Farm Law: কৃষকদের সব দাবি কেন্দ্র সরকারের মেনে নেওয়া উচিত: সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা

Farm Laws Withdrawn

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি : চলতি সপ্তাহেই সংসদে কৃষি আইন (Farm Law) প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্র সরকার(Central)। তবুও কৃষকরা একাধিক ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার, কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কৃষকদের সংগঠন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (Sanyukt Kisan Morcha) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেন্দ্রের দেওয়া চাপের কারণেই এখনও তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রে তাঁদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে বকেয়া দাবিগুলি পূরণের চেষ্টা করছে। সরকার যদি আন্দোলনের সময়ে মৃত কৃষকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও ফসল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রদান নিয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করে তাহলে তাঁরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে রাজি।

বিবৃতিতে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা আরও জানিয়েছে, কৃষকদের সঙ্গে কোনও কথাবার্তা না বলেই তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য করছে কেন্দ্র। কেন্দ্র তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা না করলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘদিনের একটি লড়াই শেষ হয়েছে। আন্দোলন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবার যুদ্ধে জিতেছে কৃষকরা।

উল্লেখ্য, সোমবার সংসদে সরকার লোকসভা ও রাজ্যসভায় কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করে। সেখানে ধ্বনি ভোটে এই আইন পাশ হয়ে যায়। অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী সাংসদরা (Opposition MPs) কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে দুপুর ১২টা অবধি লোকসভা স্থগিত করে দেওয়া হয়। পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর (Narendra Singh Tomar) কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করেন। রাজ্যসভায় খুবই সামান্য আলোচনার পর কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাশ হয়।

আরও ছয় দাবি জানিয়ে আলোচনার জন্য মোদিকে খোলা চিঠি কৃষকদের

Farm Laws Repeal

News Desk: গত সপ্তাহে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন (farm law) প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (narendra modi)। ওই ঘোষণার পর কৃষকরা তাঁদের আরও ৬ টি দাবি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রের ওপর চাপ বজায় রাখতেই কৃষক নেতারা এই চিঠি দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, কৃষক নেতারা আলোচনার জন্য কোন কোন বিষয়ে উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে?

ওই চিঠিতে কৃষকরা জানিয়েছেন, চাষিদের জন্য ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (msp) নিশ্চিত করার আইন তৈরি করতে হবে। কৃষকদের বিরুদ্ধে গত এক বছরে বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। গত একবছরে আন্দোলন করতে গিয়ে যে সমস্ত কৃষকের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের স্মরণে সিংঘু (singhu) সীমান্তে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে হবে। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার করতে হবে।

এছাড়াও কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট ইন ন্যাশনাল ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাডজয়েনিং এরিয়াস অ্যাক্ট ২০২১ আইনে কৃষকদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত শাস্তিমুলক পদক্ষেপ করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির ঘটনায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত এমনকী, তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

farmers' protest site in Singhu border

একই সঙ্গে কৃষকরা এদিন প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, কেন্দ্র যেন গত এক বছরে আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত কৃষকদের পরিবারকে সাহায্য করতে উদ্যোগী হয়। কৃষক নেতাদের দাবি, গত একবছরে আন্দোলন করতে গিয়ে ৬৭০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, লখিমপুরে আশিস মিশ্রের গাড়ির চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৪ কৃষকের। এই সমস্ত দাবিগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য যত শীঘ্র সম্ভব প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠক ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষক নেতারা। ওই চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট বলেছেন, এই দাবিগুলি নিয়ে যতদিন না একটা সমাধান বের হচ্ছে ততদিন আন্দোলন আগের মতোই বহাল থাকবে।

ওই চিঠিতে কৃষক নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আপনি আমাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে আমাদেরও ভালো লাগছে না। আমরাও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই। আবার নতুন করে কৃষি কাজ শুরু করতে চাই। তাই আপনাকে আমাদের অনুরোধ যত শীঘ্রই সম্ভব এই সমস্যা মিটিয়ে নিন।

Farm Law: ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোদি সরকারকে সময় দিলেন কৃষক নেতা টিকায়েত

Rakesh Tikait

News Desk, New Delhi: বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিল করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। নির্দিষ্ট ওই সময়সীমার মধ্যে কেন্দ্র যদি বিতর্কিত তিন আইন নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করে তবে কৃষক আন্দোলনের মাত্রা বহুগুণ বাড়বে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন এই কৃষক নেতা।

সোমবার টিকায়েত টুইট করে জানিয়েছেন, আমরা তিন কৃষি আইন বাতিল করার জন্য মোদি সরকারকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। তার মধ্যে সরকার যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় সেক্ষেত্রে ২৭ নভেম্বর সকাল থেকেই আমরা আরও দ্বিগুন উৎসাহে পথে নামব। ২৭ নভেম্বর বিভিন্ন গ্রাম থেকে ট্রাক্টরে করে দিল্লির সীমান্তে প্রতিবাদস্থলের কাছে আসবেন হাজার হাজার কৃষক। হাজার হাজার কৃষকের জমায়েত হবে সেখানে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এক জোরদার আন্দোলনের সাক্ষী হবে গোটা দেশ।

গতবছর কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার নতুন তিন কৃষি আইন তৈরি করে। সরকারের দাবি, কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতেই এই নতুন আইন করা হয়েছে। যদিও কৃষকরা সরকারের ওই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষকদের পাল্টা দাবি, মোদি সরকারের এই আইন তাদের ক্ষতি করবে। ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলে দেওয়া হলে কৃষক সম্প্রদায় চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু তার পরেও কৃষি আইন বাতিল করার কোনও চিন্তাভাবনাই দেখায়নি মোদি সরকার। ঘটনার জেরে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে দিল্লির সীমান্ত এলাকায় কৃষকরা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারের সঙ্গে একাধিকবার কথা হল কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ঘটনার জেরে সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতা টিকায়েত নতুন করে কেন্দ্রকে ওই তিন আইন বাতিল করার সময়সীমা বেঁধে দিলেন। কিছুদিন আগে আদালতের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ সীমান্তে কৃষকরা যে সমস্ত তাঁবু খাটিয়েছিলেন সেগুলি সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় পাল্টা হুমকি দিয়ে টিকায়েত বলেছেন, জোর করে কৃষকদের সীমান্ত থেকে সরানোর চেষ্টা হলে তারা গোটা দেশে সব সরকারি অফিসের সামনে অবরোধ করবেন।

টিকায়েত এদিন সাফ জানান, তাঁরা নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে বেশী কিছু চাইছেন না। তাঁরা চাইছেন, নতুন তিন কৃষি আইন বাতিল করা হোক। কারণ এই তিন আইন চালু থাকলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ব্যবস্থাটাই উঠে যাবে। ফলে তাঁদের বহুজাতিক সংস্থার কব্জায় পড়তে হবে। কৃষকদের আয় বাড়া তো দূরের কথা, বরং তাঁরা বহুজাতিক সংস্থার কেনা গোলামে পরিণত হবেন। তাই সরকারকে এই তিন আইন বাতিল করতে হবে। এখন দেখার কেন্দ্র ও কিষান নেতাদের এই উত্তেজক লড়াইয়ের পরিণতি কী হয়।