Africa: অভ্যুত্থান বিরোধী জনতা যেন ইঁদুর! তাড়া করছে সুদানের সেনা

sudans-armed-forces

News Desk: সরকার ফেলে দেওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারি করেছে সুদানের সেনা। আফ্রিকার আরও এক নীল নদের দেশ হিসেবে পরিচিত সুদান রক্তাক্ত। শুরু হয়েছে অভ্যুত্থান বিরোধী জনতাকে ইঁদুরের মতো খাঁচা বন্দি করার পালা।

বিবিসি জানাচ্ছে, সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির অসামরিক নেতাদের বেছে বেছে গ্রেফতার করছে। তবে মুক্তি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হামদক। তিনি এখন নজরবন্দি।

আল জাজিরার খবর, সুদানের সেনা ক্ষমতা দখল করার পর দেশটির জনগণের একাংশ সেনা শাসনের বিরোধিতা করে। তবে অভ্যুত্থানের পক্ষে রয়েছেন বহু সুদানি। এদিকে ক্ষমতা দখল করেই সুদানি সেনা শুরু করেছে ব্যাপক ধরপাকড়। গণতন্ত্র চাওয়া বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালাচ্ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

বিবিসি জানাচ্ছে, সেনার হাতে বন্দি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সেচমন্ত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা।অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার। সোমবার সুদানের সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান বলেন সরকার অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।

সুদানে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে একদা তিরিশ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল বাশিরের সমর্থকরা। ২০১৯ সালে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে তার সরকার পড়ে গিয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর বশিরের সমর্থকরা ফের সক্রিয় হয়েছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে ওমর আল বশিরের স্বৈরশাসন শেষের পর সুদানি সেনা ও রাজনৈতিক দলগুলি মিলিতভাবে সরকার গড়ে। সেই সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে গঠিত পরিষদ ঘিরে জনগণের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রকাশ্যে সেনা শাসনের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। অভিযোগ, জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান পূর্ণ ক্ষমতা দখল করতে এই বিক্ষোভ সংঘটিত করেন।

পরিস্থিতি আরও ঘোরতর। গৃহযুদ্ধের পথে যাচ্ছে সুদান।

Myanmar: মাস্ক পরা সু কি’র চিন্তিত মুখ দেখল বিশ্ব, আমৃত্যু জেল আশঙ্কা

aung san suu kyi

News Desk: সামরিক সরকারের আদলতে হাজিরা দিলেন মায়ানমারের গণতন্ত্রীকামী নেত্রী আউং সান সু কি। নোবেল জয়ী নেত্রীর সরকারকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে উৎখাত করেছে বর্মী সেনা। চলছে সামরিক সরকার। সেই থেকে অত্যন্ত গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছে সু কি সহ অপসারিত সরকারের বাকিদেরকে। বন্দি প্রেসিডেন্টও।

বিবিসি জানাচ্ছে, টানা কয়েকমাস বিশ্বের নজর থেকে সু কি-কে সরিয়ে রাখার পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করায় সামরিক সরকার। সবই চলছে ঠান্ডা মাথার সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে মায়ানমারে ক্ষমতা ফের দখল করার পর সেনাবাহিনী সু কির বিরুদ্ধে করোনার বিধিনিষেধ লংঘন, অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হাজিরার সময় আদালতে মাস্কে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন সু কি। দেখা গিয়েছে তাঁর চিন্তিত চোখ। আশঙ্কা সু কি জীবদ্দশায় আর বন্দিত্ব কাটাতে পারবেন না। দেশদ্রোহ মামলায় তাঁকে আমৃত্যু জেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তবে সেনা সরকার জানিয়েছে সু কি আইনি উপদেষ্টা রাখতে পারবেন আদালতে। তাঁর আইনজীবীও সেনা অনুমোদিত ব্যক্তি ! তিনি জানান, আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে প্রমান দাখিল করেছেন সু কি। তথ্য বিচার করেই রায় দেবে আদালত।

বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন, সু কি মুক্তি পাবেন কি? মায়ানমারে সামরিক সরকার হয়ত তাঁকে আর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচচিত নামতে দেবে না। দোষী প্রমানিত হলে অন্তত ১৫ বছরের জেল হবে সু কির।

