UP Election: ৩০০ + আসন টার্গেট দিলেন অমিত শাহ

amit shah

News Desk: আসন্ন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হচ্ছে বিপুল ভোটে। এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন ৩০০ টির বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে ফের যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে সরকার পুনরায় গঠিত হবে।

গত বিধানসভা ভোটে উত্তর প্রদেশে ৩১৪ টি আসন নিয়ে সরকার গড়ে এনডিএ জোট। ৩০৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি আর বাকি ৯টি আসনে জয়ী হয় আপনা দল। বিরোধী সমাজবাদী পার্টির দখলে ৫০টি আসন সহ বাকিদের মিলিয়ে মোট ৮১টি আসন রয়েছে।

অমিত শাহ টার্গেট ঠিক করে দিয়ে বলেন, কেন্দ্রে মোদীর নেতৃত্বে শক্তিশালী ভারত সরকার গড়তে উত্তর প্রদেশে যোগী সরকার জরুরি। নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপির প্রচার কর্মসূচির সূচনা করেন অমিত শাহ।

উত্তর প্রদেশ নির্বাচনের জন্য বিজেপি ‘মেরা পরিবার ভাজপা পরিবার’ কর্মসূচি নিয়েছে। দলীয় প্রচারকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের নিজ পক্ষে টেনে আনবেন। এমনই জানান অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতির নব্বই শতাংশ কাজ করেছে। সেই নিরিখেই নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হবে বিজেপি।

নিরক্ষররা দেশের বোঝা, তাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: অমিত শাহ

Home Minister Amit Shah

News Desk: দেশজুড়ে সমালোচিত হলেও নিজের বক্তব্য থেকে সরতে নারাজ অমিত শাহ। বুধবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, নিরক্ষরদের নিয়ে আমার করা মন্তব্যের অনেকেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমি সমালোচনায় ভয় পাই না। বরং যেটা সত্যি সেটাই বলেছি। আমি আবারও বলছি নিরক্ষর বা অশিক্ষিতদের নিয়ে কখনওই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। যে মানুষ নিজের সাংবিধানিক অধিকার কী জানেন না তিনি কিভাবে দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন!

উল্লেখ্য, তিনদিনের জম্মু-কাশ্মীরে সফরে গিয়ে অশিক্ষিতদের নিয়ে একই কথা বলেছিলেন অমিত শাহ। জম্মুতে এক সভায় শাহ বলেছিলেন, নিরক্ষররা দেশের বোঝা। একজন অশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে কখনওই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ তিনি বোঝেন না সংবিধান তাঁকে কী কী অধিকার দিয়েছে। তেমনই তিনি জানেন না, দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব এবং কর্তব্য কী। এ ধরনের মানুষ কখনওই দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারেন না।

শাহর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব তো সরকারের। তাহলে সরকার কি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে? সে কারণেই আজি দেশের প্রতিটি মানুষ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেনি।

উল্লেখ্য সর্বশেষ আদমসুমারি থেকে জানা গিয়েছে, দেশের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এই অশিক্ষিত মানুষরা অবশ্য বেশিরভাগই পরিস্থিতির চাপে পড়ে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চরম দারিদ্র্য ও কষ্টের কারণেই তাঁরা লেখাপড়া না শিখে কাজের দুনিয়ায় ভিড়ে গিয়েছেন। দেশের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় আজও স্কুল কলেজ তৈরি হয়নি। বাড়ি থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। তাই অনেকেই ছোটবেলায় স্কুল যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেকারণেই তাঁরা নিরক্ষর রয়ে গিয়েছেন। স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট তৈরি করতে না পারা বা তার ব্যর্থতার দায়িত্ব তো সরকারের ঘাড়েই বর্তায়। তাহলে শাহ কি সরকারের ব্যর্থতার কথা এভাবেই স্বীকার করে নিচ্ছেন?

নেটিজেনরা কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কিভাবে দেশের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর থেকে যায়? এই প্রশ্নের জবাব দিক সরকার। শিক্ষার বিস্তার না হলে কখনওই দেশের উন্নয়ন ঘটবে না এটা ঠিক। কিন্তু সেই শিক্ষার বিস্তারে সরকারের ভূমিকা কী ছিল, সরকার কতটা তার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে বা পারেনি সেটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে প্রকাশ্যে আনুন শাহ।

পাশাপাশি রাজনীতিবিদরা বলেছেন, শব্দচয়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও অনেক যত্নবান হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে অশিক্ষিতরাও দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে অশিক্ষিতদেরও শিক্ষিতদের মতো যথাযথ সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে এই কথাটি ভুলে গেলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এধরনের মন্তব্য অসম্মানজনক। শুধু তাই নয়, শাহ তাঁর মন্তব্যে কার্যত সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছেন।

