শান্তির পথে মোস্ট ওয়ান্টেড পরেশ বড়ুয়া? ফাঁসির আসামীকে নিয়ে ঢাকা-দিল্লি টানাটানি

paresh baruah

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: অনেকগুলো ছদ্মনাম। কখনও কামারুজ্জামান, কখনও নুরুজ্জামান, এই সব নামেই একসময় বাংলাদেশে থেকে বারবার নাশকতার ছক করা শীর্ষ ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়া শান্তি আলোচনায় আগ্রহী!

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এমন ইঙ্গিতের পরেই গুয়াহাটি থেকে নয়াদিল্লি হয়ে বাংলাদেশ, চিন, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স এমনকি মায়ানমারের সামরিক সরকারও হতচকিত। ঢাকা, বেজিং, ব্যাংকক, ম্যানিলা, নেপিদ (ইয়াঙ্গন) সর্বত্র আলোচনা বড়ুয়ার অবস্থান কী হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা তীব্র শোরগোল। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা) কি অস্ত্র নামিয়ে নেবে? এমনই প্রশ্ন উঠেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, বড়ুয়া সদর্থক বার্তা দিয়েছেন। কারণ, একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করছে। ডিমাসাল্যান্ডের দাবিদার ডিএনএলএ, বোড়োল্যান্ডের দাবিদার এনডিএফবি(সংবিজিত) গোষ্ঠীর সদস্যদের ভূমিকায় আলফা (স্বাধীনতা) ক্যাডারদের মনে প্রভাব ফেলছে। পরেশ বড়ুয়া এটা ভালোই বুঝতে পারছেন।

paresh baruah

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া স্বশাসিত অসমের দাবিতে আতঙ্ক জাগানো এক নাম। অসমে রক্তাক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদ জোরদার করতে নব্বই দশকে পরেশ বড়ুয়া ভারত থেকে বাংলাদেশের আলফার গোপন ডেরায় চলে যায়। ভারত বিরোধী আন্তর্জাতিক আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ষড়যন্ত্রী বড়ুয়া বাংলাদেশের কাছে ফাঁসির আসামী।

আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান যদি ভারতে আত্মসমর্পণ করতে চায় সেক্ষেত্রে ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক অবস্থান কী হতে পারে। উঠছে এমন প্রশ্ন। এর আগে পরেশ বড়ুয়ার সহযোগী আলফা নেতা অনুপ চেতিয়া সহ কয়েকজন আলফা জঙ্গি নেতাকে ভারতে পুশ ব্যাক (ঠেলে পাঠানো) করেছে বাংলাদেশ সরকার।

কেন টানাপোড়েন সম্ভাবনা?
পরেশ বড়ুয়া ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিলে বাংলাদেশের তরফে ভারতের উপর চাপ তৈরি করা হবে। বড়ুয়াকে ভারত থেকে এনে সাজা কার্যকরের দাবি ঢাকার তরফে আসবেই  বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলননের অন্যতম নেতা পরেশ বড়ুয়ার এখন মূল গতিবিধি চিন, মায়ানমারে। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য, মূলত চিনেই অবস্থান করে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, চিনের তরফে সাড়া না এলে সে দেশে আশ্রিত বড়ুয়ার পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে পরেশ বড়ুয়া
ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহে কামারুজ্জামান, নুরুজ্জামান নামে পরেশ বড়ুয়া সহ অন্যান্য আলফা নেতৃত্ব  ঘাঁটি গেড়েছিল। চট্টগ্রামের ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায় পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফাঁসির আসামী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সময় বাংলাদেশে চলছিল বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
খালেদা জিয়ার সরকারের অভ্যন্তরে সুকৌশলে সংযোগ স্থাপন করেছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা। পরিকল্পনা মাফিক চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের সবুজ সংকেত আসে। ২০০৪  সালের ১লা এপ্রিল চালান হস্তান্তর হওয়ার আগেই পর্দা ফাঁস হয়। বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা আটক করেন বহু পেটি। আগ্নেয়াস্ত্র বোঝাই সেই পেটিগুলি নিয়ে যেতে দশটি ট্রাক লেগেছিল। এই কারনে নাম দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা। বিপুল পরিমাণ সেই চোরাই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর। তবে কাউকেই ধরা যায়নি। প্রশ্ন উঠতে থাকে সরকারের ভূমিকা নিয়েই।

দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর ফাঁসির সাজা
বিএনপি সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর অন্যতম ষড়যন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়। খালেদা জিয়া সরকারের ততকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর নাম জড়ায়। পরে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা চালানোর মামলায় জামাত ইসলামির শীর্ষ নেতা নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর বাবর ফাঁসির আসামী হয়ে বন্দি। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নাশকতার মামলা চলছে।

এই মামলায় বাংলাদেশের ৫ প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ফাঁসির আসামী। তদন্তে উঠে এসেছে সরকারের অভ্যন্তর থেকে সেনাবাহিনীর ভিতরে চক্রান্তের জাল ছড়িয়েছিল আলফা। পলাতক পরেশ বড়ুয়া ওরফে কামারুজ্জামান ওরফে নুরুজ্জামানও ফাঁসির আসামী।

বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর উত্তর মায়ানমার ও চিনের সংলগ্ন এলাকায় পরেশ বড়ুয়ার অবস্থান বারবার তথ্য প্রমাণ সহ গোয়েন্দা বিভাগ প্রকাশ করেছে। চিন ও মায়ানমার সরকার নীরব।

অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে নাশকতা-বিস্ফোরণ, গণহত্যার বিভিন্ন মামলায় জড়িত পরেশ বডুয়ার নাম। আলফা এখন দ্বিখন্ডিত। সশস্ত্র পথের অনুসারী গোষ্ঠী আলফা (স্বাধীনতা)। এর সর্বোচ্চ নেতা পরেশ বড়ুয়া।

AFSPA: বিতর্কিত আইনকে যুক্তিসঙ্গত করতে মরিয়া বিজেপি সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের মাথার উপর এখনো খাঁড়ার মতো ঝুলছে বিতর্কিত আফস্পা আইন। ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে মিলেছিল কেবল কিছু শব্দ মাত্র। কিন্তু উত্তর-পূর্বের বাসিন্দাদের অনেকেই চাইছেন আফস্পা আইনের পূর্ণ প্রত্যাহার। সরকার কি শুনবে সেই কথা?

এখনই হয়তো পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে না বিতর্কিত এই আইন। অন্তত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথায় মিলেছে তেমনি আভাস। রবিবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “অসমের ৫-৬ টি জেলা থেকে ইতিমধ্যে সেনা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০২২ সালে আফস্পা আইনে কিছু সংশোধন করা হতে পারে। যা হবে যুক্তিগ্রাহ্য।”

হিমন্ত জানিয়েছেন, “নাগাল্যান্ডের ঘটনা বিবরণী চেয়ে পুর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ প্যানেল। ৪৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কাগজপত্র জমা হওয়ার পর ইতিবাচক দিকে এগোনো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

আফস্পা আইন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি নয়। এই আইন লাগু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশে একাধিকবার হয়েছে আলোচনা। তা সত্বেও গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডে আফপ্সার প্রয়োগকাল আরও বৃদ্ধি করে কেন্দ্র। কারণ হিসেবে বলা হয় ‘নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি বিপজ্জনক এবং চিন্তাব্যঞ্জক’।

উল্লেখ্য,৪ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের৷ এরপর শুরু হয়েছিল অশান্তি। গ্রামবাসীরাও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ। মৃত্যু হয় আরও ৮ জন গ্রামবাসীর৷ এক জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল।

এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর স্বভাবতই আলোড়িত হয়েছিল দেশ। বিজেপি বিরোধী দলগুলো চাপ বাড়াতে থাকে কেন্দ্রের ওপর। নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা-ও বিরোধীতা করেছেন আফস্পা আইনের।

Assam:উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির বেশিরভাগ জবরদখলকারী ছিল না,সমীক্ষা রিপোর্ট

Himanta biswasarma

News Desk: মাস দুয়েক আগে অসমের দরং জেলার ঢলপুর অঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটেছিল। সম্প্রতি একটি সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেদিনের উচ্ছেদ অভিযানে বিতাড়িত পরিবারগুলি সকলেই অবৈধ অভিবাসী জমি দখলকারী ছিল না। যদিও রাজ্যের বিজেপি সরকারের দাবি ছিল, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি সকলেই ছিল জমি দখলকারী।

