मोदी के शपथ ग्रहण समारोह में सात विदेशी मेहमान पहुंच रहें हैं इंडिया

नई दिल्ली : एनडीए के नेता नरेन्द्र मोदी रविवार को राष्ट्रपति भवन में शपथ लेंगे। उनके शपथ ग्रहण समारोह में पड़ोसी देशों के नेता भी शामिल होंगे। विदेश मंत्रालय ने पुष्टि की है कि समारोह में नेपाल, भूटान, बांग्लादेश, श्रीलंका, मालदीव, मॉरीशस और सेशल्स के नेता शामिल होंगे।

विदेश मंत्रालय के अनुसार श्रीलंका के राष्ट्रपति रानिल विक्रमसिंघे, मालदीव के राष्ट्रपति डॉ मोहम्मद मुइज्जू, सेशेल्स के उपराष्ट्रपति अहमद अफीफ, बांग्लादेश की प्रधानमंत्री शेख़ हसीना, मॉरीशस के प्रधानमंत्री प्रविन्द कुमार जुगनुथ, नेपाल के प्रधान मंत्री पुष्प कमल दाहाल ‘प्रचंड’, भूटान के प्रधानमंत्री शेरिंग टोबगे इस समारोह में शामिल होंगे। इन नेताओं का आज से दिल्ली पहुंचने का क्रम शुरू हो गया है। बांग्लादेश की प्रधानमंत्री शेख हसीना आज दोपहर नई दिल्ली पहुंच गईं।

विदेश मंत्रालय के प्रवक्ता रणधीर जायसवाल ने कहा कि नेबरहुड फर्स्ट और सागर विजन क्रियान्वित करते हुए
विदेशी मेहमान प्रधानमंत्री के शपथ ग्रहण समारोह में शामिल होंगे। शपथ ग्रहण समारोह में शामिल होने के अलावा ये नेता कल रात राष्ट्रपति भवन में राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू द्वारा आयोजित भोज में भी हिस्सा लेंगे।

Bhutan: করোনা নয় প্রবল তুষারপাতে ঘরবন্দি ভুটানি জীবন, Work From Home চালু

News Desk: বাড়ি থেকে কাজ করুন। আসতে হবেনা অফিসে। এমনই নির্দেশ দিয়েছে ভুটান সরকার। বুধবার দেশটির বেশিরভাগ জেলা ও রাজধানী থিম্পু বরফে ঢেকে গেছে। মরশুমের প্রথম তুষারপাতে স্তব্ধ জীবন। পাহাড়ি পথগুলি বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি বুঝে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর নির্দেশ চালু হয়েছে ড্রাগনভূমিতে ( বজ্র ড্রাগন দেশ)।

করোনার জন্য নয় তুষারপাতের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দফতর জানাচ্ছে, প্রবল তুষারপাতে পশ্চিম ও মধ্য ভুটানের সর্বত্র যাতায়াত প্রায় বন্ধ। এই অবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়িয়ে ঘরে থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। এই খবর জানাচ্ছে ভুটানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বিবিএস।

তবে জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, বিপর্যয় মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যারা নিযুক্ত তাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পরিষেবা দিতে বাইরে বের হওয়ারও নির্দেশ আছে। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের সংখ্যা যথেষ্ট থাকার নির্দেশ জারি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে চালু হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।

ভুটানের সংবাদ সংস্থার খবর, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কেের নিচে। এর ফলে থিম্পু সহ অন্যান্য এলাকায় ভারি তুষারপাত হতে শুরু করেছে। তুষারপাতের কারণে নেপাল, ভারতের সিকিম , অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন।

এদিকে বিশ্বজুডে আতঙ্কের মেঘ ঘনিয়েছে ফের। আবার আসছে সে আসছে…। ফের বন্ধ হবে বিশ্বজোড়া যাতায়াত? হাজার হাজার বিমানের উড়ান বাতিল হতে শুরু করেছে। ঘাড়ের কাছে লাল চোখ নিয়ে হাজির ওমিক্রন-করোনার নবতম ভ্যারিয়েন্ট। করোনা সংক্রমণের গতি দেখে ফের ঘরবন্দি জীবনের প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Bhutan: ড্রাগন রাজার তরফে মোদীকে সর্বোচ্চ সম্মান