J&K: কাশ্মীরি যুবকদের সঙ্গে আলোচনার আগে বুলেটপ্রুফ শিল্ড সরালেন শাহ

Amit Shah Removes Bulletproof shield

National Desk: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তিনদিনের কাশ্মীর সফরের সোমবার ছিল শেষ দিন। এদিন অচেনা অমিত শাহকে দেখতে পেলেন কাশ্মীরের মানুষ।

শ্রীনগরে শের-ই কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে উঠে শাহ প্রথমেই বলেন, তিনি সরাসরি কাশ্মীরের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলবেন। তাই মাঝে কোনও আড়াল রাখতে চান না। শাহর এই বক্তব্যের পর পোডিয়াম থেকে বুলেটপ্রুফ শিল্ড সরিয়ে নেওয়া হয়।

অমিত শাহ বলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা আমাকে পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে পরে কথা বলব। সবার আগে আমি কাশ্মীরের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই। জানতে চাই তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা সবার আগে কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়ন করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন কাশ্মীরের উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণের জন্যই ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরই শাহ যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।

শাহ তাঁর ভাষণে বলেন, কাশ্মীরকে এখন আর অন্য রাজ্যগুলির থেকে কোনওভাবেই আলাদা করে দেখা হয় না। প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ে কাশ্মীরের স্থান। কাশ্মীরের উন্নয়নই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।

সফরের শেষ দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষীর ভবানী মন্দিরে পুজো দেন। গান্দেরবাল জেলায় রাগণ্যা দেবীর মন্দিরেও পুজো দিয়েছেন তিনি। একটি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধন করেন তিনি। ১১৫ কোটি টাকা খরচ করে এই হাসপাতালটি তৈরি করা হয়েছে।

হাসপাতালের উদ্বোধন করে শাহ বলেন, আগে এই রাজ্যে মাত্র তিনটি মেডিকেল কলেজ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে আরও সাতটি মেডিকেল কলেজ তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে ৫০০ নয়, এখন কাশ্মীরের ২০০০ যুবক-যুবতী ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাবেন। শুধু তাই নয় এখন আর ডাক্তারি পড়ার জন্য কাউকে অন্য রাজ্যে যেতে হবে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন একটি চার হাজার কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কাশ্মীরের যুবক সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানে সরকার সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। কর্মসংস্থান হলেই এ রাজ্যের উন্নয়ন ঘটবে। ভূ-স্বর্গে উন্নয়নের জন্য অর্থের কোনও অভাব হবে না। রাজ্যের উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও একবার যুব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অমিত শাহ বলেন যুবসম্প্রদায়ই পারে কাশ্মীরকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে।

অন্যদিকে, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ এদিন কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেস আমলে কাশ্মীর চলত পাথর নিক্ষেপকারীদের কথায়। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। এখন কাশ্মীরের মানুষ ভালভাবেই বুঝতে পারছেন কংগ্রেস আমলে রাজ্যের কী অবস্থা ছিল আর ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কোন জায়গায় তাঁরা পৌঁছেছেন। নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে কাশ্মীরে উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। কাশ্মীরের এই উন্নয়নকে জোর কদমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

জম্মুকে আর কোনও বৈষম্যের মুখে পড়তে দেব না: শাহী-সংকল্প

Amit Shah

News Desk: আগেকার দিন এবার ভুলে যান। আগে যা হওয়ার হয়েছে। নতুন করে জম্মুকে আর কোনও ভাবেই অবিচার ও বৈষম্যের শিকার হতে দেব না। জম্মুর উপর যাতে কোনও অবিচার না হয় তা নিশ্চিত করবে সরকার। রবিবার জম্মু-কাশ্মীর সফরের দ্বিতীয় দিনে এই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

জম্মুতে এদিন শাহ বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে কাশ্মীরে শুরু হয়েছে উন্নয়নের নতুন যুগ। জম্মু ও কাশ্মীরের যথাযথ উন্নয়ন করাই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের মূল লক্ষ্য। ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়। এদিন শাহ বলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পরেই পশ্চিম পাকিস্তানের শরণার্থী পাহাড়ি, বাল্মিকী, গুজ্জর বাকেরওয়াল এই সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এদিনের সফরে জম্মুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একটি নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন শাহ।

একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জন্য এখানকার নেতারা কি করেছেন? তিনটি রাজনৈতিক পরিবার ৭০ বছর ধরে জম্মু-কাশ্মীরের শাসন ক্ষমতা ভোগ করেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তারা এ রাজ্যের জন্য কি করেছে তার জবাব কি দিতে পারবে? শাহ তাঁর ভাষণ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জম্মু-কাশ্মীরে উন্নয়নের যে ধারা শুরু হয়েছে কোনওভাবেই তা বন্ধ হবে না। কাশ্মীরে আর কারও দাদাগিরি চলবে না। কাশ্মীরের মাটি হল ঈশ্বরের মাটি। এখানে মাতা বৈষ্ণোদেবীর মন্দির রয়েছে। এই মাটিতেই আত্মত্যাগ করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। যারা জম্মু-কাশ্মীরের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে তারা কেউ পার পাবে না।

শাহ এদিন আরও বলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের দেড় বছরের মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরে ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। ২০২২ সালের মধ্যে আরও ৫১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চলে আসবে। এই বিনিয়োগ হলে রাজ্যের প্রায় ৫ লাখ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে।

তবে, শাহর সফরের দ্বিতীয় দিনেও রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গ। এদিন সকাল দশটা নাগাদ সোপিয়ানের বাবাপোরা অঞ্চলে টহলরত জওয়ানদের লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি চালায় জঙ্গিরা। সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। উভয়পক্ষের এই গুলির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক নিরীহ দুধ ওয়ালা। মৃত দুধওয়ালার নাম শাহিদ আহমেদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন বিষয়টি জানার পর শাহিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যারা শাহিদের মত নিরীহ মানুষকে খুন করে তারা কোনওভাবেই পার পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

J&K: কাশ্মীর থেকেও সরাসরি বিদেশ যাত্রা করা যাবে

kashmir airport

নিউজ ডেস্ক: এবার জম্মু-কাশ্মীর থেকেও সরাসরি বিদেশ যাওয়া যাবে। শনিবার তিনদিনের সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর এই প্রথম আসছেন তিনি। সফরের প্রথম দিনে শাহ শ্রীনগর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করবেন তিনি।

তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে শ্রীনগর থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবার উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিনই তাঁর জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। এই বৈঠকে কাশ্মীরে জঙ্গিদের সক্রিয়তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করবেন। উপত্যকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের হাল-হকিকত সম্পর্কেও আলোচনা করবেন অমিত শাহ।

২০১৯ সালের জুন মাসে শেষবার কাশ্মীরে এসেছিলেন শাহ। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছিলেন, শ্রীনগর থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান চালু করার চেষ্টা চলছে। শ্রীনগর বিমানবন্দরের আয়তন দ্বিগুণ বাড়ানোর কাজ চলছে। এই বিমানবন্দরের উন্নয়নের জন্য সরকার দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। জম্মু বিমানবন্দরের সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার খরচ করবে ৬০০ কোটি টাকা।

ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার শ্রীনগর বিমানবন্দরের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেছেন। সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন।

এদিকে শাহর সফরের জন্য গোটা কাশ্মীর উপত্যকা কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। উপত্যকায় অতিরিক্ত ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে। আকাশপথে ও ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। নিয়োগ করা হয়েছে দক্ষ স্নাইপার ও সার্প শ্যুটারদের। তিনদিনের সফরে শাহ প্রথমে যাচ্ছেন শ্রীনগর। তারপর তিনি জম্মুতে যাবেন। জম্মু থেকেই তিনি দিল্লি ফিরবেন।

বিমানবন্দর উদ্বোধনের পাশাপাশি উধমপুর এবং হান্দওয়ারায় দুটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করতে চায় নরেন্দ্র মোদী সরকার। সে কারণেই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবার সূচনা করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Amit Shah: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুমকি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Amit Shah

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দিল্লি কখনও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। অন্যদিকে আমাদের প্রতিবেশী এক দেশ সন্ত্রাসবাদে নিয়মিত মদত জুগিয়ে চলেছে। সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ যদি ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তারা যদি ছায়াযুদ্ধ চালিয়েই যায় তাহলে আগামী দিনে ফের ওই দেশের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পথে যেতে দ্বিতীয়বার ভাববে না ভারত। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ায় এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর হুমকি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।

অগাস্ট মাসে আফগানিস্তান তালিবানের দখলে যাওয়ার পর কাশ্মীরে জঙ্গিদের সক্রিয়তা বেড়েছে। দু’দিন আগে কাশ্মীরে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান সীমান্তের অভ্যন্তর থেকে উড়ে আসছে অস্ত্র বোঝাই ড্রোন। বেড়েছে সীমান্ত অতিক্রম করে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সংখ্যা। তার প্রেক্ষিতেই এদিন মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শাহ সরাসরি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে যে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে তা বেশিদিন সহ্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার গোয়ার ধারবান্দোরায় ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই কাশ্মীর ও সীমান্তের সাম্প্রতিক সমস্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে অমিত শাহ বলেন, এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছিল। দরকার হলে আগামী দিনে আমরা ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাব। আমরা কোনরকম অশান্তি ও হিংসা চাই না। আমরা চাই আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু আমাদের এই মানসিকতাকে যদি পাকিস্তান দুর্বলতা বলে ভাবতে থাকে তবে আমরা তার জন্য উপযুক্ত শিক্ষা দিতে তৈরি আছি।

