ডুরান্ড ফাইনালেও সবুজ-মেরুন ছোঁয়া, গ্যালারি থেকেই মার্জার ভাঙার দাবি সমর্থকদের

স্পোর্টস ডেস্ক: দিনকয়েক আগেই ‘এটিকে মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটিকে মোহনবাগান ‘মোহনবাগান’ এবং ‘এটিকে’র ইউনাইটেড ক্লাব নয়। ১৮৮৯ সালেই প্রতিষ্টা হয়েছিল ক্লাবের। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক ক্লাব মোহনবাগানের ঐতিহ্যই বহন করছে এটিকে মোহনবাগান। যদিও তাতে যে মোহনবাগান জনতা ভেজেনি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল রবিবাসরীয় বিকেলে।

রবিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ছিল ১৩০ তম ডুরান্ড কাপের ফাইনাল। মুখোমুখি হয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং এফসি গোয়া। আর তাতেই শহরের তৃতীয় প্রধানের হয়ে গলা ফাটালেন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা। সেখানেই গ্যালারি থেকে বিক্ষোভ দেখালেন মোহনবাগান সমর্থকরা। ‘এটিকে হটাও’, ‘ব্রেক দ্য মার্জার’ এর দাবিতে ফেটে পড়লেন তারা। পিছিয়ে ছিলেন না ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও, গ্যালারিতে দেখা গেল ‘নিতু আউট’ লেখা পোস্টারও।

দিনকয়েক আগেই মোহনবাগান জনতার বিক্ষোভের ছবি নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন বিখ্যাত ফুটবল প্রেজেন্টার জো মরিসন। TEN SportsTEN Action+SONY SIX সহ বিভিন্ন চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় শো  C2K (কাউন্টডাউন টু কিকঅফ) বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাঁকে। তিনিই সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘What a photo.’ এরপরেই সমর্থকরা জানিয়েছিলেন, ‘যতদিন না এটিকের নাম মায়ের নামের সামনে থেকে সরবে, ততদিন আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো।  

বিক্ষোভের সূত্রপাত্র গতবছর মোহনবাগান এবং এটিকে মার্জ করায়। যদিও সেই বিক্ষোভ খানিক কমলেও কয়েকদিন আগে থেকেই আবার পথে নেমেছেন মোহনবাগান জনতা। বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখের একটি মন্তব্যে। চলতি বছরে এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছিল। যদিও ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’এর কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের। কিন্তু এএফসি কাপে খেলা সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়।

একটি সাক্ষাৎকারে পারেখ হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনাবাগন তো নিজস্ব গায়ের জোরে আজ পর্যন্ত খেলল না।  এতদিন সেই কারণেই এএফসি কাপে খেলেনি তারা। এটিকে আসাতেই সেই সুযোগ পেয়েছে তারা। ফলে মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

ATK Mohun Bagan
এটিকের নামও এভাবেই মিলিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন মোহনবাগান জনতা।

পারেখ-কান্ডের পরেই মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষ থেকে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর দেবাশীষ দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু জানিয়ে দেন, সমর্থকদের আবেগকে গুরুত্ব দিতেই হবে। উৎসব পারেখের বক্তব্য অপমান করেছে মোহনবাগানের শতাব্দীপ্রাচীন আবেগকে। তারপরেই এটিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয় মোহনবাগান ক্লাবে সভ্য-সমর্থকদের কাছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উৎসব পারেখের বক্তব্যকে সমর্থন করেন না তাঁরা। যদিও তাতেও কমছে না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের রাগ।

প্রসঙ্গত, গত বছরও এটিকে-মোহনবাগানের নতুন জার্সিতে তিনটি স্টার থাকা এবং ক্রমাগত তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। তাদের ক্রমাগত আন্দোলনের পরে তিন স্টার সরিয়ে নিয়েছে ক্লাব অফিসিয়ালরা। ঝামেলা বেড়েছিল আইএসএলের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওকে ঘিরেও। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এটিকের অন্যতম কর্ণধার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভে সেই ভিডিওটিও সরিয়ে নিয়েছিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ।

