চলতি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শুরু থেকেই যথেষ্ট দাপট দেখিয়ে আসছে ভারতীয় ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচে মাঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছিল সুনীল (Sunil Chhetri) ব্রিগেড। সেই ম্যাচে দলের অধিনায়ক গোল না পেলেও সেই স্থান পূরন করে দেন সাহাল আব্দুল সামাদ ও ছাংতে। তাদের হাত ধরেই প্রথম ম্যাচে উঠে এসেছিল জয়। সেই পারফরম্যান্স বজায় থাকল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে। […]
জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এবার শুরু হতে চলেছে কলকাতা ফুটবল লিগ। দেখতে গেলে হাতে মাত্র আর কটা দিন। তারপরেই শুরু নতুন ফুটবল মরশুম। তাই এই শেষ মুহূর্তে দলবদলের বাজার থেকে খেলোয়াড় তুলে চমক দিতে মরিয়া ময়দানের প্রত্যেকটি ক্লাব। যদিও এক্ষেত্রে বাকিদের টেক্কা দিয়ে অনেক আগে থেকেই দল নিয়ে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে ভবানীপুর। তবে […]
অন্যদিকে এএফসি কাপের আন্তঃজোনাল পর্বের সেমিফাইনাল খেলতে ইতিমধ্যেই তাসখন্দে পৌঁছে গিয়েছে মোহনবাগান। সোমবার বিকেলে তাসখন্দের কারশি স্টেডিয়ামের মাঠে অনুশীলন করে এটিকে মোহনবাগান। উজবেকিস্তানের দলের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে কারা খেলবেন তা এখনও ঠিক করেননি সবুজ-মেরুন কোচ আন্তোনিয়ো হাবাস।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান সুপার লিগে কারশি শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। উজবেকিস্তানের অন্যতম সফল ক্লাব তাদের সমর্থকদের কাছে “ড্রাগন” নামে বেশি জনপ্রিয়। গত মরশুমে উজবেক লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে তারা। এর আগে দু’বার এএফসি কাপে অংশগ্রহন করেছে তারা। ২০১১ সালে এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেকের একটি মন্তব্যে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’
তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল বাগান সমর্থকরা। #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এখনও ATK-এর সঙ্গে মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মার্জার ভাঙার দাবিতে ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আপামর সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মোহনবাগানের বর্তমান জার্সি এবং পালতোলা নৌকার ছবি দেওয়া মাস্ক পরে এটিকে’কে একহাত নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মোহনবাগানকে আসন্ন ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসুন। ‘রয় কৃষ্ণা টিমের হিরো’, ‘কোটাল-প্রবীর দুর্দান্ত খেলছে’, ‘হাবাসকে ধন্যবাদ’ শোনা গেলেও গোটা ভিডিওতে একবারও তাঁর মুখে আসেনি এটিকের নাম। বারবার ‘মোহনবাগান’ সম্বোধন করেই তিনি জানান, “মোহনবাগান মোহনবাগানের নামেই এগিয়ে চলেছে। বাকি সব গৌণ। মোহনবাগান মা, ২২ তারিখ সবাই সব ভুলে টিভির সামনে বসে গলা ফাঁটাবে মোহনবাগানের জয়ের জন্য। ইতিহাস তৈরি করবে মোহনবাগান।”
যদিও এই সমস্ত কিছুতে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের মনোবলে সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখছেন কর্তারা। আজই মোহনবাগান দলকে ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভারী বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এবং কলকাতার জমা জল ঠেলেই ময়দানে জমা হয়েছিলেন সবুজ মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ম্যাচের আগেই ক্লাবের তরফে যাবতীয় শুভেচ্ছাবার্তা মোহনবাগান শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুদূর তাসখন্দে বসেও যাতে সমর্থকদের ভালবাসা এবং সমর্থন পায় রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামস-প্রীতম কোটাল-প্রবীর দাসরা।
স্পোর্টস ডেস্ক: গত বছর এটিকে-মোহনবাগানের নতুন জার্সিতে তিনটি স্টার থাকা এবং ক্রমাগত তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। তাদের ক্রমাগত আন্দোলনের পরে তিন স্টার সরিয়ে নিয়েছে ক্লাব অফিসিয়ালরা। ঝামেলা বেড়েছিল আইএসএলের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওকে ঘিরেও। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এটিকের অন্যতম কর্ণধার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভে সেই ভিডিওটিও সরিয়ে নিয়েছিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ।
এবার এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছে। সবই সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়। কিন্তু তারমাঝেই বিতর্ক তৈরি করলেন এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখ। একটি সাক্ষাৎকারে হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনাবাগন তো নিজস্ব গায়ের জোরে আজ পর্যন্ত খেলল না। এতদিন সেই কারণেই এএফসি কাপে খেলেনি তারা। এটিকে আসাতেই সেই সুযোগ পেয়েছে তারা। ফলে মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’