সেন্টার ফর মাইনরিটি স্টাডিজ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এই সমীক্ষা চালায়। ‘ঢলপুর দ্য ট্রুথ বিহাইন্ড’, (dhalpur the truth behind) শীর্ষক এই সমীক্ষাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১৪ জন গবেষক। তারা ১৫ দিন ধরে সমীক্ষাটি চালিয়েছিলেন।

সমীক্ষায় উচ্ছেদ হওয়া ৯৬৩টি পরিবারের মধ্যে ৫১৭ টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে সমীক্ষকরা বলেছেন, ঢলপুরে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির বেশিরভাগই জমি দখলকারী ছিল না।

রাজ্য সরকার অবশ্য এই রিপোর্ট নিয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তারা বলেছে, ঢলপুরের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কারও কোনও অসুবিধা থাকলে তারা আদালতে যেতেই পারে।

রাজ্যের বিজেপি সরকারের দাবি, ঢলপুরে ৭৭ হাজার ৪২০ বিঘা সংরক্ষিত জমি আছে। কিন্তু প্রায় দুই দশক ধরে বেশকিছু পরিবার বেআইনিভাবে ওই জমি দখল করে রেখেছে। নভেম্বরের প্রথমে এই বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলেই পুলিশকে আক্রান্ত হতে হয়। দখলকারীদের হামলায় ৯ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালালে দুই দখলকারীর মৃত্যু হয়। এই রক্তাক্ত ঘটনা নিয়ে গোটা দেশেই নিন্দার ঝড় উঠেছিল।

ব্রহ্মপুত্রের চর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অনুপ্রবেশকারী বাস করছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ঢলপুর অঞ্চলটিতে মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। এদের মধ্যে অনেকেই অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে বসবাস করছেন।

কিছু রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণে ঢলপুরে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছিল বিজেপি সরকারের পুলিশ। যদিও এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার। অসম সরকারের দাবি, সরকারি জমি দখলকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করতেই অভিযান চালানো হয়েছিল।

Assam: জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে দিল্লি দৌড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

CM To Hold Talks With Ulfa (I) Chief

News Desk: মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারস্থ হলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দিল্লিতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তিনদিনের দিল্লি সফরে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি। তবে তাদের তরফে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। অসম স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার আশা করছে আলোচনায় আলফা (স্বাধীনতা) গোষ্ঠীর সুপ্রিম কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার উপস্থিতি থাকবেন।

দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা, গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আলফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় বারবার রক্তাক্ত হয়েছে অসম। বিভিন্ন সময়ে আলফার কয়েকজম শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করে আলোচনাপন্থী হয়েছেন। তারাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল তৈরি হলে পরেশ বড়ুয়া আলোচনায় আসতে পারেন সরাসরি।

স্বাধীনতা দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরাসরি পরেশ বড়ুয়াকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অসমবাসীর তরফে আপনাকে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করছি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যতম সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটির নেতৃত্ব কী পথ নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

দিল্লিতে গিয়ে বড়ুয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সবুজ সংকেত পেতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফরে উত্তর পূর্বের অপর আগ্রাসী নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন এনএসসিএন (খাপলাং) এর সঙ্গে শান্তি আলোচনার সূত্র খুঁজবেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

Assam: গোরুখুঁটির রক্তাক্ত ঘটনার পর হাতি নিয়ে ফের উচ্ছেদ অভিযানে BJP সরকার

aasam

News Desk: উপনির্বাচনে একতরফা জয় পাওয়ার পরেই ফের উচ্ছেদ অভিযানে কোমর কষে নামছেন অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma)। গোরুখুঁটির রক্তাক্ত ঘটনার পর সোমবার হতে চলেছে আরও একটি উচ্ছেদ অভিযান। এর জন্য বিশাল সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর।

দরং (Darrang)জেলার গোরুখুঁটিতে ( Garukhuti) সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী বাঙালিদের উচ্ছেদে গুলি চালানো ও মৃত্যুর জেরে বিতর্কে জড়িয়েছে অসম ও কেন্দ্রের কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকার। এর মাঝেই হোজাই (Hojai) জেলার লামডিং (Lamding) সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হবে উচ্ছেদ অভিযান।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, লামডিং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৮ ও ৯ নভেম্বর হবে প্রথম পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযান। অর্থাৎ সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে এই উচ্ছেদ। প্রশাসনের তরফে দু দফায় চলবে উচ্ছেদ অভিযান। এরজন্য প্রশাসনের পক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। উচ্ছেদ অভিযানে ‘জবরদখলকারী’ হটিয়ে ১,৪১০ হেক্টর ভূমি উদ্ধার করা হবে। প্রথম দফায় ৫০০ হেক্টর ভূমিকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্য স্থির করেছে অসমের বিজেপি সরকার।

