UP: পিসি-ভাইপো-যোগী কার দখলে লখনউ গদি

পশ্চিমবঙ্গের মতো উত্তর প্রদেশেও (UP) ‘পিসি-ভাইপো’ আছেন। এরা দুজনেই লখনউয়ের মসনদে বসেছেন। সেক্ষেত্রে বুয়াজি অর্থাৎ পিসির কেরিয়ার ঝলমলে। বুয়াজির রাজনৈতিক পোশাকি নাম ‘বহেনজি’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বয়সজনিত কারণে অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের ‘বুয়াজি’। অখিলেশ হলেন এই নজরে ‘বাবুয়া’-ভাইপো!

সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে বহুজন সমাজ পার্টির আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক। তবে ভোটের স্বার্থে একও হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হটাতে একসময়ের ‘কামড়া-কামড়ি’ করা সিপিআইএম ও কংগ্রেস এক হয়েছে। তবে গত ভোটগুলিতে দুই রাজ্যেই এমন জোট কাজে আসেনি। আসন্ন উত্তর প্রদেশ ভোটে আবার যুযুধান বুয়া-বাবুয়া।

রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি বনাম সমাজবাদী পার্টির মূল লড়াই হিসেবে বিবেচ্য। বিএসপি ও কংগ্রেসও আছে লড়াইতে। কিছু পকেট এলাকা বাদ দিলে মূলত চতুর্মুখী ভোট হবে এই রাজ্যে।

নির্বাচন কমিশন ৫ রাজ্যে মোট ৭ দফায় হবে ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, পাঞ্জাবের থেকেও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশের ভোট। ৪০৩টি আসনের বিধানসভায় যার সরকার তার হাতেই ভারত শাসনের চাবিকাঠি থাকে। এখন যেমন বিজেপি।

বিজেপিরও চিন্তা সেই বুয়া-বাবুয়াকে নিয়েই। এদের পারস্পরিক ভোট কাটাকাটি, কংগ্রেসের ভোট সবমিলে জটিল অংক কষতে শুরু করেছেন বিজেপির ভোট কুশলীরা। সমাজবাদী পার্টির জনসমর্থন বাড়ছে ফের তা সমীক্ষা থেকে স্পষ্ট। বহুজন সমাজপার্টির সমর্থন কম নয়। একসঙ্গে মিশেছে কৃষক বিক্ষোভ। বিজেপির পক্ষে গতবারের মতো তরতর করে জয় সম্ভব নয় তা দলীয় নেতাদের ভাষণেই স্পষ্ট।

মায়াবতীর নিজস্ব জনপ্রিয়তা যেমন, তেমনই অখিলেশ সিং যাদবেরও। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সূচক নিম্নমুখী। এই প্রেক্ষিতে দলিত ও সংখ্যালঘু ভোটের থেকে বিজেপির নজর উচ্চবর্ণ ও সাধারণ হিন্দু ভোট। অন্যদিকে লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের পিষে দেওয়ার ঘটনা ভোটে প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষাগুলি দেখাচ্ছে, বুয়ার থেকে বাবুয়া বেশি এগিয়ে ইস্যুভিত্তিক রাজনীতিতে।

Uttar Prdesh : জো জিতা ওহি সিকন্দর! সমীক্ষা উড়িয়ে উত্তরপ্রদেশে ঝাঁপ মোদী-যোগীর

Uttar Prdesh

উত্তর প্রদেশে (Uttar Prdesh) নির্বাচন সাত দফায়৷ শনিবার বিকালে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারিখ জানানোর পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনেও কি যোগী আদিত্যনাথ থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীর পদে, নাকি অন্য কেউ?

উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হতে পারে কৃষক আন্দোলন। যোগী রাজ্যের চাষিদের অনেকেই সমর্থন জানিয়েছিলেন আন্দোলনে। এবং তার উত্তরে রাজ্য সরকারের মনোভাবও উঠে এসেছিল সংবাদ শিরোনামে। চাষিরাও দেশের নাগরিক। ভোটার। তাই আদিত্যনাথের সরকার তাঁদেরকে যে ক্ষুণ্ণ করেছিল তা বলাই বাহুল্য। লখিমপুরের ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল দেশে। মন্ত্রীর ছেলে নাকি পিষে মেরেছিলেন কৃষকদের! আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি ভোট ব্যাঙ্কে?

