Assam: হিন্দু অসমবাসী বাঙালিদের প্রতি জাতিগত সংঘর্ষের সতর্কতা দিলেন হিমন্ত

Himanta biswasarma

News Desk: “ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হিন্দু বাঙালির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করার ষড়যন্ত্র করছে একাংশ। এখানে বাঙালিদের কষ্ট দেওয়ার জন্য একাজ করছে এরা। বরাকে হিন্দু বাঙালিরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে হিন্দুর সংখ্যা নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় একটি চক্র ব্রম্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিদের বিপদাপন্ন করতে একাংশ বার বার চাইছে “। এ কথা বলেন অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswasarma)।

শনিবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি আরও বলেন , এই এলাকার বাঙালিদের দুর্বল করতে চক্রান্ত করা হচ্ছে। বরাকে অসমিয়ার উপর আক্রমণ হয়না। বরঞ্চ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসবাস করা হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে যাতে ভাতৃঘাতী সংঘর্ষ হয় ,এরজন্য কুট কৌশল চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেননা বরাক উপত্যকায় অসমিয়া ভাষার হোর্ডিং মোছার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসবাস করা বাঙালিদের কোনও সংগঠন হামলা করতে পারে। এমনটাই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আর একথা তারা জানেন। তাই হোর্ডিং মুছে দেওয়া ব্যক্তি যদি বাঙালি প্রেমিক হন ,তাহলে একাজ করতেই পারেন না।বলেন , নিজের জাতিকে বিপদাপন্ন করার ষড়যন্ত্র তারাই করছেন।

তবে নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন ,ওই ব্যক্তি বাঙালি বিদ্বেষী। আর বরাক উপত্যকায় অন্য রাজনৈতিক শক্তির যেভাবে আগ্রাসন শুরু হয়েছে ,তাতে মদত যোগাচ্ছে এরা। এধরণের শক্তিকে যেভাবেই হোক প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন ,বর্তমান সরকারকে এখনো বুঝে উঠতে পারেননি এরা। সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কোনওভাবেই মেনে নেবো না। বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে খুবই শক্ত। তবে একজন অখ্যাত ব্যক্তি যাতে বিখ্যাত হতে না পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদের বেশি গুরুত্ব দিলে অখ্যাত ব্যক্তি বিখ্যাত হয়ে যাবে।

হিমন্ত বিশ্বকর্মা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে আমি রয়েছি ,যেদিন ঠেলা পড়বে, তখন সহজেই বুঝে যাবেন। তিনি বলেন, সময় এলে পুরো ঠেলা দিয়ে দেব। এধরণের ব্যক্তিকে কোনওদিন সহজভাবে নেওয়াটা ঠিক হবে না। বাস্তবে বাঙালির বিরুদ্ধে এরা কাজ করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর শর্মা বলেন ,বিতর্কিত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নিলে আবেগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিজেপি দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায় ,এই ব্যক্তি কার ইশারায় কাজ করছেন, সেটা আমাদের জানতে হবে। কেননা ওই ব্যক্তি যা করছেন ,বরাকের বাঙালি হিন্দুরা বিপদে পড়ছেন।সংখ্যালঘু হচ্ছেন বাঙালি হিন্দুরা। সেখানে হিন্দু বাঙালিরা এখন আর সংখ্যাগুরু নয়। যদিও আমরা এখানে বসেই যা খুশি তাই ভাবছি। কিন্তু শিলচর সহ গোটা বরাকে হিন্দু বাঙালিদের খুব বাজে অবস্থা। এনিয়ে তিনি আরও বলেন ,সেখানে হিন্দু বাঙালি বিধায়ক কজন রয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসবাস করা হিন্দু বাঙালিদের উপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর শর্মা বলেন ,একটি হোডিং খুললেই অসমিয়া ভাষা নিঃশেষ হয়ে যায় না। তাছাড়া বরাকে গেলে আমি অসমিয়াতেই ভাষণ দেই।কিন্তু বিতর্কিত কাজে কালিয়াবর , মালিগাঁও , ডিব্রুগড় , তিনসুকিয়ায় বসবাস করা সাধারণ বাঙালি মানুষের ক্ষতি হয়। তাছাড়া ,হোজাই ,লামডিঙে বাংলায় পোস্টার আছ। আমরা কোনও আপত্তি করিনা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সেটুকু সদ্ভাব আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন ,এই সদ্ভাবটুকু শেষ করার জন্য একটি চক্র চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ,নতুন করে একটি দল এখানে আসতে চাইছে।

NRC: ভারতীয় ঘোষণার পরেও ‘ডি নোটিশ’ অসমে, বাঙালি ভারতীর ‘দেশহীন’ আতঙ্ক

controversial ad notice issued against bengalis in assam

News Desk: ‘ডি নোটিশ’ শব্দটাই আতঙ্কের। ‘ডাউটফুল’ বা সন্দেহজনক তালিকায় যার নাম ওঠে সেই ব্যক্তিকে তাড়া করে দেশহীন হওয়ার আতঙ্ক। যেতে হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে।বিশেষত অসমের বাংলাভাষীদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের নাম ‘ডি নোটিশ’।

ফরেনার্স ট্রাইবুনাল বা বিদেশি চিহ্নিতকরণ তালিকায় যে ব্যক্তিতে একবার । ভারতীয় করা হয়েছে তাকেও ফের সন্দেহভাজন নাগরিকে তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে অসমে।

ফের এমন ঘটনাটি ঘটেছে নাম্নী অসমের বঙ্গাইগাঁও জেলার মানিকপুর থানার ২ নম্বর জামদহা গ্রামে। এই গ্রামের প্রয়াত অবিনাশ সরকার ওরফে প্রেম দাস সরকারের কন্যা ভারতী। তিনি গোপালচন্দ্র সরকারের স্ত্রী। কৃষক পরিবারের গৃহবধু ভারতী।

১৩৭১/২০০২ সালের বিদেশি সংক্রান্ত মামলায় একই জেলার এক নম্বর বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইবুনাল আদালত ২০১৯ সালে ভারতী সরকারকে ভারতীয় হিসেবে ঘোষণা করে। আদালতে পেশ করা ১০ টি তথ্যের উপর ভিত্তি করে উল্লেখিত নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৪৬ ফরেনার্স এক্টের ৯ ধারা অনুযায়ী আদালত ভারতী সরকারকে ভারতীয় ঘোষণা করেছে।

আশ্চর্যের বিষয়ট, বিএনজিএন/এফটি ১২০১/২০১০ এর ভিত্তিতে আরেকটি মামলায় ভারতীকে একই ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে ফের ‘ডি’ভোটারের নোটিস জারি করা হয়। খুবই দরিদ্র পরিবার ভারতী এই নোটিশ পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। মামলা চালাতে টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিজের জমি বিক্রি করে মামলার টাকা জোগাড় করেছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে কিনা, সেটা প্রমান করতে সেটার তথ্য সাবুদ নিয়ে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে। কয়েকদিন আগেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এদিকে ,জামদহা এলাকাটি বন্যা কবলিত। কৃষক এবং খুবই দুঃস্থ পরিবারের ভারতী।একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্য হিসেবে ফের নোটিশ পাওয়ায় ভেঙে পড়েন ভারতী সরকার।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সারা অসম বাঙালি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অমৃতলাল দাস। তিনি বলেন, কয়েকদিন যাবত নিম্ন অসমের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু বাঙালিদের ডি নোটিশ দেওয়া চলছে। ইচ্ছাকৃত ও আক্রোশমূকলভাবে একাজ করা হচ্ছে। শীঘ্রই এসব বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অমৃতলাল দাসের অভিযোগ, সরকারি উদাসীনতার শিকার হচ্ছেন অসমের বাঙালিরা। বিদেশি শনাক্তের নামে প্রকৃত ভারতীয়কে হয়রানি মেনে নেওয়া যায় না। স্বরাষ্ট্র দফতর দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে এক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন অমৃত বাবু।