Durand Cup: এডু বেদিয়ার গোলে ডুরান্ড কাপ হাতছাড়া মহামেডানের

Mohammedan lost in Durand Cup

স্পোর্টস ডেস্ক: ১০৩ মিনিটে এফসি গোয়ার অধিনায়ক এডু বেদিয়ার করা গোল। মহামেডানকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ১৩০ তম ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন এফসি গোয়া।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে শেষদিকে বক্সের বাইরে ফাউল হয়। ফ্রি কিক পেয়ে যায় হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। বাঁম পায়ের দুরন্ত ফ্রি কিক আসে এডুর পা থেকে। দ্বিতীয় পোস্টে তার রাখা সেই বল ঝাঁপিয়েও বাঁচাতে পারেননি মহামেডান গোলরক্ষক জোথানমাওয়াইয়া,বল বাউন্স করে জালে জড়িয়ে যায়।

Edu Bedia

প্রথম ৯০ মিনিট গোলের লকগেট কোনও দলই খুলতে পারেনি। যদিও সুযোগ এসেছিল দুই দলের কাছে,কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। সাত বছর পর ডুরান্ড জয়ের হাতছানি, আবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলা, যা মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড। সব মিলিয়ে করোনা কালে প্রত্যাশার ফানুসে চুপসে গেল কালো চিতা। চলতি ডুরান্ডে পর পর তিন ম্যাচ হারের ধাক্কা সামলে নিয়েও মার্কোস জোসেফরা আশা জাগিয়ে তুলেছিল, শেষ রক্ষা হল না।

অতিরিক্ত সময়ে১১৪ মিনিটে মহামেডান অধিনায়ক নিকোলার ফ্রি কিক ক্লিয়ার করে এফসি গোয়ার ডিফেন্ডার। ফের ১১৭ মিনিটে নিকোলা গোলের সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু এফসি গোয়ার গোলকিপার নবীন কুমার বাঁম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুরন্ত সেভ করেন। রেফারি রাহুল কুমার গুপ্তার বাঁশি বেজে উঠতেই ১৩০ তম ডুরান্ড কাপ গোয়ায় চলে গেল, হৃদয় চুরমার হয়ে গেল মহামেডানের।

Durand Cup: ‘জান জান মহামেডান’, ফুটবল মক্কা চাইছে রেশমি কাবাবের সৌরভ

mohammedan sporting club

নিউজ ডেস্ক: কলকাতার তিনটি ডাকনাম আছে। ‘তিলোত্তমা’, ‘City Of Joy’ আর ‘ফুটবলের মক্কা’। এই তৃতীয় নামটির সঙ্গে চরম উন্মাদনার ময়দানের আবেগ জড়িয়ে। যে আবেগের বশে ১৩০ তম ডুরান্ড কাপ (Durand Cup ) টুর্নামেন্ট তেতে উঠেছে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের (Mohammedan sporting) কারণে।

যতই প্রতিপক্ষ হোক মহামেডান তবু মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা চাইছেন রেশমি কাবাব সৌরভে মাতোয়ারা হবেই যুবভারতী। টালিগঞ্জ অগ্রগামী বা অন্যান্য ক্লাব সমর্থকরাও গলা ফাটাচ্ছেন। ময়দান জুড়ে কলরব ‘জান জান মহামেডান’।

Mohammedan Sporting Club

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ শুরু হয়েছিল ১৮৮৮ সালে। আর মহামেডান ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৯১ সালে। সেই অর্থে প্রাচীনতম ক্লাব হিসেবে প্রাচীনতম টুর্নামেন্টে আছে সাদা-কালো জার্সির ‘ব্ল্যাক প্যান্থার্স’ দল। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভারত ভাগের কারণে এই টুর্নামেন্ট ১৯৪১-১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