Order of The Dragon King

নিউজ ডেস্ক: প্রথম ভিনদেশি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেই ড্রাগন (Dragon) দেশ ভুটান (Bhutan) তার সর্বোচ্চ খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করল। ‘অর্ডার অফ দ্য ড্রাগন কিং’ (Order of The Dragon King) বা অর্ডার অফ দ্য ড্রুক গিয়ালপো (রাজা) সম্মান দেওয়া হচ্ছে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীকে।

শুক্রবার ভুটানের ১১৪ তম জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে ভুটান সরকার ঘোষণা করেছে তাদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অর্ডার অফ দ্য ড্রুক গিয়ালপো’ দেওয়া হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে।

১১৪ বছর আগে ১৯০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভুটানের ওয়াংচুক রাজবংশের প্রথম ড্রুক গিয়ালপো (ড্রাগন কিং) হিসেবে সিংহাসনে বলেছিলেন উগ্যান ওয়াংচুক। তাঁর উত্তরসূরীরা ওয়াংচুক বংশ ও বর্তমানে রাজ সিংহাসনে। বর্তমান রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক।

bhutan-nehru

থিম্পু থেকে ভুটানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বিবিএস জানাচ্ছে, রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক ও প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের তরফে ভারত সরকারের কাছে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদানের বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, ভারতের সঙ্গে গত সাত দশকের কূটনৈতিক সু-সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের শুরুয়াত করেছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। ভুটানের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও সাহায্যে ভারতের ভূমিকা জানানো হয়। আরও বলা হয়, ভারতের বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পদক্ষেপে ভুটান উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হচ্ছে।

ভুটান রাজার তরফে বার্তায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বিশ্বজোড়া লকডাউনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাহায্য ছিল অভাবনীয়।

<

p style=”text-align: justify;”>ভারত-ভুটান সম্পর্কের ইতিহাস বলছে, এই কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বছর ১৯৫৮ সাল। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু দীর্ঘ যাত্রা করে সিকিম, তিব্বত (চিন অধিকৃত) পেরিয়ে দুর্গম যাত্রায় ভুটানে এসেছিলেন। ভুটান রাজা জিগমে দোরজি ওয়াংচুকের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ধরে ভুটান সরকার মৈত্রীর সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে চালিয়ে আসছে।

Bangladesh 50: ভুটান রাজার টেলিগ্রামে বাংলাদেশের ‘প্রথম’ স্বীকৃতি, ভারত সংসদে ‘জয় বাংলা’

Bangladesh liberation war

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আচমকা এসেছিল হিমালয়ের রহস্যময় দেশ ভুটানের রাজামশাইয়ের টেলিগ্রাম। এতে ছিল বাংলাদেশের লড়াইয়ের প্রতি ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা। সেই টেলিগ্রামটি ঐতিহাসিক। কারণ ‘ড্রাগনভূমি’ ভুটান দিয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) সার্বভৌম স্বীকৃতি। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর তেমনই এক দিন ছিল। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাঝে এই দিনটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বিতর্ক ছিল কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশ কে সার্বভৌম স্বাধীন স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারত নাকি ভুটান ? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছিল ২০১৪ সালে ভুটানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগবের ঢাকা সফরে। বাংলাদেশ সরকার তখনই জানায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একেবারে অন্তিম পর্যায়ে ভুটান সরকার সর্বপ্রথম সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে টেলিগ্রাম বার্তা দেয়।

১৯৭১ সলের মুক্তিযুদ্ধের টানা ৯ মাসের ঘটনাবহুল দিনপঞ্জির মধ্যে ৬ ডিসেম্বর দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনেই প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছিল বাংলাদেশ।

৫০ বছর আগে সল্টলেকের জলা জমিতে বিরাট বিরাট পাইপের ভিতর শরণার্থীদের ভিড়। ভুটানের রাজামশাই জিগমে দোরজি সেসব পরিদর্শন করছিলেন। একটু পরে তিনি কলকাতায় ‘মুজিব নগর সরকার’ (প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ) এর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছে তার বার্তা পাঠান। তাঁর টেলিগ্রাম থেকে ‘বাংলাদেশ’ নামটি সরকারিভাবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করল।

