Covid19: শেষ সাত দিনে ৭১ শতাংশ সংক্রমণ, করোনা যেন মরণহীন রক্তবীজ

২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত গোটা বিশ্বে করোনার (Covid) সংক্রমণ বেড়েছে ৭১ শতাংশ। চলতি বছরে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে করোনার সংক্রমণ ঝড়ের গতিতে বেড়ে চলেছে। এর মূল কারণ করোনার নতুন প্রজাতি ওমিক্রন।মরণহী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান শুক্রবার আরো একবার বলেছেন, ওমিক্রন প্রাণঘাতী নয় এটা ঠিক। কিন্তু এই ভাইরাসকে অবহেলা করলে তার জন্য অনেক বড় মাশুল গুনতে হবে। ইতিমধ্যেই তার প্রমাণও সকলেই পেয়েছে। প্রায় গোটা দুনিয়াকে ঘরবন্দি করে ফেলেছে ওমিক্রন। 

বিশ্বের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রতিটি প্রান্তে করোনার সংক্রমণ ঝড়ের গতিতে ছড়াচ্ছে। তবে করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রনের সংক্রমণে মৃত্যুহার অনেকটাই কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনায় নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা আগের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে ২৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ছুঁই ছুঁই। মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজারের কোঠায়।

এদিনই জানা গিয়েছে, শেষ ২৪ ঘন্টায় আমেরিকায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭.২৮ লাখ। মৃতের সংখ্যা ১৮৪৩। ব্রাজিল, উরুগুয়ে, বলিভিয়ার মত দেশেও সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

একই পরিস্থিতি ইউরোপের ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ডের মত একাধিক দেশে। সব দেশেই সংক্রমণ রাতারাতি বেড়ে চলেছে। শেষ ২৪ ঘন্টায় ফ্রান্সে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২.৫৯ লাখ মানুষ। মৃতের সংখ্যা ২০৪। ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা ২.২৯ লাখ। মৃতের সংখ্যা ২০৩। জার্মানিতে ৫৯ হাজার ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এদেশের মৃতের সংখ্যা কিছুটা বেশি। জার্মানিতে ২৪ ঘন্টায় ২৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তাসমানিয়াতেও রীতিমতো করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ ঘন্টায় বেশ কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এদেশে মৃতের সংখ্যা অনেকটাই কম।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও পূর্ব পশ্চিমের দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। পশ্চিমের একাধিক দেশ মনে করছে, আগামী দিনে করোনাকে নিয়ে সকলকেই পথ চলতে হবে। তাই এখন থেকেই মানসিকতার বদল প্রয়োজন। দীর্ঘদিন তো আর ঘরবন্দি থাকা যায় না।

অন্যদিকে পূর্বের দেশগুলি বলেছে, যেভাবেই হোক না কেন সবার আগে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে আরও অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চিন, জাপান-সহ একাধিক দেশ কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই সব দেশে।

কোভিড মোকাবিলায় আজ থেকে শহরে চালু হচ্ছে সেফহোম

Firhad Hakim

নিউজ ডেস্ক: সংক্রমণ বাড়ছে কলকাতায়। এই পরিস্থিতিতে শহরে ফের সেফ হোম, কনটেনমেন্ট জোন চালু করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে কলকাতায়। পজিটিভিটি রেট ১২ শতাংশ। এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিনে। ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘‌কলকাতায় ৮০ শতাংশই উপসর্গহীন। ১৭ শতাংশের সামান্য উপসর্গ রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একটা ঘরে হয়তো ৬-৭ জন থাকেন, তাঁদের তো আইসোলেশনের দরকার হয়। আমাদের সেফ হোম সোমবার থেকে চালু হয়ে যাচ্ছে। কোনও বাড়ি বা আবাসনে ৫-৬ টা কেস থাকলে কনটেন্টমেন্ট জোন করা হবে।’‌

শহরবাসীর জন্য ফিরহাদের বার্তা, ‘‌উপসর্গহীনদের প্রথমবার টেস্ট করার ৫ দিন পর ফের টেস্ট করা হবে। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আপত্তি নেই।’‌ পুরসভার কর্মীদের জন্যও একই বার্তা দেন তিনি।