আগামী ৮ নভেম্বর লামডিং সংরক্ষিত বনাঞ্চলটির বেতনলা এবং লাংসিপাই গারো বস্তি এলাকায় এবং ৯ নভেম্বর কমারপানি অঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পুলিশ ও বন বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। এলাকা পরিদর্শন করেছেন অসম পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক জি পি সিং, হোজাইয়ের জেলা শাসক অনুপম চৌধুরী, পুলিশ সুপার বরুন পুরকায়স্থ ,দক্ষিণ নগাঁও বন ডিভিশন হোজাইয়ের আধিকারিক গুনদীপ দাস।

প্রশাসনের তরফে ওই এলাকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সেখানকার বাসিন্দাদের আহ্বান জানানো হয়। তবে তাদের আহ্বানের পূর্বেই সেখান থেকে সরে গিয়েছে বহু পরিবার।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টে হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব (Shiladitya Dev) জনস্বার্থজনিত একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন। এই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত লামডিং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপিতে থাকাকালীন বিতর্কিত মন্তব্য করে বারবার দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন শিলাদিত্য দেব। পরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধেই ক্ষোভ দেখান।

সম্প্রতি গোরুখুঁটির রক্তাক্ত উচ্ছেদের কথা মাথায় রেখে রাজ্য প্রশাসন সতর্ক। এবার যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না ঘটে তার জন্য পুলিশ ও ১১ টিসিআরপিএফ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাতি ,ট্রাকটার, ঘোড়া ,গাড়ি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লামডিং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কমারপানি অঞ্চলে ৫ বার উচ্ছেদ হয়েছিল। যদিও এতে কোনও লাভ হয়নি।

Assam: বিরোধীদের ৫-০ গোল দিয়ে উচ্ছসিত BJP, মুখ্যমন্ত্রী বললেন সব জিতব!

Bjp celebrated Masive win in assam by election

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে গোহারা হেরেছে বিজেপি। আর অসমে বিরাট জয়। উপনির্বাচনে দুই প্রতিবেশি রাজ্যে এই ভিন্ন ছবি। এই রাজ্যে ৫-০ ব্যবধানে এনডিএ শিবির জয়ী হওয়ার পর উচ্ছসিত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের গেরুয়া শিবিরে আনন্দের জোয়ার উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চূড়ান্ত ফলাফল আসার পরই গুয়াহাটি হেংড়াবাড়িতে রাজ্য রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে দলীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে আগাম দীপাবলি লেগেছে।

জয়ের আনন্দে সামিল হলেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্তবিশ্ব শর্মা, রাজ্য বিজেপি সভাপতি ভবেশ কলিতা ও অন্যান্য নেতারা। উপনির্বাচনে বিজেপিকে ফের জয়ী করায় জনগণকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন , এখন আমাদের আর বসে থাকার সময় নেই। বিশ্রাম নিলেই মানুষ আমাদের ভুলে যাবে। দুরন্ত গতিতে কাজ করতে হবে। ৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষকে আমি প্রণাম করছি। ভোটার আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সফল রূপায়ণ করব।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, কেউ আমাদের ভোট দিয়েছে কিনা সেটা বড় কথা নয়। আমরা সবার উন্নয়নের জন্য কাজ করব। এবার বহু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে।

রাজ্যে বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ,চরাঞ্চলে জমির সার্ভে হওয়াটা খুবই জরুরি। বহু সরকারি ভূমিতে জবদখল চলছে। লামডিং বনাঞ্চলে মহাজনি ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। এতে বহু সংখ্যালঘু মানুষ ভূমি পাবেন।

