Maharashtra: বিজেপি করলে কোনও তদন্ত হয় না, বললেন গেরুয়া সাংসদ সঞ্জয় পাতিল

Maharashtra leader Sanjay Patil

News Desk: বিরোধীরা হামেশাই অভিযোগ করেন, সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হচ্ছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এই সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নিজেদের প্রয়োজনে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কাজে লাগাচ্ছে।

যদিও কেন্দ্র বিরোধীদের সেই অভিযোগ বারেবারে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের তোলা অভিযোগ যে এতটুকু ভিত্তিহীন নয় সেটাই প্রমাণ করে দেখালেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় পাতিল। রবিবার সঞ্জয় বলেন, এখন আমি বিজেপি সাংসদ। তাই সিবিআই বা ইডি কেউ আর আমার পিছনে আসবে না।

দিন কয়েক আগে হর্ষবর্ধন পাতিল নামে এক বিজেপি নেতাও একই কথা বলেছিলেন। হর্ষবর্ধন বলেছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন। কারণ এখন আর তাঁকে কোনও ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। যথারীতি বিজেপি সাংসদ ও এক নেতার এ ধরনের কথায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি সরকার সর্বদাই সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিরোধীদের পিছনে লাগিয়ে রেখেছে। বিরোধীদের নানাভাবে হেনস্তা করাই যে মোদি সরকারের একমাত্র লক্ষ বারেবারে এমন অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সেই অভিযোগের সাপেক্ষে তেমন কোনও জোরালো প্রমাণ মেলেনি। এবার সেই প্রমাণ বিরোধীদের হাতে তুলে দিলেন মহারাষ্ট্রের এই বিজেপি সাংসদ সঞ্জয়।

সঞ্জয় পাতিল একমাত্র বিজেপি সাংসদ যিনি প্রথম প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করলেন। শুধু সঞ্জয় একা নন, চলতি মাসে হর্ষবর্ধন পাতিল নামে এক বিজেপি নেতাও একই মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন হর্ষবর্ধন। এই বিজেপি নেতা বলেন, কেউ যদি আমার কাছে জানতে চায় আমি কেন বিজেপিতে যোগ দিয়েছি, তবে আমি বলব নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য আমি গেরুয়া দলে যোগ দিয়েছি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আমাকে আর এখন কারও কোনও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে না। যথারীতি হর্ষবর্ধনের এই মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। হর্ষবর্ধন অবশ্য পাল্টা বলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে সংবাদমাধ্যম। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাঁকে প্রার্থী করেনি। সে কারণেই তিনি কংগ্রেস ছেড়েছেন।

২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের পরই বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নিজেদের কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজন্যই বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। নেত্রীর দাবি, বিরোধীদলে থাকলেই নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন। কিন্তু সেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারাই বিজেপিতে যোগ দিলে সব সাদা হয়ে যান। সে কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলেন।

সম্প্রতি মুম্বইয়ের মাদক মামলায় শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এনসিবিকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছেন, যে যত দুর্নীতিগ্রস্ত হোক না কেন, বিজেপিতে যোগ দিলে তার বিরুদ্ধে চলতে থাকা সব তদন্তই ধামাচাপা পড়ে যায়। বিরোধীরা যে এতটুকু ভুল বলছেন না, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় পাতিলের মন্তব্যে। শুধু সঞ্জয় নন, হর্ষবর্ধনও একই কথা বলায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ আরো মজবুত হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Jacqueline Fernandez: ইডির দ্বিতীয় সমনও এড়িয়ে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

Bollywood actress Jacqueline Fernandez

নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির সমন এড়িয়ে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। ২০০ কোটি টাকার একটি আর্থিক তছরুপের মামলায় জড়িত সুকেশ চন্দ্রশেখর নামে এক ব্যক্তি। এই বলিউড অভিনেত্রীও সুকেশের প্রতারণার শিকার বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার ইডির দফতরে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল জ্যাকলিনকে। কিন্তু অভিনেত্রী এদিন সেই সমন এড়িয়ে গিয়েছেন। তাই আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার তাঁকে হাজির হওয়ার কথা জানিয়েছে ইডি।

২০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার এই মামলায় অগাস্ট মাসে এক দফা জ্যাকলিনকে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়েছিল। এরপর ফের অভিনেত্রীকে ২৫ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় ইডি। কিন্তু ওই দিন অভিনেত্রী ইডির মুখোমুখি হননি। এরপর তাঁকে ১৫ অক্টোবর ডেকে পাঠিয়ে ছিল ইডি। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারও সমন এড়িয়ে গেলেন। এজন্য অভিনেত্রীকে শনিবার ডেকে পাঠিয়েছে ইডি।

জ্যাকলিন ছাড়াও বলিউডের আর এক অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকেও একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ইডির অফিসে হাজির হয়েছিলেন নোরা। বৃহস্পতিবার ইডির তদন্তকারীরা নোরাকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করেন। নোরার সমস্ত বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।

