ মিথ্যেবাদী’। কোহিমা, ডিমাপুরে জনসমাবেশ থেকে ক্রমাগত উঠছে আফস্পা বিরোধী স্লোগান।

Nagaland: AFSPA প্রত্যাহারের দাবিতে নাগাল্যান্ড বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ

Nagaland AFSPA

নিউজ ডেস্ক: এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসহযোগিতার পথে হাঁটছে নাগাল্যান্ড। সোমবার উত্তর-পূর্বের রাজ্যে বিধানসভায় AFSPA প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পাশ হয়। আর্মড ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট (AFSPA) তুলে নিতে হবে দাবি তুলে আগেই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিলেন। এই AFSPA-র আওতায় সেনাকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্র। যার বলে সেনা কোনও পরোয়ানা ছাড়া যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে বা প্রয়োজনে গুলি করে মারতে পারে।

এমনই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন আগে নাগাল্যান্ডের মন জেলায় ওটিং গ্রামে ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসী সেনার গুলিতে নিহত হন। জঙ্গি ভেবে ভুল করে গুলি চালায় বলে সংসদে দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরই AFSPA প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হয়। মুখ্যমন্ত্রী রিও বলেন, ‘গোটা নাগা সমাজ AFSPA-র প্রত্যাহার চাইছে। বিধানসভা অবশ্যই মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান জানাবে। মানুষের দাবি, এই অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।’

এদিন অধিবেশনের শুরুতে সমস্ত বিধায়ক, স্পিকার ২ মিনিটের জন্য নিহতদের উদ্দেশে নীরবতা পালন করেন। এই প্রস্তাবে সেনার গুলিতে নিরীহ গ্রামবাসীর হত্যার নিন্দা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করা হয়। এমনকী যাঁরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে হাউস।

অধিবেশন চলাকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী ইয়ানথুঙ্গো প্যাটন বলেন, ‘ক্ষমতা ও সাহসের বলে নিরাপত্তা বাহিনী এই গণহত্যা ঘটিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এমন চলে আসছে। কেন্দ্র যেন অবশ্যই রাজ্যের মতামত নেয়। রাজ্যের কোনও এলাকা গন্ডগোলের জন্য চিহ্নিত করার আগে যেন সরকারের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র।’

AFSPA in West Bengal: বাংলা-পাঞ্জাবে আফস্পা চালু সম্পর্কে ‘বিস্ফোরক’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

AFSPA in West Bengal

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকার আইন সংশোধন করে পশ্চিমবঙ্গ পাঞ্জাব-সহ কয়েকটি রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (bsf) বা বিএসএফের আওতাধীন এলাকা অনেকটাই বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (west bengal goverment)। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (home ministry) কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জহর সরকার (jahawar sircar)।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জানতে চান এভাবে বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়িয়ে কেন্দ্র কি সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে তার ক্ষমতা জাহির করতে চাইছে? বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ৩২৪০০ স্কোয়্যার কিলোমিটার এলাকা বিএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু আইন সংশোধনের ফলে সেটা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৮৮ হাজার ৭৫২ স্কয়্যার কিলোমিটার হচ্ছে। একইসঙ্গে জহর সরকার জানতে চান, এভাবে বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকার সীমা বাড়িয়ে কেন্দ্র কি সরাসরি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উপর হস্তক্ষেপ করছে না? এভাবেই কি কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করতে চাইছে? আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবেও কি সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা চালু হতে পারে? আগামী দিনে বিএসএফ কি কোনও রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাতে ও বাজেয়াপ্ত করতে পারবে?

