Subrata Mukherjee: কোনদিন খালি হাতে ফিরিনি তাঁর কাছ থেকে, সুব্রত নিয়ে লোপামুদ্রা

Lopamudra Mitra about Subrata Mukherjee

News Desk: সুব্রত মুখোপাধ্যায় যে শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তা সবার জানা। গানের জগতেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন লোপামুদ্রা মিত্র।

তিনি জানিয়েছেন, “সুব্রতদাকে প্রথম সামনে থেকে দেখি, ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটউট হলে।২০০০ সালে। তখন তিনি সদ্য মেয়র হয়েছেন। আমার গান শুনেছিলেন সামনের সারিতে বসে। সেইদিন প্রথম আলাপ।তারপর থেকেই মানুষটিকে চিনেছিলাম একজন মানুষ হিসেবে। ব্যাক্তিগত কারণে অথবা সহজ পরব, কোনদিন খালি হাতে ফিরিনি তার কাছ থেকে।

প্রথম বছর সহজ পরবের আগে আমি আর কালিকা তাঁর বাড়ি গেছি। সাহায্য করেছেন তাঁর যথাসাধ্য।অনুষ্ঠানের দিন সুব্রতদা নিজে কাজের কারণে আসতে পারেননি, বৌদি এসেছেন। শুধু গানবাজনা ভালোবেসে। তারপর থেকে প্রতিটি বছর সহজ পরব তাঁর সাহায্য পেয়েছে।

শ্রদ্ধা করি তাঁকে শুধু মানুষ হিসেবে শুধু নয়, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও। যেটা আজকের দিনে অনেককেই করতে পারিনা। এমন মানুষের চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হয়।”

৭৫ বছর বয়সে এসএসকেএম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। চার নভেম্বর রাত ৯.২২মিনিটে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মৃত্যু হয় তাঁর। পাঁচ তারিখ বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এদিন সন্ধে নাগাদ হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের শৌচাগারে যান তিনি। এরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে দেখতে এসএসকেএমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ হাসপাতালে যান মমতা। কার্ডিওলজির আইসিসিউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসএসকেএমে গিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, নির্মল মাজি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে এসএসকেএমে ভর্তি হন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ধমনীতে স্টেন্ট বসানোর পরেও অবস্থার অবনতি হয় তাঁর।

দীপাবলির আগের সপ্তাহেই হঠাৎ শরীর খারাপ হয় তাঁর। গত ররিবার এসএসকেএমে চেক আপ করাতে গিয়ে আরও অসুস্থ বোধ করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএমে। একসপ্তাহ ধরে ICCU-তে কাটানোর পরে শেষ হল জীবনের সঙ্গে লড়াই। সকলকে চির বিদায় জানালেন বঙ্গ রাজনীতির চিরসবুজ ব্যক্তিত্ব সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের সারেঙ্গাবাদের ছেলে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ৬-এর দশকে পড়তে আসেন কলকাতায় । অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলেন বঙ্গবাসী কলেজে। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজি-তে মাস্টার্স। এর পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা মিউসিওলজি বা মিউজিয়াম স্টাডিজে। এর পর দীর্ঘ ৫০ বছর সাফল্যের সঙ্গে সেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