Durand cup final

প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে স্বাধীনতার আগেই ১৯৪০ সালে ডুরান্ড কাপ জয়ের চিরকালীন নজির মহামেডানের। সেই ইতিহাসে ১১ জন ভারতীয় ব্রিটিশ দল ‘Royal Warwickshire Regiment’ কে ২-১ গোলে পরাজিত করেন। সেদিন ফুটবল মক্কা কলকাতা পাগলের মতো উল্লসিত হয়েছিল। সুদূর নিজামশাহী হায়দরাবাদে আতশবাজির ঝলক লেগেছিল।

ডুরান্ড কাপ দ্বিতীয়বার মহামেডানের দখলে আসে ২০১৩ সালে। ২-১ গোলে পরাজিত হয় ওএনজিসি। তৃতীয়বার ডুরান্ড আনতে মরিয়া মহামেডান। প্রতিপক্ষ এফসি গোয়া (FC Goa) দল। ফুটবল মক্কা কলকাতার একটাই ইচ্ছা রেশমি কাবাবের খোশবাই যেন হয়।

Durand Cup: বেঙ্গালুরু এফসিকে ট্রাইবেকারে হারিয়ে ফাইনালে মহামেডানের মুখোমুখি এফসি গোয়া

Durand Cup

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৩০ তম ডুরান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এফসি গোয়া বনাম বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচেও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এটিকের সঙ্গে মোহনবাগান ক্লাবের মার্জার ভাঙার দাবিতে সবুজ মেরুন সমর্থকেরা পোস্টার লাগালেন #Break The Merger। এদিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১ মিনিটের মাথায় শিভাশক্তির করা গোলে ১-০ এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু এফসি। 

অবশ্য এই লিড বেশিক্ষণ বজায় ছিল না। এফসি গোয়া দুরন্ত কামব্যাক করে ম্যাচে ফিরে আসে। ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় দেভেন্দ্র’র করা গোলে ১-১ গোলের সমতায় ফিরে আসে গোয়ার দলটি।ম্যাচের প্রথমার্ধে এফসি গোয়া গোলের লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল,কিন্তু খুব বাজে ভাবে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে।

ডুরান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে ১-১ গোলে স্কোরলাইন থেকে সেকেন্ড হাফে দুই দলই গোলের ব্যবধান বাড়াতে তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে।ম্যাচের ৭২ মিনিটে এফসি গোয়ার হয়ে ২-১ গোলের লিড দেয় রিদিম। কিন্তু এবারও এফসি গোয়া গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ১০ মিনিটের মাথায় বেঙ্গালুরু এফসি শিভার গোলে ২-২ গোলের সমতায় ফিরে আসে। ম্যাচের ৯০ মিনিট ২-২ গোলের স্কোরলাইন ছিল।

এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ১২০ মিনিটে কোনও দলই গোলের মুখ খুলতে পারেনি। নিজেদের ডিফেন্সকে জমাট করে রাখে দুই দল। ফলে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ ট্রাইবেকারে গড়ায়।

রুদ্ধশ্বাস ট্রাইবেকারে শুট আউটে এফসি গোয়া১-১ বেঙ্গালুরু এফসি গোলের পর দুই দলই গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে পেনাল্টি শ্যুটে।এরপর যথারীতি দুই দলই ট্রাইবেকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬-৬ গোলের স্কোরলাইন দাঁড় করায়। এরপর এফসি গোয়া স্কোরলাইন ৭-৬ লিড নেয়।কিন্তু এরপরেই ঘটে অঘটন, শেষে ট্রাইবেকারে বেঙ্গালুরু এফসি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে বসতেই এফসি গোয়া ডুরান্ড কাপ ফাইনালের টিকিট পকেটে পুড়ে ফেলে। ডুরান্ডের ফাইনালে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যে ছটার সময়ে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মুখোমুখি হবে এফসি গোয়া।

