Bhutan: করোনায় মৃত ৩ জন ! ওমিক্রন রুখতে নামলেন ড্রাগন রাজা

Bhutan government starting to prevent covid 19

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধ প্রস্তুতি। রক্ষা করতে হবে করোনা বিরোধী শক্তিশালী দুর্গকে। যে দুর্গের বিখ্যাত ড্রাগন দরজা পেরিয়ে অদৃশ্য জীবাণু ঘাতক হামলা করলেও গত দু বছরে তেমন কিছু ক্ষতি করতে পারেনি। এমনই দুর্গ-ভুটান (Bhutan) ফের তৈরি। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত জেলা, মফস্বল, প্রবল ঠান্ডায় কুঁকড়ে থাকা গ্রামাঞ্চলেও চলছে প্রতিরোধের ছক চলছে।

বিশ্ব কাঁপতে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আতঙ্কে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সেটি। বিশেষজ্ঞেররা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার থেকেও ভয়াবহ। করোনাভাইরাস হামলা রুখেছে গুটিকয়েক দেশ। তাদের অন্যতম লাওস, ভিয়েতনাম। তাদেরই সঙ্গে এক সারিতে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশ ভুটান।

ভুটানের সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুকের নির্দেশে সরকার সংগ্রহ করছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সর্বশেষ তথ্য। চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ও তাঁর সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেচেন ওয়াংমোর আধুনিক জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজোড়া প্রশংসিত।

ড্রাগন রাজার ফরমান সরকারের মাধ্যমে ‘ড্রাগনভূমি’র সর্বত্র ছড়িয়েছে। এই ফরমানে বলা হয়েছে, যে অরেঞ্জ ফাইটাররা কোভিড লকডাউন পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করেছিলেন তাদের পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কারণ, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আরও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

থিম্পুর রাজবাড়ি থেকে নির্দেশ আসতেই ভুটান জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল ব্যস্ততা। নির্দেশ এসেছে, করোনা মোকাবিলায় বিখ্যাত কমলা যোদ্ধাদের (ডি সুং বা ডি সুপ) পরবর্তী ব্যাচগুলিকে দেশের ২০টি জেলাতেই নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। বিশেষত ভারত লাগোয়া জেলাগুলিতে নজর দিতে বলা হয়েছে।

ভারত ও চিনের মাঝে ছোট দেশ ভুটান। উত্তরে চিনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ভারত লাগোয়া এলাকা নিয়েই চিন্তা ভুটান সরকারের। সড়কপথে বিশ্বের সঙ্গে এদিক দিয়েই সংযোগ রক্ষা করে ভুটান সরকার। ভারত সংলগ্ন ভুটানের জনবহুল জেলাগুলির অন্যতম চুখা, সমদ্রুপ জংখার।

পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অসম, অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভুটানের সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারের সঙ্গে ভুটান সংলগ্ন। এখানেই আছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম স্থলপথ বাণিজ্যকেন্দ্র ফুন্টশোলিং-জয়গাঁ সীমান্ত। ভুটানের চুখা জেলার ফুন্টশোলিং ও ভারতের দিকে আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁর মাঝে বিখ্যাত ‘ভুটান গেট’।

করোনা লকডাউন পর্বে এই বিখ্যাত ভুটান গেট বন্ধ করে বিশ্ব থেকে স্থলপথে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ভুটান। এরপর দেশব্যাপী শুরু হয়েছিল করোনা প্রতিরোধ। সীমান্তের এপারে যখন পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যু মিছিল চলছিল তখন ওপারে ভুটানের এলাকায় সংক্রমণ রুখতে মরণপণ চেষ্টা চালায় দেশটির সরকার। সেই কাজে তাদের সফলতা দেখে চমকে গিয়েছে দুনিয়া। অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকদের হামলা রুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিস্ময় নাম এখন ভুটান। তারা ফের তৈরি।

