Dawood Ibrahim: দাউদের হাত হয়ে জঙ্গিদের কাছে পৌঁছতে পারে পরমানু বোমা: মার্কিন সেনেটর

Dawood Ibrahim

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম থাকা দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) সঙ্গে জঙ্গিদের রীতিমতো যোগসাজশ রয়েছে। দাউদের সাহায্যেই জঙ্গিরা (terroist) পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে পারে।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র (nuclear weapon) ভাণ্ডার থেকেই দাউদ এই অস্ত্র জঙ্গিদের কাছে পৌছে দিতে পারে, এমনটাই মন্তব্য করছিলেন মার্কিন সেনেটর জন ম্যাককেইন (john maccain)। ২৬/১১ মুম্বই হামলার পর ওই মার্কিন সেনেটর এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

মুম্বই হামলার পর যখন গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল তখনই এই মার্কিন সেনেটর পাক পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে ছিলেন। ম্যাককেইন বলেছিলেন, পাকিস্তানের হাতে ভালরকম পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যে কোনও সময়ে এই অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে। এই কাজে মধ্যস্থতাকারী হতে পারে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম।

কারণ দাউদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। আবার জঙ্গিদের সঙ্গেও দাউদের সম্পর্কের রসায়ন যথেষ্টই মধুর। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে দাউদ প্রাণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্র পৌঁছে দিতে পারে জঙ্গিদের কাছে। যদি বাস্তবে তাই হয় তবে সেটা গোটা দুনিয়ার পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

ম্যাককেইন একই সঙ্গে বলেছিলেন, পাকিস্তান অবশ্য আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের পরমাণু অস্ত্র যথেষ্টই সুরক্ষিত ও নিরাপদ আছে। পরমাণু অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। পাক সরকার একাধিকবার জানিয়েছে যে, তাদের ভাণ্ডারে থাকা পরমাণু অস্ত্র কোনওভাবেই জঙ্গিদের হাতে গিয়ে পড়বে না। ওই অস্ত্র যাতে সুরক্ষিত থাকে তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পাক সরকারের ওই মন্তব্যকে একেবারেই চোখ বুজে বিশ্বাস করতে রাজি ছিলেন না ম্যাককেইন। তাই তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার থাকলেও সে দেশে সেনাবাহিনী ও গুপ্তচর সংস্থাই সরকারের উপর ছড়ি ঘোরায়।

পাকিস্তানে বরাবরই জঙ্গিদের জামাই আদর করা হয়। জঙ্গিরা পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করেই বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস চালায়। তাই পাক সরকারের আশ্বাসে একেবারে চোখ বুজে ভরসা করার কিছু নেই। ম্যাককেইন আরও বলেন, পাকিস্তান মুখে যত যাই বলুক না কেন বাস্তবে দেখা গিয়েছে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কখনওই ইসলামাবাদ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ম্যাককেইন আরও বলেন, পাক সরকারের বোঝা উচিত পরমাণু অস্ত্রের কি ক্ষমতা। এই অস্ত্র যদি জঙ্গিদের হাতে গিয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে কি হতে পারে সেটা পাক সরকারের না বোঝার কোন কারণ নেই। তাই দেশের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত ও নিরাপদে রাখতে পাকিস্তানকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

Mumbai: দাউদ ঘনিষ্ঠর সঙ্গে দেবেন্দ্রর যোগাযোগ ছিল: নবাবের

nawab-malik-with-debendra

News Desk, Mumbai: ২৪ ঘণ্টা আগে হাইড্রোজেন বোমা ফাটালেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নবাব মালিক (Nawab Malik)। যথারীতি নির্দিষ্ট সময় মেনে বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মন্ত্রী।

সেখানেই তিনি বলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র (Devendra Pharanbis) ফড়নবিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আছে দাউদ (Dawood Ibrahim) ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ রিয়াজ ভাট্টির (Rityaj Bhatti) । এখানেই শেষ নয়। নবাব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দেবেন্দ্র একাধিক দুর্নীতি ও অন্ধকার জগতের লোকজনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকী, ২০১৬ নোটবন্দির সময় এক বড়সড় জালনোট চক্রকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন দেবেন্দ্র। এই কাজে দেবেন্দ্রকে সব ধরনের সাহায্য করেছিলেন বর্তমান এনসিবি অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ে। একইসঙ্গে দেবেন্দ্র জালনোট পাচার চক্র সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ করেন নবাব।

এই প্রবীণ এনসিপি নেতা দেবেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আরও বলেন, ২০১৬ সালে নোট বাতিলের পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু নোট বাতিলের একবছর পরেও দেবেন্দ্রর ইশারাতেই মহারাষ্ট্রে রমরমিয়ে ওই টাকা ব্যবহার হয়েছে। ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের বিকেসি থেকে ১৪.৫৬ কোটি টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলাটিকেও ধামাচাপা দিয়ে ছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র।

নবাব অভিযোগ করেন, ওই সমস্ত জালনোট পাকিস্তান থেকে আসত। এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত জামিন পায় তার জন্য সব ব্যবস্থাই করতো দেবেন্দ্র। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ ধরনের মামলার তদন্তভার কখনওই এনআইএর হাতে দেয়নি দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার। বরং মহারাষ্ট্রের সেই সময়কার বিজেপি সরকার সব সময় বলত, এই জাল নোট চক্রের সঙ্গে কংগ্রেস নেতারা জড়িত।

এদিন দাউদ সঙ্গী রিয়াজ ভাট্টি প্রসঙ্গে বলেন, এই রিয়াজ ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ধরা পড়েছিল। কিন্তু মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তার জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল দেবেন্দ্র। রিয়াজকে দেবেন্দ্র এবং অন্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার দেখা গিয়েছে। শুধু রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গেই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (narendra modi) অনুষ্ঠানেও রিয়াজ উপস্থিত ছিল এবং মোদির সঙ্গে তার একাধিক ছবিও রয়েছে। দেবেন্দ্র আমার বিরুদ্ধে অন্ধকার জগতের লোকজনের সঙ্গে জড়িত থাকার যে অভিযোগ করেছে তার কোনও ভিত্তি নেই।

রিয়াজ ছাড়াও নাগপুরের কুখ্যাত দুষ্কৃতী মুন্না যাদবের (Munna Yadab) সঙ্গেও দেবেন্দ্রর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই মুন্নাকে দেবেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শ্রমিক সংগঠনের চেয়ারম্যান করেছিলেন। একইভাবে হায়দার আজিম নামে একজনকে মৌলানা আজাদ ফিন্যান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান করেছিলেন দেবেন্দ্র। এই হায়দার আজিম (Hyder Azim) বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করত। এ ধরনের অন্ধকার জগতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে রীতিমত ওঠাবসা ছিল দেবেন্দ্রর। কিন্তু এখন তিনি বোধহয় সেসব কথা ভুলে গিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আরিয়ান খান মাদক মামলা ক্রমশ পিছনের দিকে সরে যাচ্ছে। বদলে সামনে আসছে এনসিপি ও বিজেপির রাজনৈতিক লড়াই। এতদিন এনসিপি নেতা নবাব মূলতম এনসিবি অফিসার সমীরকে (Samir) নিশানা করে আসছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর তির ঘুরে গিয়েছে। এখন আর সমীর নন, বরং দেবেন্দ্র ও বিজেপিকে নিশানা করে চলেছেন নবাব।