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, রাজ্যগুলির এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্য নিয়ে কখনওই বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ানো হয়নি। চলতি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে সমস্ত রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে সেই সব রাজ্যের সীমান্তে নিরাপত্তা আরও মজবুত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিএসএফের সীমানা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার করে নজরদারি চালাতে পারে সে কারণেই তাদের আওতাধীন এলাকার সীমা বাড়ানো হয়েছে। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের গতি রোধ করাই নয়, মাদক, অস্ত্র ও জাল নোট পাচার ঠেকানোর জন্যই বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ার ফলে সীমান্তে পশু পাচারও অনেকটাই কমবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র কখনওই রাজ্যগুলির আইনি ক্ষমতার উপর হস্তক্ষেপ করতে চায় না। বরং কেন্দ্র চায় রাজ্যগুলির সহযোগিতা নিয়েই সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটে থাকে। একই সঙ্গে জালনোট, গরু ও মাদক পাচার হয়ে থাকে। এই সমস্ত বেআইনি কাজ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যেই সরকার বিএসএফের এলাকা বাড়িয়েছে। তবে এই কাজে রাজ্য সরকারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। রাই আরও বলেন, নির্দিষ্ট আইন মেনেই বিএসএফ কোনও এলাকায় তল্লাশি চালাতে বা কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। তল্লাশি চালানো বা কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা কখনওই আইন বহির্ভূতভাবে করতে পারবেনা বিএসএফ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবে কখনওই সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আফস্পা প্রয়োগ করা হবে না।

Nagaland: ‘অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে’, রক্তাক্ত নাগাভূমি থেকে হুঁশিয়ারি

nagaland

News Desk: অসম রাইফেলসকে সরাসরি হুঁশিয়ারি নাগাভূমির (nagaland) কন্যাক জাতির তরফে। তাদের দাবি, মঙ্গলবার থেকে টানা সাত দিন শোক পালন হবে। এই সময়ে আফস্পা আইনের বলে জওয়ানদের টহলদারি বন্ধ না হলে যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এরকম ঘটলে দায়ি থাকবে বাহিনী।

শনিবার দু’দফায় গুলি চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে নাগাল্যান্ডের মন জেলায় তুরি-ওটিং গ্রামে ১৫ জনকে গুলি করে অসম রাইফেলস। ক্ষোভের মুখে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকে দেশ তোলপাড়।

নিহত গ্রামবাসীরা কয়লা খনির শ্রমিক। তারা সবাই কন্যাক গোষ্ঠিভুক্ত। ফলে কন্যাক গোষ্ঠী প্রবল ক্ষুব্ধ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও নিজে কন্যাক গোষ্ঠীর। তিনিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দাবি করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা আইন বা আফস্পা বাতিলের।

কন্যাক ইউনিয়নের তরফে নাগাল্যান্ড জুড়ে চলছে শোক দিবস। সংগঠনের তরফে পিটিআই কে জানানো হয়, শোক পালনের এই এক সপ্তাহে জওয়ানদের টহল বরদাস্ত করা হবে না। এই হুঁশিয়ারি না মানলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ি থাকবে।

নাগাল্যান্ড সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্বত্র চলছে গুলি চালিয়ে খনি শ্রমিকদের মেরে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ। মিজোরাম ও মেঘালয় সরকারের তরফে আফস্পা আইন তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা, গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমাপুর ও মন জেলার সর্বত্র ক্ষোভ তীব্র। রাস্তায় টহলরত জওয়ানদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন উত্তেজিত যুবকরা। কোনওরকমে উর্ধ্বতন অফিসাররা সামাল দিচ্ছেন।

পড়ুন: Nagaland killings: প্যালেস্টাইন নয়! তবে সেরকমই বিদ্রোহী মেজাজ নাগাল্যান্ডে

কন্যাক ইউনিয়নের তরফে দাবি করা হয়েছে, গুলি চালনায় অভিযুক্ত ২১ জন অসম রাইফেলস জওয়ানদের বিচার করতেই হবে। বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা চলবে না। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন জাতির সংগঠনগুলি। সর্বত্র দাবি, আফস্পা তুলে নেওয়া হোক।

