১২ বছর আগে নিখোঁজ ‘মৃত’ যুবক পরিবারকে চিঠি লিখল পাকিস্তানের জেল থেকে

Chhavi, a resident of Khilafatpur

নিউজ ডেস্ক: একযুগ আগে বিহারের বক্সার জেলার (baxer district) খিলাফতপুরের ১৮ বছরের যুবক ছাভি (chavi) নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। ওই যুবকের পরিবার স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরেও ছাভির কোন খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন, কোন দুর্ঘটনায় ছাভির মৃত্যু ঘটেছে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু হয়েছে ধরে নিয়ে তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়াও (funeral) সম্পন্ন হয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পর ছাভির বাড়িতে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটল। এই বজ্রপাতের কারণ একটি চিঠি। সেই চিঠিটি এসেছে পাকিস্তানের (pakistan) জেল থেকে। চিঠিটি লিখেছে ছাভি স্বয়ং।

নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছাভি কিভাবে পাকিস্থানে গিয়ে পৌঁছল সে ব্যাপারে কোনও হদিশ করতে পারছে না তাঁর পরিবার। পুলিশ মারফত পাকিস্তান থেকে আসা ওই চিঠিটি পেয়েছে ছাভির পরিবার।

জানা গিয়েছে, ছাভি ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝেমাঝেই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮। এরকমই একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর তার খোঁজ মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছাভির বাড়ির লোকজনও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমনকি নিয়মকানুন মেনে পারলৌকিক ক্রিয়াও সেরে ফেলেন তাঁরা।

তবে ওই চিঠি ইতিমধ্যেই ছাভির পরিবারে এনেছে খুশির ছোঁয়া। যদিও পাকিস্তানের কোন জেলে ছাভি বন্দি আছে তা এখনও পর্যন্ত জানতে পারেনি তার পরিবার। তবে ছেলে বেঁচে আছে শুনে ছাভির মা-বাবা যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত। কিভাবে ছাভি একেবারে পাকিস্তান পৌঁছে গেল সে ব্যাপারে তারা কোনও কূলকিনারা করতে পারছেন না। তবে যেখানেই থাকুক না কেন, ছাভিকে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে তার পরিবার। ইতিমধ্যেই ছাভির মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশের কাছে তাঁদের ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন।

Helicopter Crash: কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত ৬ জওয়ানের দেহ আজই পাবে পরিবার

helicopter crash

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: বুধবার তামিলনাড়ু কুন্নুরে (kunnur in tamilnadu) কপ্টার ভেঙে (helicopter crash) প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩ জন। ইতিমধ্যেই শুক্রবার সেনা সর্বাধিনায়ক (cds) বিপিন রাওয়াত ও তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত (bipin rawat and his wife madhulika rawat) এবং রাওয়াতের উপদেষ্টা লখবিন্দর সিং লিড্ডার (lakhbinder sing lidder) শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আরও ছয় সেনাকর্মীর দেহ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ তাঁদের বাড়ি পৌছাবে বলে সেনা সূত্রে খবর।

কপ্টার দুর্ঘটনায় প্রত্যেকটি দেহ আগুনে এতটাই ঝলসে গিয়েছে যে, তাঁদের সনাক্ত করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিটি দেহই রাখাছিল দিল্লির সেনা হাসপাতালে। মৃতদের পরিবারকে সনাক্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ছয় জনের নিকটত্মীয়রা নিজেদের স্বজনের দেহ সনাক্ত করেছেন। যাদের সনাক্ত করা গিয়েছে শনিবার তাদের দেহ পরিবারের কাছে পাঠাবে সরকার।

যে ছয়জনকে তাঁদের আত্মীয়রা সনাক্ত করেছেন তাঁরা হলেন ল্যান্স নায়েক বিবেক কুমার ও বি সাই তেজা , জুনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার প্রদীপ ও রানাপ্রতাপ দাস, উইং কমান্ডার পি এস চৌহান, এবং স্কোয়াড্রন লিডার কুলদীপ সিং। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেহগুলি পাঠানোর আগে সেনা হাসপাতালেই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। তারপর কফিনবন্দি সেনা জওয়ানদের দেহ বাড়ির তাঁদের বাড়ির নিকটবর্তী বিমানবন্দরে পৌঁছবে। সেখান থেকেই বাহিনীর সদস্যরাই বাড়িতে পৌঁছে দেবেন দেহ।

ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কী কারণে কপ্টার ভেঙে পড়ল তা খতিয়ে দেখা হোক। কারণ রাশিয়ার এই এমআই১৭-ভি ৫ হেলিকপ্টার অত্যন্ত উন্নতমানের। এধরনের একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনায় সকলেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে অবশ্য ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া কপ্টারের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছে। যা থেকে এই দুর্ঘটনার কারণ সহজেই জানা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Bhopal: ঋণের দায়ে আত্মঘাতী একই পরিবারের ৫ জন

Bhopal debt-ridden family's suicide bid

News Desk, Bhopal: টাকার জন্য পাওনাদারদের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী (suicide) হলেন একই পরিবারের ৫ জন। আত্মহত্যা করার আগে বন্ধু ও আত্মীয়দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে (whatsapp group) ১৩ পাতার একটি সুইসাইড নোট এবং পাওনাদারদের নাম লিখে রেখে গিয়েছে ওই পরিবারটি।