Omicron: ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ, জৌলুস হারালো বড়দিন

Omicron: Europe is trembling with fear, Christmas is lost

News Desk: করোনার প্রকোপ সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে হেঁটেছে গোটা বিশ্ব। জাঁকজমকের সাথেই পালন হয়েছে নানা উৎসব। কিন্তু বর্তমানে ওমিক্রন আতঙ্কে বিধ্বস্ত ইউরোপ। এরই মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছে বড়দিন এবং কয়েকদিন পরেই বর্ষববরণ। এই উৎসবের আমেজে ওমিক্রন সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে প্রশাসন।

আজ বড়দিন। ওমিক্রনের সংক্রমণ রুখতে কার্যত ফিকে হয়ে পড়েছে ইউরোপের বড়দিনের উৎসব। বড়দিনের পর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওমিক্রনের জেরে স্বাস্থ্য কাঠামো আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে হু।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওমিক্রন সংক্রমণ থেকেই এখনও সামলে উঠতে পারেনি ইউরোপ। এরই মাঝে উঠে আসছে ডেলমিক্রনের নাম। কিন্তু কি এই ডেলমিক্রন? অনেকেই মনে করতে পারেন এটি ওমিক্রনের নতুন মিউটেশন। কিন্তু তা নয়। জানা গিয়েছে, ডেলমিক্রন শব্দটি এসেছে ডেল্টা ও ওমিক্রনের সংমিশ্রণে। করোনার নতুন প্রজাতি ওমিক্রন এবং পুরনো প্রজাতি ডেল্টার মিলিত কোপে বড় মাত্রায় বাড়তে পারে সংক্রমণ। তাই বলা যায়, গোটা বিশ্ব যেখানে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে সেখানে ভয় কাঁপছে ইউরোপ।

কোভিড পজিটিভ রাফায়েল নাদাল, অনিশ্চিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে

Rafael Nadal

Sports desk: টেনিস সুপারস্টার রাফায়েল নাদালের করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় টুইট করে ভক্তদের এই তথ্য জানিয়েছেন নাদাল। প্রসঙ্গত, আবুধাবিতে টুর্নামেন্ট খেলার পরে, নাদাল তার বাড়িতে করোনা পরীক্ষা করান, এরপরেই তার পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

নাদালের টুইটারে ভক্তদের উদ্দ্যেশ্যে পোস্ট, “নমস্তে। আমি ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম যে আবুধাবি টুর্নামেন্ট খেলে দেশে ফিরে, আমি পিসিআর পরীক্ষা করেছি যেখানে আমার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে”।

নাদালের চলতি মাসের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে মেলবোর্নে যাওয়ার কথা ছিল।এখন রাফা’র করোনায় আক্রান্ত হওয়ার জেরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলা কঠিন হয়ে পড়ছে। আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলা হবে। করোনা পজিটিভ আসার পর রাফায়েল নাদালকে নিজের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার সংস্পর্শে আসা সবাইকে করোনা পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।

আবুধাবিতে খেলা প্রদর্শনী ম্যাচে অ্যান্ডি মারের কাছে হারের মুখে পড়তে হয় নাদালকে। নাদালকে ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়েছেন মারে।

Kanpur: করোনাজনিত অবসাদে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করলেন এক চিকিৎসক

Doctor kills wife and children in Kanpur

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের কানপুরের (kanpur) এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সুশীল কুমার (shusil kumar)। করোনা আক্রান্তদের (corona infected) মৃত্যু দেখতে দেখতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এই প্রবীণ চিকিৎসক। মানসিক অবসাদের (mental depression ) কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করলেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের মানুষ চমকে উঠেছেন।

জানা গিয়েছে, চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতলে যুক্ত থাকার কারণে বিগত দেড় বছর ধরে একের পর এক করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু সামনে থেকে দেখেছেন তিনি। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ কিভাবে মৃত্যু মিছিলের কারণ হয়ে উঠেছিল তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন সুশীল কুমার। সম্প্রতি করোনার নতুন প্রজাতি ওমিক্রনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সুশীল তাঁর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ওমিক্রনের হাত থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে ওই চিকিৎসক নিজের হাতেই স্ত্রী চন্দ্রপ্রভা (৪৮) ও ছেলে শিখর (১৯) ও মেয়ে খুশিকে (১৬) হত্যা করেন। পুলিশ চিকিৎসকের স্ত্রী ও সন্তানদের দেহের কাছ থেকে একটি নোট উদ্ধার করেছে।