Nagaland killings: প্যালেস্টাইন নয়! তবে সেরকমই বিদ্রোহী মেজাজ নাগাল্যান্ডে

Mon district killing

News Desk: এ যেন বিক্ষুব্ধ প্যালেস্টাইনের টুকরো ছবি। যেভাবে ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে মুখোমুখি হন ফিলিস্তিনিরা, তাদের রোষ গিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ সেনার উপরে। সোমবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ নাগাল্যান্ডবাসীর (Nagaland) অনেকটা তেমনই রূপ।

রাজধানী শহর কোহিমা হোক গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমাপুর বা রাজ্যটির অন্যত্র, যখন তখন সরাসরি অসম রাইফেলস জওয়ানদের ঘিরে নিচ্ছেন উত্তেজিত স্থানীয়রা। উগ্র মূর্তিতে জওয়ানদের সঙ্গে চলছে কথা কাটাকাটি। কিছু ক্ষেত্রে বয়স্করা এগিয়ে এসে যুবকদের সামলাচ্ছেন। আর উর্ধ্বতন অফিসাররা পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Mon district killing

নাগাল্যান্ডের মন জেলায় অসম রাইফেলসের গুলিতে ১৫ জন শ্রমিক ও গ্রামবাসী নিহত। ক্ষোভের মুখে এক জওয়ান মৃত। মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। জঙ্গি সন্দেহে ভুল করে দফায় দফায় গুলি চালানোর ঘটনায় মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রাম দুটি রক্তাক্ত। এই ঘটনার জেরে পুড়েছে অসম রাইফেলস ক্যাম্প। বিভিন্ন সরকারি দফতরে হামলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দিয়ে জঙ্গি সন্দেহে গুলি চালানোর ঘটনা স্বীকার করেছেন।

তবে বিক্ষোভে ফুটছে নাগাল্যান্ড। ক্ষোভ ছড়িয়েছে মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও অসমে। এই রাজ্যগুলির পার্বত্য উপজাতি ও নাগা গোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রবল ক্ষোভ।

Mon district killing

যে কোনও পরিস্থিতিতে নাগাল্যান্ড জুড়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে মন জেলায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। নাগা গোষ্ঠির ডাকা বনধ চলেছে সোমবার দিনভর। এই বনধের মাঝে প্রতিমুহূর্তে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন অসম রাইফেলস জওয়ানরা। কোথাও যুবকরা ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কোথাও তাদের বোঝাতে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন জওয়ানরা।

সশস্ত্র নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী NSCN খাপলাংয়ের হামলার আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। সেই কারণে টহলরত জওয়ানদের কনভয় ঘুরছে। তাদের দেখে ক্রমাগত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে স্থানীয়রা।

Nagaland killings: আনন্দে গাইছিলেন শ্রমিকরা, এরপরেই জওয়ানদের গুলি…তারপর?

Mon district killing

News Desk: চাঞ্চল্যকর দুটি ভিডিও ছড়িয়েছে নাগাল্যান্ডের (Nagaland) সেই রক্তাক্ত তুরি-ওটিং গ্রাম থেকে। দুটি ভিডিও ফুটেজে দুরকম ছবি। এই ভিডিও নিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল পড়েছে।

শ্রমিকদের উপর অসম রাইফেলসের জওয়ানরা গুলি চালায় শনিবার। ঘটনাস্থলে ১৩ জন শ্রমিক মারা যায়। পরে আরও দু’জন মারা যায়। গুলিতে মোট ১৫ গ্রামবাসী মৃত। গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সপ্তাহ শেষের আনন্দে কয়লা খনির শ্রমিকরা নিজের ভাষায় আনন্দের গান গাইছেন। বাকিরা সেই গানে তাল মেলাচ্ছেন। এরা সবাই নাগাল্যান্ডের মন জেলার তুরি-ওটিং গ্রামের বাসিন্দা বলেই দাবি করা হয়েছে।