Durand Cup: বড় ব্যবধানে জিতে ডুরান্ডের ফাইনালে মহামেডান স্পোর্টিং

Mohammedan Sporting Club in the final

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৩০ তম ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।৪-২ গোলে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডকে হারিয়ে ফাইনালে সাদা কালো শিবির।

মহামেডানের হয়ে মার্কোস জোসেফ(৮),ফৈজল আলি(৩৭),ব্র‍্যান্ডন (১০৬) এবং নিকোলার পেনাল্টি থেকে গোল করে কালো চিতারা ডুরান্ড ফাইনালের আগে হুঙ্কার দিচ্ছে। এই জয়ের সঙ্গে গ্রুপ ম্যাচের মধুর প্রতিশোধ নিল মহামেডান। দীর্ঘ ৮ বছর পর এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডকে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে।

কলকাতা ফুটবলের মক্কা তা ফের একবার প্রমাণিত হল আজকের সেমিফাইনাল ম্যাচ ঘিরে। ডুরান্ডে কলকাতার হয়ে খেলছে একমাত্র মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এদিনের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা মহামেডান ক্লাবের সমর্থনে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বসে গলা ফাটায়।অন্যদিকে মোহনবাগান সমর্থকেরাও যুবভারতীর গ্যালারিতে বসে মহামেডান ক্লাবকে সমর্থনের সঙ্গে#Break The Merger পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

তবে যুবভারতীর পুরনো রোগ ফের একবার মাথা চাড়া দেয়,ম্যাচ শুরুর আগে।আলো বিভ্রাটে গোটা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন অন্ধকার হয়ে যায়।ফলে ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হয়।ম্যাচ চলাকালীন ৯১ মিনিটে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডের পেড্রো মানঝি লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ পেন্ডুলামের মতো ঘুরেছে বয়স যত গড়িয়েছে।ম্যাচের ৩৬ সেকেন্ডে পেড্রো মানঝির ১৮ গজ দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট আর ৭৮ মিনিটে কিংশুক দেবনাথ এফসি বেঙ্গালুরুর হয়ে গোল করেন।মার্কোস মহামেডানকে ৮ মিনিটের মাথায় ১-১ গোলের সমতায় ফেরায়।ম্যাচের ৩৬ সেকেন্ডে ঝটিকায় পেড্রো মানঝির করা দুরন্ত গোল সাদা কালো শিবিরকে জোরালো ধাক্কা দেয়।

কিন্তু মহামেডান ম্যাচে দ্রুত কামব্যাক করে গোলের সমতায় ফিরে আসে।৩৭ মিনিটে মার্কোসের পাস থেকে ফৈজল গোল করে মহামেডানকে ২-১ লিড দেয়। ম্যাচের ৯০ মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ গোল হওয়ার জন্য ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।১০৬ মিনিটে ব্র‍্যান্ডন এবং ১০৯ মিনিটে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডের রাভাননের হাত বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির অর্ডার দেয়। নিকোলা মহামেডানকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-২ গোলে ডুরান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ জিতিয়ে ফাইনালের টিকিট পকেটে পুড়ে ফেলে।

Durand Cup: গোকুলাম বধ করে শেষ চারে মহমেডান

স্পোর্টস ডেস্ক: একদিন আগেই উজবেকিস্তানের নাসাফ এফসির কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে এটিকে মোহনবাগান। এএফসি কাপের ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ছ’গোল খেয়ে টুর্নামেন্ট অভিযান শেষ করেছে তারা। কিন্তু তার পরদিনই অন্য ফর্মে শহরের আরেক প্রধান। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) গতবারের চ্যাম্পিয়ন গোকুলাম কেরালা এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। মার্কাস জোসেফ 88 মিনিটের মাথায় ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

