সাবধান ! খাবারের ককটেল করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো

food

একসঙ্গে অনেক ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। তবে পাকস্থলীর বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। কিছু কিছু খাবার আছে যা একসঙ্গে খেতে ভালো লাগলেও, তা মোটেও শরীরের পক্ষে সুখকর নয়। এতে ঘটতে পারে চরম বিপত্তি। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
জেনে নিন কোন খাবারগুলো কখনওই একসঙ্গে খাবেন না

কলা আর দুধ-
একসাথে দুধ আর কলা খুবই সুস্বাদু। তবে এই খাবার দুটি একসাথে খেলে শরীরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কলা অ্যাসিড তৈরি করে। দুধ কলার সংস্পর্শে এলে ছানা হয়ে যায়। এটি পেটে মারাত্মক গ্যাস সৃষ্টি করে। সহজে হজম হয় না। যা শরীরের ক্ষতি করে। তাই কলা আর দুধ কখনোই একসঙ্গে নয়।

চিজ আর মাংস-
সাধারণত পাস্তা কিংবা পিজাতে আমরা এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেয়ে থাকি। তরুণদের কাছে এই খাবার দুটি খুবই জনপ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে চিজ এবং মাংস কখনোই একসাথে খওয়া ঠিক নয়। এই দুটি খাবারই প্রোটিন সমৃদ্ধ। তাই একসাথে এই দুটি খাবার খেলে শরীরে ব্যাপক ভাবে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যায়। তার সঙ্গে লিভারের প্রোটিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ডিম আর লেবু-
অনেকেই আছেন যারা এগ স্যালাড খেতে পছন্দ করেন। তার মধ্যে স্যালাডের ওপর যদি একটু লেবু দিয়ে দাওয়া যায় তালে তো কথাই নেই। খেতে ভালো লাগলেও এটি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। ডিম আর লেবু ভুল করেও একসঙ্গে খাবেন না। এতে রক্তজালিকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা হার্ট অ্যাটার্কের সম্ভাবনা বাড়ায়।

পিজা আর কোল্ড ড্রিংক-
পিজার সাথে কোল্ড ড্রিংক হলে ব্যাপারটা জমে যায়। অনেকেই এই দুটি খাবার একসাথে খেতে পছন্দ করেন। তবে আদতে এই দুটি খাবার একসঙ্গে খওয়া একেবারেই ঠিক নয়। পিজায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। তার সাথে সোডা জাতীয় পানীয় খেলে মুশকিলে পড়তে পারেন। কেন না সোডায় প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে। যার ফলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

দুধ আর ডিম-
শরীর ফিট রাখতে অনেকেই দুধ আর ডিম সেদ্ধ খাবার পরামর্শ দেন। তবে এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে এর ফল হবে উল্টো। প্রোটিন সমৃদ্ধ পানীয়ের মধ্যে দুধের জুরি মেলা ভার। অন্যদিকে ডিমেও প্রচুর প্রোটিন থাকে। যার ফলে শরীরে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তাই দুধ এবং ডিম একসঙ্গে খেতে বারণ করা হয়।

খাবার খেতে খেতে জল খাওয়া-
আমরা প্রায় সকলেই খাবার খেতে খেতে জল কিনবা জুস খেয়ে থাকি। যা একেবারেই ঠিক নয়। খাবারের সাথে জল খেলে পেট ফুলে যায় এবং গ্যাস সৃষ্টি হয়। তাই চিকিৎসকদের মতে সব সময় খাবার খাওয়ার ১০ মিনিট আগে কিংবা খাবার গ্রহণের ৩০ মিনিট পরে জল খওয়া উচিৎ।

আপনার সন্তানের কী স্মৃতি নষ্ট হতে বসেছে, তবে অবশ্যই ডায়েট পাল্টে ফেলুন

mental health

স্মৃতিশক্তি আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন তা বলার অবকাশ থাকে না। ভুলে যাওয়া খুবই সাধারণ প্রক্রিয়া। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ বৃদ্ধি সম্পর্কে এক ভয়ংঙ্কর তথ্য প্রদান করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে স্মৃতি শক্তি সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ। প্রতিবছর এই দলে যুক্ত হচ্ছে আরও ৭০ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ। মস্তিষ্কে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কর্ম ক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু বিশেষ খাদ্য আছে, তা যদি আমাদের রোজদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে তাহলে স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সেই খাদ্যগুলি সম্পর্কে জানব-

মাছ

তৈলাক্ত মাছ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে উপকারী, যেমন- স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল ইত্যাদি মাছ নিয়মিত খাওয়া উচিত। মাছের চর্বি মাছের চর্বিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, যা মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই সহায়তা করে। অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের এবং মস্তিষ্কের গঠনের জন্য সপ্তাহে দু তিন দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টমেটো

টমেটো স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন। যা খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত স্যালাডের সাথে টমেটো খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারী।

ভিটামিন ‘বিসমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি, বি-৬, বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম এবং শাক-সব্জিতে এগুলি প্রচুর মাত্রায় থাকে।

শষ্য জাতীয় খাবার

শষ্য জাতীয় খাবার যেমন- কাঠবাদাম, ব্রকোলি, কুমড়োর দানা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই রোজ একটু করে খাওয়া ভালো।

মধু ও দারুচিনি

মধু ও দারুচিনি স্নায়ুকে শিথিল করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু পরিমাণ দারুচিনি নাকে নিয়ে শুকলেও স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং রাতে ঘুমানোর আগে শুঁকলে মানসিক চাপ কমে, ঘুম ভালো হয়।

সূর্যমূখীর বীজ

এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যাবলীকে মসৃণ গতিতে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বেরি

স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠানোর পথকে শক্তিশালী করে।

বিটমূল

এর মধ্যে নাইট্রেটের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করতে সাহায্য করে। ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করে।

কালো চকলেট

এর মধ্যে প্রাকৃতিক উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ক এবং মেজাজ ঠিক রাখে। এই খাবারগুলি অবশ্যই রোজদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত, শুধু মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যই নয়, সুস্বাস্থ্যের জন্যও। আর এর সাথে বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম এবং প্রাতঃভ্রমণ মস্তিষ্কের জন্য ভালো। আর যারা ঘরে থাকেন তারা যেকোনো ধারাবাহিক সিরিয়াল কম দেখুন।