তুরি-ওটিং দুটি গ্রামেরই বাসিন্দাদের দাবি, ভিডিওটি তোলা হয়েছিল অসম রাইফেলসের গুলি চালানোর আগে। তাঁরা আরও একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন। এই ভিডিও ভয়াবহ। এতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির উপর মৃতদেহের স্তূপ। একটার পর একটা দেহ গুলিবিদ্ধ। রক্তাক্ত দেহগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। চিতকার শোনা যাচ্ছে।

ভিডিও দুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল আলোড়ন ফেলেছে। নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অসম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশের সর্বত্র । সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পা (AFSPA) বাতিলের দাবি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে কেন্দ্র সরকারের উপর। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও ইতিমধ্যে আফস্পা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

Nagaland: বড়দিনের আগেই রক্তাক্ত নাগাভূমি, নাগা পাহাড়ে ভয়ের মেঘ

Nagaland

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আসন্ন বড়দিনের আগেই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগাল্যান্ড (Nagaland) হয়ে গেল ফের রক্তাক্ত।
নাগাল্যান্ডের জঙ্গি হামলা উপদ্রুত মন জেলা। সেখানকার ওটিং গ্রামে অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহজনক আচরণ মনে করে গুলি চালাল নিরাপত্তারক্ষীরা। মৃত কমপক্ষে ১৩ জন। গ্রামবাসীদের প্রত্যাঘাত ১ জওয়ান মৃত বলে দাবি।

এর পরের পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে?
নাগা পাহাড় ফের রক্তাক্ত হবে? সেই রেশ ধরে অন্যান্য রাজ্য ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয়, মনিপুর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জম্পুই পাহাড়, লুসাই পাহাড় গারো-জয়ন্তিয়া-খাসি পাহাড় জুড়ে ভয়ের মেঘ ছড়িয়েছে। আশঙ্কার হরেক প্রশ্ন জন্মাতে শুরু করেছে।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতি ও জনজাতির মধ্যে পারস্পরিক বৈরিতা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) নিয়ে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি বদলা নিতে নামবে এমনই আশঙ্কা।

Mon district massacre

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পা প্রয়োগ নিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির প্রতিবাদ চলেই। অভিযোগ, বিশেষ ক্ষমতার বলে নিরীহরা অত্যাচারের মুখে পড়েন। আবার যে উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা হয় সেটি উত্তর পূর্বের জনজীবনেই লুকিয়ে আছে। একের পর এক ভয়াবহ হামলা তারই উদাহরণ। উল্টোদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে, উঠছেও।

আফস্পা আইনের প্রতিবাদে কখনও মনিপুরে মহিলারা নগ্ন হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন, বিশ্ব স্তম্ভিত হয়। আবার কখনও প্রতিহিংসায় নেমে পড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। গুলি চলে, বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জওয়ানদের মৃত্যু হয়। বছরের পর অনশনের নীরব প্রতিবাদও হয়েছে।

নাগাল্যান্ডের রক্তাক্ত ঘটনার পর আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর বদলা নিতে নাশকতা ঘটাবে সশস্ত্র নাগা গোষ্ঠীগুলি। মনে করা হচ্ছে, হামলায় মূল ভূমিকা নেবে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নারাজ নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন NSCN(K) গোষ্ঠী। প্রয়াত নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এসএস খাপলাং কোনওদিনই শান্তি আলোচনা চাননি। মায়ানমারের ঘাঁটি থেকে তার নির্দেশে বারবার নাশকতা ঘটিয়েছে এনএসসিএন। তবে খাপলাং প্রয়াত হবার পরে সংগঠনে চিড় ধরে। অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিকি সুমি তার গোষ্ঠী নিয়ে নাশকতা ঘটাচ্ছে।

মন জেলার ঘটনায় নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও দু:খ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দু:খপ্রকাশ কতটা শান্তির জল এই রক্তাক্ত পর্বে ছিটিয়ে দিল সেটি আলোচ্য। তবে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কা কালো মেঘের মতো ঘিরে নিয়েছে নাগা পাহাড়।