কী লিখেছিলেন ভুটান রাজা জিগমে দোরজি ওয়াংচুক? তাঁর পাঠানো সেই টেলিগ্রামটি –
“On behalf of my Government and myself, I would like to convey to Your Excellency and the Government of Bangladesh that we have great pleasure in recognizing Bangladesh as a sovereign independent country. We are confident that the great and heroic struggle of the people of Bangladesh to achieve freedom from foreign domination will be crowned with success in the close future. My people and myself pray for the safety of your great leader Sheikh Mujibur Rahman and we hope that God will deliver him safely from the present peril so that he can lead your country and people in the great task of national reconstruction and progress.
Jigme Dorji Wangchuck
King of Bhutan
6 December 1971 “

Bangladesh liberation war

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকারের তরফেও বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়। তবে ভুটানের স্বীকৃতি দানের কিছু পরে ভারতের স্বীকৃতি বার্তা আসে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কাছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সংসদে অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ও ভারতীয় সেনার বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধকে অভিনন্দন জানান। ভারত সংসদ তখন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত।

ভুটান রাজার বিখ্যাত টেলিগ্রামটি যখন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কার্যালয়ে খুশির বাতাস বয়ে এনেছে, তার পরেই বিশ্বজোড়া ঝড়ো ‘ব্রেকিং নিউজ’ -ভারতের স্বীকৃতি দান নিয়ে প্রবল আলোচনা। সে ছিল এক কূটনৈতিক পর্ব। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটান ও ভারত একই দিনে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে। এর দশ দিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় চূড়ান্ত পরাজিত হয় পাকিস্তানি সেনা। প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষের গণকবরের উপর ভিত্তি করে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। পাকিস্তান হয় দ্বিখণ্ডিত।

ভুটান সরকারের তরফে ২০১৪ সালে সেই । বিখ্যাত টেলিগ্রামটি বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পদ্মা-মেঘনার দেশ সেই প্রথম স্বীকৃতি স্বীকার করে নেয়।

Bhutan: করোনায় মৃত ৩ জন ! ওমিক্রন রুখতে নামলেন ড্রাগন রাজা

Bhutan government starting to prevent covid 19

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধ প্রস্তুতি। রক্ষা করতে হবে করোনা বিরোধী শক্তিশালী দুর্গকে। যে দুর্গের বিখ্যাত ড্রাগন দরজা পেরিয়ে অদৃশ্য জীবাণু ঘাতক হামলা করলেও গত দু বছরে তেমন কিছু ক্ষতি করতে পারেনি। এমনই দুর্গ-ভুটান (Bhutan) ফের তৈরি। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত জেলা, মফস্বল, প্রবল ঠান্ডায় কুঁকড়ে থাকা গ্রামাঞ্চলেও চলছে প্রতিরোধের ছক চলছে।

বিশ্ব কাঁপতে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আতঙ্কে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সেটি। বিশেষজ্ঞেররা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার থেকেও ভয়াবহ। করোনাভাইরাস হামলা রুখেছে গুটিকয়েক দেশ। তাদের অন্যতম লাওস, ভিয়েতনাম। তাদেরই সঙ্গে এক সারিতে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশ ভুটান।

ভুটানের সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুকের নির্দেশে সরকার সংগ্রহ করছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সর্বশেষ তথ্য। চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ও তাঁর সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেচেন ওয়াংমোর আধুনিক জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজোড়া প্রশংসিত।

ড্রাগন রাজার ফরমান সরকারের মাধ্যমে ‘ড্রাগনভূমি’র সর্বত্র ছড়িয়েছে। এই ফরমানে বলা হয়েছে, যে অরেঞ্জ ফাইটাররা কোভিড লকডাউন পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করেছিলেন তাদের পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কারণ, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আরও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

থিম্পুর রাজবাড়ি থেকে নির্দেশ আসতেই ভুটান জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল ব্যস্ততা। নির্দেশ এসেছে, করোনা মোকাবিলায় বিখ্যাত কমলা যোদ্ধাদের (ডি সুং বা ডি সুপ) পরবর্তী ব্যাচগুলিকে দেশের ২০টি জেলাতেই নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। বিশেষত ভারত লাগোয়া জেলাগুলিতে নজর দিতে বলা হয়েছে।

