মমতার জয়: মহালয়ার আগেই ‘দুর্গোৎসব’ ভবানীপুরে

নিউজ ডেস্ক: কথায় আছে, ‘মর্ণিং শোজ দ্য ডে। (Morning Shows the Day)’ প্রবাদটা বহুদিন মনে রাখবেন বাংলার তৃণমূল সমর্থকরা। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হতো তাঁকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু জিতলেনই না, নিজের ২০১১ সালে গড়া রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেলেন। 

আরও পড়ুন মমতা জিতছেন, হেরে যাওয়া কেন্দ্র নন্দীগ্রামে তৃণমূলের উল্লাস

২১ রাউন্ড গণনা শেষে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৮৯ ভোট। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩২০ ভোট। সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন ৪২০১ ভোট। ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটে জয়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালের থেকেও এবার বড় ব্যবধানে জিতলেন তিনি। মমতার জয়ে মহালয়ার আগেই ‘দুর্গোৎসব’ ভবানীপুরে। সবুজ আবিরে কার্যত উৎসবের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। ‘মোদীশাহসুরমর্দিনী’ মমতার নামে পোস্টারও পড়েছে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক লাখ ভোটের মার্জিনে জেতানোর টার্গেট রেখেছিল রাজ্যের শাসকদল। যদিও সেভাবে ভোট না পড়ায় এত মার্জিন না হলেও শেষ হাসি দিদিমণিই হাসবেন বলেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন জোড়াফুল শিবির। শেষবেলাতেই সেই আত্মবিশ্বাস বজায় রেখেই শেষ হাসি হাসলেন তাঁরা। ভবানীপুরে জিতে আবার রাজ্যের প্রধানের কুর্সিতে বহাল হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

Mamata Modi Amit

এই নিয়ে তৃতীয়বার ভবানীপুর থেকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০১১ সালে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনী জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে তাঁর দল রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও মমতা নিজে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হননি। দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর ৫ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তৃণমূলনেত্রী। তবে শপথের মেয়াদ ৪ নভেম্বর শেষ হচ্ছিল মমতার। স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি হেরে গিয়েও পদে ছিলেন দল জিতে যাওয়ায়। ফলে আজ স্বভাবতই ছিল তাঁর প্রেস্টিজ ফাইট। সেই ফাইটেই নিজের ক্যারিশমায় মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আক্ষরিক অর্থেই ‘জননেত্রী’।

মমতাতেই ভরসা সরকারি কর্মীদের, পোস্টাল ব্যালটে বাজিমাত শাসকদলের

Mamata Banerjee

 

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর উপনির্বাচন সহ আজ বাংলার মোট তিন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনা। বাংলা সহ গোটা দেশের নজর ভবানীপুরে। তিন আসনেই চালকের আসনে রাজ্যের শাসকদল। পোস্টাল ব্যালট গণনার শেষে রাজ্যের তিন আসনেই এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে সরকারি কর্মীরা যে নবান্নের ১৪ তলায় ফের মমতাকেই দেখতে চান, তা স্পষ্ট হয়ে গেল।

আরও পড়ুন Mamata Banerjee: বেলা গড়াচ্ছে-মমতা এগোচ্ছেন, বিজেপি শিবিরে দলত্যাগ আতঙ্ক চড়ছে


আরও পড়ুন Bhawanipore: শুরুতেই জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মমতা

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সংখ্যা কম হলেও সরকারি কর্মীদের মনোভাব বোঝা যায় এই ফলাফল থেকে। এর আগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছিল যে কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষেই ভোট দেন সরকারি কর্মীরা। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। মোদী সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে মমতাতেই ভরসা রাখছেন সরকারি কর্মীরা। 

আরও পড়ুন Bhawanipore: শুরুতেই জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মমতা

প্রায় নিত্যদিনই কেন্দ্রের ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসছে বেসরকারিকরণের বেড়াল। বেসরকারিকরণের খারাপ দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে আরএসএস সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনও। কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পরে ধাপে ধাপে বহু ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির সংযুক্তিকরণ ও পেট্রোলিয়াম, শিপিং কর্পোরেশন, কন্টেনার কর্পোরেশন-সহ রত্ন সংস্থাগুলির সরকারি অংশিদায়িত্ব কমিয়ে ফেলা তার অন্যতম অঙ্গ ছিল। 