ওই নোটে সুশীল কুমার লিখেছেন, ‘আমি আর লাশ গুনতে চাই না’। স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সুশীল কুমারের সংসার। তিনি কানপুরের ইন্দিরা নগরের বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎই ওই চিকিৎসকের ভাইয়ের মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। সেখানে সুশীলকুমার লিখেছিলেন, মানসিক অবসাদের কারণে তিনি নিজের ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করেছেন। এই মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুশীলের ভাই বিষয়টি পুলিশকে জানান পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই চিকিৎসকের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল একটি ভারী হাতুড়ি ও সুশীল কুমার এর লেখা ওই চিঠি।

চিঠিতে সুশীলকুমার লিখেছেন, তিনি নিজে এক দুরারোগ্য অসুখে ভুগছেন। তিনি তাঁর পরিবারকে কোনও রকম সমস্যায় ফেলতে চান না। ইতিমধ্যেই করোনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নতুন প্রজাতি ওমিক্রনের কারণে আরও বহু মানুষ মারা যাবে। তাই নতুন করে তিনি আর মৃত্যু দেখতে পারছেন না। একই সঙ্গে ওই চিকিৎসক লিখেছেন, একটি ভুলের কারণে তিনি একই জায়গায় আটকে আছেন। সেখান থেকে বের হওয়া তাঁর পক্ষে দুঃসাধ্য। স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়েকে খুন করার পর অবশ্য সুশীল কুমার নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি কোথায় আছেন তা জানতে পুলিশ তল্লাশি করছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর হদিশ মেলেনি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভারি হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে খুন করেছেন সুশীল কুমার। ছেলে ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন। সম্ভবত শুক্রবার সকালের দিকেই এই খুনগুলি করেছেন তিনি।

Omicron: ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা ৬ যাত্রী করোনা পজিটিভ, ফের আতঙ্ক মহারাষ্ট্রে

panic in Maharashtra

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা দেশ থেকে আগত ৬ পর্যটক করোনা পজিটিভ (corona positive)। তবে আক্রান্তরা ওমিক্রন ভেরিয়েন্টে (Omicron varient) আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা ৬ যাত্রী করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে নতুন করে মহারাষ্ট্রে (maharastra) উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, সম্প্রতি কেন্দ্র নির্দেশে দিয়েছে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বিমানবন্দরেই করোনা পরীক্ষা (corona test) করতে হবে। সেই পরীক্ষা করার পরেই ৬ যাত্রীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। ওই ছয়জনের মধ্যে দু’জনের শরীরে মৃদু উপসর্গ ছিল। বাকিরা অবশ্য উপসর্গহীন। স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে আক্রান্তদের সোয়াবের নমুনা ইতিমধ্যেই জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন তা জানতে খোঁজ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মুম্বইয়ের কল্যান-ডোম্বিভ্যালির বাসিন্দা। চতুর্থজনের বাড়ি পুণে। বাকি দু’জন নাইজেরিয়ার নাগরিক। ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে বুধবার থেকেই দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আগত যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা কোনও ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা বলেছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রের পাশাপাশি করোনা রুখতে মহারাষ্ট্র সরকারও নতুন করে বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। মহারাষ্ট্র সরকার তার নির্দেশে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে কোনও যাত্রী এলে তাঁকে বাধ্যতামূলক ভাবে সাতদিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। বিমানবন্দরে পরীক্ষার সাত দিন পর ফের ওই যাত্রীর করোনা পরীক্ষা করা হবে। রাজ্য সরকার তার নির্দেশে আরও জানিয়েছে, যারা বিদেশ থেকে আসবেন তাদের বিগত ১৫ দিনের ভ্রমণের বিস্তারিত বিবরণ বা ট্রাভেল হিস্ট্রি জানাতে হবে। অর্থাৎ তাঁরা ওই সময়ের মধ্যে অন্য কোনও দেশে গিয়েছে কিনা, গিয়ে থাকলে কতদিন সেখানে ছিলেন সে বিষয়ে জানাতে হবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। যদি কোনও যাত্রী বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Bengaluru: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসত্য বলায় ১৭ মাস ধরে মর্গে পচছে কোভিডে মৃতের দেহ