Africa : এবার সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী গোষ্ঠীর গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভ! সুদান রক্তাক্ত

sudan

News Desk: সেনা শাসনের বিরোধিতা করাই জনগণের চরিত্র। যেমনটা হচ্ছে মায়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে। তবে আফ্রিকার দেশ সুদানে জনমানসের বিপরীত চরিত্র সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি কোনও দেশে। একপক্ষ সেনা শাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে  সরকারকে উৎখাত করেছে। তারপর  সুদানে শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের দাবিতে অন্যপক্ষের বিক্ষোভ।

বিবিসি জানাচ্ছে, সুদানের সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করার পর রাজধানী খার্টুম সহ দেশটির সর্বত্র রাজপথে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করেছে। বিক্ষোভ রুখতে গুলি চালিয়েছে সেনা। কমপক্ষে দশ জন মৃত।

মনে করা হচ্ছে, এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে সুদানের একদা তিরিশ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল বাশিরের সমর্থকরা। ২০১৯ সালে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে তার সরকার পড়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের মাঝে বশিরের সমর্থকরা ফের সক্রিয় হয়েছেন।

ওমর আল বশিরের স্বৈরশাসন শেষের পর সুদানি সেনা ও রাজনৈতিক দলগুলি মিলিতভাবে সরকার গড়ে। বিবিসি জানাচ্ছে,  সেই সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ২০১৯ সালে যে চুক্তি হয়েছিল তাতে সুদানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগনোর কথা ছিল।  ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে গঠিত পরিষদের প্রধানের পদে ছিলেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান। তিনি বলেছেন, এরপরেও সুদানের সেনা অসমারিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেনি। ২০২৩এর জুলাইয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সরকারের দুপক্ষের মধ্যে ফাটল বাড়তে থাকে। এর জেরে সরকার পরিচালনা থমকে যায়। সেনাবাহিনী দ্রুত সরকার পরিচালনা করুক দাবিতে পুঞ্জীভূত হতে থাকে বিক্ষোভ। অভিযোগ, অর্ধেক নয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা দখল করতেই বিক্ষোভে মদত দিয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী।হাজার হাজার সুদানি দাবি তোলেন, অসমারিক সরকার নয় সামরিক সরকার চাই। বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করেন প্রেসিডেন্ট হাউস। পার্লামেন্ট ঘেরাও করা হয়। সুদানি সেনা তাদের বাধা দেয়নি। সোমবার সুদানি সেনা বন্দি করে প্রধানমন্ত্রীকে।  অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান সরকার ভেঙে দেন। জরুরি অবস্থা জারি করেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে।

এর পরেই ফের গণতন্ত্র চেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সুদানে। সেই বিক্ষোভ থামাতে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান। পরিস্থিতি আরও জটিল। রাজধানী শহরের বিমানবন্দর বন্ধ। ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন সংযোগও বন্ধ। তীব্র রাজনৈতিক ঘনঘটার মুখে ফের দাঁড়িয়েছে আরও এক নীল নদের দেশ সুদান।

Africa: ‘চুলোয় যাক অপদার্থ সরকার’ সেনা অভ্যুত্থানের আহ্বান সুদানবাসীর

Pro military rule protest in sundn

নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র নাকি সামরিক সরকার? এই প্রশ্নের সাফ জবাবে সুদানবাসী চাইছেন সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করুক। নীলনদের আরও এক দেশ সুদানের পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাময়। রাজপথে গগন বিদারী চিৎকার সেনা শাসন চাই।

আলজাজিরা, বিবিসি সহ বিভন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, সুদানবাসী এখন সেনা অভ্যুত্থান চেয়ে গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থানের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছেন দেশটির হাজার হাজার সুদানি। 

শনিবার রাজধানী খার্টুমের প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা ভুখা সরকারের পতনের দাবিতে সোচ্চার হন। সেনা বাহিনীকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে নেওয়ার আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার বিচার ও সমতা আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ।

বিবিসি জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবনের মূল ফটক ঘেরাও করলেও তেমন সক্রিয়তা দেখায়নি নিরাপত্তারক্ষীরা। এই ইঙ্গিত সরকার পড়ে যাওয়ার বলেই মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্সের খবর, ২০১৯ সালে গণ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-য বশির। এরপর আলোচনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দল। কিন্তু কিন্তু এতে সুদানের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং খাদ্য সংকট আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির থেকে বেরিয়ে আসতে সুদানিরা এবার পূর্ণ সামরিক সরকার চাইছেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার ফেলে দিয়ে সেনাপ্রধান প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ অল বুরহান অবিলম্বে সরকার পরিচালনা গ্রহণ করুন। আর বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হোক।