নোরা এবং জ্যাকলিন এই দুই অভিনেত্রীই চন্দ্রশেখরের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রতারণার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন শাখা সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। ওই এফআইআরের ভিত্তিতেই আর্থিক প্রতারণার এই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় ইডি। সুকেশের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, প্রতারণা, মুক্তিপণ আদায়, তেলাবাজি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সুকেশ চন্দ্রশেখর মামলায় জ্যাকলিন ছাড়াও যোগ রয়েছে নোরার। অভিযোগ, সুকেশ জ্যাকলিন এবং নোরাকেও আর্থিক প্রতারণার এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল এই কারণে অভিনেত্রীকে একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত সুকেশ সম্পর্কেই তাঁকে নানা প্রশ্ন করা হয়েছিল। জ্যাকলিন ও নোরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি জানার চেষ্টা করছে যে, তাঁদের সঙ্গে সুকেশের কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কিনা।

উল্লেখ্য, সুকেশ চন্দ্রশেখর নামে ওই ব্যক্তি জেলে বসেও এক ব্যবসায়ী স্ত্রীর কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে ছিল। আর্থিক প্রতারণার এই মামলায় সুকেশের স্ত্রীর লীনা মারিয়া পলের নামও জড়িয়েছে। আর্থিক প্রতারণার মামলায় এখনও পর্যন্ত সুকেশ এবং তার স্ত্রী ছাড়াও আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই মামলায় অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং তার স্ত্রী লিনা পল আপাতত দিল্লির রোহিনী জেলে বন্দি আছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছিল, জেল থেকেই সুকেশ তোলাবাজি চালিয়ে গিয়েছে। তার শিকার হয়েছে বলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রী থেকে একাধিক ব্যবসায়ী। সুকেশকে এই কাজে সব ধরনের সাহায্য করেছে তার স্ত্রী লীনা। অগাস্ট মাসে সুকেশের চেন্নাইয়ের বাংলোয় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮৩ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। একইসঙ্গে এই তদন্তকারী সংস্থা ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬টি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে।

কয়লা মামলায় রুজিরা করোনার অজুহাতে জেরা এড়ালেও পার্লারে গিয়েছিলেন: ED

Abhisekh banerjee wife Rujira banerjee

নিউজ ডেস্ক: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা চোরাচালান মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩১ আগস্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সামনে হাজির হননি।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় “ইচ্ছাকৃতভাবে” মিথ্যা বলেছিলেন এবং ৩১ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) -এর সামনে হাজির হওয়া এড়াতে করোনার অজুহাত দেখিয়েছিলেন।

সূত্রের খবর, ৩১ অগস্টের ৩-৪ দিন আগে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফর করেছিলেন। রুজিরা ইডি অফিসে যেতে অস্বীকার করে বলেছিলেন, “করোনা মহামারীর মধ্যে শারীরিকভাবে একা নয়াদিল্লি ভ্রমণ আমার এবং আমার বাচ্চাদের জন্য গুরুতর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইডি খোঁজ খবর করে জানতে পারে রুজিরা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে কলকাতা থেকে দিল্লি যান৷ কলকাতা ফেরার আগে তিনি ২৮ অগস্ট পর্যন্ত দিল্লি শহরে ছিলেন। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছে, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থাকাকালীন বিউটি পার্লারে যান এবং শহরের আশেপাশের কিছু হিল স্টেশনও বেড়াতে গিয়েছিলেন৷

ইডি-র একটি সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুই সপ্তাহ আগে জানানো হয়েছিল। সূত্রটি জানায়, তিনি জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ পর্যন্ত দিল্লিতে ছিলেন৷ দিল্লিতে তিনি বিউটি পার্লার এবং পর্যটন স্থানগুলির মতো সর্বজনীন স্থানেও যান। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের মাত্র তিন দিন আগে তিনি কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে করোনা মহামারীর অজুহাত দেখান। তার মানে হল, তিনি করোনা মহামারীটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং জেরার মুখোমুখি এড়াতে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ মিথ্যা বলেছেন।

এই প্রমাণের ভিত্তিতে ইডি দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে আবেদন করেছিল৷ সেই মতোই ৩০ সেপ্টেম্বর হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷

কয়লাকাণ্ডে ইডির জেরা শেষে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

TMC General Secretary Abhishek Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আপনার সঙ্গে লড়াই করব৷ সব রাজ্যে যাব৷ যে সব রাজ্যে আপনারা গণতন্ত্রের হত্যা করেছেন৷ আপনার যা পারা করে নিন৷ সোমবার ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