অন্যদিকে সিন্ডিকেট রাজ, টেট দূর্নীতি, বেকারত্ব-সহ একাধিক ইস্যাতে জর্জড়িত তৃণমূল কংগ্রেসও। উপনির্বাচনের আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তা সত্ত্বেও পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে থাকা স্বস্তি যোগাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। 

আরও পড়ুন ক্রমশ এগোচ্ছে তৃণমূল, গণনা শেষ হওয়ার আগে এজেন্টদের কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ পদ্মশিবিরের

ভবানীপুরে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার ‘পরীক্ষা’য় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। আজ ভবানীপুরে জিতলেই আবার রাজ্যের প্রধানের কুর্সিতে বহাল হবেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি হেরে গিয়েও পদে আছেন দল জিতে যাওয়ায়। ফলে আজ স্বভাবতই তাঁর প্রেস্টিজ ফাইট।

Bhawanipore: শুরুতেই জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মমতা

mamata banerjee

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর উপনির্বাচন সহ আজ বাংলার মোট তিন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনা। বাংলা সহ গোটা দেশের নজর ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই দ্বিতীয়বার ‘পরীক্ষা’য় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। আজ ভবানীপুরে জিতলেই আবার রাজ্যের প্রধানের কুর্সিতে বহাল হবেন তিনি।

আরও পড়ুন Mamata Banerjee: ভবানীপুরে টার্গেট ১ লাখ মার্জিন, মমতা শিবিরে চিন্তার মেঘ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক লাখ ভোটের মার্জিনে জেতানোর টার্গেট রেখেছে রাজ্যের শাসকদল। যদিও সেভাবে ভোট না পড়ায় এত মার্জিন না হলেও শেষ হাসি দিদিমণিই হাসবেন বলে আত্মবিশ্বাসী জোড়াফুল শিবির। ভবানীপুর আসনে ২১ রাউন্ড গণনা হবে। কমিশন সূত্রের খবর, প্রথমে চলছে পোস্টার ব্যালটের কাউন্টিং৷ তাতেই অনেক বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই মুহূর্তে প্রায় ২,৮০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী।

Mamata Banerjee

আরও পড়ুন Time Magazine-এর বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায় মোদী-মমতা

ভবানীপুর কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের সেফ সিট বলে চিহ্নিত। এই কেন্দ্রে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বি বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং সিপিআইএমের শ্রীজীব বিশ্বাস। একুশের ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই এবার লড়ছেন মমতা। স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি হেরে গিয়েও পদে আছেন দল জিতে যাওয়ায়। ফলে আজ স্বভাবতই তাঁর প্রেস্টিজ ফাইট।

আরও পড়ুন ভবানীপুরের গুঞ্জন: মমতার বিরুদ্ধে লড়লেও দ্রুত TMC দরজায় প্রিয়াঙ্কা

একইসঙ্গে ভবানীপুরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা বেশী। চলতি বিধানসভা ভোটেও ওই ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। সেদিকের ফলাফলের দিকেও নজর থাকবে প্রত্যেকের। অন্যদিকে সমশেরগঞ্জে প্রায় ৫০০ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম। জঙ্গিপুরেরও তৃণমূল প্রার্থী জাকির হোসেন এগিয়ে ১৭১৭ ভোটে।

মমতার প্রেস্টিজ ফাইট সামলাতে মরিয়া কমিশন, ভবানীপুরের সমস্ত বুথে জারি ১৪৪ ধারা

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আগামীকাল রাজ্যের ৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। ভবানীপুর ছাড়াও একই সময়ে নির্বাচন ও ভোট গণনা হবে রাজ্যের আরো দুই আসন সমশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে। তবে এই ভোটগ্রহণপর্বে বিশেষ পর্বে অবশ্যই বিশেষ নজর ভবানীপুরে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন।

আরও পড়ুন ভবানীপুরের গুঞ্জন: মমতার বিরুদ্ধে লড়লেও দ্রুত TMC দরজায় প্রিয়াঙ্কা

ফলে জিততে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভোটপ্রচার দেখে ইতিমধ্যেই বোঝা গিয়েছে, প্রেস্টিজ ফাইটে কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে মরিয়া তিনি। ভবানীপুরের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। সেই প্রেস্টিজ ফাইট সামলাতে উপনির্বাচনের আগে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রসহ তিন আসনে সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ১৫ টি কোম্পানি মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। 

আসন্ন বাংলার উপনির্বাচনে সংঘর্ষের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। ফলে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে ভোটের দিন সমস্ত বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের সব বুথে কমিশনের তরফে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন ভবানীপুরে হিন্দি পোস্টারে Mamata, বাংলাপক্ষের গর্গকে মাঠে নামার আহ্বান তথাগতর

চার কোম্পানি বিএসএফ, দুই কোম্পানি এসএসবি এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) থেকে আইটিবিপি এবং সিআইএসএফ -এর প্রতিটিকে মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যে, বিজেপি নির্বাচন কমিশনে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। যাতে বলা হয়েছে যে সামরিক বাহিনী যথাযথ আধিপত্যের জন্য এলাকায় যেতে হবে, নয়তো গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই শাসকদলের স্থানীয় পুলিশ দ্বারা পরিচালিত হবে যারা রাজ্য সরকার অনুযায়ী কাজ করবে। 

বিরোধী দলের ‘মৃত’ নেতাকে পচা কুকুরের সঙ্গে তুলনা মুখ্যমন্ত্রীর

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। 

আরও পড়ুন শিক্ষক দিবস হোক বিদ্যাসাগর স্মরণে, চিঠি মমতার ঘরে

ফলে জিততে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভোটপ্রচার দেখে ইতিমধ্যেই বোঝা গিয়েছে, প্রেস্টিজ ফাইটে কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে মরিয়া তিনি। ভবানীপুরের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়।

এতকিছুরই পরেও প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুভেন্দু অধিকারী নন। সেরকমভাবেই সিপিআইএমের শ্রীজীব বিশ্বাসও মীনাক্ষী গোস্বামী নন। ফলে আপাতদৃষ্টিতে লড়াই যথেষ্টই সহজ তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে। কিন্তু সেই লড়াইয়ের কোমর বেঁধে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত তাঁর ভোটপ্রচার দেখে তাই মনে হচ্ছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। সেই প্রচারে গিয়েই এবার আলটপকা মন্তব্য করে বসলেন তিনি। মৃত বিজেপি নেতাকে তুলনা করলেন পঁচা কুকুরের সঙ্গে। যা তাঁর ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত তৃতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী’ ইমেজের সঙ্গে যায় না বলেই মনে করছেন প্রত্যেকে।

একদিন আগেই মমতার বাড়ির সামনে মৃত বিজেপি কর্মী মানস সাহার দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিক্ষোভে ছিলেন স্বয়ং সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির সদ্য নিযুক্ত রাজ্য সভাপতি। সেখানে পুলিশের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ বাধে তাদের। সেখানেই ঘটনা প্রসঙ্গেই মমতার মন্তব্য, ‘আমার বাড়ির সামনে ডেড বডি নিয়ে চলে যাচ্ছ। তোমার বাড়ির সামনে যদি আমি পাঠিয়ে দিই একটা কুকুরের ডেড বডি, ভাল হবে? এক সেকেন্ড লাগবে পচা কুকুর তোমার বাড়ির সামনে ফেলে আসব।’

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী ধূর্জটি সাহা। এলাকায় মানস নামেই জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ভোট গণনার দিন গণনা কেন্দ্রের বাইরে তাঁকে বেধরক মারধর করা হয়েছিল। তৃণমূল বিধায়ক গিয়াউদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বেই ধূর্জটি সাহাকে (মানস) মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। সেই ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেই মারা যান বিজেপি প্রার্থী। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই রাজ্যের বিরোধী দলের আসন পেয়েছে বিজেপি। সেখানে সেই বিরোধী দলের একজন শুধু নয়, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে অংশ নেওয়া একজনকে ‘খোদ মুখ্যমন্ত্রী’র পচা কুকুরের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত অন্যায়। ভবানীপুরের ভোটে এই ঘটনা হয়তো প্রভাব ফেলবে না, অন্যান্য মন্তব্যের মতোই হারিয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যে। কিন্তু, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই ভাষায় বিরোধী দলের ‘মৃত’ নেতাকে আক্রমণ করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অশোভন বলেই মনে করছেন তাঁরা।   

ভবানীপুরে হিন্দি পোস্টারে Mamata, বাংলাপক্ষের গর্গকে মাঠে নামার আহ্বান তথাগতর

অনুভব খাসনবীশ: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

আরও পড়ুন: মমতাও হেরেছেন বলেই আবার ভোটে লড়ছেন, এন্টালিতে প্রিয়ঙ্কার হার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ তথাগতর

ফলে জিততে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভোটপ্রচার দেখে ইতিমধ্যেই বোঝা গিয়েছে, প্রেস্টিজ ফাইটে কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে মরিয়া তিনি। ভবানীপুরের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়।

Mamata Banerjee

এতকিছুরই পরেও প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুভেন্দু অধিকারী নন। সেরকমভাবেই সিপিআইএমের শ্রীজীব বিশ্বাসও মীনাক্ষী গোস্বামী নন। ফলে আপাতদৃষ্টিতে লড়াই যথেষ্টই সহজ তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে। যদিও তাতে কোনভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী থেকে শুরু করে দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরাও। ভবানীপুরে ভোটারদের মন জিততে মরিয়া প্রত্যেকে। ভবানীপুরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা বেশী। চলতি বিধানসভা ভোটেও ওই ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে ওই ওয়ার্ডে স্বভাবতই মনো্যোগ বাড়িয়েছে জোড়াফুল শিবির। সেখানেই পোস্টার পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। বাংলার বদলে হিন্দি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে ওই পোস্টারে, গোটা বিষয়টাই হিন্দিভাষী ভোটারদের কথা মাথায় রেখে। 

সেই ছবিই সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে বাংলাপক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে ওই হিন্দিতে লেখা পোস্টার খুলতে আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিজিত বসাক নামের জনৈক নেটনাগরিক। তা শেয়ার করেই বাংলাপক্ষের প্রতিষ্টাতা-সদস্য গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে ঠুঁকলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তিনি লিখেছেন, “গর্গকে নিয়ে ইয়ার্কি মেরো না, ও হারভার্ডে বাসন মেজেছে। একা দাঁড়িয়ে ফুচকা বিক্রি করছে, এমন কোনো বিহারী ফুচকাওয়ালার তেঁতুল জলের হাঁড়ি এক ঘুষিতে ভেঙে দিতে পারে! ওর পিছনে বড় বড় বাংলাদেশী মৌলবীরা আছে!” 

বেশ কয়েকবছর ধরেই ‘পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির অধিকার রক্ষায়’ পথে নামছে বাংলাপক্ষ। দিনকয়েক আগেই কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অবাঙালি ব্যবসায়ীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। মজা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই সংগঠনকে শাসকদলের (পড়ুন তৃণমূল কংগ্রেস) বি টিম বলেও কটাক্ষ করে। আবার অন্যদিকে এই সংগঠনের বিক্ষোভের পরেই WBSEDCL (West Bengal State Electricity Distribution Company), পোস্টাল বিভাগের পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক হয়েছে বাংলা। ইংরেজি না জানার অভিযোগে বরখাস্ত করা কর্মীদেরও পূনর্বহাল করা হয়েছে কাজে। ফলে তথাগত রায়ের মন্তব্য এবং তাতে গর্গ চ্যাটার্জী, বাংলাপক্ষকে টেনে আনায় দ্বিধাবিভক্ত সোশ্যাল মিডিয়া।

 

নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর, মমতার মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

আরও পড়ুন মমতাও হেরেছেন বলেই আবার ভোটে লড়ছেন, এন্টালিতে প্রিয়ঙ্কার হার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ তথাগতর

নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুললো বিজেপি। ভবানীপুর কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি লিখলেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নির্বাচনী এজেন্ট সজল ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসমের ৫টি থানায় এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়। থানাগুলি হল গীতানগর, পান বাজার, জাগিরোড, নর্থ লখিমপুর সদর এবং উধারবন্দ থানা। মমতার বিরুদ্ধে থাকা এই মামলাগুলির তথ্য হলফনামায় দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগই উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা যখন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী হন, তখনও একইভাবে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, ২০১৮ সালে মমতার বিরুদ্ধে অসমে পাঁচটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। সিবিআইয়ের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একটি ফৌজদারি মামলা।  কিন্তু হলফনামায় সেই তথ্য গোপন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

‘ভবানীপুরে মমতা হারলে ওদের পার্টিটাও উঠে যাবে’: দিলীপ ঘোষ

Mamata-Dilip

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ভবানীপুরে প্রিয়ঙ্কার জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত দিলীপ ঘোষ।

Dilip Ghosh and Mamata Banerjee
মমতাকে কটাক্ষ দিলীপের।

গতকালই সোশ্যাল মিডিয়ায় তথাগত রায় লিখেছিলেন, ‘মুলোরা এমন ভাব করছে যেন মমতা উপনির্বাচন জিতেই বসে আছেন ! কিন্তু উপনির্বাচনটা হচ্ছে কেন? মমতা হেরে গিয়েছিলেন বলেই না ! সুপার হেভিওয়েট হওয়া সত্ত্বেও ! প্রিয়াঙ্কা যেমনি এন্টালিতে হেরেছিলেন মমতা তেমনি নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন। যিনি একবার হেরেছেন তিনি দ্বিতীয়বারও হারতে পারেন!’ এবার খানিকটা একই সুর শোনা গেল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গলায়তেও। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি জেতার জন্যই ভবানীপুরে লড়াই করছে। ভবানীপুরে আমাদের প্রার্থীই জিতবে। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে গোটা তৃণমূল পার্টিটাই উঠে যাবে। মমতা ব্যানার্জি হারার ভয় পাচ্ছেন। তাই সব মন্ত্রীদের পাড়ায় পাড়ায় ঘোরাচ্ছেন।’

২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়। 

BJP: Priyanka Tibriwal with Modi

২০১৫ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কলকাতা পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই তরুণ নেত্রী। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন সমাদরের কাছে হেরে যান। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু ৫৮২৫৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহার কাছে হেরে যান। কর্পোরেশন ইলেকশনেও জিততে পারেননি বলে তঁকে ক্রমাগত কটাক্ষ করছেন তৃণমূল সমর্থকরা। অন্যদিকে, মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে প্রিয়ঙ্কাই সরাবেন, এমনটাই মত দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের।

পদ্মশিবিরের দুই সাংসদ অর্জুন সিং এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন একজন করে বিজেপি বিধায়ক। তাঁদেই মাথায় থাকবেন দুই সাংসদ। 

একই সময়ে নির্বাচন ও ভোট গণনা হবে রাজ্যের আরো দুই আসন সমশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে। ভবানীপুর-সহ বাকি ৭টি বিধানসভা আসনে ভোট করানোর দাবিতে বার বার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যো করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম। তাই ভোট করানো যেতে পারে।

তৃণমূল মোট ২১৩ টি সিট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরেও ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে প্রায় ছ’জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলে। সেই সংখ্যাটাও আরও বাড়তে পারে। এবার উপনির্বাচনে সেই আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে।

মমতাও হেরেছেন বলেই আবার ভোটে লড়ছেন, এন্টালিতে প্রিয়ঙ্কার হার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ তথাগতর

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। সে কথাই যেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে মনে করিয়ে দিলেন বিজেপি (BJP) নেতা তথাগত রায়।

আরও পড়ুন মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন, চিনে নিন পদ্মপ্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়। 

BJP: Priyanka Tibriwal with Modi

২০১৫ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কলকাতা পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই তরুণ নেত্রী। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন সমাদরের কাছে হেরে যান। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু ৫৮২৫৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহার কাছে হেরে যান। কর্পোরেশন ইলেকশনেও জিততে পারেননি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন। একথা বলেই প্রিয়ঙ্কা এবং গেরুয়া শিবিরকে ক্রমাগত কটাক্ষ করছেন তৃণমূল সমর্থকরা। তাদেরই একহাত নিলেন তথাগত রায়।

বিজেপি (BJP) নেতা তথাগত রায়ের সেই ফেসবুক পোস্ট।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘মুলোরা এমন ভাব করছে যেন মমতা উপনির্বাচন জিতেই বসে আছেন ! কিন্তু উপনির্বাচনটা হচ্ছে কেন? মমতা হেরে গিয়েছিলেন বলেই না ! সুপার হেভিওয়েট হওয়া সত্ত্বেও ! প্রিয়াঙ্কা যেমনি এন্টালিতে হেরেছিলেন মমতা তেমনি নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন। যিনি একবার হেরেছেন তিনি দ্বিতীয়বারও হারতে পারেন!’

May be an image of 2 people and indoor

পদ্মশিবিরের দুই সাংসদ অর্জুন সিং এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন একজন করে বিজেপি বিধায়ক। তাঁদেই মাথায় থাকবেন দুই সাংসদ। 

একই সময়ে নির্বাচন ও ভোট গণনা হবে রাজ্যের আরো দুই আসন সমশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে। ভবানীপুর-সহ বাকি ৭টি বিধানসভা আসনে ভোট করানোর দাবিতে বার বার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যো করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম। তাই ভোট করানো যেতে পারে।

তৃণমূল মোট ২১৩ টি সিট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরেও ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে প্রায় ছ’জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলে। সেই সংখ্যাটাও আরও বাড়তে পারে। এবার উপনির্বাচনে সেই আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে।

তালিকায় নাম থাকলেও প্রচারে থাকবেন না বাবুল, নির্বাচনের আগেই বিড়ম্বনায় বিজেপি

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। যদিও এরপরেই আরেক চমক এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে। পদ্মশিবিরের হয়ে তারকা প্রার্থী হচ্ছেন সদ্য ‘রাজনীতি’ থেকে অবসর নেওয়া বাবুল সুপ্রিয়। 

আরও পড়ুন মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন, চিনে নিন পদ্মপ্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালকে

তারকা প্রার্থীদের তালিকায় নাম থাকায় বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন বাবুল। তারপরেই জানিয়ে দিলেন, তারকা প্রচারকের তালিকায় নাম থাকলেও ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচার করবেন না। স্পষ্ট করে দিলেন, নিজের রাজনৈতিক সন্ন্যাসের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি। এবং কোনওরকম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আগামী দিনে তাঁকে দেখা যাবে না।

Image

বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন বাবুল সুপ্রিয়। পরপর দু’বার আসানসোলের সাংসদও হয়েছেন। পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হওয়া এবং মন্ত্রীত্ব খোয়ানোর পরেই রাজনীতি ত্যাগ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বাবুল সুপ্রিওর আইনি উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। বিজেপির তরফে ভবানীপুরে তারকা প্রচারকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতেই ৮ নম্বরে নামটি বাবুল সুপ্রিয়র। টিবরেওয়ালের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণার পর পরই তাঁকে ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাবুল।

এর আগে ২০১৫ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কলকাতা পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন সমাদরের কাছে হেরে যান। ২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু ৫৮২৫৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহার কাছে হেরে যান।

আরও পড়ুন একে একে কমিছে বিধায়ক, বঙ্গে ক্রমশ ব্যাকফুটে বিজেপি

অন্যদিকে পদ্মশিবিরের দুই সাংসদ অর্জুন সিং এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন একজন করে বিজেপি বিধায়ক। তাঁদেই মাথায় থাকবেন দুই সাংসদ। 

ভবানীপুরে বিজেপির তারকা প্রচারক ‘রাজনীতি ছাড়া’ বাবুল সুপ্রিয়

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত মহিলা প্রার্থীকেই এগিয়ে দিল বিজেপি (BJP)। উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। যদিও এরপরেই আরেক চমক এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে। পদ্মশিবিরের হয়ে তারকা প্রার্থী হচ্ছেন সদ্য ‘রাজনীতি’ থেকে অবসর নেওয়া বাবুল সুপ্রিয়। 

আরও পড়ুন ভবানীপুরকে পাখির চোখ করতে অর্জুনেই ভরসা বিজেপির

কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বাবুল সুপ্রিওর আইনি উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। বিজেপির তরফে ভবানীপুরে তারকা প্রচারকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতেই ৮ নম্বরে নামটি বাবুল সুপ্রিয়র। টিবরেওয়ালের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণার পর পরই তাঁকে ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাবুল। তাহলে কী ফের সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে ফিরছেন প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী?

Image

এর আগে ২০১৫ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কলকাতা পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন সমাদরের কাছে হেরে যান।

বাবুল সুপ্রিওর আইনি উপদেষ্টা ছিলেন প্রিয়ঙ্কা।

২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু ৫৮২৫৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহার কাছে হেরে যান।

আরও পড়ুন একে একে কমিছে বিধায়ক, বঙ্গে ক্রমশ ব্যাকফুটে বিজেপি

অন্যদিকে পদ্মশিবিরের দুই সাংসদ অর্জুন সিং এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন একজন করে বিজেপি বিধায়ক। তাঁদেই মাথায় থাকবেন দুই সাংসদ। 

তারকা প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পরেই কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ টুইট করেছেন, ‘এটি যদি উপনির্বাচনে বিজেপির তারকা বক্তা তালিকা হয়- 1) মোদিজি, শাহজি, নাড্ডাজির মত ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা কই? 2) কৈলাস বিজয়বর্গীয় কই? 3) বাবুল নাকি প্রত্যক্ষ রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলেন? তখনই বলেছিলাম নাটক। নাকি এখানে বিশেষ কোনো কারণ?’

মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন, চিনে নিন পদ্মপ্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল’কে

Priyanka Tibriwal

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত মহিলা প্রার্থীকেই এগিয়ে দিল বিজেপি (BJP)। উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

আরও পড়ুন হেরো মমতা শূন্য সিপিএম;দলত্যাগী ভাইরাস বিজেপি, ভবানীপুরে ভোট!

আগামী একমাস রাজ্য রাজনীতির নজর থাকবে কলকাতার ভবানীপুরে। এখানেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা নয়, ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যপাধ্যায়। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। কিন্তু বিজেপি প্রাত্থী তাঁকে কতটা ‘ফাইট’ দিতে পারবে তা নিয়েই এখন জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

Priyanka Tibriwal with Modi

কে এই প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল ?

কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বাবুল সুপ্রিওর আইনি উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কলকাতা পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই তরুণ নেত্রী। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন সমাদরের কাছে হেরে যান।

বাবুল সুপ্রিওর আইনি উপদেষ্টা ছিলেন প্রিয়ঙ্কা।

২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার (NDA)। সেবছরেরই আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতেই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেছেন। ছ’বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সহ-সভাপতি করা হয়। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু ৫৮২৫৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহার কাছে হেরে যান।

১৯৮১ সালের ৭ জুলাই কলকাতায় জন্ম প্রিয়ঙ্কার। ওয়েল্যান্ড গোল্ডস্মিথ স্কুলে পড়াশোনা শুরু। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাজরা ল কলেজ থেকে আইন ডিগ্রি পেয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেন।

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী নিজে। জল্পনা চলছিল পদ্মশিবিরের প্রার্থী কে হবেন তাই নিয়ে। শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘কে বলেছিল আপনাকে নন্দীগ্রামে আসতে ? এখন যদি আমাকে পার্টি বলে ভবানীপুরে আপনার বিপক্ষে দাঁড়াতে কী হবে তাহলে? আপনি নন্দীগ্রাম গিয়েছিলেন। এবার আমি এখানে আসি? মনে রাখবেন ওখানে কিন্তু ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে দিয়েছি, যেখানে ২৪ শতাংশ দুধেল গাই ছিল।’

ফলে গুঞ্জন উঠেছিল, নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে আবার ভোটে লড়বেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। যদিও সে বিতর্ক থামিয়ে দেন রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ, জানিয়ে দেন শুভেন্দু প্রার্থী হবেন না। আলোচনায় ছিল রুদ্রনীল ঘোষের নামও। যদিও শেষবেলায় দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যান তরুণ আইনজীবী। কালই ঠিক হয়, মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন প্রিয়ঙ্কা।

ভবানীপুরকে পাখির চোখ করতে অর্জুনেই ভরসা বিজেপির

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

আরও পড়ুন কয়লাকাণ্ডে ইডির জেরা শেষে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে হারিয়ে দেওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীকে আসন ছেড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীন নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা হবে ৩ অক্টোবর। এবার মমতার বিরুদ্ধে কে হবেন ভবানীপুরের পদ্মশিবিরের প্রার্থী? রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা এর উত্তর নিয়েই। ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কে লড়বেন, তা বাছতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। তবে তারই মধ্যে পর্যবেক্ষক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল বিজেপি।

পদ্মশিবিরের দুই সাংসদ অর্জুন সিং এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন একজন করে বিজেপি বিধায়ক। তাঁদেই মাথায় থাকবেন দুই সাংসদ। 

একই সময়ে নির্বাচন ও ভোট গণনা হবে রাজ্যের আরো দুই আসন সমশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে। ভবানীপুর-সহ বাকি ৭টি বিধানসভা আসনে ভোট করানোর দাবিতে বার বার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যো করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম। তাই ভোট করানো যেতে পারে।

তৃণমূল মোট ২১৩ টি সিট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরেও ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে প্রায় ছ’জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলে। সেই সংখ্যাটাও আরও বাড়তে পারে। এবার উপনির্বাচনে সেই আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে।