Covishield: কেন্দ্রীয় চাহিদা না থাকায় কোভিশিল্ডের উৎপাদন কমাচ্ছে সেরাম

vaccine

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি : ভারতে ওমিক্রন (Omicron) আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই এবার চিন্তা বাড়াল সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (Seram Insititute of India) নয়া সিদ্ধান্ত। এবার কোভিশিল্ড (Covishield) উৎপাদন অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে সেরাম, মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা (Adar Poonawalla)।

তিনি বলেন, মোদী সরকারের থেকে অর্ডার না পাওয়ায় করোনা ভ্যাকসিনের মাসিক উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন বুস্টার ডোজ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে সেরাম। যারা কোভিশিল্ডের ২টি করে ডোজ নিয়েছে তাঁদের বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এমনটা জানিয়েছে কেন্দ্রকে চিঠিও দিয়েছে সেরাম। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছে, ‘আমি আসলে এমন একটি দ্বিধায় আছি যা আমি কখনও আগে কল্পনাও করিনি। এর আগে আমরা প্রতি মাসে ২৫০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি করছি। কিন্তু এখন তা কমাতে হচ্ছে। ভালো বিষয় এটাই যে, দেশের প্রায় অনেকেরই ইতিমধ্যে ২টি করে ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে।’

ভবিষ্যতে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘হাতে অন্য কোন অর্ডার নেই, তাই আমি আপাতত কোভিশিল্ডের উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিচ্ছি। এরপর আবার অর্ডার আসলে তখন প্রোডাকশন বৃদ্ধির দিকে নজর দেব। প্রায় ৮ মাস ধরে আমরা রফতানি করতে পারিনি। অন্যান্য দেশগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশ টিকা সরবরাহ করেছে। ফলে একটা বড়ো বাজার আমরা হারিয়েছি।’

এদিকে, কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়ে জাতীয় পরামর্শদাতা গোষ্ঠীর বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হল না। স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, শিশুদের ভ্যাকসিনেশন নিয়েও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের ভ্যাকসিনেশন কবে থেকে শুরু হবে, তা খুব নিয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

Omicron: বুস্টার ডোজ হিসেবে কোভিশিল্ড ব্যবহারের অনুমোদন চাইল সেরাম ইনস্টিটিউট

boster-dose

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি : করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের জেরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এবার আমেরিকায় হানা দিল ওমিক্রন (omicron)। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দার শরীরে এর হদিশ মিলল। ফলে মানুষের মনেও ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন জাগছে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের হদিশ মেলায় দেশজুড়ে বুস্টার ডোজের চাহিদা বেড়েছে। কেরল, রাজস্থান, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে বুস্টার ডোজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া, DCGI-এর কাছে বুস্টার ডোজ হিসেবে কোভিশিল্ড (covishield) ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট (serum institute)। 

সেরামের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়েছে, ওমিক্রনের কথা মাথায় রেখে কোভিশিল্ডকে বুস্টার ডোজ হিসেবে প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হোক। ভারতে এখন যথেষ্ট ভ্যাকসিনের স্টক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাদের দুটি করে ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাদের বুস্টার ডোজ প্রয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হোক। 

ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেলের (DGCI) কাছে একটি আবেদনে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (SII) অন্যতম ডিরেক্টর বলেন, যুক্তরাজ্যের মেডিসিন এবং হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি ইতিমধ্যেই এর বুস্টার ডোজ অনুমোদন দিয়েছে AstraZeneca ChAdOx1 nCoV-19 ভ্যাকসিনকে।

উল্লেখ্য, ভারতে ওমিক্রন পীড়িত দেশ থেকে বিভিন্ন বিমানে আসা যাত্রীদের প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই ৬ জনের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আক্রান্তদের নমুনা জেনোমিক সিকোয়েন্সিংয় জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্যও কড়াকড়ি করেছে কেন্দ্র। জানা গেছে, ওমিক্রন আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১১টি আন্তর্জাতিক বিমানের ৩,৪৭৬ জন যাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যেই ৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।  এই পরিস্থিতিতে বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। 

 

দেশকে করোনামুক্ত করতে ১০০ কোটি ভ্যাকসিন রবাত দিয়েছে মোদী-সরকার

Women and the Covid-19 Vaccine

নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে করোনার টিকা দেওয়ার প্রচারণা শুরু হওয়ার ছয় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে৷ ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে সরকার কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাকসিনের ৬৬ কোটি ডোজ দেওয়ার জন্য একটি আদেশ দিয়েছে। সংসদে দ্বিতীয় এক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় প্রবীণ বলেছেন, দেশে কমপক্ষে ৩৪.৪ কোটি মানুষ করোনা প্রথম ডোজ পেয়েছে।

১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ কোটি করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করেছিল। ভারতী প্রবীণ বলেন, এই ভ্যাকসিনগুলিতে কোভাক্স (বিভিন্ন দেশের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ) থেকে আসা ভ্যাকসিনগুলি অন্তর্ভুক্ত নয়৷ ১২ মার্চ পর্যন্ত সরকার কেবল ১৮.৬ কোটি ডোজ অর্ডার করেছিল৷ তারপরে ১ মে ১৬ কোটি ডোজ করে। মে মাসের শেষের দিকে কোভিশিল্ডের ২৬.৬ কোটি ডোজ এবং কোভাকিনের আট কোটি ডোজ অর্ডার করেছিল।

বিদেশি ভ্যাকসিন নির্মাতাদের দেওয়া আদেশের বিশদ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি নির্মাতাদের কাছ থেকে সিভিডির ভ্যাকসিন সংগ্রহ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সরকার একটি দল গঠন করেছে ৷ এই দলটি বিদেশি নির্মাতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় বসে।

রাজ্যসভায় অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীন পাওয়ার বলেছেন, কোভিন পোর্টাল অনুযায়ী ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৩৪.৪ কোটি লোককে কমপক্ষে করোনার একটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। এই সময়কালে ১৮ বছর বা তারও বেশি বয়সের প্রায় ৬৫.৫% মানুষকে করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল।