প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। উদ্ধারে নামল ভারতীয় বায়ুসেনা বাহিনী। কী অবস্থা এই রাজ্যে দেখুন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে নৈনিতাল শহরের পরিস্থিতি প্রতি আধঘন্টায় খারাপ হচ্ছে পূর্বের অবস্থা থেকে। সকাল থেকে যেভাবে নৈনিতাল হ্রদের জল ঢুকতে শুরু করেছে তাতে এই শৈলশহর বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে দুপুরের পর থেকে। এই অবস্থায় হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় সেনা জওয়ানরা নামলেন জলবন্দিদের উদ্ধারে। 

Bankura: ভয়াবহ গন্ধেশ্বরী ভেঙে দিল ‘পরিকল্পনাহীন’ ১৫ লাখের সেতু

Bankura Gandheswari river

অনলাইন নিউজ: বাঁকুড়া: জলের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল বাঁকুড়া (Bankura) শহর সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীর উপর নির্ম্মীয়মাণ কাঠের সেতু। এই অবস্থায় সেতু তৈরীর জন্য বরাদ্দ ১৫ লক্ষ টাকা জলে গেল পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিগত বাম আমলে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীর উপর সতীঘাটে একটি ফুট ব্রীজ তৈরি হলেও কয়েক বছর আগে তা জলের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে রাজ্য পূর্ত দপ্তর একই জায়গায় নতুন করে ১৭ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করে ১৫৪.০৩ মিটার লম্বা ও ১৫.৫৫ মিটার চওড়া একটি সেতুর তৈরির কাজ শুরু করে। কিন্তু কাজ শুরু হলেও সেভাবে কাজ আর এগোয়নি। ফলে চরম সমস্যায় নদীর ওপারের কেশিয়াকোল, বিকনা সহ একটা একটা বড় অংশের কয়েক হাজার মানুষ।

এই অবস্থায় বাঁকুড়া পৌরসভা নদী পথে যাতায়াতের জন্য ফি বছর নতুন করে অস্থায়ী সেতু বানায়। আর তা প্রতিবছর বর্ষার সময় তা ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। এবার একই জায়গায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে কাঠের সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছিল পৌরসভা। আগামী মহালয়ার দিন তা উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গত দু’দিনের বৃষ্টিতে বন্যার তোড়ে নির্ম্মীয়মান সেতু ভেসে যাওয়ায় পৌরসভার পরিকল্পনাহীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় মানুষ। সরকারী অর্থের অপচয় ছাড়া কোন কাজ হয়নি বলে তাদের দাবি।

আর এর পিছনে সেই ‘কাটমানি’ তত্বকে হাজির করেছে বিজেপি। তাদের দাবি কাঠের সেতু তৈরি করা হচ্ছিল বিনা টেণ্ডারে। অথচ গত তিন বছরেও স্থায়ী সেতু তৈরীর কাজ শেষ হলোনা। তৃণমূলের ছোটো বড় সব নেতাই কাটমানিতে যুক্ত বলে তাদের দাবি।

বিষয়ে বাঁকুড়া পৌরসভার প্রশাসক অলকা সেন মজুমদার বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বাঁকুড়ার মানুষকে পুজোর আগে সেতু উপহার দেবো। তা আর হলোনা! এর আগে এতো বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাঁকুড়ায় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

Weather update: দক্ষিণ ভাসিয়ে বৃষ্টি উত্তরমুখী, ভুটান পাহাড়ে হাতির মতো ঘুরছে মেঘ

heavy rain darjeeling

নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিসুর আর মেঘাসুরের জোড়া হামলা শারদোতসবের আগে দক্ষিণবঙ্গ জলে ডুবিয়ে এবার মত্ত হাতির মতো মেঘ (Weather update) গজরাচ্ছে উত্তরবঙ্গের মাথায়।

আবহাওয়া বিভাগ উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে জল থই থই চেহারা হবে। শনি ও রবিবার উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভারি বৃষ্টি হবে।

প্রতিবেশি দেশ ভুটানের পাহাড়ে জমছে মেঘ। ভুটানের সীমান্ত এলারার বিভিন্ন জেলায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। থিম্পু থেকে এমন জানাচ্ছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম। ভুটান পাহাড়ের মেঘ হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। কলকাতা আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে, রবিবার কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

ভারি বৃষ্টির কারণে ভুটান থেকে ভারতে আসা নদী তিস্তা, জলঢাকা, কালজানি, ডান সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য নদীতে জলস্তর বাড়বে বলেই আশঙ্কা। দুর্যোগের কারণে, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার পাহাড়ি পথে ধ্বস নামতে পারে। তেমনই সিকিম যাওয়ার রাস্তা বিচ্ছিন্ন হতে পারে ধ্বসের কারণে। রবিবার বিকেল থেকে বৃষ্টির দাপট কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই নজিতবিহীন বৃষ্টিপাতের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমের বহু এলাকায় দারকেশ্বর, দামোদর, অজয়, কংসাবতী, গন্ধেশ্বরী সহ বিভিন্ন নদনদীর জলস্তর বেড়েছে। বাঁকুড়ার পরিস্থিতি খুব খারাপ। বীরভূমেও বন্যা পরিস্থিতি। ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির জেরে ডিভিসি জল ছাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে দামোদরের জলে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান ছাড়িয়ে হুগলি, হাওড়ার বিস্তির্ণ এলাকা জলমগ্ন। আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে, শনিবার বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