পাকিস্তান ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনা বোধহয় ভুলে গিয়েছে। আমরা চাই না পাকিস্তানকে ফের সেই ঘটনার মুখোমুখি হতে হোক। কিন্তু ইসলামাবাদ যদি অকারণে আমাদের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালায় বা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করে তবে তার জন্য তো উপযুক্ত জবাব ওরা পাবেই।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২২-এর গোড়াতেই গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে অমিত শাহ ফের একবার দেশ প্রেমের জিগির তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বোঝাতে চাইছেন বিজেপি সরকারের কাছে সবার আগে দেশের সুরক্ষা।

ত্রিপুরা-পাঞ্জাবে টলমল BJP, পরীক্ষায় মোদী-শাহ

narendta modi and amit shah

বিশেষ প্রতিবেদন: কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে শংকিত বিজেপি পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট ভাঙনের মুখে। ঠিক যেমন করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক লেগেছিল। পাঞ্জাবে বিজেপি শিবিরের পুরনো সহযোগী শিরোমনি আকালি দলে ভিড়ছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নেতা কর্মীরা।

একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায় শাসক বিজেপিতে চরম সঙ্কটে। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকেই সরাসরি কলকাতায় ফোনাফুনি শুরু করেছেন। শাসক দলের ভিতর চওড়া হচ্ছে ভাঙন।
মোদী-শাহ, মমতা, কেজরি, রাহুল, CPIM সবার পরীক্ষা

(১) আগামী বছর ২০২২ সালে পাঞ্জাবে ভোট। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় ভোট। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের নির্বাচনে মোদী-শাহের অগ্নিপরীক্ষা। দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ দখলে ব্যর্থ হয়েছেন।

(২) পরীক্ষায় বসবে সিপিআইএম। দলটি ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর সরকারে ছিল। গত বিধানসভায় সেই বাম সরকারের পতন হয়। ত্রিপুরায় এখন তারা প্রধান বিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হলেও কেরলে পরপর দুবার সরকার তারা গড়েছে। ত্রিপুরায় ফিরে আসতে মরিয়া মানিক সরকার।

(৩) পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতারও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন তিনি। দেশের অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে তিনি রাজত্ব সম্প্রসারণে মরিয়া।

(৪) পরীক্ষা দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। টানা তিনবার দিল্লির সরকারে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে তারা অন্যতম শক্তি। কেজরির লক্ষ্য অন্তত পাঞ্জাবে বিরোধী আসন।

(৫) কেরল দখলে ব্যর্থ হয়ে পাঞ্জাবের মতো দুর্গ ধরে রাখার পরীক্ষায় নামছে কংগ্রেস। সেনিয়া-রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ পাঞ্জাব।

পরীক্ষার্থীদের দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয় দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। পাঞ্জাব ও ত্রিপুরার ভোট লড়াইয়ে যারা যারা কুর্সিতে যাবে তাদের কাছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বস্তিকর।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন। কৃষি আইন বিরোধিতার পক্ষে গিয়ে এনডিএ জোটের অতি বিশ্বস্ত শিরোমনি আকালি দল একলা হয়ে গিয়েছে। গতবার তাদের বদান্যতায় পাঞ্জাবে কিছু আসন ছিল বিজেপির দখলে। সদ্য কয়েকটি পুরসভা ও স্থানীয় ভোটে বিজেপি একা লড়ে করুণ অবস্থায়। লেগেছে দলত্যাগ হিড়িক। বরং উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি।

ত্রিপুরায় রাতারাতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে গিয়ে পাঁচবছর আগে মোদী ঝড়ের ফায়দায় বাম রাজ্যটি ‘রাম রাজ্য’ হয়েছিল। সেই ত্রিপুরায় এখন বিজেপির বিধায়করা মমতা শিবিরে ঢুকতে হত্যে দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার গিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। দলকে চাঙ্গা করতে বিজেপি বিধায়কের গলায় হাড় গুঁড়ো করার হুঁশিয়ারি তো তালিবানি রীতিতে মারধরের হুমকি শোনা যাচ্ছে। এতে বিব্রত বিজেপি। তার সঙ্গে জুটেছে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না পূরণের ক্ষোভ।
সবমিলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই রাজ্যে চাপে বিজেপি। ফায়দা লুঠবে কে?