ভারত ও চিনের মাঝে ছোট দেশ ভুটান। উত্তরে চিনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ভারত লাগোয়া এলাকা নিয়েই চিন্তা ভুটান সরকারের। সড়কপথে বিশ্বের সঙ্গে এদিক দিয়েই সংযোগ রক্ষা করে ভুটান সরকার। ভারত সংলগ্ন ভুটানের জনবহুল জেলাগুলির অন্যতম চুখা, সমদ্রুপ জংখার।

পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অসম, অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভুটানের সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারের সঙ্গে ভুটান সংলগ্ন। এখানেই আছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম স্থলপথ বাণিজ্যকেন্দ্র ফুন্টশোলিং-জয়গাঁ সীমান্ত। ভুটানের চুখা জেলার ফুন্টশোলিং ও ভারতের দিকে আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁর মাঝে বিখ্যাত ‘ভুটান গেট’।

করোনা লকডাউন পর্বে এই বিখ্যাত ভুটান গেট বন্ধ করে বিশ্ব থেকে স্থলপথে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ভুটান। এরপর দেশব্যাপী শুরু হয়েছিল করোনা প্রতিরোধ। সীমান্তের এপারে যখন পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যু মিছিল চলছিল তখন ওপারে ভুটানের এলাকায় সংক্রমণ রুখতে মরণপণ চেষ্টা চালায় দেশটির সরকার। সেই কাজে তাদের সফলতা দেখে চমকে গিয়েছে দুনিয়া। অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকদের হামলা রুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিস্ময় নাম এখন ভুটান। তারা ফের তৈরি।

লালফৌজের থাকার জন্য ভুটান সীমান্তে চারটি গ্রাম গড়েছে চিন

chaina-house

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: একটা বা দুটো নয়, লালফৌজের থাকার জন্য একেবারে চারটে গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে চিন। ভুটান সীমান্তের অভ্যন্তরে লালফৌজ এই গ্রামগুলি তৈরি করেছে। এখনও বেশ কিছু নির্মাণকাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে এই চাঞ্চল্যকর ছবি ধরা পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই লাদাখের পর এবার ডোকলাম এলাকাতেও চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

উপগ্রহ চিত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে ভুটান সীমান্তে চিন ধীরে ধীরে এই গ্রাম গড়ার কাজ চালাচ্ছে। প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট গ্রাম। ডোকলাম এলাকায় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে চিন ও ভারতের সেনা কমান্ডার পর্যায়ের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে লাদাখ সীমান্ত নিয়েও। কিন্তু তারপরেও লালফৌজের আগ্রাসন কমেনি। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার লাল ফৌজকে নিজেদের সীমানার অভ্যন্তরে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সেই পরামর্শ কানে তোলেনি।

China builds village in Arunachal Pradesh

সে কারণেই ভুটান সীমান্তে এবার নতুন করে গ্রাম তৈরির কাজ চালাচ্ছে চিন। সেই গ্রামে থাকার বন্দোবস্ত হচ্ছে লালফৌজের। ইতিমধ্যেই ভারত ও চিন দু’দেশই সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনার সংখ্যা অনেকটাই বাড়িয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, ভুটান সীমান্তেও লালফৌজের আগ্রাসন একই রকম সক্রিয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারত-ভুটান সীমান্ত এলাকায় লালফৌজের রাস্তা তৈরির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে প্রায় একবছর গড়িয়ে গিয়েছিল। ভুটান সীমান্তে লালফৌজের গ্রাম গড়াকে কেন্দ্র করে ফের একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত বছরেও দেখা গিয়েছিল ভুটানের কাছে নিজেদের সীমানার অভ্যন্তরে চিন বেশকিছু সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু চলতি বছরের উপগ্রহ চিত্র দেখা যাচ্ছে নিজেদের সীমানা অতিক্রম করে এসে ভুটানের ভিতরেও ক্রমশ নিজেদের এলাকা বিস্তার করেছে বেজিং। শুধু গ্রাম নয়, গ্রামগুলিতে চলাচলের পথ সুগম করতে তৈরি হয়েছে রাস্তা। ডোকলামের যে জায়গায় দুবছর আগে ভারতের সঙ্গে চিনের ঝামেলা বেধে ছিল সেই এলাকাতেই এই গ্রামগুলি তৈরি হয়েছে।