বাংলার কয়লা কাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে সোমবার নয়াদিল্লিতে ইডি কার্যালয়ে হাজির হন অভিষেক৷ দিনভর তদন্তকারীদের জেরা শেষে সন্ধে নাগাদ তিনি বেরিয়ে আসেন৷ তারপরেই রনং দেহি মুর্তি ধারণ করেন তৃণমূল সাংসদ৷ তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, আপনার সঙ্গে লড়াই করব৷ সব রাজ্যে যাব৷ যে সব রাজ্যে আপনারা গণতন্ত্রের হত্যা করেছেন৷ আপনার যা পারা করে নিন৷ তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে তৃণমূল কংগ্রেস হারাবে৷ আমি আমার জীবন দিয়ে, জীবনকে বাজি রাখব. তবুও মাথা নত করব না৷’ স্বাভাবিকভাবেই এদিন ইডির জেরা শেষে বেশ উজ্জীবিত এবং উত্তেজনা দেখা গিয়েছে অভিষেকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে৷

কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগে তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাউপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এদিন সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অফিসে পৌঁছান৷ নয়াদিল্লির ইডি কার্যালয়ে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডির জারি করা নোটিশের ভিত্তিতে সোমবার তিনি হাজির হয়েছেন। অভিষেক বলেন, তদন্তে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করবেন।

দিল্লি যাওয়ার আগে অভিষেক বলেছিলেন, তিনি যেকোনও ধরনের তদন্তের জন্য প্রস্তুত। তবে কবে থেকে তদন্ত শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বলা হচ্ছে, অভিষেককে দ্বিতীয়ার্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে তাঁর স্ত্রীকেও এজেন্সি ডেকেছিল৷ কিন্তু তিনি করোনা মহামারীর কথা উল্লেখ করে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কোনও অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়, তবে তিনি নিজেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে।

তদন্তের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি যেকোন তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। যদি তারা আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে ইডি এবং সিবিআই ব্যবহার করার দরকার নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তারা টিএমসির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে পারে না, তাই এখন তারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে এসেছে। তারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর ভাইপো অভিষেকের বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় তদন্ত সংস্থা ব্যবহার করছে৷ যাতে বিজেপির পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া যায়।

কয়লাকাণ্ডে দিল্লির ডাক: অমিত শাহকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ ত্রিপুরা ‘দখল করব’

Abhishek Banerjee

নিউজ ডেস্ক: একই দিনে সমন ও পাল্টা হুমকির খেলায় কলকাতা-নয়াদিল্লি-আগরতলা সব একাকার। শনিবারই তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কয়লা কাণ্ডে সস্ত্রীক সমন পেয়েছেন। দিল্লিতে ইডি তলব করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূলের কাছে এটা বড় অস্বস্তির। এর পরেই টিএমসি সাধারণ সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, “ত্রিপুরায় (Tripura) তৃণমূল পা রাখতেই বিজেপির (BJP) পা কাঁপতে শুরু হয়েছে। ওখান থেকে মুছে যাবে বিজেপি। ত্রিপুরা ছাড়াও অসম বা অন্য যে সব জায়গায় বিজেপি আছে সব জায়গা থেকে তাদের উৎখাত করা হবে।” হুঙ্কার অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাতা দিবসে অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে আগরতলায় পড়ে গেল শোরগোল। কারণ এর আগেও আগরতলা গিয়ে সরাসরি তিনি বলেছিলেন চাইলে যে কোনও সময় ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন।

এবার সরাসরি ত্রিপুরা দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি- ক্ষমতা থাকলে তৃণমূলকে রুখে দেখাও।”

তাৎপর্যপূর্ণ শনিবারই কয়লা পাচার কাণ্ডে দিল্লিতে জেরার মুখোমুখি হতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। এদিনই তিনি অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দিলেন। দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়েছে এই কারণে।

অন্যদিকে আগরতলা সরগরম। সূত্রের খবর, ত্রিপুরার রাজনৈতিক ছক বদলানোর কাণ্ডারী বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ কলকাতায় এসে তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গত বিধানসভা ভোটের আগে আগে কলকাতায় এসে ত্রিপুরার তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসকে শূন্য করেছিলেন। সবাই টিএমসিতে যোগ দেন। পরে তারা সবাই বিজেপিতে চলে যান। ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে সে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। ক্ষমতায় বিজেপি আইপিএফটি জোট।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছে টিএমসি। তৃতীয়বার জয়ের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ত্রিপুরা দখলের জন্য দলনেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। টি়এমসি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের বাইরে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা ও অসমে সংগঠন বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও যেভাবে দলে দলে মানুষ ত্রিপুরার রাস্তায় তৃণমূলের মিছিলে সামিল হয়েছেন তাতে স্পষ্ট আগামীদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পা রাখলে জনস্রোতের বন্যা বইবে। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, যতদিন ভারতবর্ষের মাটি থেকে বিজেপির বিদায় ঘন্টা না বাজছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর করোনা আবহে ভার্চুয়ালি পালিত হচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এদিন ভার্চুয়ালি দলের যুব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরে এবার দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পদ্ম শিবিরকে মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক। সরাসরি তিনি নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মাটিতে পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই রাজ্যের বাইরে সংগঠন মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।