আরও পড়ুন: এএফসির টিকিটে শুধুই Mohun Bagan, ATK উধাও হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা


আরও পড়ুন: নাসাফে নাজেহাল ATK Mohun Bagan, হাফডজন গোল খেয়ে শেষ AFC Cup অভিযান

পিছন থেকে খেলে, সাদা কালো শিবিরের কোচ আন্দ্রে চের্নিশভের উচু বলে পাস বাড়ানোর টার্গেট বারে বারে ধাক্কা খাচ্ছিল। কারণ, গোকুলাম ডিফেন্সে থাকা বউবা আমিনো, ক্যারিবিয়ান ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে লম্বা বল এবং ক্রস খুঁজতে একটু অসুবিধা হয়েছিল।

Mohammedan SC in the semis of Durand Cup

চলতি ডুরান্ডে তিন ম্যাচে হারের যন্ত্রণা নিয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার্সেরা টগবগ করে ফুটছিল জয়ের মুখ দেখার জন্যে। ৪০ মিনিটের মাথায় গোকুলামের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর বল পেয়ে প্রতি আক্রমণে উঠে আসে মহমেডান। এই প্রতি আক্রমণে উঠে আসায় গোকুলামের ডিফেন্স লাইন কেঁপে ওঠে। প্রতি আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি গতবারের ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নরা। এই সুযোগে দুরন্ত গোল করেন মার্কাস জোসেফ। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: মোহনবাগানের শিল্ড জেতা ছাড়াও ১৯১১ সালে আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল


আরও পড়ুন: ATK-নাম মোছার দাবিতে এবার বিক্ষোভের পথে সবুজ-মেরুন জনতা

এরপর গোকুলাম এফসিও গোলের সমতায় ফিরে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু গোলের লকগেট খুলতে পারেনি। মহামেডানের জমাট ডিফেন্স ভেদ করতে বারে বারে ব্যর্থ হতে হয়। রেফারি শেষ বাঁশি বাজতেই কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ জয় ছিনিয়ে নেয় মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ডুরান্ডের সেমিফাইনালে পৌছে যায় সাদা কালো শিবির।

Durand Cup: খরা কাটাতে আত্মবিশ্বাসী মহামেডান স্পোর্টিং

Mohammedan Sporting Club

স্পোর্টস ডেস্ক: আগামীকাল, বৃ্হস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নামছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব৷ বিপক্ষে গোকুলাম কেরালা এফসি। কেরালার এই ক্লাব গত বছরেও ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

সাদা-কালো শিবির ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৪০ সালে প্রথমবার। ভারত তখন পরাধীন, ইংরেজ উপনিবেশ কায়েম।ব্রিটিশ রেজিমেন্ট দল রয়্যাল ওয়ার্কশিয়র রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম বার ডুরান্ড ট্রফি নিজেদের ক্লাব তাঁবুতে তুলে আনে। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মোট তিন বার ডুরান্ডের ফাইনালে পৌছলেও মাত্র ২ বারই ট্রফি জিতেছে। ২০১৩ সালে তারা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়৷

১৩৩ বছরের প্রাচীন এই ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বের তৃতীয় পুরনো ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে অন্যতম। ইংলিশ এফ এ কাপ এবং স্কটিশ এফ এ কাপ বিশ্বের প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে পড়ে।

Mohammedan Sporting Club

মহামেডান কোচ আন্দ্রে চের্নিসভ ডুরান্ড কাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। স্থানীয় দল হিসেবে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একমাত্র ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে,তাই প্রত্যাশাও আকাশ ছোঁয়া। এই নিয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার্সের রাশিয়ান কোচ জানিয়েছেন,”প্রতিটি খেলা এবং প্রতিটি টুর্নামেন্টে চাপ থাকে। ভক্ত এবং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা আমাদের কাছ থেকে জয় আশা করে। আমরা এই বিষয়ে খেলোয়াড়দের সাথে অনেক কথা বলি এবং তারা এর জন্য প্রস্তুত।”

