‘হারাতে পারবে না বলেই পাকিস্তানের সঙ্গে খেলে না ভারত’, মন্তব্য রাজ্জাকের

স্পোর্টস ডেস্ক: নিউজিল্যান্ড সিরিজের বাতিলের হতাশার ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারে নি পাকিস্তান ক্রিকেট। এরই মধ্যে আবার ইংল্যান্ডও পাক সফর বাতিলের ঘোষণা করে দিয়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি -মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণাঙ্গ পাকিস্তান সফরসূচী রয়েছে। এখন এই সফরসূচী ঘিরেও টালবাহানা দেখা দিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে,আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। আবার ওয়েস্ট ইণ্ডিজের পাকিস্তান সফর রয়েছে ডিসেম্বরে।

আরও পড়ুন The Kalash: পুরুষদের সমানাধিকার ভোগ করেন পাকিস্তানে আলেকজান্ডারের বংশধর মহিলারা

পিসিবি সূত্রে খবর,তারা আশাবাদী ক্যারিবিয়ান সফর হবে নির্দিষ্ট সময়ে।নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যাণ্ড পাকিস্তান সফর বাতিল করায় পাক ক্রিকেট বোর্ডকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে ক্রিকেটবিশ্বে ক্রমশ নিষিদ্ধ দেশে পরিনত হচ্ছে পাকিস্তান। একই কারণে ভারতের সঙ্গেই বহুবছর ধরেই কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারেনি তাঁরা। রাজনৈতিক কারণে সেই ২০১২ সাল থেকে দুই দেশের মাঝে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না। এবার ভারতের সেই না খেলা নিয়েই অন্য অঙ্ক কষলেন প্রাক্তন পাক খেলোয়াড় আব্দুর রাজ্জাক।

Abdul Razzaq

ARY News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত কোনভাবেই লড়াই করতে পারবে না। পাকিস্তান থেকে বরাবর ভারতের থেকে ভাল ক্রিকেটার উঠে এসেছে। এইসব কারণেই ভারত আমাদের বিরুদ্ধে খেলে না।’ ওয়াকার ইউনিসও এর আগে জানিয়েছিলেন, ‘এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারাবে পাকিস্তান।’

প্রসঙ্গত, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় একমাত্র আইসিসির টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। ২৪ অক্টোবর ফের একবার দুই পড়শি দেশ বিশ্বকাপের ময়দানে একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে। কিন্তু কোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপেই এখন পর্যন্ত ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান।  

 

ভারতের প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ জয়কে কুর্নিশ জানালো BCCI

স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিনটিই বিশেষভাবে স্মরণীয়। আজকের তারিখে ভারত চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পাক ক্রিকেটার মিসবা উল হকের একটা ভুল শট পুরো ভারতকে উৎসবে মেতে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছিল, এম এস ধোনির অধিনায়কত্বতে ভারত প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়,পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে। এই দিনটিকে স্মরণ করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এক ট্যুইট করে ভিডিও পোস্ট করেছে।ট্যুইটে বিসিসিআই লিখেছে, “আজকের দিনে ২০০৭ সালে এম এস ধোনির নেতৃত্বতে টিম ইন্ডিয়া আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস রচনা করে।”

২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল।টসে জিতে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।ওপেনার গৌতম গম্ভীর প্রেস্টিজিয়ার্স এই ফাইনালে দুরন্ত ব্যাটিং করেছিলেন। ৫৪ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ব্যাটিং ভারতকে শক্ত ভিতের ওপরে শুধু দাঁড় করিয়ে দেয় শুধু তাইই নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতকে বড় স্কোর করার লক্ষ্যেও এগিয়ে দেয়।ভারতীয় ইনিংসের শেষের দিকে রোহিত শর্মা ব্যাট হাতে বাইশ গজে ঝলসে ওঠে। রোহিতের ১৬ বলে ৩০ রান, ভারতকে ২০ ওভারে ১৫৭ রানের বড় স্কোর তুলে দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ইরফান পাঠানের ঘাতক বোলিং’র সামনে পড়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। ১৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইরফান পাঠান পাক ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলেন। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৬ উইকেটে ৭৭ রান। কিন্তু একা কুম্ভ হয়ে দূর্গ রক্ষা করতে নেমে পড়েন মিসবা উল হক। মিসবা একা নিজের কাঁধে ভর করে পাকিস্তানের ইনিংস গোছানোর কাজে মন দেন,সঙ্গে ম্যাচকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যান,ফলে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।