শিল্পীর পেনন্সিল স্কেচে জন্মদিনে লক্ষণের বাইশ গজের শিল্পের স্মৃতি উস্কে দিল

girben-laxman

Sports Desk: “সেই দিনগুলির মধ্যে একটি, যেখানে একটি ছোট স্বপ্ন বাস্তবে এসেছিল..ক্রিকেটের খুব বিশেষ মানুষ, খুব শৈল্পিক ভিভিএস লক্ষ্মণ জন্মদিন পালন করার সময়ে। কতটা বিশ্বাসযোগ্য, পেইন্টিংটি কলকাতার এক বোনের কাছ থেকে এসেছিল এবং যখন বিশেষ এই মানুষটি জানতে পারেন কলকাতার একটি ছোট্ট বোন তাঁর এই ছবি স্কেচ করে পাঠিয়েছি, জন্মদিনের শুভেচ্ছায়, শোনা মাত্রই তিনি আরও বেশি করে নস্টালজিক হয়ে পড়েন, কারণ কলকাতার সঙ্গে ভিভিএস’র দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বলা যেতে পারে ক্রিকেটের ইতিহাসে নাড়ির সম্পর্ক অস্ট্রেলিয়ার অশ্বমেধের ঘোড়ার দৌড় থামিয়ে দেওয়ার ‘২৮১’র সম্পর্ক,” বলছেন গির্বন চক্রবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপে আইসিসি নিযুত ধারাভাষ্যকারদের বায়ো বাবল টু বাবল ম্যানেজার।

সোশাল মিডিয়াতে গির্বন বলেন”অত্যন্ত নম্র, অসাধারণ একজন শিল্পী যিনি পুরো প্রজন্মের অজি বোলারকে ছোটদের মতো দেখতে তৈরি করেছেন৷ আজ যদি কোনও ছোট বাচ্চা তার স্বপ্নগুলি অনুসরণ করে মাটিতে পৌঁছানোর জন্য তার কিট বহন করে তবে এই লোকটির কারণেই৷” ১ নভেম্বর ছিল ক্রিকেটের ধ্রুপদী শিল্পী ভিভিএস লক্ষণের জন্মদিন। আর এমন ভেরি ভেরি স্পেশাল ম্যানের জন্মদিনে কলকাতার ছোট্ট এক বোন শিল্পী ভট্টাচার্যের নিজের হাতে আঁকা ভিভিএস লক্ষণের পেনন্সিল স্কেচ তুলে দিতে পেরে ভীষণ ভাবে আবেগপ্লুত বাংলার ছেলে গির্বন চক্রবর্তী।

এমন বিশেষ একটা দিন, যেখানে কিংবদন্তী ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষণের জন্মদিনে গির্বন তুলে দিয়েছে কলকাতার আরও এক কৃতি বাঙালি ছোট্ট বোন শিল্পী ভট্টাচার্যের হাতে আঁকা পেনন্সিল স্কেচ, যা দেখে ‘ভেরি ভেরি স্পেশাল’ ডাকনাম ভিভিএস লক্ষণ “কলকাতা থেকে আঁকা এই ছবি শুনে ভীষণই খুশি” হয়েছে।

আর লক্ষণ খুশি হবে নাই বা কেন। নিজের টেস্ট ক্রিকেট কেরিয়ারের সোনালি সময়ে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচের অপরাজিত থাকার অহংকারের দর্পচূর্ণ হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বতে। যখন ভিভিএস লক্ষণ এবং ‘দ্য ওয়াল’ রাহুল দ্রাবিড় জুটি স্টিভ ওয়া বাহিনীর মাথায় চেপে ডুগডুগি বাজিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অশ্বমেধের ঘোড়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল।

ক্রিকেটের নন্দনকাননে অজি শিবির ১৭ টি টানা টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়ার ওপর ‘নেকড়ে’ ‘হায়না’র মতো আক্রমণাত্মক মেজাজে স্লেজিং এর কড়াল ছোবলে বিদ্ধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই সময়ে ভিভিএস লক্ষনের ২০০০-০১ ভারতে অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টে ইডেন গার্ডেনে লক্ষণের প্রথম ইনিংসে ৫৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত ২৮১ রান। ইডেনে ২৮১ রান করার সঙ্গেই লক্ষণ আরও একটি মাইলস্টোন গেড়ে বসে এবং তা হল কিংবদন্তী ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কারের করা ২৩৬ রানে অপরাজিত থাকার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে।

