Uluberia: জালে বিশাল গঙ্গার ইলিশ, দেখতে ভিড় জমল বাজারে

Big size hilsa caught in the nets in uluberia

বিশেষ প্রতিবেদন: ভেতো বাঙালির অন্যতম প্রিয় পদ মাছ। আর মাছের নাম ইলিশ হয় তো আর দেখতে নেই। এবার উলুবেড়িয়ার গঙ্গায় ধরা পড়ল দু’কিলোরও বেশি সাইজের ইলিশ। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মৎসজীবীদের জালে ধরা পড়ে ২১০০ গ্রাম ওজনের এই ইলিশ মাছটি। 

পাশাপাশি, ১৫০০ গ্রাম ওজনেরও একটি ইলিশ মাছ পরে। তাদের থেকে মাছগুলি কিনে নেন মাছ ব্যবসায়ী নেপাল পাখিরা। তাঁর দাবি, এই মরসুমে এটাই উলুবেড়িয়ার গঙ্গায় ধরা পড়া সবচেয়ে বড়ো ইলিশ। তিনি ২১০০ গ্রাম সাইজের মাছটি ৩০০০ টাকা কেজি দর হাঁকেন। ২১০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ আসার খবরে বাজারে ভিড় বহু উৎসুক মানুষ।

হাওড়া জেলার বিভিন্ন বড় বাজারে বেশির ভাগ ইলিশ আসে ডায়মন্ডহারবার এবং দিঘা থেকে। আবার কোলাঘাট, গাদিয়াড়া, উলুবেড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় গঙ্গা বা রূপনারায়ণ থেকে যে ইলিশ ধরা হয় তাৎক্ষণিক ভাবে সেগুলি স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। ঘটনাটক্রে যে বড় ইলিশ ধরা পড়েছে সেগুলি ধরা হয়েছে মৎসজীবীদের হাত ধরে।

Big size hilsa caught in the nets in uluberia

এদিকে বড় ইলিশ জালে আসা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘যদিও একটা ইলিশ তবুও সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ
স্থানীয়ভাবে বড় ইলিশ ধরা পড়ায় মনে হচ্ছে এখানে যে তাদের বড় হওয়ার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।” তাঁরা মনে করছেন, নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রচারাভিযানের ফলে কিছুটা হলেও ছোট ইলিশ ধরা কমেছে। শুধু তাই নয়, মৎস্যজীবীদেরও এই ঘটনা অনুপ্রেরণা দেবে বলে তাঁরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘‘ছোট ইলিশ না ধরা হলে সেটা যদি বাড়তে থাকে তাহলে তার আকার কতটা বড় হতে পারে তা মৎস্যজীবীরা নিজের চোখে দেখতে পেলেন।’’

এর আগে ২০১৮ সালে উলুবেড়িয়ায় গঙ্গা থেকে ধরা পড়েছিল তিনটি বড় ইলিশ। একটি ইলিশের ওজন ছিল তিন কিলোগ্রাম। তারও মাসখানেক আগে গাদিয়াড়ায় রূপনারায়ণ ও গঙ্গার সঙ্গমস্থলে জেলেরা ধরেছিল দু’টি ইলিশ। একেকটির ওজন ছিল আড়াই কিলোগ্রাম করে। উলুবেড়িয়ায় ওই বড় ইলিশটি বিক্রি হয়েছিল চার হাজার টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে। গাদিয়াড়ায় দু’টি ইলিশ বিক্রি হয়েছিল ২৬ হাজার টাকায়।

বাঙালির খেলার রাজা ফুটবল আর মাছের রাজা ইলিশ

অফবিট ডেস্ক: বাঙালির খেলায় যদি রাজা হয় ফুটবল, মাছের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সেই সিংহাসন ইলিশের। ভাপা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ পোলাও, ইলিশ ভাজা বা ইলিশের মালাইকারী, ইলিশের তেল-ঝোল, ইলিশ দিয়ে কচুর শাক… বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ইলিশের জুড়ি মেলা ভার।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঙালির সাধের রুপালি শস্য বিকোচ্ছে ১২০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে। ইলিশের ভাল-মন্দ নিয়ে আম বাঙালির মধ্যে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। নদী না সমুদ্রের— কোন ইলিশের স্বাদ বেশি? 

Shorshe Ilish | Food Village Restaurant

নদী এবং সাগরের ইলিশের মধ্যে পার্থক্য:

  • গুজরাতের বা সমুদ্র থেকে ধরা ইলিশ আকারে তুলনামূলক ছোট আর লম্বাটে। পদ্মা বা নদীর ইলিশ দেখতে তুলনামূলক ভাবে একটু গোলগাল, আকারেও বড়।
  • নদীর ইলিশ চকচকে বেশি হয়, বেশি রুপালী ধরনের। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল।
  • ভালো ইলিশের চোখ থাকবে স্বচ্ছ। দেখাবে উজ্জ্বল। কোল্ড স্টোরেজে রাখা ইলিশের চোখ ভিতরের দিকে ঢুকে থাকবে এবং ঘোলাটে দেখাবে।
  • তাজা ইলিশের গন্ধ অন্যরকম। কোল্ড স্টোরেজে রাখা হলে ইলিশ তার সেই গন্ধ হারিয়ে ফেলে।
  • টাটকা ইলিশ শক্ত থাকে। অনেক সময় বাজারে দেখা যায়, ইলিশ মাছ বাঁকা হয়ে আছে। এটাই হলো সদ্য ধরা ইলিশের সবচেয়ে বড় লক্ষণ।
  • তাজা ইলিশের কানকোয় একটা লালচে ভাব থাকবে। বাসি হলে লালচে ভাব চলে গিয়ে ধূসর বা বাদামি রং ধারণ করবে।

নদী ও সমুদ্রের ইলিশের পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাগরের ইলিশের থেকে নদীর ইলিশের স্বাদ ভালো। নদীতে আসার পর খাবারের কারণে ইলিশের স্বাদ বাড়ে। সাগরের ইলিশে নোনা ভাব বেশি থাকে। সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে আসার পর নদীর উজানে অর্থাৎ স্রোতের বিপরীতে যখন চলে, তখন ইলিশের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়। এই ফ্যাট বা তেলের জন্যই ইলিশের স্বাদ হয়। আবার অনেকের মতে, ডিম ছাড়ার আগে পর্যন্ত ইলিশের স্বাদ বেশি থাকে। ডিমওয়ালা মাছের পেটি পাতলা হয়ে যায়। সেইসঙ্গে চর্বি কমে যায়। এ কারণে স্বাদও কমে যায়।

ইলিশের স্বাদ ফেরাতে নদীবক্ষে অভিনব উৎসব

Hilsa

বিশেষ প্রতিবেদন: ওঁরা বলছেন, “প্রতিজ্ঞা করুন গঙ্গার রুপালি ফসল ৪০০ গ্রামের নীচে কখনই কিনব না।” এই উদ্দেশ্য নিয়েই ডায়মণ্ডহারবারে হয়ে গেল এক অভিনব ইলিশ উৎসব। যা ছোট ইলিশমাছ ধরার প্রতিবাদের সামিল। কোনও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দ্যেগে নয় সম্পূর্ণ এই বাংলার কয়েকজন পরিবেশ সচেতন নাগরিকের চেষ্টায় অনুষ্ঠিত হয় এই ইলিশ উৎসব।

আপামর বাঙালীর অত্যন্ত প্রিয় মাছ ইলিশ। আর সেই জন্যই ইলিশ মাছ বাঙালীর রান্নাঘর থেকে ঠাকুর পুজোর ঘরে ঢুকে পড়েছে। সরস্বতী পুজো অথবা বিজয়া দশমীর সকালে ওপার বাংলার বাঙালিদের বাড়িতে কুলোতে জোড়া ইলিশ রেখে তেল-সিঁদুর পরিয়ে উলু ও শঙ্খের ধ্বনিতে তার আহ্ববান করে প্রণাম করা হয়। সোজা কথায় এপার থেকে ওপার বাঙালির ভীষণ প্রিয় এই ইলিশ মাছ।

