একাত্তরের ভুল সংশোধনের ‘শিক্ষা’ নিক পাকিস্তান: Dawn

The Dawn

News Desk: সরকারের সমালোচনা করা এবং খোলাখুলি মত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃত ‘The Dawn’; দেশ দু টুকরো হওয়ার ৫০ বছরে এসে এই সংবাদপত্র তাদের সম্পাদকীয়তে পাকিস্তান সরকারের ভুল করা থেকে শিক্ষা নিতে মতামত জানিয়েছে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান হয়েছিল দ্বিখন্ডিত। পূর্ব পাকিস্তান মুছে গিয়ে রক্তাক্ত লড়াইয়ের পর তৈরি হয় বাংলাদেশ। নতুন দেশটি গঠনের সুবর্ণ জয়ন্তী ও দেশ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ৫০ বছরের দিনে ডন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় শিরোনাম ‘East Pakistan Lessons’ (পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা)।

Dawn সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠদের সরকার গঠনের অধিকার না দেওয়া ছিল বড় ভুলগুলোর মধ্যে ছিল একটি। এর বদলে পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মার্চে সামরিক অভিযান চালানো হয়। এতে সেনা বাহিনী এবং বাঙালি মিলিশিয়ারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল। নিহতদের মধ্যে বাংলাভাষীদের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী অবাঙালিরাও ছিল। 

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণ আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে Dawn সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, দেশের জনগণের একটি অংশ তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করা মানে এই নয় যে, তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে,  পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলির সুরক্ষা চেযেছিলেন। তাদের বিশ্বাসঘাতক বলা যাবে না যেমনটি পূর্ব পাকিস্তানিদের বলা হতো। পাকিস্তানের স্বার্থেই বাংলাদেশের সাথে আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে হবে।

সম্পাদকীয়তে পাকিস্তান সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে সামাজিক চুক্তিগুলো পূরণ করাও অবশ্যই অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকতে হবে। 

Bangladesh 50: বায়ুসেনার বোমা বৃষ্টিতে পাক গভর্নর কাঁপছিলেন, যেমন ছিল ঐতিহাসিক পদত্যাগ মুহূর্ত

Indian airforce raid

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: “That was the end of the last government of East Pakistan.” (পূর্ব পাকিস্তান সরকার শেষ হয়ে গেল)। ভারতীয় বিমান হামলা ও প্রবল বোমা হামলার মাঝে কোনওরকমে নিজেকে বাঁচিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক গাভিন ডেভিড ইয়ংয়ের পাঠানো সংবাদটির বিখ্যাত সেই বাক্যটি দিয়ে ৫০  (Bangladesh 50) বছর আগের ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের কথা শুরু করলাম।

আক্ষরিক অর্থেই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেষ হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি শাসন। ঢাকার গভর্নর জেনারেল ড. আবদুল মোতালেব মালিক (ড. মালিক) কাঁপা কাঁপা হাতে পদত্যাগ পত্রে দস্তখত করেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান সরকার পতনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী লন্ডনের ‘The Daily Observer’ সংবাদপত্রের ঢাকা প্রতিনিধি ডেভিড ইয়ং (Gavin David Young)।

East Pakistan
বোমা হামলায় গভর্নর হাউসের ছাদ ভাঙার পর

মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে ১৪ ডিসেম্বর পাক সেনা পরিবেষ্টিত গভর্নর হাউসে (এখনকার বঙ্গভবন) ঢুকেছিলেন ডেভিড ইয়ং। ভিতরে চলছিল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালিকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পদত্যাগ নাকি যুদ্ধ চলবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গভর্নর দ্বিধান্তিত ছিলেন। সেই বৈঠক চলার মাঝেই ঢাকার আকাশ জুড়ে ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের চক্কর কাটা শুরু হয়। অলি গলি, বিভিন্ন বাড়ির ছাদে জীবন হাতে রেখে উঠে এসে ঢাকাবাসী চিৎকার শুরু করলেন জয় বাংলা আ আ আ…।

Indian airforce
ঢাকার আকাশে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্যারাট্রুপার অপারেশন শুরু

গভর্নর হাউসে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিনিধি ও রয়টার্স সংবাদ সংস্থার সঙ্গে হাজির ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ইয়ং সংবাদে লিখেছেন, বৈঠকের মাঝে শুরু হয়ে গেল ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণ। বৃষ্টির মতো বোমা পড়তে শুরু করেছে। পরপর বোমা হামলায় গভর্নর হাউসের বিখ্যাত দরবার হলের ছাদ হড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল।

