NCB: ১৬ জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার তদন্তকারী সংস্থার

NCB: Investigating agency admits allegations of corruption against 16 officers

News Desk: রক্ষকই ভক্ষক। মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো বা এনসিবির ১৬ জন শীর্ষ আধিকারিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এই কথা জানিয়েছে এনসিবি।

তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এনসিবি জানিয়েছে, এই তদন্তকারী সংস্থার কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ২০০৯ সালে। যদিও পরের পাঁচ বছরে এনসিবির কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অভিযোগের আঙুল ওঠেনি। তবে ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ৮ জন অফিসার দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। এর পরের তিন বছর অর্থাৎ ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে এনসিবি অফিসারদের বিরুদ্ধে ফের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। ২০১৮ সালে ৩ জন এবং ২০১৯ এবং ২০২০ সালে দুজন করে আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়। সব মিলিয়ে ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট ১৬ জন এনসিবি আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বলিউড তারকা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করেছিল এনসিবি। আরিয়ানকে গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে। সমীরের বিরুদ্ধেও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। সমীর শাহরুখ খানের ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এমনকী, তিনি এই অভিনেতার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

Aryan Khan Case: ফোন ট্যাপ করে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছেন NCB কর্তা সমীর, মন্ত্রীর অভিযোগ

sameer-wankhede

News Desk: মুম্বইয়ের প্রমোদতরীর মাদক কাণ্ডের জল ক্রমশ ঘোলা হচ্ছে। যার কেন্দ্রে রয়েছেন নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে সমীরের নাম। ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক অভিযোগ করলেন, সমীর আইন বহির্ভূতভাবে বহু ব্যক্তির ফোন ট্যাপ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন বলিউড তারকারা।

এনসিবির জোনাল হেড সমীর একজন সৎ এবং দক্ষ অফিসার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে আরিয়ান খান মামলায় এই তদন্তকারী অফিসার যথেষ্ট ব্যাকফুটে। সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতেও গিয়েছেন তিনি। এই মানুষটিকে নিয়ে এখন একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে।

অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রের মোদী সরকারের ইশারাতেই বিভিন্ন জরুরি বিষয় থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতেই এনসিবি আরিয়ানকে নিয়ে পড়েছে। এদিন নবাব অভিযোগ করেন, সমীর নিয়মিত বলিউড তারকাদের ফোন ট্যাপ করতেন। এমনকী, তাঁর মেয়ে নিলোফারের কললিস্টও চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। তবে মুম্বই পুলিশ সেটা তাঁকে দেয়নি। তাঁর নিজের ফোনও ট্যাপ করা হয়েছে বলে নবাব দাবি করেন।

নবাব আরও বলেন, এনসিবির এক অফিসার নিজের নাম গোপন করে তাঁকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে ২৬টি মামলার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। ওই সমস্ত মামলাগুলির মধ্যে কয়েকটিতে বলিউড তারকারা জড়িত। ওই সমস্ত মামলাগুলির তদন্ত সমীর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে করেননি। সমীর সবসময় চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন মানুষকে ফাঁসিয়ে দিতে। তাঁদের বিরুদ্ধে এজন্যই তিনি মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

ওই চিঠিটি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, পুলিশের ডিজি, এনসিবির শীর্ষ কর্তা এবং অন্যদের কাছেও পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই মামলাগুলির যথাযথ তদন্তের দাবিও তুলেছেন নবাব। মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, সমীর তাঁর নিজের পদমর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়ে চলেছেন।

নবাব এদিন বলেন, আমি এনসিবির বিরুদ্ধে কোনও লড়াই করছি না। আমার লড়াইটা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে। একজন ব্যক্তি যিনি প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন আমি সেই বিষয়টি সামনে আনতে চাইছি। সমীর তাঁর জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে এনসিবির চাকরি পেয়েছেন।

নবাবের তোলা এই সমস্ত অভিযোগের কোনও জবাব দেননি সমীর। তবে, এদিন মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী। এদিন সমীরের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী কখনও কোনও অন্যায় কাজ করেন না। এ ধরনের চিঠির কোন সারবত্তা নেই। এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব। যারা আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করছেন আদালতে তাদের সেগুলি প্রমাণ করতে হবে। আমরা কোটিপতি নই। আমরা আর পাঁচজনের মতো সাধারণ মানুষ। আমার স্বামী সমীর একজন অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল অফিসার। নবাবের পাঠানো চিঠিতে সম্পর্কে এনসিবির ডিরেক্টর জেনারেল অশোক জইন বলেছেন, তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন এবং দেখেছেন। সব খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিতভাবেই ব্যবস্থা নেবেন।