শেষ ওভারে পাকিস্তানকে জেতার জন্য ১৩ রানের দরকার ছিল।ক্যাপ্টেন ধোনি সেই সময়ে সকলকে চমকে দিয়ে জোগিন্দর শর্মার হাতে বল তুলে দেন,শেষ ওভার করার জন্য।পাকিস্তান এবং ভারতের জয়ের মাঝে শুধু মিসবা ছিল,কেননা পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল।নন স্ট্রাইকার হিসেবে ছিলেন মহম্মদ আসিফ। জোগিন্দর শর্মা প্রথম ডেলিভারি ওয়াইড হয়েছিল। আর পরের বলে মিসবা উল হক লম্বা ছক্কা হেঁকে পুরো ভারতের শ্বাস আটকে দিয়েছিল।

পাকিস্তানকে জেতার জন্য ৪ বলে ৬ রানের দরকার ছিল।কিন্তু এই জায়গাতেই মিসবা উল হক ভুল শট খেলে ফেলেছিলেন,যে কারণে ভারত প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। জোগিন্দর শর্মার বলে মিসবা স্ক্রুপ শট খেলে বসেন।বল হাওয়ায় ভাসতে থাকে এবং শ্রীসন্থ বল লক্ষ্য করে বলের নীচে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করে ফেলতেই ভারত প্রথম আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।মিসবা উল হক এই ম্যাচে ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন,এর মধ্যে ওভার বাউন্ডারি ছিল চারটে।

মাঠে দর্শকপ্রবেশে অনুমতি BCCI-এর, আইপিএলে আবার ফিরছে গ্যালারির চিৎকার

স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি বছরে শুরু হলেও করোনা সংক্রমনের কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। অন্যদিকে গত বছর থেকেই মাঠে দর্শকপ্রবেশ নিষিদ্ধ। ফলে একদিকে যেমন ফাকা মাঠে খেলতে গিয়ে ভরা গ্যালারির চিৎকার মিস করছিলেন রোহিত-কোহলিরা। তেমনই মাঠে যেতে না পেরে মুষড়ে পড়ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিরাও। তারমাঝেই খুশির খবর শোনালো ভারতের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।

আরও পড়ুন অভাবের সংসারে হাল ধরতে সবজি বিক্রি করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার

একদিকে আবার শুরু হচ্ছে স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএল ২০২১। শুধু তাই নয়, এবার চাইলে স্টেডিয়ামে ঢুকেই খেলা দেখতে পারবেন সাধারণ দর্শকরা। টুর্নামেন্টের আমিরশাহি লেগের ম্যাচগুলিতে গ্যালারিতে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারতীয় বোর্ডের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একথা জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন কলকাতা লিগে নেই ইস্ট-মোহন, বাংলার ফুটবল বাঁচাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ আইএফএ কর্তারা


আরও পড়ুন ATK-নাম মোছার দাবিতে এবার বিক্ষোভের পথে সবুজ-মেরুন জনতা

১৯ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও তিনবারের আইপিএল খেতাব জয়ী চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএল ২০২১ এর দ্বিতীয় অধ্যায়। সেই ম্যাচ থেকেই মাঠে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ভরা গ্যালারি নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির করোনা প্রোটোকল মেনে সীমিত সংখ্যক দর্শক নিয়েই হবে ম্যাচ। মাঠে দর্শক প্রবেশ এবং তাদের গ্যালারিতে বসানোর সময় মেনে চলতে হবে দূরত্ববিধিও।