Durgapur: রাতে বাড়ল DVC জল ছাড়ার পরিমাণ, সকালে জলমগ্ন পরিস্থিতি

DVC Durgapur

নিউজ ডেস্ক: বন্যা বন্দি হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষত বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া। নিম্নচাপের অতি বৃষ্টিতে দুর্গা পুজোর আগেই বন্যার আশঙ্কা। তবে আশার কথা নিম্নচাপ কাটছে। কিন্তু ঝাড়খন্ডে বৃষ্টির কারণে দামোদর-অজয় উপত্যকা এলাকার সব নদ নদী এখন ফুলতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবারেই অজয়ের ভয়ঙ্কর রূপ দেখা গিয়েছে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের বিস্তির্ন এলাকায়। অন্যদিকে বাঁকুড়ায় নজিরবিহীন বৃষ্টির জেরে গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী, দারকেশ্বর দু কুল ছাপিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পশ্চিম বর্ধমানে বরাকর, দামোদর নদের জলস্তর বেড়েছে।

Flood situation in south bengal

এদিকে ধারণ ক্ষমতার বেশি পরিমাণ জল জমা হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ডিভিসির (DVC) দুর্গাপুর (Durgapur) ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত জল ছাড়া হয় ২,২১,১৮৬ কিউসেক। রাত দশটার পর তা বাড়িয়ে করা হয় ২,৩১,২৪৮ কিউসেক। ডিভিসি জল ছাড়া বাড়িয়ে দিতেই দক্ষিণবঙ্গের দামোদর সংলগ্ন জেলাগুলিতে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকছে।

Flood situation in south bengal

ডিভিসির অতিরিক্ত জল শুক্রবার দামোদর হয়ে পূর্ব বর্ধমান থেকে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর পৌঁছাবে। এই জলেই প্লাবিত হতে পারে উদয়নারায়ণপুর ও আমতা-২ ব্লকের শতাধিক গ্রাম। আর তাই আগে থেকেই প্রশাসন সতর্ক।বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।

দামোদর তীরবর্তী এলাকাগুলি যেমন প্নাবিত হওয়ার আশঙ্কা, তেমনই অজয়-ময়ুরাক্ষী তীরের বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিম্ন এলাকায় আতঙ্ক। হুগলির বহু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেই প্রশাসনের চিন্তা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

Bankura: অতি বৃষ্টিতে শিলাবতী ভয়াবহ, স্রোতের টানে নিখোঁজ ব্যক্তি

flood situation in bankura

বাঁকুড়া: সিভিক ভলান্টিয়াদের নিষেধ অমান্য করে শিলাবতী নদী পেরোতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গেলেন এক ব্যক্তি। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সুভাষ গুলি মাঝি (৫০)। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানা এলাকার পাথরডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে শিলাবতী নদীর পাথরডাঙ্গা কজওয়ে জলের তলায়। এদিন সকালে মাচাতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জফলা গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ গুলি মাঝি নদী পেরিয়ে নিজের কুমড়ো চাষের জমি দেখতে যাওয়া চেষ্টা করেন। সিভিক ভলান্টিয়াররা বাধা দেন।

কোনও নিষেধ না শুনে ওই ব্যক্তি নদী পেরোনোর চেষ্টা করলে জলের তোড়ে ভেসে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের দিয়ে নদীতে তল্লাশি চলছে। নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন বাঁকুড়ার একটা বড় অংশ। জেলার গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, দামোদর সহ প্রতিটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। 

দ্বারকেশ্বর নদের মীনাপুর, ভাদুল, গন্ধেশ্বরীর ছাতনা, মানকানালী, জেলার দক্ষিণের শিলাবতীর হাড়মাসড়া সংলগ্ন ইঁটাপোড়া, পাথরডাঙ্গা ও সিমলাপাল সেতু জলের তলায়। ফলে জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রেকর্ড পরিমান এই বৃষ্টিপাতের ফলে বাঁকুড়া শহরের একটা অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

Bankura: কে বলবে শরৎকাল! ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড

flood situation in bankura district

অনলাইন ডেস্ক, বাঁকুড়া: আকাশ দেখে কে বলবে শরৎকাল ! এ যেন ভরা বর্ষা। জল থই থই বাঁকুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি। সবকটি নদ-নদীর জলস্তর বাড়ছে। নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন বাঁকুড়ার একটা বড় অংশ। জেলার গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, দামোদর সহ প্রতিটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। 

দ্বারকেশ্বর নদের মীনাপুর, ভাদুল, গন্ধেশ্বরীর ছাতনা, মানকানালী, জেলার দক্ষিণের শিলাবতীর হাড়মাসড়া সংলগ্ন ইঁটাপোড়া, পাথরডাঙ্গা ও সিমলাপাল সেতু জলের তলায়। ফলে জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রেকর্ড পরিমান এই বৃষ্টিপাতের ফলে বাঁকুড়া শহরের একটা অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

সকাল থেকে গন্ধেশ্বররী নদী সংলগ্ন বাইপাস রোড সম্পূর্ণ জলের তলায়। প্রায় কোমর সমান জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে।  বেশ কিছু দোকান জলে ডুবে গেছে।  একই সঙ্গে শহরের লক্ষ্যাতড়া মহাশ্মশান, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিতকী বাগান, জুনবেদিয়া রামকৃষ্ণ পল্লী, পলাশতলা, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লেশ্বর পল্লী, প্রতাপবাগান এলাকায় জল থৈ থৈ অবস্থা। বেশ কিছু বাড়িতেও ইতিমধ্যে জল ঢুকে গেছে। চরম সমস্যায় শহরবাসী।