KMC Election: ভোটে নিরাপত্তার সুব্যবস্থা আছে আদালতে জানাল কমিশন

security arrangements in the polls

News Desk: কলকাতা পুর নিগম নির্বাচন (KMC Election) প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিরাপত্তার সুষ্ঠু ব্যবস্থা আছে। আদালতে এমনই জানাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

আগের নির্বাচন গুলিতে ভোটারদের অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার কী হবে আদালত জানতে চায়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী রত্নাকর ব্যানার্জি আদালতে জানান, যে কোনওরকম অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিরোধী দল বিজেপি ও বিধানসভা না থাকলেও বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অভিযোগ, পূর্ববর্তী ভোটগুলির অভিজ্ঞতা বলে দিচ্ছে কলকাতা পুর নির্বাচন কেমন হতে পারে। তবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পুর নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।

কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন এবং গণনার দিন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা পুলিশ কে আর ফোর্স দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে কমিশন জানায়, নির্বাচনী নিরাপত্তায় কমিশনের নির্দেশে কলকাতা পুলিশ কমিশনার কাজ করছেন। কুইক রেসপন্স টিম, মোবাইল ভ্যান, নাকা পুলিশ, এছাড়াও নজরদারি চালানো হচ্ছে শহরের ঢোকার মুখে। হাওড়া, বিধাননগর, উত্তর ও দক্ষিণ২৪ পরগনার থেকে কলকাতা ঢোকার মুখে প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে।

সমস্ত বুথে অস্ত্রধারী পুলিশ, সমস্ত সেক্টরে RT ভ্যান, সমস্ত জেলা বর্ডারে জেলা পুলিশ সতর্ক থাকবে। হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বিধান নগর পুলিশকে কলকাতা পুলিশের সাথে বর্ডার এলাকায় একসাথে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

বাংলা ও কেরলের রাজ্যসভা আসনের ভোট গ্রহণের দিন ঘোষণা করল কমিশন

election commission Of India Office

News Desk, New Delhi: পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের একটি করে রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ২৯ নভেম্বর এই দুইটি আসনে নির্বাচন হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষ ১৫ সেপ্টেম্বর ইস্তফা দিয়েছিলেন। অর্পিতার ছেড়ে যাওয়া আসনেই উপ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করল কমিশন।

অন্যদিকে কেরলের সংসদ জেকে মণি পদত্যাগ করায় তাঁর আসনটিও শূন্য হয়। ওই আসনেও ভোটগ্রহণ করা হবে।জেকে মণি ইস্তফা দিয়েছিলেন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। কিন্তু করোনাজনিত কারণে কেরলের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছিল কমিশন। সাংসদ পদে মণির মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত। অর্থাৎ মণির জায়গায় যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি প্রায় পৌনে তিন বছর সাংসদ হিসেবে থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত অর্পিতার সাংসদ পদে মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। অর্পিতার জায়গায় যিনি সাংসদ নির্বাচিত হবেন তিনি আগামী সাড়ে চার বছর সাংসদ পদে থাকতে পারবেন।

কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও বাংলায় আদৌ উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির উপস্থিতি এতটাই নগণ্য যে আগের দু’টি রাজ্যসভা উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। কারণ বিরোধী বিজেপি প্রার্থী দিতে পারেনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জহর সরকার ও সুস্মিতা দেব জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগের দুইবারের মতো এবারও বাংলায় রাজ্যসভার উপনির্বাচনের কোনও প্রয়োজন হবে না। কারণ শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে নিজেদের মুখ পোড়াতে চাইবে না বিজেপি। পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থী দিলে বিজেপির প্রকৃত বিধায়ক সংখ্যা কত সে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। তাই প্রার্থী দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশ্যে আসুক সেটা চাইবে না বিজেপি।

কমিশন এদিন ভোটের যে নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে ৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি করা হবে ১৭ নভেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ২২ নভেম্বর। ২৯ নভেম্বর হবে ভোটগ্রহণ। ওইদিনই ভোট গণনা হবে। ভোট গ্রহণ চলবে সকাল ৯’টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত। গণনার কাজ শুরু হবে বিকেল ৫ টায়। কমিশন জানিয়েছে, বাংলা ও কেরলের এই দুই আসনের ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াটি প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হবে ১ ডিসেম্বরের আগে।
কমিশন যে দুটি আসনের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে তার মধ্যে বাংলার নির্বাচন নিয়ে শাসকদলের তেমন কোনও উদ্বেগ নেই।

কারণ পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একটাই কৌতুহল সেটা হল, এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস এবার কাকে প্রার্থী করবে। অর্পিতার পদত্যাগের কয়েকদিন আগেই বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাবুল তাঁর সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বাবুলকেই কি ফের রাজ্যসভার সাংসদ করে পাঠাবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! নাকি বাবুল ছাড়া অন্য কাউকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কে এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন।

লখিমপুর খেরি কাণ্ডে তদন্ত কমিশনের প্রধানকেই সরিয়ে দিল যোগী সরকার

Yogi into the Lakhimpur Kheri

নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি (Lakhimpur Kheri) কাণ্ডে তদন্ত করছে বিশেষ ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিআইজি উপেন্দ্র কুমার আগারওয়াল।

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এক নির্দেশে সিট প্রধান উপেন্দ্র কুমারকে বদলি করে দিয়েছে। লখিমপুর জায়গাটি লখনউ রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সিট প্রধান উপেন্দ্র কুমারকে বদলি করা হয়েছে গোন্ডা রেঞ্জে।

তবে সরকারের দাবি, উপেন্দ্র কুমার সিটপ্রধান হিসেবেই লখিমপুর খেরির তদন্ত করবেন। ইতিমধ্যেই এই মামলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে-সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লখিমপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে আশিসের গাড়ির ধাক্কায় ৪ কৃষক-সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার তদন্ত করছে সিট। সিটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল উপেন্দ্র কুমার। ২০০৫ ব্যাচের আইপিএস আধিকারি উপেন্দ্র কুমারকে এবার সরিয়ে দিল যোগী প্রশাসন। এদিন রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, বদলি করা হলেও সিটের প্রধান হিসেবেই এই মামলার তদন্ত করবেন উপেন্দ্র কুমার আগারওয়াল।

লখিমপুরের মত এত বড় একটি ঘটনার যিনি তদন্ত করছেন হঠাৎ করে কেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল ইতিমধ্যেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ এই মামলায় মন্ত্রীর ছেলেকে গ্রেফতার করে যোগী সরকারের বিষ নজরে পড়েন উপেন্দ্র। তাই এই মামলার তদন্তভার উপেন্দ্রর হাতে থাকলে আগামী দিনে আরও বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই তাঁকে তড়িঘড়ি বদলি করা হল। এখনও তিনি সিট প্রধান থাকলেও আগামী দিনে তাঁকে সেই পদ থেকে সরানো হবে বলে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা।

৩ অক্টোবর লখিমপুরে মন্ত্রীর ছেলের গাড়ির ধাক্কায় ৪ কৃষক-সহ ৮ জনের মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর অভিযুক্ত আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় মন্ত্রীর ছেলের নাম জড়ানোর পর থেকেই লখিমপুরের ঘটনা বিশেষ মাত্রা পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র অবশ্য লখিমপুরের ঘটনায় তাঁর ছেলের জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

২৬ অক্টোবর লখিমপুর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন যোগী সরকারকে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে লখিমপুর নিয়ে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্টে এখনও পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এই ঘটনায় সমস্ত সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করে তা পেশ করার নির্দেশও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।