আইপিএল শুরুর তিন দিন আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আইপিএলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.iplt20.com-এ গিয়ে টিকিট বুক করা যাবে। এছাড়াও PlatinumList.net ওয়েবসাইট থেকেও বুক করা যাবে আইপিএল ২০২১-এর টিকিট। অর্থাৎ শুধু আইপিএলই নয়, একই সঙ্গে মাঠে ফিরছে দর্শকও। 

ক্রিকেট কূটনীতিতে তালিবান 2.0! পরপর টার্গেট ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ

taliban sendin cricket diplomacy

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: কাবুল জুড়ে এখন ব্যাস্ততা তুঙ্গে। সরকার গড়ার কাজ চলছে। এই সরকার তালিবান জঙ্গিদের। দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের কুর্সিতে জঙ্গিরা বসতে চলেছে। প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) পর্যন্ত যেমন খেলা বিনোদন সবকিছুই অ-ইসলামিক বলে নিষিদ্ধ করেছিল তালিবান জঙ্গিরা, এবার তারা স্পষ্ট জানিয়েছে অনেকাংশে নরম মনোভাব থাকবে। সেই সূত্রে আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দলকে আগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বলেছে তালিবান নেতৃত্ব।

এখানেই শুরু তালিবান ক্রিকেট কূটনীতির পর্ব। যে তালিবান কড়া শরিয়তি আইনে মাথা কাটার ফরমান দেয় তারা নিজেদের নরম দেখাতে বাইশ গজের খেলাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছে।

তালিবান জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রথমদিকে ভারতের সঙ্গে একটি টেস্ট সিরিজ খেলা অনুষ্ঠিত করতে চায়। সরকার গড়ার পর আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে এই টেস্ট ক্রিকেট খেলায় তীব্র ইচ্ছে তালিবানের। এমন বার্তায় লাগল চমক। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে এসেছে ইঙ্গিত। তালিবান যেভাবে ভারতের প্রতি একটার পর একটা কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে তাতে স্পষ্ট তারা নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে মরিয়া। তবে এই কূটনৈতিক বার্তার পিছনে তালিবান নেতা তথা আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির প্রাক্তনী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাইয়ের (শেরু) ভূমিকা আছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সম্প্রতি তার সঙ্গেই কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল কূটনৈতিক আলোচনা করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট কূটনীতির নতুন সদস্য তালিবান!
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি প্রতিবেশি দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকার সময় বিশেষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতি আনতে ক্রিকেট কূটনীতির প্রয়োগ করে। নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ, বা নয়াদিল্লি-ঢাকা কিংবা ইসলামাবাদ-ঢাকা এই ক্রিকেট কূটনীতির বহুল প্রয়োগকারী। সেই তালিকায় তালিবান অধিকৃত কাবুল এসে জুড়ে যাচ্ছে এবার।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বানাতে মরিয়া তালিবান। তাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণহত্যা, গণধর্ষণ সহ বহু নারকীয় ঘটনা। যেহেতু কাবুল দখল করার পরেই তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিল, এই তালিবান আগের মতো নয়। সেই বার্তার পরেই নিজেদের নতুন করে তুলে ধরতে মরিয়া জঙ্গি সংগঠনটি।

কূটনৈতিক মহলের আরও ধারণা, তালিকার ঘোষিত বন্ধু দেশ পাকিস্তান তো রয়েইছে, ভারতের সঙ্গে একটি খেলা হলেই তাদের পোয়াবারো। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ক্রিকেট কূটনীতির বার্তা দিতে চলেছে তালিবান।

আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি বলেছেন, তালিবান সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করছে এবং আমাদের সমস্ত ক্রিকেট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সালের শুরুতেই ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ করা যেতে পারে৷

তিনি আরও জানান, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে আফগানিস্তান। তবে আফগানিস্তানে মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে৷