নরেন্দ্র মোদী মুখে যা বলেন কাজে তা করেন না, প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ চিদম্বরমের

Chidambaram slams PM Modi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। মঙ্গলবার দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, নরেন্দ্র মোদী মুখে যেটা বলেন কাজে সেটা করেন না। তিনি দু’দিন আগেই বলেছিলেন সরকার যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মুখের কথায় যে বিশ্বাস করা যায় না সেটা সংসদের অধিবেশনেই প্রমাণ হয়ে গেল। সে কারণেই কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল।

চিদম্বরম বলেন, সরকার ও বিরোধীরা আলোচনা করে একমত হল না, কিন্তু পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে সব বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা কখনও করেন না। বিতর্কহীন সংসদীয় গণতন্ত্রের দীর্ঘ জীবন কামনা করি। চিদম্বরম আরও বলেন, তবে শুধু কৃষি আইন প্রত্যাহার করলেই হবে না, কৃষকদের আরও বেশ কয়েকটি যুক্তিযুক্ত দাবি আছে। সরকারকে সেগুলিও মানতে হবে।

সম্প্রতি কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুখির একের পর এক অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার কথাও টেনে আনেন চিদম্বরম। তিনি বলেন, সহনশীল হিন্দুত্ব ব্রিগেডের চোখ রাঙানির কারণেই ফারুখির অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। দিল্লিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে গির্জায়। অথচ আমরা গর্ব করে বলি যে, ভারত একটি সহনশীল দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করে। কিন্তু বিজেপি সরকারের আচরণে সে কথা আর জোর দিয়ে বলা যুক্তিযুক্ত হবে কিনা সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।

কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস হওয়ায় চিদম্বরমের সুরে সুর মিলিয়ে মোদীকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রিয়াঙ্কা বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে ৭০০ জন কৃষক শহিদ হয়েছেন। অথচ সেই শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সরকার সংসদে শোক প্রস্তাব পেশ করার সৌজন্যও দেখায়নি। আসলে মোদী শুধু ভোটের কথা ভাবেন। মানুষের কথা, কৃষকের কথা ভাবেন না। লখিমপুর খেরির ঘটনা নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা হল না। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আগামী দিনে মোদীর ঔদ্ধত্যের উচিত জবাব দেবে মানুষ।

উপনির্বাচনের ফলাফলের বাইপ্রোডাক্ট হিসেবেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমল: চিদম্বরম

chidambaram petrol price

News Desk: ২৯টি বিধানসভা এবং তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের ফলাফলের বাইপ্রোডাক্ট হিসেবেই পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য হ্রাস হল। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্তে এটাই প্রমাণ হল যে, মোদি সরকার মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কারণেই পেট্রোপণ্যের দাম লাগামছাড়াভাবে বেড়ে চলেছে।

কংগ্রেস দিনের পর দিন এই অভিযোগ করেছে। সেই অভিযোগ যে কতটা সত্যি সেটা আজ সকলেই বুঝতে পারছেন। মোদি সরকারের লোভের কারণেই দেশে পেট্রোপণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য হ্রাস করা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম (P Chidambaram)।

দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এটা ঠিক। কিন্তু সেটা কখনওই এতটা বাড়েনি যে, দেশের বাজারে পেট্রল, ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আসলে মোদি সরকার দিনে-দুপুরে মানুষের পকেট কাটছে। মোদি সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হল তাদের কয়েকজন শিল্পপতি বন্ধুর পকেট ভরানো। দেশের বাকি মানুষের কি হল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। সে কারণেই তারা লাগামছাড়াভাবে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছিল। উপনির্বাচনের ফলাফল এবং কয়েক মাসের মধ্যেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মোদি সরকার শেষ মুহূর্তে সামান্য দাম কমিয়ে চমক দেখাতে চাইছে।

পেট্রোল-ডিজেলের হঠাৎ করে দাম কমানো প্রসঙ্গে কংগ্রেস এদিন মোদি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা (priyanka gandhi) গান্ধী বলেছেন, মোদি সরকার মন থেকে নয়, ভয় পেয়ে পেট্রোপণ্যের দাম কমিয়েছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালাও Randeep Sing Surjawala)মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, চলতি বছরে মোদি সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলে ২৮ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২৬ টাকা বাড়িয়েছে। এখন তারা প্রতি লিটার পেট্রোলে ৫ টাকা এবং ডিজেলে ১০ টাকা দাম কমিয়ে দেওয়ালির উপহার বলে চিৎকার করছে। আসলে এটা মোদি সরকারের এক বড় জুমলা।

আরজেডি নেতা তথা দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ Lalu Prasad) যাদবও একই কথা বলেছেন। লালুর দাবি, পেট্রোল ডিজেলে লিটার প্রতি ৫০ টাকা করে দাম কমানো উচিত ছিল। কিন্তু মোদি সরকার সেটা করেনি। চমক দিতে লিটারপ্রতি মাত্র ৫ ও ১০ টাকা দাম কমিয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাস পরে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলে মোদি সরকারের ফের পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেবে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা যশবন্ত সিনহা (Yasbant Sinha)বলেছেন, পেট্রোপণ্যের দাম যতটা কমানো উচিত ছিল ততটা কমেনি। মোদি সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আদৌ চিন্তিত নয়। মোদি সরকার যদি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতো তবে কখনওই এভাবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ত না। মোদি সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে মাটির কোনও যোগ নেই। যদি থাকতো তাহলে তাঁরা দেখতে পেতেন, পেট্রোল- ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।