Hindustan: হিন্দুদের ছাড়া ভারতের কোন অস্তিত্ব থাকতে পারে না: মোহন ভাগবত

Mohan Bhagwat

নিউজ ডেস্ক, গোয়ালি়র: ফের ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র (Hindustan) বলে দাবি করে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। শনিবার গোয়ালিয়রে এক অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, হিন্দুদের ছাড়া কখনওই ভারত হতে পারে না। আবার ভারতকে বাদ দিয়ে হিন্দুদের কোন অস্তিত্ব থাকে না। অর্থাৎ ভারত থেকে হিন্দুদের অস্তিত্ব কখনই আলাদা হতে পারে না। তাই ভারতে থাকতে হলে হিন্দুদের মেনে নিয়েই থাকতে হবে।

যথারীতি ভাগবতের মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই বলেছেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার থাকার কারণেই এভাবে উস্কানিমূলক কথাবার্তা প্রকাশ্যে বলতে পারছেন ভাগবত। এই প্রবীণ নেতা যেভাবে প্রকাশ্যেই উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন সেটা কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় না থাকলে কখনওই করা যেত না। ভাগবতের এ ধরনের মন্তব্যে দেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি হতে পারে বলেও অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শনিবার গোয়ালিয়রের ওই অনুষ্ঠানে সংঘ প্রধান বলেন, ভারত তার নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এটাই হিন্দুত্বের সারকথা। এ কারণেই তো ভারত হিন্দুদের দেশ। দেশভাগের সময় ভারতকে ভেঙে তৈরি হয়েছিল পাকিস্তান। আমরা হিন্দু এই ধারণাটি ভুলে যাওয়ার কারণেই ভারত এক সময় ভেঙে গিয়েছিল। ভাগবত দাবি করেন, হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। কমছে হিন্দুদের শক্তি। কমে গিয়েছে হিন্দুত্বের আবেগ। তাই হিন্দুরা যদি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় তাহলে ভারতকেও অখন্ড হতে হবে। এর আগেও একটি অনুষ্ঠানে দেশভাগ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভাগবত বলেছিলেন, দেশভাগের কারণে ভারতকে কী ধরনের দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে সেটা হিন্দুদের কখনওই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। একমাত্র দেশভাগের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে তবেই সেই যন্ত্রণা ভোলা যাবে।

এনসিবি কর্তা ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ মন্ত্রী নবাব মালিকের বিরুদ্ধে

Minister Nawab Malik

নিউজ ডেস্ক: ৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে এক প্রমোদতরী থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন শাহরুখ খানের বড় ছেলে আরিয়ান খান। আরিয়ানকে গ্রেফতার করেই খবরের শিরোনামে এসেছিলেন নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর তরুণ অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ে। এনসিবি তথা সমীরের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই তোপ দেগেছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক।

তিনি বলেছেন এনসিবির তদন্তকারীরা শাহরুখ ও তাঁর ছেলেকে অকারণে হেনস্তা করছে। কিন্তু এবার মন্ত্রী নবাব মালিকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করলেন ওই এনসিবি কর্তা। সমীরের অভিযোগ, তাঁকে কাজ করতে প্রতি পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকেও নানা ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। ওই এনসিবি কর্তা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি নিশ্চিতভাবেই আইনি পদক্ষেপ করবেন।

মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে এনসিপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী নবাব মালিক অভিযোগ করেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতেও ওয়াংখেড়ে মলদ্বীপে গিয়েছিলেন। সে সময় বহু বলিউড তারকাও মলদ্বীপে ছিলেন। মলদ্বীপে সমীর ওই সমস্ত বলিউড তারকাদের কাছ থেকে রীতিমতো তোলা আদায় করেন বলে সব নবাবের দাবি।

মন্ত্রীর আরও অভিযোগ করেন, এনসিবি অফিসার সমীর মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে এনসিবির মাদক মামলা কতটা ভিত্তিহীন। তবে শুধু মলদ্বীপে নয়, সমীর দুবাই থেকেও তোলা আদায় করেছেন বলে নবাবের অভিযোগ। মলদ্বীপ ও দুবাইয়ে সমীর কিভাবে তোলা আদায় করেছেন তার ছবিও তিনি শীঘ্রই প্রকাশ করবেন বলে নবাব জানান।

শুক্রবার নবাবের তোলা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সমীর। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মন্ত্রী মিথ্যা কথা বলছেন। আমি আমার পরিবার নিয়ে মলদ্বীপে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলাম। অফিসের কাছ থেকে রীতিমতো অনুমতি নিয়ে আমরা বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি কারোও সঙ্গেই দেখা করিনি। গত ডিসেম্বরে আমি মুম্বইতেই ছিলাম। অথচ মন্ত্রীর অভিযোগ আমি দুবাই গিয়েছিলাম। মন্ত্রী পুরোটাই মিথ্যা বলছেন।

সমীর আরও বলেছেন, তিনি কারও সঙ্গে আপোস করতে রাজি নন। এনসিবির একজন অফিসার হিসেবে সত্য অনুসন্ধান করাই তাঁর কাজ। আর তিনি সেটাই করছেন। সে কারণেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। মন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করায় তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

BIG UPDATES: কাশ্মীর দখলে তালিবানদের সাহায্য চাইল মুম্বই হামলার মূলচক্রী মৌলানা মাসুদ আজহার

jaish chief masood azhar

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।

২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার মাসুদ আজহারের কাশ্মীর দখলের স্বপ্নে তালিবানদের সামিল করায় জল্পনা আরও বাড়ল।

কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।

১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার।

চলতি মাসে ক্ষমতা দখলের পর এক বিবৃতিতে তালিবানরা জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করা হবে না। যদিও ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে।

কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”। সংবাদ সংস্থা এএনআই (Asian News International) জানিয়েছে, পাকিস্তানের ঘটনা তালিবানদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

মাসুদের সুর শোনা গিয়েছে ইমরান খানের দলের নেত্রী মুখেও:
তালিবানের সাহায্যেই ভারতের হাত থেকে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে পাকিস্তান! প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর এক নেত্রী এই দাবিই করেছেন টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে। নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। এবার কার্যত তাতেই শীলমোহর দিল তহেরিক-ই-ইনসাফ নেত্রী। শোয়ের শেষদিকে তিনি আবার তিনি জানান, তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

এর কয়েকদিন আগেও ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেও দেখা গিয়েছিল সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে।

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছিলেনন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। এবার ইমরান খানের দলের নেত্রীর মুখেও একই সুর শোনায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।