ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝে স্বস্তির খবর, একসাথে অনুমোদন পেল দুটি ভ্যাকসিন

News of relief amid the Omicron panic, two vaccines approved simultaneously

News Desk: দেশে ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সময় করোনার এই নতুন প্রজাতির মোকাবিলায় একইসাথে করোনার দুটি ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্ডব্য টুইট করে একথা জানিয়েছেন।

সিডিএসসিও অর্থাৎ সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন ভারতে করোনা প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য কর্বেভ্যাক্স ও কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন দুটিকে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি, জরুরীভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগ মলনুপিরাভিরও অনুমোদন পেয়েছে।

হায়দ্রাবাদের বায়োলজিক্যাল-ই সংস্থার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন কর্বেভ্যাক্স ভারতে তৈরি প্রথম আরবিডি প্রোটিন সাব-ইউনিট ভ্যাকসিন। একইসাথে কর্বেভ্যাক্স ভারতে তৈরি তৃতীয় ভ্যাকসিন।

অপর ভ্যাকসিন কোভোভ্যাক্সের নির্মাণকারী সংস্থা পুনের সিরাম ইনস্টটিউট অফ ইন্ডিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগ মনুপিরাভির দেশের ১৩ টি সংস্থা তৈরি করবে।

ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝেই একসাথে দুটি ভ্যাকসিন এবং একটি অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগের অনুমোদন নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তিকর ঘোষণা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

Booster Dose: ৯ মাস আগে টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া ব্যক্তিরাই বুস্টার পাবেন

covid booster shot

নিউজ ডেস্ক : গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে করোনার বুস্টার ডোজ প্রয়োগের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে করোনার বুস্টার ডোজের (booster dose) প্রয়োগ শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও একেবারে সামনের সারির কোভিড যোদ্ধারা পাবেন এই ডোজ। এছাড়াও ষাটোর্ধ্ব কোমর্বিডিটি থাকা ব্যক্তিদের করোনার ‘সতর্কতামূলক’ ডোজ দেওয়া হবে। তবে ৯ মাস আগে যাঁরা করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজটি পেয়েছেন তাঁদেরই আগে এই বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে।

আইসিএমআর (ICMR) ও ফরিদাবাদের ট্রান্সলেশনাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পরিচালিত পাঁচটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ডোজগুলির মধ্যে ব্যবধান ৯ মাসের রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৯ মাসের মাথায় এই বুস্টার ডোজের মানে হল চলতি বছরের ১০ এপ্রিলের মধ্যে যাঁরা দ্বিতীয় ডোজটি পেয়েছিলেন তাঁরাই সতর্কতামূলক ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ডোজগুলি নিতে পারবেন। অর্থাত্‍, প্রধানত স্বাস্থ্যকর্মী এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীরাই প্রথম এই বুস্টার ডোজ পাবেন।

প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ‘কারা বুস্টার ডোজের জন্য যোগ্য হবেন তা ‘কো-উইন’ প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে কতজন যোগ্য হবেন সেই সংখ্যা আমাদের কাছে তৈরি রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।’ সূত্রের খবর, আমেরিকা ও ব্রিটেন-সহ বিশ্বের বাকি দেশগুলিতে যে পদ্ধতি মেনে বুস্টার ডোজের প্রয়োগ চলছে তার থেকে ভারতের পদ্ধতি আলাদা হবে।

ভারতে ছাড়পত্র পেল ডিএনএ-ভিত্তিক ভ্যাক্সিন ‘জাইকোভ-ডি’

zydus vaccine

নিউজ ডেস্ক: এতদিন এম’আরএনএ (mRNA) ভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল কোভিড-১৯ মোকাবিলায়। এবার প্রথমবার ডিএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিনের ব্যবহারের ছাড়পত্র দিল ভারত সরকার। জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি তিন ডোজের কোভিড টিকা ‘জাইকোভ-ডি’কে ছাড়পত্র দিল ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)।

আরও পড়ুন জানতে চায় ভারত: আজব চুক্তি উপেক্ষা করে কেন ‘রিপাবলিক ভারত’ ছাড়তে চাইছেন কর্মীরা?

যদিও কেবলমাত্র আপতকালীন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে এই ভ্যাকসিন। গুজরাতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা জাইডাস ক্যাডিলা জানিয়েছে, ১২ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্যই এই টিকা যথেষ্ট কার্যকর। এছাড়াও এতদিন যেই ভ্যাক্সিনগুলি প্রয়োগ করা হচ্ছিল সেগুলি দুটি ডোজের। যদিও প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে দুটি ডোজের মধ্যে সময়সীমা আলাদা আলাদা। ‘জাইকোভ-ডি’ ভ্যাক্সিনটি তিনটি ডোজের।

অন্যান্য টিকার মতো জাইকোভ-ডি সিরিঞ্জের মাধ্যমে দেওয়া হবে না। ভারতে এর আগে পাঁচটি সংস্থার কোভিড ভ্যাকসিন অনুমোদিত হয়েছে। সেগুলি হল ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড, রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এবং আমেরিকার মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন। আহমেদাবাদের ভ্যাক্সিনপ্রস্তুতকারী সংস্থা জানিয়েছে বছরে ভ্যাক্সিনের ১০-১২ কোটি ডোজ তৈরি করবে তারা।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

জরুরি ভিত্তিতে জাইকোভ-ডি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে ১ জুলাই ডিসিজিআই-র কাছে আবেদন করেছেন জাইডাস ক্যাডিলা। সেই আবেদনেই সাড়া দিল ডিসিজিআই। ‘জাইকোভ-ডি’ হল ‘প্লাজমিড ডিএনএ’ টিকা। এটি বিশ্বের প্রথম ডিএনএ টিকা বলে দাবি করেছে সংস্থা। জাইডাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার হার প্রায় ৬৬.৬ শতাংশ।

Media Kit - Downloads Corporate & Annual Reports | Zydus Cadila

একনজরে ‘জাইকোভ-ডি’

  • জাইকোভ-ডি (ZyCov-D) একটি ইনট্রা-ডারমাল ভ্যাকসিন, যা তিনটি ডোজে দেওয়া হবে।
  • এটি ফার্মাজেট ইনজেক্সন-ফ্রি সিস্টেমে দেওয়া হবে, ট্রপিস ব্যবহার করে প্রয়োগ করা হবে। যা যেকোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
  • জাইকোভ-ডি (ZyCoV-D) ২-৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে সংরক্ষণ করা হয়।
  • প্লাজমিড-ডিএনএ ন্যূনতম জৈব নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তাতে (বিএসএল-১) উত্পাদন করা যায়।
  • প্লাজমিড ডিএনএ ভ্যাকসিন জাইকোভ-ডি র(ZyCoV-D) ভেক্টর ভিত্তিক অনাক্রম্যতায় কোনো বিঘ্ন ঘটায় না।