প্রস্তুতিতে কোনও খামতি ছিল না এবং ফুটবলারেরা গোটা টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরাটা নিঙড়ে দিয়ে কোয়াটার ফাইনাল স্টেজে উঠে এসেছে তা সাদা কালো শিবিরের কোচ আন্দ্রে চের্নিসভের বক্তব্যকেই তুলে ধরে। মহামেডান কোচের সাফ কথা গোটা মরশুম নিয়ে তিনি এখনই কোনও চিন্তা ভাবনা করছেন না। এখন ফোকাস শুধুই ডুরান্ড কাপ।

Mohammedan Sporting Club

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন,মোহনবাগান ক্লাব মাঠ এবং কল্যাণী স্টেডিয়াম এই তিন ভেন্যুতে চলতি ডুরান্ড কাপ আয়োজিত হচ্ছে। ১৮৮৮ সালে হিমাচল প্রদেশের সিমলায় ডুরান্ড কাপ প্রথম আয়োজিত হয়। প্রথম বার ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রয়্যাল স্কটশ ফুসিলারস।২-১ গোলে তারা হারিয়েছিল হাইল্যান্ড লাইট ইনফ্রেন্টিকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশবিভাগের সময়ে এবং ভারত -চীন যুদ্ধের সময়ে ডুরান্ড কাপ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ শাসনে বিদেশ সচিব মরটিমার ডুরান্ডের নামে ডুরান্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট সোসাইটি এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী এই টুর্নামেন্টের দায়িত্বতে। ১৯৪০ সালে ডুরান্ডের ভেন্যুতে বদল আসে এবং তা দিল্লীতে আয়োজিত হতে শুরু করে।

ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিগত সময়ে।দুই আর্চ রাইভাল ১৬ বার করে ডুরান্ড ট্রফি নিজেদের ক্লাব তাঁবুতে তুলে এনেছে। সবথেকে বেশি ২৮ বার ডুরান্ড কাপ ফাইনাল খেলেছে সবুজ মেরুন শিবির। ডুরান্ডে সবথেকে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে ১৮৮৯ সালে,হাইল্যান্ড লাইট ইনফ্রেন্টি ৮-১ গোলে হারিয়েছিল সিমলা রাইফেলসকে(দ্বিতীয় পাঞ্জাব ভলেন্টিয়ার্স রাইফেল কুপর্স)। আগামীকাল দুপুর ২ টোর সময়ে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নামবে গোকুলাম কেরালা এফ সি’র বিরুদ্ধে।

ব্রিটিশকে হারিয়ে ডুরান্ড জয়ী, পাকিস্তানকেও গোল দিয়ে চিরকালীন নজির মহামেডানের

Mohammedan Sporting Club

#MohammedanSportingClub
প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ভারত তখনও পরাধীন। ১১ জনের ভারতীয় ফুটবল যোদ্ধারা ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ, প্রথম কোনও ভারতীয় দল হিসেবে জিতে নিল। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ট্রফি ঢুকল ক্লাব তাঁবুতে। ফুটবল মক্কা কলকাতা সেলাম করছে। সুদূর নিজামশাহী হায়দরাবাদে আতশবাজি ফুটছে। পরাধীন জাতির কাছে এই ডুরান্ড জয় মারাত্মক ব্যাপার।

সাদা-কালো জার্সির এই রঙিন ইতিহাসের ফলাফল ২-১, সেবারই প্রথমবার ব্রিটিশ আধিপত্য কাটল ডুরান্ড ট্রফিতে। মহামেডানের কাছে হারল ব্রিটিশ সেনাবাহিনির Royal Warwickshire Regiment দল। মহানগরী পাগল হয়ে গেছিল। আইএফএ শিল্ড, কলকাতা লিগ তো জয় করেছে আগেই মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল। এবার তৃতীয় ফুটবল শিরোপা ঢুকে পড়ল ভারতের খাতায়। চমকের আরও বাকি আছে।

