Victor Escobar: স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি, জনসমক্ষে দেহে প্রবেশ করল প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন

Victor Escobar

স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভিক্টর এস্কোবার (Victor Escobar)৷ তাও জনসমক্ষে। শেষ ভিডিও বার্তায় বললেন, ‘দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি’। বেনজির সিদ্ধান্ত কলম্বিয়ান সরকারের।

দেহ অভ্যন্তরীণ কোনও সমস্যা ছাড়াই প্রশাসনের স্বেচ্ছা অনুমতির সিদ্ধান্ত বেনোজির। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই প্রথম কোনো লাতিন আমেরিকানকে এমন অনুমতি দিয়েছে সরকার। টানা দু’বছর ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন এস্কোবার। মেডিকেল সাপোর্ট ছাড়া নিতে পারতেন না শ্বাস-প্রশ্বাস। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ৷ মৃত্যু বরণ করে নেওয়ার আগে তাঁর মুখে ছিল হাসি। বলে গিয়েছেন, ‘সি ইউ শুন’- শীঘ্র দেখা হবে।

ষাট বছর বয়সী ভিক্টরের অন্তিত কিছু কথা, ‘একে একে সকলেরই সময় আসবে৷ আমি ‘বিদায় বন্ধু’ বলতে চাই না। আবার দেখা হবে এই বিশ্বাস রাখি। আমরা সকলেই একদিন ঈশ্বরের কোলে জায়গা করে নেবো।’ ক্যাথোলিক হিসেবে পরিচিতি ছিল এস্কোবারের।

ক্যালি শহরে মৃত্যু বরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তাঁকে জানানো হয়েছে বিদায়। সামাজিক মাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। উপস্থিত ছিলেন পরিবার, প্রিয়জনেরা। ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ দেহে প্রবেশ করানোর কিছু পরেই ইহলোক ত্যাগ করেন ভিক্টর এস্কোবার।

চার্চ আত্মহত্যা কিংবা স্বেচ্ছামৃত্যুতে অনুমতি দেওয়া না বলেই জানা যায়৷ এক্সোবার ছিলেন ক্যাথলিক৷ এক্ষেত্রে তাঁর মৃত্যুবরণ শুধু কলম্বিয়াতেই নয়, বিশ্বের কাছে বিরল এক ঘটনা৷ এই প্রথম কোনো ল্যাটিন আমেরিকান সরকার নিয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ২০২১ সালের জুলাই মাসে, সেখানকার এক আদালতের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল।

শিক্ষার আলো ছড়াতে শিক্ষিতদের ফেলে দেওয়া বই দিয়েই তৈরি লাইব্রেরি

Jose Alberto Gutierrez

বিশেষ প্রতিবেদন: শিক্ষিত হলেই যে কেউ শিক্ষার মর্ম বুঝবে তার কোনও মানে নেই। না হলে কেন রাস্তায় পড়ে থাকবে বই। আবার বিশাল ডিগ্রি না থেকেও কেউ হতে পারেন প্রকৃত শিক্ষিত। তেমনই একজন হোসে আলবার্তো গুটিরেজ (Jose Alberto Gutierrez)। ফেলে দেওয়া বই দিয়েই বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত একটা লাইব্রেরি।

আলবার্তো গুটিরেজ পেশায় ময়লা বহনকারী ট্রাকের ড্রাইভার। রাতের বেলা কাজে বেরোতেন। কাজ করার সময় তিনি খেয়াল করলেন, আবর্জনার সঙ্গে বইও পড়ে রয়েছে। তা সংগ্রহ করেই বানিয়ে ফেলেছেন লাইব্রেরি। কলম্বিয়ার এই মানুষটির জীবনে ফোটেনি শিক্ষার আলো, আর সেই তিনিই সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বানিয়ে ফেলেছেন ফেলে দেওয়া বইয়ের লাইব্রেরী।

Jose Alberto Gutierrez

লিও টলস্টয়ের আন্না কারেনিনা বইটি যখন গুটিরেজ আবর্জনার মধ্যে খুঁজে পেলেন তিনি অবাক হয়েছিলেন। এত গুরুত্বপূর্ণ বই কিনা স্থান পেয়েছে ডাস্টবিনে! ভেবেছিলেন এই বইয়ের স্থান তো এখানে নয়। গুটিরেজ নিজে ময়লাকর্মী হতে পারেন। কিন্তু, তিনি ঠিকই টলস্টয়কে জানেন। তাই তিনি বইটি সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আবর্জনার স্তুপ থেকে খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বের নানা ক্ল্যাসিক বই।

গুটিরেজ বইগুলো সংগ্রহ করতে থাকলেন। সেই ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু। এখনো তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন। অদ্ভুত হলেও সত্যি এবং আশ্চর্যের এই যে তার সংগ্রহশালায় বইয়ের সংখ্যা ছাড়িয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজারে! তিনি মনে করেন উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান যা রেখে যেতে পারি তাই হল আসল শিক্ষা।