Fuel price: উত্তরবঙ্গের কাছে জলের চেয়ে একটু বেশি দরে মিলছে পেট্রোল-ডিজেল

bhutan Fuel price

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ওপারে সস্তার জ্বালানি এপারে চলছে হা হুতাশ। এও এক জ্বালা। কিন্তু পরিস্থিতি যে আগের মতো নয়। হতচ্ছাড়া করোনা এসেই অবাধ ঢোকাঢুকি বন্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সেঞ্চুরি হাঁকানো দামে প্রবল জ্বালা। ছটফট করছেন ভারতীয়রা। আর ওপারে ভুটানের বিকোচ্ছে আশি টাকার ঘরেই!

আন্তর্জাতিক ভর্তুকির সুবিধায় ভুটানে পেট্রোল ডিজেলের মূল্য ৮০ নু (Nu) ঘরে। এই নু অর্থাৎ নিউলট্রম। ভুটানি মুদ্রার নাম। ১ নু= ১ রুপি। এই মূল্যমান। সেই মান অনুসারে ভুটানে আশির চৌকাঠে রয়েছে পেট্রোল ও ডিজেল!

নেহরু আমল থেকে দুই দেশের মৈত্রী চুক্তি অনুসারে ভারত ও ভুটানের মধ্যে মুদ্রামান থাকে সমান। এই অবস্থায় ভারতীয়রা ভুটান থেকে পেট্রোল ডিজেল কিনলে অন্তত কুড়ি টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। কিন্তু মাঝে আছে করোনা বিধি। হুটহাট করে আর সীমান্তের বিরাট ড্রাগন আঁকা ভুটান গেট পেরিয়ে প্রতিবেশি দেশে ঢুকে পেট্রোল ডিজেল কেনার উপায় নেই।

সোমবার সন্ধ্যায় ভুটানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা সর্বশেষ জ্বালানি মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেল মূল্য নজিরবিহীনভাবে সর্বাধিক। এই তালিকা অনুসারে ভুটানের চুখা জেলার সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিংয়ে ১ লিটার পেট্রোলের দাম ৮৩.৯৮ নু এবং ডিজেল মূল্য লিটার পিছু ৮০.৯৩ নু।

ভুটান সরকারের তালিকায় এই দেশের হা শহরে সর্বাধিক পেট্রোল মূল্য লিটার পিছু ৮৭.২০ নু। আর ডিজেল মূল্য প্রতি লিটার ৮৩.৭২ নু। চিন সীমান্তের হা উপত্যকা থেকে বহু নিচে ভারতের জয়গাঁ শহরে লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেল ১০০ রুপি পার করেছে অনেক আগেই।

ভারত ও ভুটানের মুদ্রা বিনিময় মূল্য সমান (১=১) হওয়ায় ভারতীয়রা ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিং থেকে যে করেই হোক পেট্রোল,ডিজেল কিনতে মরিয়া। অভিযোগ, এই সুযোগে সীমান্তের দু পারেই গোপনে চলছে বেআইনি লেনদেন।

ভুটানের ফুন্টশোলিংয়ের উল্টোদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁ। দুটি শহর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক আদান প্রদানের কেন্দ্র। গত দু বছর ধরে করোনা সংক্রমণের কারণে ভুটান অত্যন্ত কড়াকড়ি নিয়ম চালু করে। সেই কারনে আর হুট করে কেউ ভুটানের ফুন্টশোলিং শহরে ঢুকতে পারেন না।

<

p style=”text-align: justify;”>করোনা প্রদুর্ভাবের আগে জয়গাঁ ও নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সস্তায় পেট্রোল ডিজেল কিনতে ভুটানেই ঢুকতেন। আপাতত তেমনটা হচ্ছে না।

বিপর্যস্ত বাংলার প্রতিবেশি দেশে করোনায় মৃত মাত্র এক

bhutan corona

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ রুখতে একদিন কুয়াশা ঢেকে থাকা অরণ্যের মাঝে গুলির ঝড় তুলেছিল রয়াল ভুটান আর্মি। ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির তখন ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এমনই ভুটান কিন্তু অদৃশ্য ঘাতক করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালাচ্ছে। ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। গত ১ বছর চার মাসের মধ্যে মৃত ১ জন!

পশ্চিমবঙ্গের পাশের এই দেশ আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্ত দিয়ে ঘেরা প্রতিবেশি ভুটান (ড্রাগনভূমি)। উত্তরবঙ্গ যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন এই এলাকা লাগোয়া বিদেশে চলছে করোনা বিরোধী মারাত্মক লড়াই।

রাজ্যের তিনটি জেলার লাগোয়া দক্ষিণ ভুটানের অন্তত ছটি জেলায় যখনই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে তখনই দেশটির সরকার জারি করেছে এলাকাভিত্তিক লকডাউন। ভুটান স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ রিপোর্ট (৯.৭.২১) বলছে ২ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত, ১,৯০০ জনের বেশি সুস্থ হয়েছেন। মৃত ১ জন।

আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সতর্ক সব দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আশঙ্কিত। পশ্চিমবঙ্গের আগামী করোনা পরিস্থিতি কী হবে তাও চিন্তার। আর একের পর এক সব সীমান্ত ফটক বন্ধ করে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ভুটান অসম এক লড়াইয়ে মত্ত।

ড্রাগন ফটকগুলি বন্ধ হলেও দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ১৮৩ কিলোমিটারের সীমান্তের বেশিরভাগই খোলা। ১৯৪৯ সালে জওহরলাল নেহরুর অবিস্মরণীয় ভুটান সফরের পর ভারতের সঙ্গে ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল ভুটান। সেই চুক্তির বলে দুই দেশের জনগণ ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন। জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এই সীমান্ত সংলগ্ন দুই দেশের গ্রামগুলিতে কড়া নজর রেখে চলেছে ভুটান সরকার। শ’য়ে শ’য়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুটানের এই করোনা যোদ্ধাদের নাম অরেঞ্জ ফাইটার্স। ভুটানে পরিচিত ডি সুং (ডি সুপ) নামে। মূলত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সীমিত পরিকাঠামো দিয়ে অতি আধুনিক মানের এই বাহিনির (কমলা যোদ্ধা) কর্মকুশলতায় চমকে গিয়েছে হু। দুর্গম এলাকার কোনও অংশই বাকি নেই তাদের নজরদারি থেকে। এলাকাভিত্তিক গণস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিরাট প্রয়োগ করছে অনুন্নত দেশের তালিকায় থাকা ভুটান।

ফল মিলছে হাতে হাতে। কড়া বাঁধুনিতে মোড়া দেশটি এখন করোনা বিরোধী লড়াইয়ে বিশ্বের কাছে চমক। এই চমকের আরও বাকি আছে। ভুটানের লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে ভুটানকে সভাপতির পদে বসিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলি (WHA)। এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় হু। সদস্য দেশগুলি একযোগে সমর্থন করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভুল উচ্চারণে ব্যাঙ্গ করে ‘বাটন’ বা বোতামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভুটানকে WHA সভাপতি পদে মেনে নিতে হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই।

নিষিদ্ধ দেশ ঠিক নয়। তবে নিজেকে রহস্যের ঘেরাটোপে রেখে চমকে দেওয়া ভুটান কিন্তু এমনই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা লোটে শেরিং বাংলা ভালোই বোঝেন ও বলেন। তাঁর সূক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক নজরে থাকছে এই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। তাঁর নির্দেশে রোজকার তথ্য বিশ্লেষণে হচ্ছে পরের দিনের পরিকল্পনা। করোনা বিরোধী লড়াইয়ে রোজই দুর্গ রক্ষায় কোমরবেঁধে নেমে পড়ছেন ভুটানিরা।