স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়া টানা ১৫ টি টেস্ট ম্যাচে অপরাজিত থেকে মুম্বই’র মাটিতে পা রেখে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছুঁড়তে শুরু করে, অজিদের ট্র‍্যাকটিক্যাল গেম প্ল্যান মতো। বাইশ গজে ‘স্লেজিং’কে করে তুলেছিল নিজেদের হাতিয়াড় অজি শিবির। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ওই হোম সিরিজ লক্ষ্মণের কেরিয়ারকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয়। মুম্বইতে প্রথম টেস্টে, লক্ষ্মণ ২০ এবং ১২ রান করেন, শচীন তেন্ডুলকর বাদে পুরো ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ আত্মসমর্পণ করে অস্ট্রেলিয়ার কাছে, যার ফলে ১০ উইকেটের পরাজয় ঘটে টিম ইন্ডিয়ার। অস্ট্রেলিয়া টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচ জয় করে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে কলকাতায় আসে ১৭ তম টেস্ট ম্যাচ টানা জয়ের লোলুপ নেশায় মত্ত হাতির মতো তাণ্ডব করতে। কিন্তু সেগুড়ে বালি!

অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মগজশাস্ত্রে’ বেরিয়ে আসে অজি বধের ফর্মুলা। ‘স্লেজিং’ বুমেরাং হয় দ্বিতীয় টেস্টে স্টিভ ওয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে, ইডেন গার্ডেনে। সঙ্গে ভিভিএস লক্ষণের ৪৫২ বলে ২৮১ রান, ম্যাকগ্রার বলে রিকি পন্টিং’র হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে লক্ষণ আর লক্ষণে’র জোড়িদার রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৫৩ বলে ১৮০ করে রান আউট, শিব সুন্দর দাসের ৩৯,সদগোপান রমেশের ৩০,সচিন তেন্ডুলকরের ১০,সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৪৮, নয়ন মঙ্গিয়া ৪,জাহির খানের ২৩ এবং হরভজন সিং’র ৮ রানে অপরাজিত থাকা, ভারতের ৬৫৭ রান তোলে ৭ উইকেটে, ফলোয়ন করে।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে টার্গেট ৩৮৪ রানের, যেখানে হরভজন সিং ৬,সচিন তেন্ডুলকর ৩ এবং বেঙ্কটপতি রাজু এক উইকেট। স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচ অপরাজিত থাকার অহংকার গঙ্গার জলে ধুঁয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। ভারত জেতে ১৭১ রানে অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে।

<

p style=”text-align: justify;”>এমন ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জয় ভারতের এবং ভিভিএস লক্ষণের সোনালি পারফরম্যান্স নিজের ধ্রুপদী ক্রিকেটকে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেনে রামধনুর রঙের ছটায় ভাসিয়ে তোলা আর ২০২১ সালে ১ নভেম্বর নিজের ৪৭ তম জন্মদিনে হায়দরাবাদী ভিভিএস লক্ষণের হাতে ধারাভাষ্যকারদের বায়ো বাবল টু বাবল ম্যানেজার গির্বন চক্রবর্তীর হাত ধরে কলকাতার অনামী ছোট্ট বোন শিল্পী ভট্টাচার্যের পেনন্সিল স্কেচ ইডেন গার্ডেনে ভিভিএস লক্ষণের ক্রিকেটের অমর গাঁথাকে শিল্পের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলা বিশেষ মুহুর্ত লক্ষণের জীবনে ভালোলাগা, ভালবাসা, ক্রিকেটের নন্দনকাননের সঙ্গে বাইশ গজের সূত্রে নাড়ির সম্পর্ককে আরও গভীরে গেঁথে দিল।