<

p style=”text-align: justify;”>বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণ করে লালফৌজ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বহুদিন ধরেই সক্রিয়। পূর্ব লাদাখের গালওয়ান এবং অরুণাচলের একাংশ যেমন চিন নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে, তেমনই ভুটান সীমান্তে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার এলাকাকেও নিজেদের বলে দাবি জানিয়ে থাকে চিন। ওই এলাকায় টহলদারির পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সেনা রাখার জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে বলে খবর।

Bangladesh: পাকিস্তান কেটে বাংলাদেশ জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শুরু ১৬ ডিসেম্বর

bangladesh

News desk: রক্তাক্ত নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে। জন্ম নেওয়ার পর ৫০ বছর পার হতে চলেছে। সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান পালিত হবে এই দিনেই। জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই মুজিব শতবর্ষ অনুষ্ঠান সরকার শেষ করতে চায় বলেও জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: Kolkata: বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করেই কলকাতা বইমেলা

Bangladesh 16 december

অনুষ্ঠানে বিদেশি অনেক অতিথি আসার কথা। দু’জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আসতে পারেন। দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠান হবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এমনই জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট না করলেও মনে করা হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিং ঢাকায় আসতে পারেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। তার পরেই ভারত স্বীকৃতি দেয়।

বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান ঘিরে চলছে ব্যপাক প্রস্তুতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৬ তারিখে অনুষ্ঠান হবে। কড়া নিরপত্তা থাকবে। অনুষ্ঠান ও উৎসবস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়ি ঢুকতে করতে পারবে না। এই সময় ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকবেন না এবং নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল ও সারাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>১৯৭১ সালে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে।

Fuel price: উত্তরবঙ্গের কাছে জলের চেয়ে একটু বেশি দরে মিলছে পেট্রোল-ডিজেল

bhutan Fuel price

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ওপারে সস্তার জ্বালানি এপারে চলছে হা হুতাশ। এও এক জ্বালা। কিন্তু পরিস্থিতি যে আগের মতো নয়। হতচ্ছাড়া করোনা এসেই অবাধ ঢোকাঢুকি বন্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সেঞ্চুরি হাঁকানো দামে প্রবল জ্বালা। ছটফট করছেন ভারতীয়রা। আর ওপারে ভুটানের বিকোচ্ছে আশি টাকার ঘরেই!

আন্তর্জাতিক ভর্তুকির সুবিধায় ভুটানে পেট্রোল ডিজেলের মূল্য ৮০ নু (Nu) ঘরে। এই নু অর্থাৎ নিউলট্রম। ভুটানি মুদ্রার নাম। ১ নু= ১ রুপি। এই মূল্যমান। সেই মান অনুসারে ভুটানে আশির চৌকাঠে রয়েছে পেট্রোল ও ডিজেল!

নেহরু আমল থেকে দুই দেশের মৈত্রী চুক্তি অনুসারে ভারত ও ভুটানের মধ্যে মুদ্রামান থাকে সমান। এই অবস্থায় ভারতীয়রা ভুটান থেকে পেট্রোল ডিজেল কিনলে অন্তত কুড়ি টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। কিন্তু মাঝে আছে করোনা বিধি। হুটহাট করে আর সীমান্তের বিরাট ড্রাগন আঁকা ভুটান গেট পেরিয়ে প্রতিবেশি দেশে ঢুকে পেট্রোল ডিজেল কেনার উপায় নেই।

সোমবার সন্ধ্যায় ভুটানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা সর্বশেষ জ্বালানি মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেল মূল্য নজিরবিহীনভাবে সর্বাধিক। এই তালিকা অনুসারে ভুটানের চুখা জেলার সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিংয়ে ১ লিটার পেট্রোলের দাম ৮৩.৯৮ নু এবং ডিজেল মূল্য লিটার পিছু ৮০.৯৩ নু।

ভুটান সরকারের তালিকায় এই দেশের হা শহরে সর্বাধিক পেট্রোল মূল্য লিটার পিছু ৮৭.২০ নু। আর ডিজেল মূল্য প্রতি লিটার ৮৩.৭২ নু। চিন সীমান্তের হা উপত্যকা থেকে বহু নিচে ভারতের জয়গাঁ শহরে লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেল ১০০ রুপি পার করেছে অনেক আগেই।

ভারত ও ভুটানের মুদ্রা বিনিময় মূল্য সমান (১=১) হওয়ায় ভারতীয়রা ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিং থেকে যে করেই হোক পেট্রোল,ডিজেল কিনতে মরিয়া। অভিযোগ, এই সুযোগে সীমান্তের দু পারেই গোপনে চলছে বেআইনি লেনদেন।

ভুটানের ফুন্টশোলিংয়ের উল্টোদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁ। দুটি শহর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক আদান প্রদানের কেন্দ্র। গত দু বছর ধরে করোনা সংক্রমণের কারণে ভুটান অত্যন্ত কড়াকড়ি নিয়ম চালু করে। সেই কারনে আর হুট করে কেউ ভুটানের ফুন্টশোলিং শহরে ঢুকতে পারেন না।

<

p style=”text-align: justify;”>করোনা প্রদুর্ভাবের আগে জয়গাঁ ও নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সস্তায় পেট্রোল ডিজেল কিনতে ভুটানেই ঢুকতেন। আপাতত তেমনটা হচ্ছে না।

জঙ্গি দমনে কঠোর ‘ড্রাগনভূমি’, ক্ষুদ্রতম ভুটানের শক্তিশালী নারী বাহিনি প্রস্তুত

Royal Bhutan Army

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: যে ড্রাগন সেনা একসঙ্গে সাতটি ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি দুরমুশ করেছিল তারা নারী সেনার অন্তর্ভুক্তি ঘটিয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভুটানি সেনার সর্বাধিনায়ক রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক সেনাবাহিনির অভিবাদন নিতে গিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নারী সেনার ভূমিকা তুলে ধরেন। জমকালো পাসিং আউট প্যারেডের ছবি প্রকাশ করেছে থিম্পুর সংবাদমাধ্যম।

ভুটানি সংবাদ সংস্থা BBS জানাচ্ছে, ওয়াংদিফোডরং-এর তেনচোলিং মিলিটারি ট্রেনিং ক্যাম্পে সেনাবাহিনির কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন সর্বাধিনায়ক রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক। অনুষ্ঠানে ছিলেন রানি জেতসুন পেমা, দুই যুবরাজ সহ সেনা কর্মকর্তারা।

Royal Bhutan Army

রয়াল ভুটান আর্মির ৭৭ তম ব্যাচে ১৫১ জন নারী ও ১৫০ জন পুরুষ সেনা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সবাইকে দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হবে। ঐতিহাসিকভাবে এটাই ভুটানের রাজকীয় সেনা বাহিনিতে প্রথম মহিলা অন্তর্ভুক্তি।

রয়াল ভুটান আর্মির দখলে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘অপারেশন অল ক্লিয়ার’ (২০০২-২০০৩) জঙ্গি দমন অভিযানের সফল তকমা। এটি এমন এক জঙ্গি দমন অভিযান যেটি দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ দমনে অতি উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে। সেই অভিযানে তৎকালীন ভুটান রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের কড়া নির্দেশের পর ভারত সরকারের বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শিবিরগুলি ভেঙে দিয়েছিল রয়াল ভুটান আর্মি। দু’দশক আগে ভারত সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায় সেই অভিযানের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান রাজা জিগমে খেসর।

আলফা (ULFA) , এনডিএফবি (NDFB) , কেএলও (KLO), এনএসসিএন (NSCN), এনএলএফটি (NLFT) মতো আগ্রাসী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির নেতৃত্ব ভুটানি সেনার তাড়া খেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বহু জঙ্গির মৃত্যু হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অভিযানের পর থেকেই আত্মগোপনে উত্তরবঙ্গে নাশকতা ঘটানো কেএলও প্রধান জীবন সিংহ। সম্প্রতি তার হুমকি বার্তা পরপর আসছে। উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

Royal Bhutan

পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। আফগানিস্তানের ক্ষমতায় দ্বিতীয়বারের জন্য জঙ্গি তালিবান সরকার এসেছে। বিশ্বজোড়া উদ্বেগ। গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির আশঙ্কা, তালিবান সরকারের শরিক হাক্কানি নেটওয়ার্ক গোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের নাশকতার জাল ছড়াবে। নেপাল থেকেই তাদের এজেন্টরা ফের উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্ব ভারতে
সক্রিয় হচ্ছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। আফগানিস্তানের টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝে ভুটান সরকার তাদের সেনাবাহিনিতে নজিরবিহীনভাবে নারী সেনার অন্তর্ভুক্তি ঘটাল।

আফগানিস্তানে হাক্কানি নেটওয়ার্কের শক্তিশালী চক্র নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে ফের সক্রিয় হতে মরিয়া হচ্ছে। নেপাল ও ভুটানের সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের খোলা সীমান্ত। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই সুযোগ নিয়ে হাক্কানি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে সংযোগ মজবুত করবে ফের।

ভুটানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ১৯৪৯ সালের মৈত্রী চুক্তি অনুসারে ভুটানের অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনা অবস্থান করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সীমান্তে মোতায়েন থাকে রয়াল ভুটান আর্মি। চিনের সঙ্গে ভুটানের সীমান্তে একসঙ্গে মোতায়েন থাকে ভারতীয় ও ভুটানি সেনা।

হাতের নাগালে সস্তার পেট্রোল-ডিজেল ভুটানে, হাত কামড়াচ্ছেন বাংলার চালকরা

Bharat Petroleum on Twitter

থিম্পু ও জয়গাঁ(আলিপুরদুয়ার): বন্ধ ড্রাগন ফটক-ভুটান গেট। লাল চোখ করে রয়াল ভুটানি পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। কোনওভাবেই প্রতিবেশি দেশে ঢুকে আর পেট্রোল ডিজেল কেনার উপায় নেই সীমান্তবর্তী আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁবাসীর। অগত্যা সেঞ্চুরি হাঁকানো পেট্রোল কিনে পকেটের গচ্চা দিতে হচ্ছে।

এক লিটার পেট্রোলের দাম ভুটানের মূল্যে ৬৮ টাকার মতো। আর ডিজেল মূল্য ৬৬. ৪১ টাকা। হিমালয় বেষ্টিত ভূখণ্ড ও আর্থিকভাবে দূর্বল হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্যে আন্তর্জাতিক ভর্তুকি পায় ভুটান সরকার।

ভুটানের টাকা (নিউলট্রম) ও ভারতীয় টাকার মূল্যমান সমান। ভুটানে সর্বত্র ভারতের টাকা চলে। আর সীমান্ত এলাকায় ভুটানের টাকা দেদার চলে ভারতে। দুই দেশের টাকার মূল্যমান সমান হওয়ার কারণে যে কোনও সীমান্তবাসী ভারতীয় ভুটান ঢুকে সস্তার জ্বালানি ভরতেন। ফলে রমরমিয়ে চলত ভুটানের পেট্রোল পাম্পগুলি। করোনার কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকায় আর এই সস্তার পেট্রোল, ডিজেল কেনা যাচ্ছে না।

হাত কামড়াচ্ছেন ভুটান সীমান্তের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও অসমের বিভিন্ন জনপদের বাসিন্দারা। আগে যেভাবে হুট করে ভুটানে ঢুকে জ্বালানি তেল গাড়ির ট্যাংকে ভরে চলে আসা যেত, সেটি হচ্ছে না ড্রাগন রাজার ফরমানে।

করোনাভাইরাস রুখতে ভুটান সরকার ভারত সংলগ্ন সব সীমান্ত বন্ধ রেখেছে। দেশটির দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সংক্রমণ বাড়ছে। বিভিন্ন জেলা শহর ও মফস্বলগুলিতে প্রায়ই লকডাউন চালানো হচ্ছে। ভুটান স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, কোনও অবস্থায় করোনা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করা যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভুটান করোনা মোকাবিলায় অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। গত এক বছরে মৃত মাত্র একজন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও গণস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিরাট প্রয়োগ ঘটিয়ে ভুটান নজির গড়েছে। সাফল্যের এই খতিয়ানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চালিকাশক্তি ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলির সভাপতি এখন ভুটান।

পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির সংলগ্ন ভুটানের সীমান্তে কড়া নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডা লোটে শেরিং। সীমান্ত এলাকার মাইলের পর মাইল ঘুরে নিয়মিত করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক।

বিপর্যস্ত বাংলার প্রতিবেশি দেশে করোনায় মৃত মাত্র এক

bhutan corona

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ রুখতে একদিন কুয়াশা ঢেকে থাকা অরণ্যের মাঝে গুলির ঝড় তুলেছিল রয়াল ভুটান আর্মি। ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির তখন ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এমনই ভুটান কিন্তু অদৃশ্য ঘাতক করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালাচ্ছে। ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। গত ১ বছর চার মাসের মধ্যে মৃত ১ জন!

পশ্চিমবঙ্গের পাশের এই দেশ আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্ত দিয়ে ঘেরা প্রতিবেশি ভুটান (ড্রাগনভূমি)। উত্তরবঙ্গ যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন এই এলাকা লাগোয়া বিদেশে চলছে করোনা বিরোধী মারাত্মক লড়াই।

রাজ্যের তিনটি জেলার লাগোয়া দক্ষিণ ভুটানের অন্তত ছটি জেলায় যখনই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে তখনই দেশটির সরকার জারি করেছে এলাকাভিত্তিক লকডাউন। ভুটান স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ রিপোর্ট (৯.৭.২১) বলছে ২ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত, ১,৯০০ জনের বেশি সুস্থ হয়েছেন। মৃত ১ জন।

আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সতর্ক সব দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আশঙ্কিত। পশ্চিমবঙ্গের আগামী করোনা পরিস্থিতি কী হবে তাও চিন্তার। আর একের পর এক সব সীমান্ত ফটক বন্ধ করে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ভুটান অসম এক লড়াইয়ে মত্ত।

ড্রাগন ফটকগুলি বন্ধ হলেও দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ১৮৩ কিলোমিটারের সীমান্তের বেশিরভাগই খোলা। ১৯৪৯ সালে জওহরলাল নেহরুর অবিস্মরণীয় ভুটান সফরের পর ভারতের সঙ্গে ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল ভুটান। সেই চুক্তির বলে দুই দেশের জনগণ ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন। জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এই সীমান্ত সংলগ্ন দুই দেশের গ্রামগুলিতে কড়া নজর রেখে চলেছে ভুটান সরকার। শ’য়ে শ’য়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুটানের এই করোনা যোদ্ধাদের নাম অরেঞ্জ ফাইটার্স। ভুটানে পরিচিত ডি সুং (ডি সুপ) নামে। মূলত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সীমিত পরিকাঠামো দিয়ে অতি আধুনিক মানের এই বাহিনির (কমলা যোদ্ধা) কর্মকুশলতায় চমকে গিয়েছে হু। দুর্গম এলাকার কোনও অংশই বাকি নেই তাদের নজরদারি থেকে। এলাকাভিত্তিক গণস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিরাট প্রয়োগ করছে অনুন্নত দেশের তালিকায় থাকা ভুটান।

ফল মিলছে হাতে হাতে। কড়া বাঁধুনিতে মোড়া দেশটি এখন করোনা বিরোধী লড়াইয়ে বিশ্বের কাছে চমক। এই চমকের আরও বাকি আছে। ভুটানের লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে ভুটানকে সভাপতির পদে বসিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলি (WHA)। এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় হু। সদস্য দেশগুলি একযোগে সমর্থন করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভুল উচ্চারণে ব্যাঙ্গ করে ‘বাটন’ বা বোতামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভুটানকে WHA সভাপতি পদে মেনে নিতে হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই।

নিষিদ্ধ দেশ ঠিক নয়। তবে নিজেকে রহস্যের ঘেরাটোপে রেখে চমকে দেওয়া ভুটান কিন্তু এমনই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা লোটে শেরিং বাংলা ভালোই বোঝেন ও বলেন। তাঁর সূক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক নজরে থাকছে এই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। তাঁর নির্দেশে রোজকার তথ্য বিশ্লেষণে হচ্ছে পরের দিনের পরিকল্পনা। করোনা বিরোধী লড়াইয়ে রোজই দুর্গ রক্ষায় কোমরবেঁধে নেমে পড়ছেন ভুটানিরা।