অতিমারি-কালও কাল হতে পারে যোগী সরকারের। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের কেউ কেউ এমনটাও মনে করছেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় উত্তর প্রদেশের গ্রামের দিকে শোনা গিয়েছিল হাহাকার৷ নদীর জলে ভেসে গিয়েছিল একের পর এক মৃতদেহ৷ স্বজনের প্রাণ রক্ষা করতে অন্য রাজ্যে ছুটে গিয়েছিল পরিবার। এসবই এখনও মনে রয়েছে আম-জনতার। প্রদেশের চিকিৎসা পরিষেবা সম্বন্ধে নেতাবাচক বার্তা পৌঁছেছিল জাতীয় স্তরে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা কি আগের মতো রয়েছে এখনও? এ প্রশ্ন আগে উঠেছে বহুবার। কিছু বেসরকারি সংস্থা সমীক্ষা চালিয়েছিল। যার ফলাফল বিজেপি সমর্থকদের অনেকেই হয়তো পছন্দ করবেন না। হিন্দুত্ববাদী ইমেজ খাড়া করা সত্বেও বারাণসীতেও চিড় ধরেছে মোদীর জনপ্রিয়তায়। সংবাদমাধ্যমের পর্দাদেও উঠে এসেছে সেই ছবি। অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের দুধ কা দুধ পানি কা পানি করে দিয়ে গিয়েছে অনেক কিছুই।

উত্তর প্রদেশে নিরাপত্তা এখনও চিন্তার বিষয়। যোগী আদিত্যনাথ দুষ্টের দমন করতে নিয়েছিলেন একাধিক পদক্ষেপ৷ অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড থেকে এনকাউন্টার, বিগত কয়েক বছরে হয়েছে অনেক কিছুই। কিন্তু সুফল মিলেছে কতোটা। উন্নাও-এর ঘটনা এখনও ভোলেননি ইউপি নিবাসীরা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯-এ রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা বেশি। ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া ক্রাইমের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৫৭। ২০১৯ সালে ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৭৮।

রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি থাকবে কি না তা অনেকাংশে নির্ভর করবে বিরোধীদের ওপর। উত্তর প্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাগ্রে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস। সম্প্রতি বিরোধী হিসেবে বিজেপিকে বেশ বেগ দিচ্ছে হাত শিবির। প্রচারে অখিলেশও ছড়িয়েছেন সুগন্ধী। গেরুয়া শিবিরকে পরাস্ত করার ইচ্ছা নিয়ে কাছাকাছি এসেছে সপা ও কং। আর মায়াবতী? মায়াতীর দল নিয়ে একলা চলো নীতি। কিছু ভোট নিশ্চয় পাবেন নেত্রী। তাতে বরং লাভ হতে পারে বিজেপির। মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ‘ভোট কাটুয়া’ শব্দ দু’টির চল বেড়েছে সম্প্রতি।

উত্তর প্রদেশে শিক্ষার হার এখনও অনেকটা কম। বিশেষ করে নারী শিক্ষার হার ৬০ শতাংশেরও নীচে। উত্তর প্রদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে পুরুষ শিক্ষার হার ৭৯.২৪ শতাংশ। নারী শিক্ষার হার ৫৯.২৬ শতাংশ। গড়ে শিক্ষার হার ৬৯.৭২ শতাংশ। যোগী রাজ্যে মহিলাদের বর্তমান অবস্থা এক আলোচ্য বিষয়৷

অযোধ্যা। উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার৷ রাম মন্দিরের ভিত-পুজো করে মাইলেজ আদায় করে নিয়েছিলেন মোদী। উত্তর প্রদেশ সহ অন্যান্য রাজ্যেও সেদিন উড়েছিল গেরুয়া ধ্বজা। অভাব অনটনের মাঝেও ভারতবাসীদের একাংশ ধর্মপ্রাণ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এ কথা জানেন খুব ভালো করে।

অর্থাৎ ইস্যু রয়েছে। হয়েছে আন্দোলন। বিরোধীরা উঠে পড়ে লেগেছেন যোগীকে আসন চ্যুত করতে। কিন্তু এমনই কিছু পয়েন্ট রয়েছে যা হাসি ফোটাতে পারে গেরুয়া শিবিরে। তাই লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।

UP: ভোটের আগে টুইট যুদ্ধে যোগী একাই ১৪ হাজার!