Durga Sumithra, 40, and Muniraju, in his 50s, died on July 2 last year

News Desk, Bengaluru: করোনা ভাইরাস বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। দেশের একাধিক পরিবারকে নিদারুণ আঘাত দিয়েছে এই মারণ ভাইরাস। কিন্তু বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) দুই পরিবারকে করোনা এমন একটা আঘাত দিল যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।

২০২০ সালের ২ জুলাই (July) করোনা সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হয়েছিল বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা দূর্গা সুমিত্রা (Druga Sumitra) (৪০) ও মুনিরাজু (৫০) (Muniraju) নামে দুই জনের । সেসময় বেঙ্গালুরু এমপ্লয়িজ স্টেট ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন অ্যান্ড মডেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, করোনায় (Corona) মৃতদের দেহ কখনওই পরিবারের হাতে দেওয়া যাবে না। এমনকী, দুই পরিবারের সদস্যদের তাঁদের মৃত আত্মীয়কে শেষ দেখাও দেখতে দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছিল, সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে দেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হবে না। তারাই মৃতদেহ দু’টি সৎকার করবেন।

কয়েকদিন আগে ওই হাসপাতালের এক কর্মী মর্গে ঢুকে দেখতে পান, দু’টি দেহ এখন পড়ে রয়েছে। প্রায় ১৭ মাস ধরে দেহ দু’টি মর্গে পচছে। হাসপাতাল কর্মীর মুখ থেকে এই কথা জানার পর বেঙ্গালুরুর দুই পরিবারে এক অভাবিত নতুন ধাক্কা লাগল। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি দেহ দু’টির শেষকৃত্য না হওয়ায় আরও এক নতুন আঘাত লেগেছে তাঁদের।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কেন এরকম হল তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই মৃত দুই ব্যক্তির পরিবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। জানা গিয়েছে, দেহ দুটি ময়নাতদন্তের পর শেষকৃত্যের জন্য তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকেই বলেছেন, যদি ওই দুইজনের করোনায় মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে কিভাবে সেই দেহ এখন পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে?

এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক সুরেশ কুমার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মৃতদের দেহ নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছে বেঙ্গালুরুর এমপ্লয়িজ স্টেট ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন অ্যান্ড মডেল হাসপাতাল। এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

Matilda Kullu: ফোর্বসের প্রভাবশালীদের তালিকায় ঠাঁই পেলেন ওড়িশার আশাকর্মী মাতিলদা কুল্লু

Odisha ASHA worker Matilda Kullu

News Desk: চলতি বছরে ফোর্বসের (forbs) প্রকাশ করা দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকায় রয়েছে একটি বড়সড় চমক। কারণ এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ওড়িশার (odisha) আদিবাসী আশাকর্মী মাতিলদা কুল্লু (Matilda Kullu)।

বছর ৪৫-এর এই আদিবাসী মহিলাকে অভিনেত্রী রসিকা দুগ্গল, নিউজ অ্যাঙ্কার অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের সঙ্গে একই আসনে বসাল ফোর্বস। ফোর্বসের এই স্বীকৃতি এটাই প্রমাণ করে যে, ক্ষেত্রটি যতই ছোট হোক না কেন নিজের মতো করে নিজের কাজটা করে গেলে একদিন গোটা বিশ্বের কাছেই তার স্বীকৃতি মেলে।

১৫ বছর আগে ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার গর্গডবহল গ্রামে আশা কর্মী হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন মাতিলদা। তিনি যখন চাকরি পেয়েছিলেন সে সময় গর্গডবহল গ্রামটি ছিল সম্পূর্ণভাবে কুসংস্কারের চাদরে মোড়া। গোটা গ্রামের মানুষ কালা জাদু, তুকতাকে বিশ্বাস করত। কিন্তু সেই পরিস্থিতি আজ আমূল বদলে দিয়েছেন এই আশা কর্মী। এক সামাজিক অভিশাপ থেকে এই পিছিয়ে পড়া গ্রামকে মুক্ত করতে পেরেছেন তিনি। তবে মাতিলদার এই কাজটা আদৌ সহজ ছিল না। এই কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার কঠিন বিপদের সামনেও পড়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও মাতিলদা নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও সরে আসেননি।

