GST: ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ সব রাজ্যকে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, দাবি কেন্দ্রের

GST is increasing, the price of daily necessities will increase with the new year!

News Desk, New Delhi: ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য গুডস অ্যান্ড এবং সার্ভিস ট্যাক্স বা GST বাবদ কেন্দ্র কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে দিয়েছে? জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যে পাওনা আছে তা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রক কী চিন্তা-ভাবনা করছে? সোমবার সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নুসরত জাহান।

নুসরতের এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের প্রতিটি রাজ্যকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯, এবং ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের পাওনা সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে জিএসটি আদায় কম হলেও রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০২০-র এপ্রিল থেকে ২০২১- এর মার্চ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬১২৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। জিএসটি কাউন্সিলের ৪১ এবং ৪২ তম বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যকে ক্ষতিপূরণ বাবদ কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, করোনাজনিত কারণে গত অর্থবর্ষে জিএসটির আদায় অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু রাজ্যগুলিকে সাহায্য করতে কেন্দ্র ১.১ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে। প্রত্যেকটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ঋণ বাবদ নেওয়া অর্থ থেকে শুধু পশ্চিমবঙ্গকে ৪৪৩১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০২০-র এপ্রিল থেকে ২০২১-এর মার্চ পর্যন্ত জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ পশ্চিমবঙ্গের পাওনা রয়েছে ১৬৯৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতিটি পাই- পয়সা কেন্দ্র রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মিটিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জিএসটি আইন ২০১৭ অনুযায়ী পরর্বর্তী পাঁচ বছর রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জিএসটি আদায় কম হওয়ায় সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ মেটাতে কেন্দ্র ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বাজার থেকে ১.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাজার থেকে নেওয়া এই ঋণ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছে কেন্দ্র।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এদিন এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ কী পরিমাণ অর্থ বকেয়া আছে তাও জানিয়ে দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ৬৭২৩ কোটি টাকা বকেয়া আছে। কর্নাটকের বকেয়া আছে ৩৫২৮ কোটি টাকা। গুজরাতের বকেয়ার পরিমাণ ৩১৪৫ কোটি কোটি টাকা এবং উত্তরপ্রদেশের বকেয়া রয়েছে ৩১২০ কোটি কোটি টাকা।

‘গলতি সে মিসটেক’: ভুল চুল কাটায় স্যালনের মাশুল ২ কোটি টাকা

compensation for wrong hair treatment

বিশেষ প্রতিবেদন: সেলুনে চুল কাটতে গিয়ে চুলের সেটিং ঘেঁটে ‘ঘ’। রেগে দু’চারখানা বিশেষণ আওড়াতে পারেন, আর গাঁট গচ্ছা শ’খানেক টাকা। পুরো বিষয়টাই আপনার খরচার খাতায়। একই ঘটনা, কিন্তু মডেলকে দু’কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঘটনা দিল্লির। চুল ভুল কাটা এবং খারাপ করে দেওয়ার দায়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মাশুল দিতে হবে দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলের স্যালনকে। এমনই নির্দেশ কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশন বা এনসিডিআরসির। মূল ঘটনা ২০১৮’র এপ্রিল মাসের। এখন তার ফল পেতে পারেন আশনা রায় নামে এক মডেল। অবশ্য এই সময়ে তার কেরিয়ার খরচার খাতায় চলে গিয়েছে বলে দাবী করেছেন তিনি, সৌজন্যে হোটেল চেনের স্যালন। তাই তিনি দাবী করেছিলেন তিন কোটির ক্ষতিপূরণ। তিন বছর কোর্টের মনে হয়েছে সত্যি ই বড় ক্ষতি হয়েছে মডেলের। তাই নির্দেশ দু’কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের।

compensation for wrong hair treatment

আশনা রায় নামের ওই মডেল নিজের লম্বা চুলের জন্য মডেলিং জগতে নজর কেড়েছিলেন। তিনি চুল কীভাবে ভালো রাখা যায় এমন সব পণ্যেরই মডেল ছিলেন। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল তিনি তাঁর নতুন হেয়ারকাটের জন্য গিয়েছিলেন দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলের স্যালনে। তাঁর অভিযোগ ছিল, চুল ভুলভাল কাটে ওই স্যালন। দাবী, ওই ঘটনার পরে আশনা সেলুনের ম্যানেজারকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। তখন ম্যানেজার তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নিখরচায় হেয়ার ট্রিটমেন্ট করে দেওয়ার।

মডেলের দাবি ছিল, হেয়ার ট্রিটমেন্টে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তার চুলের আরও ক্ষতি করে দেয়। তাঁর বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়, কারণ দেশের প্রথম সারির একাধিক সংস্থা তাঁর বড় চুলের জন্যই তাঁর সঙ্গে মোটা অঙ্কের বিজ্ঞাপনের চুক্তি করেছিল। তা ছোট এবং খারাপ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বড় আর্থিক ক্ষতি হয় তাঁর। মডেলের দাবী, ওই স্যালন তাঁর বড় মডেল হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয়। এই ঘটনা তাঁকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। তিনি বাধ্য হন মডেলিং কেরিয়ার থেকে সরে আসতে। এই অভিযোগ নিয়েই তিনি এনসিডিআরসি’র দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর পর কমিশনের নির্দেশ ওই মডেলকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তা দিতে হবে আট সপ্তাহের মধ্যে।

এদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবী, মডেল যে কারণে এই ক্ষতিপূরণ দাবী করেছেন তা পুরোপুরি ভাবে সাজানো এবং অতিরঞ্জিত ঘটনার উপর ভিত্তি করে সাজানো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছেন ওই মডেল।