এমনকী, আত্মহত্যা করার আগে ঘরের দেওয়ালেও তাঁরা লিখে রেখে গিয়েছেন পাওনাদারদের নাম। একই সঙ্গে তাঁরা লিখেছেন, “আমরা বিচার চাই (we want justice)। আমরা ভীত (affraid) নই, কিন্তু কোনও উপায় না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে আত্মঘাতী হচ্ছি।” গত সপ্তাহে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে (Bhopal)।

পুলিশ জানিয়েছে, রীতিমতো পরিকল্পনা করেই বৃহস্পতিবার সকালে ভোপালের ওই পরিবারের ৫ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। প্রথমে তাঁরা পোষ্য দুই সারমেয়কে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন। এরপর তাঁরা নিজেরাও বিষ পান করেন। পাওনাদারদের হাতে হেনস্তা হওয়ার কারণেই তারা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মৃত্যুর আগে পরিবারের সকলে মিলে একটি সেলফিও তোলেন। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ওই পরিবারটির আত্মহত্যার ঘটনায় রবিবার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

আত্মঘাতী পরিবারটির কর্তার নাম সঞ্জীব জোশী। সঞ্জীবের স্ত্রী অর্চনা। ওই ভিডিয়োতে অর্চনা জানিয়েছেন, তাঁদের বসতবাড়িটি ছাড়াও আরও তিনটি জমি রয়েছে। তাঁরা চেয়েছিলেন জমি-বাড়ি বেচে ঋণ পরিশোধ করে দেবেন। কিন্তু তাদের সেই সুযোগ ও সময় দেওয়া হয়নি। অর্চনা বলেছেন, তাঁদের বাড়িটির দাম ছিল ৫২ লক্ষ টাকা। কিন্তু দ্রুত ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাঁরা ২২ লাখ টাকায় বাড়ি বিক্রির জন্য চুক্তিও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু বাড়ির সামনে প্রতিদিনই পাওনাদাররা এসে ঝামেলা করতো, তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওই ভিডিয়োয় অর্চনা আরও বলেছেন, তাঁরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি এবং তাঁর স্বামী সঞ্জীব আত্মঘাতী হবেন। কিন্তু পরে তাঁরা ভেবে দেখেন যে, তাঁদের মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েরা চরম কষ্টে পড়বে। সে কারণেই পরবর্তী ক্ষেত্রে তিন ছেলে-মেয়েকেও মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ইতিমধ্যেই মৃত পরিবারটির আত্মীয়রা পাওনাদারদের নামে পালানি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যদি দেখা যায় পাওনাদারদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার কারণেই ওই পরিবারটি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে তবে অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড়া হবে না।

Prayagraj: যোগী রাজ্যে নিম্নবর্ণের এক পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে খুন

Prayagraj

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের (Utter Pradesh) আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আরও একবার তার প্রমাণ মিলল। এবার যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) রাজ্যের প্রয়াগরাজে (Prayagraj) একটি নিম্নবর্ণের পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন (brutally murder) করা হল।

নিহতদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরীও আছে। খুন করার আগে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ (gang raped) করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ভয়াবহ এই খুনের ঘটনায় অভিযোগের তির অবশ্য প্রতিবেশী এক উচ্চবর্ণের পরিবারের দিকে।

মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, উচ্চবর্ণের ওই পরিবারটি এর আগেও তাঁদের বাড়ির সদস্যদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় সবকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও সরব হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই খুন ও ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতদের পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১০ বছরের এক বালক ও ১৬ বছরের এক কিশোরী আছে। কিশোরীর মৃতদেহ পড়েছিল ঘরের ভিতরে। অন্য তিনজনের দেহ পড়েছিল বাড়ির উঠোনে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্রের কোপে চার জনকে খুন করা হয়েছে। প্রত্যেকের শরীরেই ছিল গভীর ক্ষত চিহ্ন।

মৃতদের পরিবারের এক সদস্য বলেছেন বেশ কিছুদিন ধরেই উচ্চবর্ণের ওই পরিবারটি তাঁদের নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। ১৯ সেপ্টেম্বর দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। উচ্চবর্ণের পরিবারটি তাদের বেশ কয়েকজনকে মারধর করে। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। বরং তাঁদের বিরুদ্ধেই উচ্চবর্ণের পরিবারটি অভিযোগ দায়ের করে।

মৃতদের পরিবারের ওই সদস্য আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁদের খুনের অভিযোগ না করার জন্য অনুরোধ করেছিল পুলিশ। সুশীল কুমার নামে এক পুলিশ কনস্টেবল তাঁদের বাড়ি এসে খুনের অভিযোগ না জানানোর জন্য রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন। সুশীল কুমার তাঁদের বিষয়টি আপোসে মিটিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন। সুশীল কুমারের বিষয়টি সামনে আসতেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল আসরে নেমে পড়েছে। তাদের দাবি, উচ্চবর্ণের পরিবারটির প্রতি বিজেপির সমর্থন রয়েছে। সে কারণেই তারা ওই নিম্নবর্ণের পরিবারকে এভাবে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। কোনওভাবেই এটা মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।