UP

সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনীতির ধরণ। শুধুমাত্র মাঠে নেমে মিটিং, মিছিল, প্রচারেই আর থেমে নেয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমও যুক্ত হয়েছে প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে৷ ক্ষমতায় থাকা বিজেপি হোক কিংবা আঞ্চলিক কোনো দল, কম-বেশি সকলেই কাছেই এখন রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল সামলানোর টিম। সামনে উত্তর প্রদেশ (UP) নির্বাচন। উত্তেজনার পারদ বেড়েছে ইতিমধ্যে। নেতা-নেত্রীরাও সক্রিয় টুইটারে। কে ক’টা টুইট করেছেন আজ পর্যন্ত? দেখে নেওয়া যাক।

 

যোগী আদিত্যনাথ

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৫ সালে এসেছিলেন টুইটারে। এই ক’বছরে তিনি করেছে ১৪ হাজার ৬০০ টুইট৷ ১.৬৬ কোটি মানুষ টুইটারে তাঁকে ফলো করেছেন। যোগী নিজে ফলো করেন ৫০ জনকে। নিজের দলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদেরই বেশি ফলো করেন তিনি।

অখিলেশ যাদব

উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সাল থেকে টুইটারে রয়েছেন। সেই নিরিখে যোগীর তুলনায় করেছেন অনেক কম পোস্ট। প্রায় ১২ বছরে ৪ হাজার ৮৮১ টি টুইট করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। ১.৫৩ কোটি মানুষ ফলো করেন তাঁকে। নিজে ফলো করেন ২৪ জনকে। ভারতীয় সেনা, নেভির পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রনেতারাও অখিলেশের পছন্দের তালিকায়।

মায়াবতী

ইনিও উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সাবেকি ঘরানার রাজনীতিবিদ হিসেবেই তিনি পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে এসেছেন অনেক পরে। ২০১২ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনের পরাস্ত হওয়ার পর টুইটারে পদার্পণ। ২০১৮ সালে প্রোফাইল তৈরি করেছেন। ফলো করেন মাত্র একটি অ্যাকাউন্ট। তাও টুইটার সাপোর্টের। তিন বছরে করেছেন ১ হাজার ২৪৯ টি টুইট। নেত্রীকে ফলো করেন ২৩ লক্ষ ব্যক্তি।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা

<

p style=”text-align: justify;”>দু’বছর আগেই টুইটারে অ্যাকাউন্ট করেছেন প্রিয়াঙ্কা। যদিও পরিসংখ্যানের নিরিখে ইতিমধ্যে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মায়াবতীকে। বর্তমানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৪৩ লক্ষ। নিজে ফলো করেন ১৯১ জনকে। নিজের দলের নামকরা নেতা-নেত্রীর সঙ্গে তিনি ফলো করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও। ১ হাজার ৮২০ টি টুইট করেছেন প্রিয়াঙ্কা।

Akhilesh Yadav: সপা নেতাদের ফোনে আড়িপাতা হচ্ছে

Akhilesh Yadav

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: নিজের ব্যক্তিগত সচিব থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠ নেতাদের বাড়িতে আয়কর হানার (Income Tax Raid) ঘটনায় বেজায় চটেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। শনিবারই সপা নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) তিন নেতার বাড়িতে আয়কর হানার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। রবিবার তিনি দাবি করলেন, তাঁর দলের সমস্ত নেতার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে।

সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা মুখপাত্র রাজীব রাই (Rajiv Rai), অখিলেশ যাদবের ব্যক্তিগত সচিব জ্ঞানেন্দ্র যাদব (Jainendra Yadav) ও নেতা মনোজ যাদব (Manoj Yadav) নামে অপর এক নেতার বাড়িতে শনিবার সকালেই আয়কর দফতর হানা দেয়। বারাণসী থেকে সকালেই আয়কর বিভাগের একটি দল উত্তরপ্রদেশের মৌ জেলায় রাজীব রাইয়ের বাড়িতে হানা দেয়। জানা গিয়েছে, কর্নাটকে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজীব রাই। সেই সংক্রান্ত তদন্তেই আয়কর বিভাগ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ নেতা মনোজ যাদবের মইনপুরীর বাড়িতেও একইভাবে তল্লাশি অভিযান চালায় আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা। মনোজ আরসিএল গ্রুপ অফ কোম্পানির অন্যতম মালিক বলে জানা গিয়েছে। মইনপুরী সমাজবাদী পার্টির শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত।

আয়কর হানার পরই শনিবারই অখিলেশ বলেছিলেন, “নির্বাচন আসছে, তাই এইসব হচ্ছে। এখন তো সবে আয়কর বিভাগ এসেছে, এর পর সিবিআই আসবে, ইডি আসবে। আরও কত কেউ আসবে। কিন্তু কেউই সাইকেলের (সমাজবাদী পার্টির প্রতীক) গতি থামাতে পারবে না। দুরন্ত গতিতেই সাইকেল চলবে। এর গতি আটকানো যাবে না। উত্তরপ্রদেশ থেকে এবার মুছে যাবে বিজেপি। রাজ্যের মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না। রাজীব রাইয়ের বাড়িতে কেন একমাস আগে তল্লাশি চালানো হল না? নির্বাচনের ঠিক আগে কেন তল্লাশি হল বলে প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ।

পাশাপাশি এদিন সকালে ফের রাজ্যের শাসক দল বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দলের সমস্ত নেতাদের ফোনে আড়িপাতা হচ্ছে। রোজ বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সেই রেকর্ডিং শোনেন।” শনিবার গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath) “উপযোগী” বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সেই আখ্যাকে কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, “উনি উপযোগী নন, বরং অনুপযোগী।”

অখিলেশ আরও বলেন, কংগ্রেসের দেখানো পথেই তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। আগে যখন কাউকে ভয় দেখানোর প্রয়োজন হত তখন কংগ্রেস এই কৌশলই অনুসরণ করত। এখন বিজেপি, কংগ্রেসের দেখানো পথেই হাঁটছে। তারাও ঠিক নির্বাচনের আগে সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগকে কাজে নামিয়েছে। এতদিন না করে হঠাৎ করে কেন ভোটের মুখে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে? দেখে শুনে মনে হচ্ছে, আয়কর বিভাগও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। এবার সিবিআই, ইডিও আসবে।”

আগামী বছরের শুরুতেই উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি ঘো বলয়ের এই বৃহত্তম রাজ্যের ভোটের ফলাফল থেকে কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যাবে। সেই কারণে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছেই এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের আগে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করছে। যদিও বিরোধী নেতা হিসাবে অখিলেশ যাদবের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পকেই নিজের নামে চালানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে তাঁর সরকারের কল্পনাপ্রসূত। অন্যদিকে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ মায়াবতীর সরকার থাকাকালীনই শুরু হয়েছিল।

Uttar Pradesh: যোগী সরকার নয় উত্তরপ্রদেশে চাই যোগ্য সরকার, দাবি অখিলেশের

Akhilesh Yadav

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। রাজ্যের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) মঙ্গলবার এক জনসভায় বলেন, উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার (Yogi Goverment) নয়, চাই যোগ্য সরকার (Eligible Goverment)। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ যোগ্য সরকারকেই নির্বাচন করবে।

শুধু যোগ্য সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতিই নয়, একই সঙ্গে অখিলেশ কৃষক আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। অখিলেশ এদিন বলেন, উত্তরপ্রদেশের মানুষ যদি তাঁর দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে তবে গত একবছরে আন্দোলন করতে গিয়ে যে সমস্ত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের পরিবারকে সব ধরনের সাহায্য করবে সমাজবাদী পার্টির সরকার।