Hilsa at diamondharbour

ঘটনা হল, এই ভরা বর্ষাকালে করোনার দংশনের ভয় কাটিয়ে বাজারে গিয়ে ইলিশের খোঁজ করেননি এমন বাঙালী খুবই বিরল। কিন্তু এবার বড় ইলিশের বড্ড আকাল, বাজারে যা কাঁচা ইলিশ বলে বিক্রি হচ্ছে তা সবই পোনা। ফলে বাজারে অনেক মাছ এলেও তার স্বাদ কম। এর কারণ ডিমওলা ও ছোট মাছ ধরা। এই ছোট ইলিশ মাছ ধরা কমাতে ডায়মন্ডহারবারের হুগলি নদীর সুভাষ ঘাটের কাছে একটি ভেসেলে ইলিশ উৎসবের সূচনা হয়। ভেসেলটি রায়চক-কুঁকড়াহাটি হয়ে ফের ডায়মন্ড হারবারে ফিরে আসে। ইলিশ নিয়ে সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি কমল দে শিকদার, শাকিল আহমেদ, নাগসেন, চন্দন মাইতি-সহ দুই বাংলার লেখক এবং শিল্পীরা। ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। ইলিশ নিয়ে একটি গবেষণা গ্রন্থ এবং সাহিত্য সংকলনেরও উদ্বোধন করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

উদ্যোক্তাদের তরফে লেখক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ছোট মাছ ধরে নেওয়ার জন্য বর্ষাকালে যখন পূবালী হাওয়া বয় তখন বৃষ্টির জল নদী বেয়ে সমুদ্রের মোহনার দিকে গেলেও ইলিশ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে আর নদীর মোহনা বেয়ে উজান পথে আগের মতো আসে না। এই প্রবণতা কমাতে আমাদের এই ইলিশ উৎসব। শুধু খাওয়া নয়, ইলিশকে বাঁচতেও দিতে হবে তবে পাবেন ভালো কিছু। তাই ‘ইলিশ বাঁচাও’ উৎসব করলাম আমরা।’’

গঙ্গা দূষণে ‘বিরক্ত’ ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ সাঁতরাচ্ছে বাংলাদেশের দিকে

Ganga pollution is a big threat to hilsa

নিউজ ডেস্ক: জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগ! তবে মানুষের মতো তো নয়, অবলা রুপোলি ইলিশের কাছে সীমান্ত কী করবে। গঙ্গা মোহনার দূষণের চোটে ঝাঁপ ঝাঁক ইলিশ (hilsa) এখন বাংলাদেশের দিকে মুখ ঘুরিয়েছে। জলেই তাদের মোলাকাত হবে পদ্মার ইলিশের সঙ্গে! 

সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অব ড্যাম রিভার অ্যান্ড পিপলস সম্প্রতি একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। এতে গঙ্গায় ইলিশের দেখা না পাওয়ার কারণ হিসেবে দূষণকেই অধিক মাত্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা থেকে অচিরেই উধাও হতে চলেছে ইলিশের বড় অংশ।

উৎস থেকে মোহনা বরাবর গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার যে নমামি গঙ্গে পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকার তা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতেই তেমন কাজে আসেনি। উৎস অর্থাৎ উত্তরাখণ্ডের কিছু অংশ বাদ দিলে গঙ্গা দূষণ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমনই যে গঙ্গার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দূষণ উদ্বেগজনক।

সেই কারণেই । গঙ্গা নদীর মোহনায় ইলিশের দেখা মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গায় দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ইলিশ। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের অভিমুখ এখন বাংলাদেশের দিকে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর তীর বরাবর শতাধিক পুরসভার আবর্জনা ও কলকারখানার বর্জ্যে গঙ্গায় দূষণের মাত্রা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে খাবি খাচ্ছে মাছের দল।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মরশুমের সময় ডিম সংরক্ষিত রাখার জন্য ইলিশ মাছের দরকার মিষ্টি জলের প্রবাহ। তাই তারা গঙ্গায় প্রবেশ করে। কিন্তু দূষণের ফলে গঙ্গার জল অত্যধিক লবনাক্ত। ফলে ইলিশ এখন গঙ্গার মোহনা থেকে ফিরে যাচ্ছে। গঙ্গা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে তাদের অভিমুখ এখন বাংলাদেশের দিকে।

বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের যুক্তি, পদ্মার পাড় বরাবর ভারী শিল্প, কলকারখানা তেমন গড়ে ওঠেনি। তাই এখনও পদ্মার মোহনা ইলিশের কাছে লোভনীয়। বাংলাদেশ সরকারের কড়া নিয়মে প্রজনন মরশুমে যখন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে সে সময় জেলেদের মাসে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয় মৎস্য অধিদফতর। এতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে কমছে মাত্রাতিরিক্ত ইলিশ ধরার প্রবণতা।