Paritosh Sen: বাঙালি শিল্পীতে মুগ্ধ পিকাসো মন ভরে দেখিয়েছিলেন নিজের সৃষ্টি

Special report on artist Paritosh Sen's birthday

Special report: ভারতীয় শিল্পীর মধ্যে কে জানে কি খুঁজে পেয়েছিলেন পিকাসো। নিশ্চয় কিছু পেয়েছিলেন। না হলে সবাইকে ছেড়ে তাঁকে হাত ধর টেনে নিয়ে গিয়ে কেন পাঁচ ঘণ্টা ধরে তা অনবদ্য সৃষ্টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবেন। ওই কথায় বলে জহুরির চোখ। ভিড়ের মধ্যে হিরে খুঁজে নিয়েছিলেন পিকাসো।

শিল্পী পরিতোষ সেনের (Paritosh Sen) জীবনে এই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৩ সালের ৩ মে। পয়লা মে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনীতে পিকাসোর দেখা পেয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এক দিন পর তাঁকে নিজের স্টুডিওতে যেতে বলেন পিকাসো। নির্দিষ্ট দিনে পরিতোষ সেন পিকাসোর স্টুডিওতে গিয়ে আরও বহু সাক্ষাৎপ্রার্থী দেখতে পান। কিন্তু সবাইকেই একে একে চলে যেতে হয়। সবশেষে পরিতোষ সেন পিকাসোর সচিব জেইম সাবার্তকে পিকাসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পিকাসোর অনুমোদনের কথা বলেন। প্রথমে সচিব আপত্তি জানালেও পরিতোষ সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশের মানুষ শুনে পিকাসোর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

তিনি নিজে বলেছেন , “’পিকাসোর সঙ্গে একনাগাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলাম। সে দেখা হওয়াটা আমার জীবনের এক মহৎ অভিজ্ঞতা, যা কোনো দিন ভোলার নয়। আমি ছবি নিয়ে গিয়েছিলাম। তাঁকে আমার ছবি দেখানোই ছিল উদ্দেশ্য। তাঁর কাছ থেকে যে প্রশংসা পেয়েছিলাম, তা আমার সারা জীবনের জন্য অক্ষয় পাথেয় হয়ে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, পাবলো পিকাসো সম্পর্কে সাধারণ একটা ধারণা ছিল যে তিনি খুব দাম্ভিক প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু আমার জন্য তাঁর সচিব মাত্র পনেরো মিনিট সময় নির্দিষ্ট করে দিলেও আমি পিকাসোর স্টুডিওতে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার ছবি দেখার পর পিকাসো আমার হাত ধরে নিয়ে তাঁর ছবি, ভাস্কর্য দেখান, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এমন ব্যবহার শুধু মহৎ ব্যক্তিরাই করতে পারেন।” পিকাসোর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে পরিতোষ সেন বিস্তারিত লিখেছেন তাঁর আবু সিম্বাল, পিকাসো ও অন্যান্য তীর্থ গ্রন্থের ’শিল্পী পিকাসোর মুখোমুখি’ অধ্যায়ে।

দেশ-বিদেশে পরিতোষ সেনের বেশ কিছু একক প্রদর্শনী হয়েছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে সম্মিলিত বহু প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। স্বদেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট আর্ট গ্যালারিতে তাঁর ছবির সংগ্রহ রয়েছে।

১৯৮৫ সালে পরিতোষ সেন ’শিরোমণি’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে দিল্লির ললিতকলা একাডেমি বিশেষ সম্মানজনক ’আনন্দকুমার স্বামী’ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। একই বছর তাঁকে ললিতকলা একাডেমির ফেলো নির্বাচন করা হয়। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন ১৯৬৬-৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর কাজের ওপর একটি ডকুমেন্টারি ছবি তৈরি করেছিল।

শিল্পচর্চা ছাড়াও পরিতোষ সেন নিয়মিত সমসাময়িক শিল্পকলা ও শিল্প-ইতিহাসের ওপর নিবন্ধ লেখেন। তাঁর প্রকাশিত চারটি বই হলো জিন্দাবাহার; আমসুন্দরী ও অন্যান্য রচনা; আলেখ্য মঞ্জরীঃ আবু সিম্বাল, পিকাসো ও অন্যান্য তীর্থ এবং কিছু শিল্পকথা।