অখিলেশ এদিন প্রশ্ন তোলেন, গত এক বছরে তিন কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ৭০০-রও বেশি কৃষক শহিদ হয়েছেন। এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য করার বিষয়ে মোদি সরকার একটি কথাও বলছে না। কিন্তু আমি এটা গর্বের সঙ্গে বলছি যে, উত্তরপ্রদেশে যদি সমাজবাদী পার্টি সরকার গঠন করে তবে ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলিকে আমরা সব ধরনের সাহায্য করব।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে এবার শাসক দল বিজেপির সঙ্গে মূল লড়াইটা হচ্ছে সমাজবাদী পার্টির। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ দখল করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রায় সব বিজেপি নেতা-নেত্রী ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায় স্থানীয় সাংসদের আয়োজন করা এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। ওই অনুষ্ঠানে সরাসরি অখিলেশকে আক্রমণ করেছিলেন অনুরাগ। মন্ত্রী বলেন, অখিলেশ ভাই আমরা তো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করি, আর তোমরা কর দাঙ্গার আয়োজন।

অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টিও যোগী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের বিষয়গুলিতে সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছে সপা। গো বলেয়ের এই বৃহত্তম রাজ্যে বিজেপিকে হারাতে প্রয়োজনে অখিলেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করার কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এমনকী অখিলেশ ডাকলে তিনি উত্তর প্রদেশে প্রচারে যাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন দেখা যাক, আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে কী সিদ্ধান্ত নেয় আমজনতা!

তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ অনুকরণে বিজেপির বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি হাতিয়ার ‘‘Khadeda Hoibe’’

Akhilesh Yadav

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনে (assembly election)বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘খেলা হবে'(khela hobe)। শাসক দলের এই স্লোগান বাংলায় কেমন সাড়া ফেলেছিল সেটা আজ সকলেই জানেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee ) সেই স্লোগানকেই বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করলেন উত্তরপ্রদেশের (utter Pradesh) সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।

২০২২-এর শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। শাসক দল বিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে। এই প্রচারেই অখিলেশের দল তৃণমূলের স্লোগানকে অনুকরণ করে পাল্টা স্লোগান তুলল ‘খদেড়া হইবে’। যার বাংলা অর্থ ‘তাড়ানো হবে’, অর্থাৎ বিজেপিকে এবার উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা থেকে হঠানো হবে।

অওয়াধি ও ভোজপুরি ভাষার মিশ্রণে এই গানটি তৈরি করা হয়েছে। এই গানে শুধু যে বিজেপিকে তাড়ানোর কথা বলা হয়েছে তা নয়। ক্ষমতায় ফিরলে উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে অখিলেশ সরকার কী কী কাজ করবে তারও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যোগীর বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

খেলা হবে এই স্লোগানটি মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে। তৃণমূল নেত্রীর এই স্লোগান তাঁর দলকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে বাংলার ক্ষমতায় ফিরিয়েছে। ২০২২ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সেই স্লোগানকেই কিছুটা এদিক ওদিক করে ফিরিয়ে আনলেন অখিলেশ।

তবে অখিলেশ যে প্রথমবার এই স্লোগানের কথা বললেন তা নয়। মাস খানেক আগে এক জনসভায় তিনি প্রথম ‘খদড়া হইবে’ কথাটি বলেছিলেন। তারপর থেকেই সমাজবাদী পার্টির বিভিন্ন সভায় নিয়মিত তাঁর মুখে খদড়া হইবে কথাটি শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানের মতই খদেড়া হবে স্লোগানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

উল্লেখ্য গত মাসেই সপা ‘সমাজবাদী সুগন্ধি’ নামে একটি পারফিউম বাজারে এনেছে। অখিলেশের আনা সেই সুগন্ধীর বোতলের গায়ে রয়েছে দলীয় পতাকার রং ও চিহ্ন। অখিলেশের এই অভিনব প্রচার কৌশলও মানুষের নজর কেড়েছে। এবার এল গান। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, যোগীকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরাতে চেষ্টার কোন খামতি করছেন না অখিলেশ। যদিও সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অল্প ব্যবধানে হলেও উত্তরপ্রদেশে ফের ক্ষমতায় ফিরছেন যোগী।