Odisha ASHA worker Matilda Kullu

মাতিলদা জানিয়েছেন, তিনি যখন চাকরি পেয়েছিলেন তখন ওই গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে কেউ চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে চাইত না। তারা ওঝার কাছে রোগ সারানোর জন্য ছুটত। ছিল জাতপাতের তীব্র লড়াই। তিনি যখন মানুষের সেই অন্ধ বিশ্বাস ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন তখন তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে হুমকি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই গ্রামে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে মানুষকে আজ অনেকটাই কুসংস্কারের কবল থেকে বের করে আনতে পেরেছেন। এটাই তাঁর চাকরি জীবনের বড় সাফল্য। মানুষের মনের এই অন্ধকার দূর করতে মাতিলদার প্রয়াসকে স্বীকৃতি দিল ফোর্বসের মত আন্তর্জাতিক সংস্থা।

মাতিলদা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাঁর কাজের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়েছে। কারণ প্রতিদিন তিনি কমপক্ষে ৫০ টি বাড়িতে গিয়ে মানুষকে করোনা পরীক্ষার কথা, করোনার হাত থেকে বাঁচতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তা বোঝানোর কাজ করেছেন। নিজে আক্রান্ত হতে পারেন, সেই বুঝেও ঝুঁকি নিয়েও তিনি এই কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। এই কঠিন গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য মাতিলদার মত আশা কর্মীরা যে খুব একটা বেশি বেতন পান তা নয়। বরং তাঁদের মাসিক বেতন এতটাই কম যে তা দিয়ে একজন মানুষেরও ভালোভাবে পেট চলতে পারে না। তবে দেশের সরকার এ ধরনের মানুষগুলিকে যথাযথ সম্মান না দিলেও মাতিলদার মতো আশাকর্মীদের গুরুত্ব বুঝতে ভুল করেনি ফোর্বস। সে কারণেই দেশের প্রভাবশালী মহিলাদের মধ্যে মাতিলদাকেও বেছে নেওয়া হল।

কোভিডের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমেছে, চাঞ্চল্য অক্সফোর্ডের সমীক্ষায়

নিউজ ডেস্ক: গত বছর থেকেই করোনা সংক্রমণের ফলে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের ডেল্টা প্রজাতি নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এবার সামনে এল আরও এক ভয়াবহ তথ্য। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের মানুষের গড় আয়ু কমেছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এবার প্রথম, যখন ব্যাপক কমেছে মানুষের গড় আয়ু। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন কোভিড-১৯ আক্রান্তের আত্মহত্যা করোনায় মৃত বলে বিবেচিত হবে: আদালতকে জানাল কেন্দ্র 

মোট ২৯টি দেশের মানুষদের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। দেখা গিয়েছে, ২০২০ সালে করোনার প্রকোপে মানুষের গড় আয়ু উদ্বেগজনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু করোনা সংক্রমণই নয়। সংক্রমণের ফলে হওয়া আনুষাঙ্গিক রোগ এবং চিন্তাও মানুষের গড় আয়ুর কমার অন্যতম কারণ। 

আরও পড়ুন কোভিডে মৃতদের চিতাভস্ম দিয়ে পার্ক তৈরি হচ্ছে ভোপালে

যদিও এর মধ্যেই স্বস্তির খবর ভারতের জন্য। আগেই বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা জানিয়ে দিয়েছিল, সম্ভবত ভারতে এন্ডেমিকের শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দৈনিক আক্রান্তর সংখ্যা কমে হয়েছে ১৮,৭৯৫। মৃতের সংখ্যাও কমেছে। এই মুহূর্তে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ২ লক্ষ ৯২ হাজার ২০৬। ছয় মাস পরে দেশের অ্যাক্টিভ আক্রান্তর সংখ্যা তিন লক্ষের কম। 

 