জীবন বাঁচাতে পাক গভর্নর ড মালিক দৌড়ে বাগানে ট্রেঞ্ঝের ভিতর ঝাঁপ দিলেন। এমনই সংবাদ ছিল রয়টার্সের।
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ইয়ং লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের সরকার থাকবে না পদত্যাগ করবে এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিল ভারতীয় বিমান হামলা। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝে অফিসের একটা বাতিল সাদা কাগজে বল পয়েন্ট পেন দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে পদত্যাগ পত্র লিখলেন গভর্নর ড. মালিক।
পদত্যাগ পত্র লেখার আগে গভর্নর ড.মালিক ধর্মীয় কিছু নিয়ম পালন করেন। বোমা হামলার মাঝেই তিনি এসব করেছিলেন। সংবাদে এমনই লিখেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ইয়ং।

Bangabhaban
বর্তমান বঙ্গভবন

পঞ্চাশ বছর আগের ১৪ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের পতন হয়ে গেছিল। গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেই ড. আবদুল মোতালেব মালিক রাষ্ট্রসংঘ প্রতিনিধির সাহায্যে আশ্রয় নিলেন আন্তর্জাতিক রেডক্রস অধীনস্ত যুদ্ধনিরপেক্ষ স্থান ঢাকার বিখ্যাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। শেষ হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তানের শাসন।

ঢাকার সেই গভর্নর হাউস বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি বাসভবন। বঙ্গভবন হিসেবে সুপরিচিত। এই ঐতিহাসিক ভবন ঘিরে বারবার সেনা বাহিনীর বন্দুক বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি করেছে। বিশেষত ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর বঙ্গভবন ঘিরে সেনাবাহিনীর দু পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান-ক্ষমতা দখলের রোমহর্ষক মুহূর্ত।

Bangladesh: পাকিস্তান কেটে বাংলাদেশ জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শুরু ১৬ ডিসেম্বর

bangladesh

News desk: রক্তাক্ত নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে। জন্ম নেওয়ার পর ৫০ বছর পার হতে চলেছে। সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান পালিত হবে এই দিনেই। জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই মুজিব শতবর্ষ অনুষ্ঠান সরকার শেষ করতে চায় বলেও জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: Kolkata: বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করেই কলকাতা বইমেলা

Bangladesh 16 december

অনুষ্ঠানে বিদেশি অনেক অতিথি আসার কথা। দু’জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আসতে পারেন। দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠান হবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এমনই জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট না করলেও মনে করা হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিং ঢাকায় আসতে পারেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। তার পরেই ভারত স্বীকৃতি দেয়।

বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান ঘিরে চলছে ব্যপাক প্রস্তুতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৬ তারিখে অনুষ্ঠান হবে। কড়া নিরপত্তা থাকবে। অনুষ্ঠান ও উৎসবস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়ি ঢুকতে করতে পারবে না। এই সময় ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকবেন না এবং নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল ও সারাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>১৯৭১ সালে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে।

পাকিস্তানে সামরিক শাসন চলছিল, ঢাকেশ্বরীর দুর্গা আরাধনা যেমন হয়েছিল

sheikh hasina

নিউজ ডেস্ক: দুর্গা এসেছে। বঙ্গ জনজীবনে উৎসবের আমেজ লেগেছে। আকাশে মেঘ, জমিতে কাশের দোলা। চেনা মুহূর্ত। তবে আমাদের দেশের না। তখনকার পাকিস্তানের। এখনকার বাংলাদেশের।

ধারণা করা হয়, ঢাকেশ্বরী ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, ঢাকেশ্বরী শব্দ থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। ঢাকেশ্বরী দেবী ঢাকা অধিষ্ঠাত্রী বা পৃষ্ঠপোষক দেবী। 

পদ্মা-মেঘনা-আত্রাই নদীর তীরে দুর্গা পূজা কেমন ছিল পাকিস্তানি আমলের? ১৯৬০ এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলছিল পাক সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের দমন নীতি। সেই উত্তাল সময়ে ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী ঢাকেশ্বরী অর্থাৎ দুর্গা বন্দনার কিছু বিরল ছবি থাকল দর্শকদের জন্য।