Mohammedan Sporting Club

চরম আবেগের কলকাতা ফুটবল লিগ জয়ীদের খতিয়ানে লেখা আছে ‘৩০ দশকটি। ১৯৩৫ সালে মহামেডানের আরও এক নজির-প্রথম কোনও ভারতীয় দল যারা জিতে নিয়েছিল লিগ ট্রফি। ফুটবল মক্কায় তখন একটাই শব্দ ‘হারা দিয়া হামনে গোরে লোগো কো’। ১৯৩৫-৩৮ ভারতীয় ফুটবল দল হিসেবে ময়দানে সাদা কালো দাপট। পরপর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে মহামেডান। ধারে পাশে কেউ নেই। ময়দানের কথা-খেলছে কালো প্যান্থার দল।

১৮৯১ সালে জন্ম এই ক্লাবের। মূলত ভারতীয় বিত্তশালী মুসলমান সমাজের ফুটবল প্রীতি এই ক্লাবকে ময়দানে নিয়ে এসেছিল। ১৯৩৬ সালে তৈরি হয় ‘ঢাকা মোহামেডান’। ব্ল্যাক প্যান্থার্স-কলকাতা মহামেডানের ডাক নাম।

সাদা-কালো জার্সির কলকাতা মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সোনালি অতীত এমনই জ্বলজ্বলে যে তার পাশে সমকালীন ক্লাবটি যেন মলিন বটপাতার মতো। এই ক্লাবের অবনমন ‘ফুটবলের মক্কা’ নগরীর জৌলুস কমাচ্ছে।
মহামেডানের যে নজির আসলেই নজিরবিহীনভাবে বিশ্বে আলোচিত সেটি হলো স্বাধীনতার পর প্রথম কোনও ভারতীয় ফুটবল দল হিসেবে বিদেশে চ্যাম্পিয়ন। এই মারাত্মক ঘটনার কেন্দ্র ততকালীন যুক্ত পাকিস্তানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা। ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী শহর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আগা খান ট্রফি ঘিরে মারমার কাটকাট পরিস্থিতি। দর্শক ভেঙে পড়ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে। সেবার পাকিস্তান দল আর ফাইনালে নেই। তাতে কী হয়েছে ! কলকাতার মহামেডান তো আছে।

Mohammedan Sporting Club

পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকাতে রয়েছে ‘ঢাকা মোহামেডান’ ক্লাব। তাদেরও জার্সি সাদা কালো। ফলে যাবতীয় দর্শক সমর্থন ফাইনাল খেলতে নামা কলকাতার মহামেডানের দিকে। প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্দোনেশিয়া তথা এশিয়ার বেশ সাড়া জাগানো PSM Makassar ক্লাব।

ঢাকায় আগা খান কাপের ফাইনালে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে মহামেডানের দাপট বজায় থাকল। ৪-১ গোলে জয়ী হয়ে পাকিস্তান কাঁপিয়ে ভারতীয় দল মহামেডান ফিরতেই কলকাতা ফের পাগল। গোটা দেশে লেগেছিল চমক। ভারতীয় ফুটবলের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বে।

ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই দশক কলকাতার তিন ফুটবল প্রধান দলের মারকাটারি লড়াইয়ের দিন শেষ। ব্ল্যাক প্যান্থার্সের অবনমন চলছে। এ ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে লজ্জার। যে ইতিহাস, গৌরব মহামেডান দিয়েছে সেটি এখন ময়দান থেকেই বিলীন। তবে দলটি আছে। আধুনিকতার মোড়কে মুড়ছে। সফলতা ব্যর্থতার মাঝে ঝিলিক মারে এর ইতিহাস, যে ইতিহাসে ১১ জন ভারতীয় বারবার বল নিয়ে দেশে ও বিদেশের মাঠে ভারত গৌরব হয়েছেন।