কোভিড-১৯ আক্রান্তের আত্মহত্যা করোনায় মৃত বলে বিবেচিত হবে: আদালতকে জানাল কেন্দ্র

Covid 19

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার কোভিড-১৯ এর কারণে আত্মহত্যার ঘটনাকে করোনার কারণে মৃত্যু হিসাবে বিবেচনা করবে। কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে একথা জানিয়েছে৷ যদি কেউ কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আত্মহত্যা করে, তবে এটি কোভিডের কারণে মৃত্যু হিসাবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে করোনা ডেথ সার্টিফিকেট থেকে আত্মহত্যা বাদ দিয়ে তার নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিল। কমপ্লায়েন্স রিপোর্টে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালত কিছু প্রশ্নও তুলেছিল। প্রকৃতপক্ষে, কোভিড-১৯ মৃত্যুর শংসাপত্রটি করোনার কারণে মৃত্যুতে আত্মীয়দের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

বিচারপতি এম আর শাহ এবং বিচারপতি এএস বোপান্নার একটি বেঞ্চ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেছিলেন, আপনি বিশেষভাবে বলেছেন যে যদি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন, তাহলে তিনি এই ধরনের শংসাপত্র পাওয়ার অধিকারী হবেন না। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মেহতা বলেছিলেন, আদালত উত্থাপিত উদ্বেগগুলি বিবেচনা করা হবে। অ্যাডভোকেট গৌরব কুমার বানসাল এবং রিপাক কানসালের আবেদনে ৩০ জুন পাস হওয়া আদেশের পরে, কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রকৃতপক্ষে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের যৌথ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আত্মহত্যা, হত্যা বা দুর্ঘটনার কারণে প্রাণহানির ঘটনাকে করোনার কারণে মৃত্যু হিসাবে বিবেচনা করা হবে না, এমনকি যদি এটি কোভিড সংক্রমিত হয়।

Online Class: খোলা ল্যাপটপের সামনে বসানো ‘প্রক্সি’, পাশে অঘোরে ঘুমাচ্ছে ছাত্রী

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের দাপটে দুনিয়াজুড়ে লকডাউন। সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি শিক্ষাঙ্গনে ঝাঁপ পড়েছে অনেক আগেই। ফলে বাড়ি থেকেই চলছে পঠনপাঠন। মোবাইল কিংবা ল্যাপটপেই উঠে আসছে গোটা ক্লাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল শিক্ষায় ই-স্কুলের কার্যকারিতা নিয়ে খুব বেশি স্বপ্ন না দেখাই মঙ্গল। সে কথাই বুঝিয়ে দিল ছোট্ট একটি ছবি।

আরও পড়ুন অনলাইন নয়, অন সাইকেলে ক্লাস তিলাবনীর কমলাকান্ত স্যারের

সামনে খোলা ল্যাপটপে ক্লাস চলছে, কিন্তু ল্যাপটপের সামনে নেই পড়ুয়া। পাশেই খাটে শুয়ে আছে সে, শিক্ষকের হাত থেকে বাঁচতে ল্যাপটপের সামনে রেখে দিয়েছে প্রক্সি। প্রক্সি হিসেবে রাখা একটি পুতুলের মাথা। পুতুলের মুখে মাস্ক, চোখে সানগ্লাস। অনেকেই বলছেন, এভাবে শিক্ষককে বোকা বানানো সম্ভব? শিক্ষকই বা কেমন যে তিনি বুঝলেনই না ছাত্রী ল্যাপটপের সামনে নেই? অন্যদিকে অনেকে আবার বলছেন ল্যাপটপের ছোটো স্ক্রিনে বোঝা সম্ভব নয় যে কে ঠিক কী করছে।

INTERESTING ZOOM CLASS | ZIP103FM

যদিও সমস্যাটা অন্য জায়গায়। প্রথমত, ভারতের মতো বহু দেশেই অসংখ্য নিম্নবিত্ত পড়ুয়ার বিদ্যালয়মুখী হওয়ার একটা মূল কারণ দুপুরের খাবার বা ‘মিড ডে মিল’। ঠিক এই পরিস্থিতিতে দেশজোড়া অনলাইন ক্লাসের গল্প আদতে পরিহাস। দ্বিতীয়ত, যারা এই সুবিধা পাচ্ছেও, তারা তা কাজে লাগাতে পারছে না। মনোবিদরা বলছেন, হঠাৎ করেই গোটা ক্লাসরুম ভার্চুয়ালি ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে উঠে আসায় সমস্যায় পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা।