যদিও তাতেও কমছে না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের রাগ। মার্জারের বিরুদ্ধে আবার টুইটারে ঝড় তোলার পরিকল্পনা করেছেন সবুজ-মেরুন জনতা। ট্রেন্ড করার চেষ্টা করা হচ্ছে #RemoveATK এবং #BreakTheMarger কে। ফলে এএফসি কাপে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের পরেও মাঠের বাইরে সমস্যা কমছে না মোহনবাগানের।
দুই প্রধানকে এবার কলকাতা লিগে খেলতে দেখা যাবে না। সেই ঘটনা জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গেলেন ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। রবিবার ছিল এটিকে মোহনবাগানের খেলা। প্রতিপক্ষ রঞ্জন ভট্টাচার্যের জর্জ টেলিগ্রাফ। কল্যাণী স্টেডিয়ামে জর্জের ফুটবলার-সহ কোচ, কর্তারা উপস্থিত থাকলেও দল নামায়নি এটিকে-মোহনবাগান। আজ, মঙ্গলবার কল্যাণীতে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল এসসি ইস্টবেঙ্গলের। যথারীতি তারাও টিম নামায়নি। জর্জের কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “ঘরোয়া লিগে ছোট দলের ফুটবলাররা প্রস্তুতি নেয় বড় ম্যাচে খেলবে বলে। মোহনবাগান, এসসি ইস্টবেঙ্গল, মহামেডানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেললে খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ে। সেটাই এবার সম্ভব হল না।”
কলকাতা লিগে এবার দেখা যাবে না এই চিরপরিচিত দৃশ্য।
মোহনবাগান পৌঁছে গিয়েছে এএফসি কাপের মূলপর্বে। তার উপর জাতীয় দলের হয়ে নেপালে খেলতে চলে গিয়েছেন পাঁচজন ফুটবলার। সেপ্টেম্বরে মূলপর্বের খেলা হওয়ায় দেশেও ফিরে গিয়েছেন দলের অনেক ফুটবলার। ফলে কলকাতা লিগে দল নামাবে না বলে অনেক আগেই আইএফএকে জানিয়েছিল ক্লাব। সৃঞ্জয় বোস জানিয়েছেন, “আগেই বলেছিলাম, আবার শনিবার মেল করে আমরা জানিয়েছিলাম, আমাদের পক্ষে ঘরোয়া লিগে খেলা এবার সম্ভব নয়। এটাতো দেশের সম্মানের প্রশ্ন। তাই আমরা আইএফএ-র সহযোগিতা চেয়েছি। তাছাড়া এবার কোভিড পরিস্থিতির দরুন সেভাবে প্র্যাকটিসও হয়নি।”
বল দখলের লড়াইয়ে কাতসুমি-সৌমিক।
অন্যদিকে সবে চুক্তি সমস্যা মেটার পর দলগঠনে নেমেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ফলে প্র্যাকটিস ছাড়া দল নামাতে রাজি নন তারাও। লাল-হলুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের আগে তাঁদের পক্ষে কলকাতা লিগে দল নামানো অসম্ভব। তারপর খেলতে তাঁদের আপত্তি নেই। যদিও কলকাতা লিগ চলাকালীনই হয়তো আইএসএলেরও খেলা পড়ে যাবে, ফলে আইএফএ কর্তারা ইস্টবেঙ্গলের মাঠে না নামার বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে বাংলার ফুটবলের এই তথৈবচ অবস্থার কথা জানিয়ে বিহিত চাইতেই নবান্ন যাচ্ছেন আইএফএ কর্তারা।
স্পোর্টস ডেস্ক: গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে আই লিগ জিতেছিল মোহনবাগান (ATK-Mohunbagan)। ফলে সুযোগ পেয়েছিল এএফসি কাপে। তারপর অনেক বদলে গিয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। মোহনবাগানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্পোরেট এটিকে। ফলে এটিকে মোহনবাগান নাম নিয়ে এই লিগের বদলে আইএসএলে খেলেছে দল। একই নামে খেলছে চলতি এএফসি কাপেও।
গতবার তেকাঠির তলায় সবুজ-মেরুনের অন্যতম ভরসা ছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্য (Arindam Bhattacharya)। ফাইনালে তাঁর ভুলে মোহনবাগান গোল খেলেও গোটা টুর্নামেন্টেই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিলেন এই বাঙালি গোলরক্ষক৷ গোল্ডেন গ্লাভসও উঠেছিল তাঁর হাতেই।
কিন্তু তারপরেই আইএসএলেরই আরেক গোলরক্ষক অমরিন্দর সিংকে দলে নিয়েছে এটিকে মোহনবাগান। ফলে এএফসি কাপের প্রথম তিন ম্যাচে অ্যান্তোনীয় হাবাসের দলে জায়গা হয় নি অরিন্দমের। দলের শেষ প্রহরীর দায়িত্ব সামলেছেন অমরিন্দর। শোনা গিয়েছিল, লোনে লাল-হলুদে আসতে পারেন তিনি। প্রণয় হালদারকেও প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল অফিসিয়ালরা৷ কিন্তু এই মূহুর্তে দু’জনেরই লাল-হলুদে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
মোহনবাগান ছেড়ে জামশেদপুর এফসিতে যোগ দিয়েছেন প্রণয় হালদার। দলে সু্যোগ পেয়ে না পেয়ে ইতিমধ্যেই মোহনবাগান ছেড়েছেন অরিন্দম। যদিও লাল-হলুদে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন।
হাতে সময় কম, ৩১ আগস্ট দলবদলের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। হাতে মাত্র ৫ দিন সময়, তার আগেই দলগঠন সম্পূর্ন করতে হবে লাল-হলুদকে। নয়তো বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি দিয়ে অন্য দল থেকে ফুটবলার নিতে হবে। যদিও নতুন ফুটবলার নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ কিছুটা সেরে ফেলেছেন ক্লাব অফিসিয়ালরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফুটবলারকে প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লাবের তরফ থেকে। মহম্মদ রফিক, শঙ্কর রায়, মির্শাদ, জেজে, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়রা গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে।
দলবদলের ব্যাপারে লাল-হলুদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, বৃহস্পতিবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে নতুন ফুটবলার সই করাতে আর কোনও বাধা রইল না এসসি ইস্টবেঙ্গলের সামনে।