উল্লেখ্য, মিজোরাম ,নাগাল্যান্ড ,মেঘালয় ও অসমে বিজেপি জোটের বিজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই জয় ফের প্রমাণ করল যে আমাদের প্রতি মানুষের সমর্থন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ,গত বিধানসভা নির্বাচনে সুশান্ত বরগোহাঁই এবং ফণীধর তালুকদার তিন হাজার ভোট জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার বৃহৎ ব্যবধান রয়েছে তাঁদের জয়ে।রাজ্যের মরিয়নি কেন্দ্রে রেকর্ড ভোট জয়ী বিজেপি প্রার্থী।

প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী সাড়ে চার বছর জনগণকে বিশ্বাসে নিয়েই সরকার কাজ করবে। সভ্যতা ও বিকাশকে সামনে রেখেই আগামীতে অসমকে দেশের ৫ টি শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন,১২৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী করাটাই আমার লক্ষ্য। জীবনে এমনটা দিন আসবে বলে আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি অসম তথা সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষের আদর রয়েছে। মানুষ উন্নয়ন ও বিকাশকে বিশ্বাস করেন।

NRC: ‘ডি’ ভোটারে অসম বিজেপি জেরবার, প্রচারে বাঙালিদের মন পেতে মরিয়া হিমন্ত

himanta biswa sharma

News Desk: ‘ডি’ ভোটার সমস্যার বিতর্কে জর্জরিত অসম সরকার। রাজ্যে উপনির্বাচনে এই ইস্যু ভোটে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে রাজ্যে শাসক দল বিজেপি। অসমের বাঙলিরা যে জর্জরিত সেটা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্বীকার করলেন।

বুধবার উপনির্বাচনের প্রচারে বাংলাভাষী অধ্যুষিত ভবানীপুর, গোসাইগাঁও ও তামুলপুরে বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডি ভোটার ও নোটিশ সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন,এনআরসি’র জন্য বায়োমেট্রিক করতে গিয়ে আধার আটকে পড়ে বহু মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এহেন সমস্যার সমাধান খুব শীঘ্রই করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় ভাষণ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধার সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার যাবতীয় ব্যবস্থা করছে। এনিয়ে কেউ যেন চিন্তা না করেন।

আরও পড়ুনNRC: ভারতীয় ঘোষণার পরেও ‘ডি নোটিশ’ অসমে, বাঙালি ভারতীর ‘দেশহীন’ আতঙ্ক

রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, রাজ্যে কংগ্রেস আমলেই অসমে ঘুষ নেওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। টাকার বান্ডিল না দিলে কাজ হতো না। সে সময়ে ঘুষ দিতে দিতে মানুষ পাগল হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষক,আশাকর্মী অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরিতে পাওয়ার জন্য দিতে হতো ঘুষ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এমন সংস্কৃতি মাত্র চারমাসে পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনিক অব্যবস্থা বিজেপি সরকার বন্ধ করেছে। আগামী সাড়ে চার বছর সব কলঙ্ক মুছেই ছাড়ব বলে দাবি করেন তিনি।

উপনির্বাচনের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, আগামীদিনে প্রায় ১ লক্ষ যুবক যুবতীকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চাকরি দেওয়া হবে। এক পয়সাও ঘুষ দিতে হবে না। তিনি বলেন, কংগ্রেস শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ভোট নিতে জানে।

সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা

FIR Against Assam CM Himanta Biswa Sarma By Mizoram Police

নিউজ ডেস্ক: অসম- মিজোরামের সীমানা সংঘর্ষের জেরে এবার আরও উত্তপ্ত আবহ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে মিজোরাম পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে।

অসম-মিজোরামের সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে। দুই রাজ্যের সীমানা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এবার আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি ছিল, মিজোরামের নাগরিকরা নিজেদের হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। সেই কারণেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে।

এদিকে অসমের এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা মিজোরাম সরকারের অভিযোগ, অসম পুলিশের ২০০ জনের সশস্ত্র দল তাদের রাজ্যের সীমানায় ঢুকে পুলিশ ক্যাম্প দখল করতে এসেছিল। অসমের ওই বাহিনীকে বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি জটিল করছে অসম। এমনই অভিযোগ মিজোরাম প্রশাসনের।

তবে অসম পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।এদিকে উত্তর-পূর্বের এই দুই রাজ্যের সীমানা দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টায় কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায় সে ব্যাপারে তৎপরতা নিচ্ছেন অসমের এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীরাও।