Mamata Banerjee: নজিরবিহীন ‘পরাজিত’ মুখ্যমন্ত্রীর টেনশনের ভোট পরীক্ষা

mamata banerjee

নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতিতে লেখা থাকল বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বা অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের রাজনীতি ধরলেও এই প্রথম এক শাসক যিনি নিজে পরাজিত হয়ে পুনপায় জয়ের জন্য মরিয়া লড়াই শুরু করেছেন। অভূতপূর্ব উপনির্বাচন চলছে রাজ্যে।

কেন্দ্র ভবানীপুর। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যিনি ফল ঘোষণার দিনের জন্য প্রবল টেনশনে। নিজের প্রচারের ভাষণে ঝরে পড়েছে সেই টেনশন। বলেছিলেন, আমাকে জেতান, না হলে অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে।

mamata banerjee

বি়ধানসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে লড়াই করেন মমতা। পরাজিত হন। জয়ী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী একদা ছায়াসঙ্গী তবে দলবদলে নেন ভোটের আগে। তিনি এখন বিরোধী দলনেতা।

মমতা হারলেও টিএমসি বিপুল শক্তি নিয়ে সরকার গড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকেছেন মমতা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জয়ী বিধায়ক হতে হবে। ফলে তাঁরই পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুরের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেফ সিট হিসেবে টিএমসি মমতা কে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে।

বঙ্গ রাজনীতির এমন নজিরবিহীন মুহূর্ত আগে আসেনি। সেই মুহূর্ত দেখছেন রাজ্যবাসী। উপনির্বাচন হচ্ছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রে। তবে সবই ভবানীপুরের কাছে ম্লান।কারণ সেখানে মমতা নিজে লড়ছেন। তাঁর সামনে দুটি রাস্তা খোলা। হয় জয় নয় বিদায়।

জামানত বাজেয়াপ্ত হবে জেনেই ‘নেতারা বেপাত্তা’, সিপিআইএমের শ্রীজীব প্রায় একলা

Shrijeeb Biswas

নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় গলিতে প্রচার করছেন। সঙ্গে গুটিকয় যুবকর্মী সমর্থক, আর কেউ নেই! থাকার কথাও নয়, একেবারেই আনকোরা প্রার্থী তাও আবার রাজ্যে শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিআইএম (CPIM) দলের। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের ‘হেরো’ প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও অস্তিত্বের যুদ্ধে নেমেছেন। আর আছেন বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তিনি যথারীতি গিমিক টানতে মরিয়া, সম্বল অবাঙালি ভোটার। ভবানীপুরের উপনির্বাচনে এটাই তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর চালচিত্র।

ভবীনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সেফ সিট। বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপির কাছে পরাজিত হন। দল যেহেতু বিপুল শক্তি নিয়ে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে তাই মুখ্যমন্ত্রী পদেই আছেন মমতা। প্রাক্তন বিধায়ককে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জিতে বিধানসভা ঢুকতে হবে। মমতা মরিয়া জিততে। বিজেপি মরিয়া আটকাতে। আর ‘বামেরা মরিয়া তাদের প্রার্থীকে জামানত খোয়াতে!’ এমনই কটাক্ষ টিএমসি ও বিজেপি শিবিরের।

Shrijeeb Biswas

বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, ও আইএসএফের মধ্যে যে আসন সমঝোতা হয়েছিল তার নিরিখে সংযুক্ত মোর্চা লড়াই করে। একটি আসন তাদের জুটেছে। ভোট শেষ জোট শেষ অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনে তাই একলা বামফ্রন্ট। কংগ্রেস ভবানীপুরে প্রার্থী দেবেনা ঘোষণা করেছে। আইএসএফ এখন বামেদের কাছে অছ্যুত। তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী প্রচার শুরু করেছেন। প্রচার দেখে এলাকার বাম কর্মী সমর্থকদের আক্ষেপ নেতারা কবে যে বুঝবেন। এভাবে ছেলেটাকে একলা ঠেলে দিলেন কেন?

শ্রীজীব বিশ্বাস হাঁটছেন। তাঁর পিছনে রয়েছে টানা চৌত্রিশ বছরের দীর্ঘ সময়ের বাম জমানার কঙ্কাল।

‘হেরো’ মমতা-‘শূন্য’ সিপিএম-‘দলত্যাগী ভাইরাস’ বিজেপি, ভবানীপুরে ভোট!

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: এমন ভোট কখনও হয়নি। বঙ্গ রাজনীতির সেই স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় মুসলিম লীগ সরকার থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্টের আমলে এমনটা হয়নি। নজিরবিহিন হয়ে গিয়েছে সর্বশেষ বিধানসভার নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের দশ বছরের সরকার চালিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হেরে গিয়েছেন নন্দীগ্রাম থেকে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে। প্রথমবার বিজেপি রাজ্যে বিরোধী দল আর গোহারা হেরে শূন্য হয়েছে একদা শাসক সিপিআইএম।

নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হেরেও দলীয় শক্তির জোরে ফের কুর্সিতে। তাঁকে আইনত জয়ী বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসতে হবে। প্রাক্তন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই উপনির্বাচনের পরীক্ষা দেবেন। সেই পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। যেখান থেকে গত বিধানসভার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

কলকাতার ভবানীপুর ঘিরে এখন তিনটি শব্দ- ‘মমতার কী হবে’। তৃণমূল বলছে, দেশের একমাত্র মোদী বিরোধী মুখ মমতাকে জিতিয়ে দেবেন ভবানীপুরবাসী। যেমন তারা এবারের ভোটে তাঁরই মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জয়ী করেছেন। বিরোধী দল বিজেপির কটাক্ষ, ‘হেরো মমতা’ নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া। শূন্য হয়ে যাওয়া বামেরা নীরব। তবে তারাও হেরো তকমা দিচ্ছে মু়খ্যমন্ত্রীকে।

ভবানীপুর কেন্দ্র আসন্ন উপনির্বাচনের চরম কৌতূহলের কেন্দ্র। এখানে লড়াই হচ্ছে বিধানসভায় আশাহত তিন পক্ষের মধ্যে। প্রথম পক্ষ তৃণমূলের নেত্রী যিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ তিনি নন্দীগ্রামেই পরাজিত হয়ে চরম ‘বেদনাহত’।

দ্বিতীয়পক্ষ আশাহত বিজেপি যারা মনে করেছিল রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়বে। এখন দলত্যাগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত বিধায়ক সংখ্যা কমছে তাদের। তৃতীয়পক্ষ শূন্য বামেরা সব হারিয়ে ভাঁড়ে মা ভবানীর মতো পরিস্থিতি। ভবানীপুরে ফের ভোট হবে।