Jose Alberto Gutierrez

কলম্বিয়ার বোগাটায় একটি দরিদ্র অঞ্চলে থাকেন গুটিরেজ। এই এলাকার কিশোররা পড়ার সুযোগ পায় কম। অল্প বয়সে তাদের কাজের সন্ধানে নেমে পড়তে হয়। এমনই এক এলাকায় গুটিরেজ এখন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য ময়লাবাহী ট্রাক ড্রাইভাররা এখন বই পেলে তাকে এসে দিয়ে যান। তিনি শিক্ষা উপকরণ দিয়েছেন ২৩৫ টি স্কুল, কমিউনিটিকে। তার সংগৃহীত বইগুলো দিয়ে তিনি একটি কমিউনিটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন।

৫৫ বছর বয়সী গুটিরেজ গত কুড়ি বছর এই কাজ করে চলেছেন। সংগৃহিত বই তিনি দান করেন বিভিন্ন লাইব্রেরিতে। তার সংগ্রহের বইয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে ৪৫০টির বেশি লাইব্রেরি, রিডিং সেন্টার, স্কুলের পাঠকক্ষ। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন তিনি গোটা কলম্বিয়াকে বই দিয়ে পরিপূর্ণ করবেন।

ফাইনালে আর্জেন্তিনা, মার্টিনেজে মুগ্ধ মেসি

ব্রাসিলিয়া: দেশকে প্রথমবার খেতাব জেতার লক্ষ্যে সাম্বার দেশে পা-রেখেছেন লিওনেল মেসি৷ ফাইনালে আর্জেন্তিনার খেতাব জয়ের সামনে সেই ব্রাজিল৷ গতবার ফাইনালে নেইমারদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসির৷ তবে আর্জেন্তিনার ফাইনালে ওঠার নায়ক মেসি নন, নায়ক হলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পেনাল্টি শুট-আউটে তিনটি সেভ আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে তুললেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। এই পর্বে মার্টিনেজের বীরত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্তিনা। ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জেতে মেসি অ্যান্ড কোং৷

টাই-ব্রেকার এড়াতে চেয়েছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু সেমিফাইনালে সেই ভাগ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হল মেসিদের৷ যাতে ব্যবধান গড়ে দিলেন মার্টিনেস। কলম্বিয়ার তিনটি শট ঠেকিয়ে দলকে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তোলার নায়ক এই গোলরক্ষক। আগামী রবিবার রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালে টাই-ব্রেকারে উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল কলম্বিয়া। হুয়ান কুয়াদরাদোর প্রথম শট গোল হলেও। দাভিনসন সানচেস ও ইয়েরি মিনার পরের দু’টি শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্টিনেজ। মিগুয়েল বোরহার বুলেট গতির শট আটকাতে না-পারলেও কারদোনার শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন মার্টিনেজ। সেই সঙ্গে ফাইনালে ওঠার উচ্ছ্বাসে মাতেন আর্জেন্তাইন ফুটবলাররা৷

ম্যাচের পর দলের গোলরক্ষকের মার্টিনেজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেসি বলেন, ‘আমাদের দলে এমি রয়েছে, যে একটা ফেনোমেনন। আমরা ওর ওপর আস্থা রেখেছিলাম। ফাইনালে পৌছনোর পাশপাশি টুর্নামেন্টের সবক’টি ম্যাচ খেলার আমাদের লক্ষ্যও পূর্ণ হল।’ ‘ফেনোমেনন’, শব্দটা শুনলেই ব্রাজিলের ৯ নম্বর জার্সি গায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে তছনছ করে দেওয়া রোনাল্ডোর কথা মনে পড়ে। তবে কোপা সেমিফাইনালের রাতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনাও নিজেদের ‘ফেনোমেনন’-কে পেল আর্জেন্তিনা৷

আক্রমণাত্মক শুরু করা আর্জেন্তিনা এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে। বল পায়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কলম্বিয়ার ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা গনসালেসকে। কিন্তু তাঁর হেড অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্তিনাকে। সোলসোর কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান মেসি। কলম্বিয়ান এক ডিফেন্ডার বলে পা-ছোঁয়ালেও দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মেসি পাস বাড়ান মার্টিনেজকে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি৷ ফলে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি টুর্নামেন্টে এটি মেসির পঞ্চম অ্যাসিস্ট৷ কোপা আমেরিকার ইতিহাসেই যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে কোপায় আর্জেন্টিনার শেষ ১১ গোলের নয়টাতেই থাকল মেসির অবদান। পরের মিনিটেই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ ছিল কলম্বিয়ার সামনে। বাঁ-দিক থেকে ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে যান কুয়াদরাদো। কিন্তু তাঁর রুখে দেন আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনা এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান লুইজ দিয়াজ৷ ম্যাচের শেষ তিরিশ মিনিট কোনও দলই গোল করতে পারেনি৷ ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে৷ আর এতে বাজিমাত করে আর্জেন্তিনা৷