আরও পড়ুন অনলাইন ক্লাস করছে আপনার সন্তান, এই বিষয়গুলো নজরে রাখা জরুরি

এক তো কোভিড পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী হয়ে ক্লাস করা তাদের মনের ওপর প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও শিক্ষাদানে অনলাইনে শিক্ষাদান, ভিডিও লেকচার, টিভি বা রেডিওতে সম্প্রচার ইত্যাদির ব্যবহার এই সময় অত্যন্ত কম। এমনকি উচ্চশিক্ষার একেবারে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেও উন্নত দেশগুলিতে এই ব্যবস্থা সেভাবে লাগু হয়নি। ফলে করোনা সংক্রমণের ফলে অনলাইনে শিক্ষাদান একমাত্র রাস্তা হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠে গেল।

কোভিডে মৃতদের চিতাভস্ম দিয়ে পার্ক তৈরি হচ্ছে ভোপালে

নিউজ ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই লাশের স্তূপ জমা হয়েছিল ভোপাল-সহ মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায়। শুধু মধ্যপ্রদেশই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও করোনায় মৃতদের অন্ত্যেষ্টি করতে রীতিমতো ঝক্কি পোহাতে হয়েছে পরিবার-পরিজনদের। এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যে কবরস্থানে জায়গা সঙ্কুলান হচ্ছিল না। শ্মশানে দিন–রাত চুল্লি জ্বালিয়েও দাহ শেষ করা যায়নি। ১৯৮৪ সালে ঘটে যাওয়া ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সঙ্গে যেই পরিস্থিতির ভয়ঙ্কর মিল রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দারা। অনেকেই জানিয়েছিলেন ভোপাল গ্যাস ট্রাজেডির পর এই প্রথম এভাবে সারি সারি মৃতদেহের শেষকৃত্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন Center Alert: কোভিডের জাল ভ্যাকসিন সম্পর্কে রাজ্যকে সতর্ক করল নয়াদিল্লি

ভোপালের ভাদভাদা বিশ্রাম ঘাটে মার্চ থেকে জুন, এই তিন মাসে ৬ হাজার দেহ পোড়ানো হয়েছে। সেই সময় ভোপালের ভাদভদা শ্মশানের এক কর্মী জানিয়েছিলেন, প্রত্যেক দিন ১০০-১৫০ কুইন্টাল কাঠ কেটেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না তাঁরা। কাঠ কেটে হাতে ফোস্কা পড়ে গিয়েছে তাদের। ‘শারীরিক এবং মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এত দেহ আসছে যে খাওয়ার সময় পর্যন্ত পাচ্ছেন না।’’ একইসঙ্গে অভিযোগ উঠেছিল, মধ্যপ্রদেশ সরকারের তরফে সেখানকার করোনা আক্রান্ত ও তাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান গোপন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন ভ্যাকসিন কাজ করবে না করোনার নতুন স্ট্রেনে, ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য


আরও পড়ুন আছে করোনা ভয়, তা থাক, সৈকত শহর দিঘার ডাকে স্পেশাল ট্রেনের বুকিং শুরু

অন্যদিকে অন্ত্যেষ্টির পর কোভিড বিধির কারণে অনেক পরিবারই চিতাভস্ম নিয়ে নিয়ে জলে ভাসাতে পারেনি। ভাদভাদা শ্মশানেই জমে রয়েছে প্রায় ২১ ট্রাক চিতাভস্ম। এই চিতাভস্মকেই এবার কাজে লাগাতে চায় মধ্যপ্রদেশ প্রশাসন। সেই চিতাভস্মের সঙ্গে মাটি, গোবর, কাঠের গুঁড়ো, বালি মিশিয়ে কোভিডে মৃতদের স্মৃতিতে এবার তৈরি হবে পার্ক। মৃতের পরিবার চাইলে প্রিয়জনের স্মৃতিতে চারা রোপণ করতে পারবেন সেই পার্কে।