Kolkata: বড়বাজারে বাঙালি সুরক্ষার দাবিতে বাংলাপক্ষ সরব

Banglapakho

পশ্চিমবঙ্গেই বাঙালিরা অবাঙালিদের হাতে লাঞ্ছিত হন এমন অভিযোগ ও কিছু ঘটনার প্রতিবাদে বারবার সরব বাংলাপক্ষ। এবার সংগঠনটি কলকাতার (Kolkata) বড়বাজার এলাকায় বাঙালিদের সুরক্ষার দাবিতে সোশ্যাল সাইটে প্রচার চালাল।

সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, বাংলার সব থেকে বড় বাজার হলো কলকাতার বড়বাজার। সেখান থেকেই সমগ্র বাংলা জুড়ে মাল সরবরাহ হয়। কিন্তু বাংলার এই বিপুল সরবরাহে বাঙালীর অংশীদারত্ব নগন্য। সমগ্র বড়বাজার এখন বহিরাগতদের দখলে। বাবাঙালি শূন্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে বহিরাগতরা।
বাংলাপক্ষ দাবি করেছে, অবাঙালি অধ্যুষিত বড়বাজারে বারবার হেনস্তার শিকার হতে হয় বাঙালিদের। সংগঠনটির অভিযোগ, সম্প্রতি রামেশ্বর হালদার নামে এক ব্যক্তিকে বড়বাজারে ব্যবসায়ী রূপী বহিরাগত গুন্ডারা মেরেছে বাংলায় কথা বলার অপরাধে। সংগঠনটির আরও অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্য বাঙালি বোন ফতেমা আখতারকে হেনস্থা ও শ্লীলতাহানি করেছে বহিরাগত আণুরাগ আগরওয়াল।

সংগঠনের তরফে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, বড়বাজার তৈরী করেছিল শীল, বসাক সহ বাঙালি ব্যবসায়ীরা। বহিরাগতরা বড়বাজার দখল করে বাঙালিদের মারে, বাঙালিকে অপহরণ করে, বাঙালির দোকান জ্বালায়, ভয় দেখায়, জাতি তুলে গালি দেয়। এর প্রতিবাদ করেছিল সব্যসাচী মন্ডল। বহিরাগত গুন্ডা, মাফিয়াদের হাতে তাকে খুন হতে হয়।

বাংলপক্ষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাংলা পক্ষ টুইটার ক্যাম্পেনের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর এবং প্রধানকে মেনশন করা হয়েছে “#AntiBengaliBarabazar” এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে। বাংলাপক্ষ দাবি করেছে, আগামীদিনে বড়বাজারের মাটি হবে বাঙালীর ঘাঁটি।

Alapan Banerjee: আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রাজনীতির রং পেয়েছে নয়াদিল্লি

Alapan Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Alapan Banerjee ) বদলির নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে তাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব (political influence)। এদিন কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehota) এই মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটি দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে (principle bench) সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই শীর্ষ আদালতে কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে মেহতা এদিন বলেন, আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনীতির রং ও প্রভাব। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে চলাই উচিত।

অন্যদিকে, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এই মামলায় সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। যদিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও বিচারপতি সিটি রবিকুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই মামলার রায় দান। স্থগিত রাখে।

উল্লেখ্য, আলাপন মামলা কেন দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে সরানো হল তা জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিষয় দিল্লিতে পাঠানোর জন্য আপত্তি জানিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এমনকি হাইকোর্ট এটাও বলেছিল যে, আলাপন প্রকৃত ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। তাই আলাপনের মামলা দিল্লিতে সরানো যাবে না। আলাপন মামলা সরানোর এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

হাইকোর্টের ওই পর্যবেক্ষণের উত্তরে সলিসিটর জেনারেল সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা কোথা থেকে আসছে? ক্যাটের চেয়ারম্যান শুধু মামলাটি এক বেঞ্চ থেকে থেকে অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করেছেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রয়েছে রাজনীতির রং। অন্যদিকে আলাপনের আইনজীবী সিংভি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ কাউকে আঘাত করেনি। আলাপন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। তিনি বরাবরই কলকাতাতেই কাজ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি কলকাতাতেই থাকছেন। তাই এই মামলা অবশ্যই কলকাতাতেই থাকা উচিত। উভয় পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার আলাপন মামলার রায় দান স্থগিত রাখেন।

আরও ছয় দাবি জানিয়ে আলোচনার জন্য মোদিকে খোলা চিঠি কৃষকদের

Farm Laws Repeal

News Desk: গত সপ্তাহে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন (farm law) প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (narendra modi)। ওই ঘোষণার পর কৃষকরা তাঁদের আরও ৬ টি দাবি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রের ওপর চাপ বজায় রাখতেই কৃষক নেতারা এই চিঠি দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, কৃষক নেতারা আলোচনার জন্য কোন কোন বিষয়ে উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে?

ওই চিঠিতে কৃষকরা জানিয়েছেন, চাষিদের জন্য ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (msp) নিশ্চিত করার আইন তৈরি করতে হবে। কৃষকদের বিরুদ্ধে গত এক বছরে বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। গত একবছরে আন্দোলন করতে গিয়ে যে সমস্ত কৃষকের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের স্মরণে সিংঘু (singhu) সীমান্তে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে হবে। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার করতে হবে।

এছাড়াও কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট ইন ন্যাশনাল ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাডজয়েনিং এরিয়াস অ্যাক্ট ২০২১ আইনে কৃষকদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত শাস্তিমুলক পদক্ষেপ করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির ঘটনায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত এমনকী, তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

farmers' protest site in Singhu border

একই সঙ্গে কৃষকরা এদিন প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, কেন্দ্র যেন গত এক বছরে আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত কৃষকদের পরিবারকে সাহায্য করতে উদ্যোগী হয়। কৃষক নেতাদের দাবি, গত একবছরে আন্দোলন করতে গিয়ে ৬৭০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, লখিমপুরে আশিস মিশ্রের গাড়ির চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৪ কৃষকের। এই সমস্ত দাবিগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য যত শীঘ্র সম্ভব প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠক ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষক নেতারা। ওই চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট বলেছেন, এই দাবিগুলি নিয়ে যতদিন না একটা সমাধান বের হচ্ছে ততদিন আন্দোলন আগের মতোই বহাল থাকবে।

ওই চিঠিতে কৃষক নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আপনি আমাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে আমাদেরও ভালো লাগছে না। আমরাও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই। আবার নতুন করে কৃষি কাজ শুরু করতে চাই। তাই আপনাকে আমাদের অনুরোধ যত শীঘ্রই সম্ভব এই সমস্যা মিটিয়ে নিন।