পরিতোষ সেনের চিত্রকলার সর্বশেষ প্রদর্শনী হয়েছে কলকাতায়, ২০০৬-এ। গ্যালারি ৮৮ শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের ৮৮তম জ্নদিন উপলক্ষে তাঁর ৮৮টি শিল্পকর্মের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল যা খুব প্রশংসিত হয়েছিল। একইভাবে ২০০৬-এ গ্যালারি ৮৮ শিল্পী পরিতোষ সেনের ৮৮তম জন্মদিন উদযাপন করেছে তার ৮৮টি শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

তিনি ভারত ও বহির্বিশ্বে প্রচুর প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে: কলকাতা গ্রুপ প্রদর্শনী (১৯৪৪),লন্ডন, যুক্তরাজ্য (১৯৬২),সাও পাওলো বিয়েনালে (সাও পাওলো দ্বিবার্ষিক), ব্রাজিল (১৯৬৫) ,নয়া দিল্লী ট্রিয়েনালে (নয়া দিল্লী ত্রিবার্ষিক) (১৯৬৮, ১৯৭১, ১৯৭৫), সুইডেন (১৯৮৪), হাভানা বিয়েনালে (হাভানা দ্বিবার্ষিক), কিউবা (১৯৮৬)। একানব্বইয়ের এপ্রিলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ের পর পরিতোষ সেন ব্যথিত হয়ে পড়েছিলেন গভীরভাবে। সেই জলোচ্ছ্বাস আর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার বহু ছবি দেখেছেন তিনি পত্রপত্রিকায়, দূরদর্শনের পর্দায়। সেসব দৃশ্য মনে রেখে তিনি ’ঘূর্ণিঝড়ের পর’ সিরিজে এঁকেছিলেন বেশ কিছু চিত্রকলা। সেগুলো ’৯১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দিল্লির ভিলেজ গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়।

পুজোর দিনেই লক্ষী এলেন ঘরে, এখনই দুর্গা গড়ার অর্ডার শিল্পীর হাতে

next year durga puja on laxmi puja

বিশেষ প্রতিবেদন: এমন বরাত কতজনের হয়? ভালো কাজ করলে হয়তো তা হয়। তেমনভাবেই বরাত খুলেছে দীপেন মন্ডলের। পরের দুগ্গা পূজো এখন খান ৩৪০ দিন পরে। এমন সময়েই আগামী বছরের ঠাকুর গড়ার দায়িত্ব পেয়ে গেলেন শিল্পী। সৌজন্যে কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট ক্লাব।

ক্লাবের কর্তা অভিজিৎ বসু জানিয়েছেন, ” ক্লাবের এই বছরের পুজোর চালিকাশক্তি মনে হল শিল্পী দীপেনই। ওর প্রতিমা দেখে ধন্য ধন্য করল দর্শক .প্রতিবেশী ও বিচারকরা তাই আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই নবীন শিল্পীকে এবং সামনের বছর ও কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রীট ক্লাবের দুর্গা প্রতিমার দায়িত্ব ওর হাতেই অর্পণ করলাম।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রীট ক্লাবের এ বছরের দুর্গা প্রতিমার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল প্রতিভাবান শিল্পী দীপেন মন্ডল কে, সুদূর বীরভূমের মধ্যবিত্ত ঘরের এই ছেলেটি বহু বছর ধরেই কলকাতায় বিভিন্ন শিল্পীদের সহকারী হিসেবে কাজ করেছে ,কখনো কুমোরটুলি কখনো কালীঘাটের পটপাড়ায়. বেশ ক’বছর ধরে ওর কাজের ধরন দেখছিলাম অসম্ভব প্রতিভাবান এই শিল্পী এবছর নিজেই বেশ কটা ঠাকুর তৈরি করবে ঠিক করে বালিগঞ্জের দুর্গা বাড়িতে. জানুয়ারি মাস থেকেই আমাদের সঙ্গে কথা চলছিল অত্যন্ত নম্র-ভদ্র এই নবীন শিল্পী কে আমাদের প্রতিমার ছবি দেখাই বিশেষ করে সিংহাসনের সাথে আমাদের মণ্ডপে আরো সাতটি সিংহ ও রাধা কৃষ্ণ মূর্তি ও বানাতে হবে সেটাও জানাই…. টাকা পয়সার কোন ফাইনাল না করেই শিল্পী দীপেন মন্ডল ক্লাবে আমাদের মূর্তি তৈরি করবে কথা দেয়।”

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “প্রথম প্রথম একটু ভয় থাকলেও যতদিন গড়াতে থাকে তত অবাক হতে থাকি এই শিল্পীর একাগ্রতা দেখে ..কলকাতার আরও বড় ছটি ক্লাবের দুর্গা ও তৈরি করে তারই মধ্যে একটি এশিয়ানপেইন্টস সম্মানে সম্মানিত.. সত্যি কখনো কখনো মনে হয় আমরা হয়তো খাঁটি সোনা টাকে ঠিকমতো চিনতে পারিনা ছুটি নাম যশের পেছনে কিন্তু হ্যাঁ কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রীট ক্লাব অত্যন্ত কষ্ট করে আজকের এই পুজোকে কলকাতার মানচিত্র স্থান করেছে তার জন্য আমাদের দুর্গা প্রতিমার রুপি মানুষের মনকে টানে বছরের পর বছর . তাই খাঁটি সোনা কে চিনতে অসুবিধা হয়নি.. আর সেটা

নবীন শিল্পী দীপেন মন্ডল ও জানতো তাই ওর সবকিছু দিয়ে আমাদের এই মূর্তিকে সাজিয়ে তুলেছে কোন ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা ও আশা করিনি ও শুধু চেয়েছে মন প্রাণ দিয়ে কাজটা করতে আজ সত্যিই লক্ষ্মী পূজার সকালে ওকে এবছরের পুজোয় কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রীট ওকে পুজোর আগাম দায়িত্ব দিল।”

Kolkata: খুনের হুমকি সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে, ধৃত ২

music artist Rashid Khan

বায়োস্কোপ ডেস্ক: সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে খুন করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সংগীতশিল্পীর বাড়ির সামনে স্নাইপার গান তাক করে তাকে খুন করার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।

ওস্তাদ রশিদ খানের মেয়েকে ফোন করে ৫৯ লক্ষ টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। হুমকি দেওয়া হয় বাড়ীর বাইরে পা রাখলেই তাকে গুলি করা হবে বলে। অভিযোগ অনুসারে তদন্তে নেমে ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরা করার পর অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর সমস্ত প্রমান সহ নেতাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ রশিদ খান। তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে শেষমেষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সূত্র মাধ্যমে জানা যায়, প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকার দাবি করা হলেও পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়।

দাবি করা হয় টাকা না দেওয়া হলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মোবাইল ট্র্যাক করে তদন্তে নেমে অপরাধীদের খুঁজতে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত লখনৌ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে। দুই অপরাধী আগে থেকেই ওস্তাদ রশিদ খানের পরিচিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গীত শিল্পীর প্রাক্তন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, মাস কয়েক আগে চাকরি থেকে তাদের বরখাস্ত করেন রশিদ খান। অভিযুক্তদের জেরা করা হলে জানা যায়, ওই ঘটনার পর অপমানিত বোধ করে রশিদ খানকে খুনের হুমকি দেয় দুই অভিযুক্ত।

এই ঘটনার সাথে আরো কোন বড় অপরাধের যোগসুত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী সংগীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কার ও পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। আপাতত সংগীতশিল্পী ও তার পরিবারের সুরক্ষার্থে পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।