Pakistan: ‘কাপুরুষের দেশ’ পাকিস্তান, কটাক্ষ ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহামের

কাপুরুষের দেশ! এমনই ভাষায় পাকিস্তান ও দেশের সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান। তাঁর টুইট নিয়ে ইসলামাবাদ সরগরম। বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

কেন এমন লিখলেন রেহাম খান?

রেহাম খানের গাড়িতে রবিবার (২ জানুয়ারি) রাতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে পাকিস্তানকে ‘কাপুরুষের দেশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন রেহাম।

রেহাম টুইট করেছেন, ‘ভাগ্নের বিয়ে থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ বাইকে চেপে দুই দুষ্কৃতি এসে আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। বন্দুক ধরে গাড়িকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি অন্য গাড়িতে উঠে পড়েছি। ওই গাড়িতে আমার নিরাপত্তারক্ষী ও চালক আছেন। আমি পাকিস্তানে সাধারণ পাকিস্তানিদের মতো বাঁচতে এবং মরতে চাই। এটা কাপুরুষোচিত হামলা। শহরের প্রধান মহাসড়কে এই হামলার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন স্ত্রী আঙুল তুলেছেন ইমরান খানের প্রশাসনের দিকে। রেহাম টুইটে লিখেছেন, ‘এটাই কি ইমরান খানের নতুন পাকিস্তান। কাপুরুষ, গুণ্ডা ও লোভীদের দেশে আপনাকে স্বাগত!’

২০১৪ সালে ইমরানকে বিয়ে করেন সাংবাদিক ও  টিভি সঞ্চালক রেহাম খান। তাঁদের বিচ্ছেদ হয় ২০১৫ সালে ৩০ অক্টোবর। এর পর ফের ইমরান খান বিয়ে করেন। তাঁর বর্তমান স্ত্রীর নাম বুশরা মানেকা।

FATF: ধূসর তালিকাতেই থেকে গেল পাকিস্তান, আরও বিপাকে ইমরান সরকার

FATF: Pakistan remains on the gray list

News Desk: FATF- এর ধূসর তালিকা থেকে বের হতে পারল না পাকিস্তান। বরং এফএটিএফ-এর নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের বন্ধু দেশ তুরস্কের নাম। ইসলামিক স্টেট- সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে রীতিমতো আর্থিক সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তুরস্কের বিরুদ্ধে। সে কারণেই তুরস্ককে এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পাকিস্তানকে ধূসর তালিকা থেকে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় প্রায় তিন বছর ধরে রয়েছে পাকিস্তান। এফএটিএফ- এর সভাপতি মার্কাস প্লেইয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা আইএস ও আল কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করছে তুরস্ক। এই দুই জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও আরও বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন তুরস্কের থেকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে।

তুরস্ক সরকারকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের শোধরায়নি। সে কারণেই তুরস্ককে ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল। অন্যদিকে তুরস্ক সরকার এফএটিএফ-এর এই পদক্ষেপকে সে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে দাবি করেছে। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সুলেমান সোলু বলেছেন, এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তুরস্ক বরাবরই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওরা আমাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

একই কথা শোনা গিয়েছে পাকিস্তানের মুখেও। পাকিস্তান বলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্দেশ মতো তারা জঙ্গি দমনে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তার পরেও এফএটিএফ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক ও অনৈতিক কাজ। এফএটিএফ-এর এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের উপর আরও চাপ বাড়ল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সাধারণত বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগান বন্ধ করতে এবং অর্থ তছরুপ রুখতে নজরদারি চালায় ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স৷ যে সমস্ত দেশ নিয়মিত সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ সাহায্য করে সেই সমস্ত দেশকেই প্রথমে ধূসর তালিকাভুক্ত করে এফএটিএফ। বারবার সতর্ক করার পরও সংশ্লিষ্ট দেশগুলি যদি নিজেদের ভূমিকা বদল না করে সে ক্ষেত্রে ওই দেশকে কালো তালিকায় ফেলে দেয় এফএটিএফ।

এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের কালো তো বটেই ধূসর তালিকায় নাম থাকলেও বিশ্বের কোন দেশ থেকেই আর্থিক সাহায্য সহজে মেলে না। এফএটিএফ-এর এই তালিকায় প্রায় তিন বছর ধরে রয়েছে পাকিস্তান। যে কারণে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আঙিনায় পাকিস্তান কোন সাহায্য পাচ্ছে না। বৈদেশিক সাহায্য না মেলায় পাকিস্তানের অর্থনীতি যথেষ্টই চাপের মুখে পড়েছে।

Pakistan: একটি পিয়ন পদ, ১৫ লাখ চাকরি প্রার্থী!

pakistan postal service

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদকে সরকারি মদত দিকে গিয়ে পাকিস্তান (Pakistan) যে অন্দরে অন্দরে চরম অসুস্থ তার ভয়াবহ প্রমাণ হয়ে এসেছে কর্মহীন প্রগতির পরিসংখ্যান। জবলেস গ্রোথের ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে গেল একটি পিওন পদের জন্য ১৫ লাখ চাকরি প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ার ঘটনায়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি হাইকোর্টে একজন পিয়ন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই শূন্যপদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন অন্তত ১৫ লাখ। পিয়ন পদে আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন এমফিল ডিগ্রিধারীরা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশের বেকারত্ব সাড়ে ছয় শতাংশ দাবি করেছেন। কিন্তু পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিক্সের তথ্য অনুসারে দেশটির বেকারত্বের হার ইমরানের দাবির চেয়ে বেশি, ১৬ শতাংশ। বর্তমান সময়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অন্তত ২৪ শতাংশ বেকার।

পাকিস্তানে বেকারত্বের চরম আকার নিয়ে প্রতিবেদন লিখেছে The Dawn সংবাদপত্র। এতে বলা হয়েছে, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটদের ৪০ শতাংশ বেকার। অনেকে ভালো চাকরি না পেয়েছে নিজেদের এমফিল শিক্ষায় নিয়োজিত করছে।

পিআইডিই কর্মকর্তারা জানান, দেশের বেকারত্ব নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনও গবেষণা হয়নি। যা হয়েছে তা বিদেশ থেকে। অনেক গবেষণা ইন্সটিটিউট সক্রিয় থাকলেও এগুলোর গবেষণার লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

রাষ্ট্রসংঘে তালিবান সরকারের স্বীকৃতি চাইলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

Imran Khan

নিউজ ডেস্ক: আনন্দে আত্মহারা আফগান শাসক তালিবান জঙ্গি নেতারা। কে নেই এই আনন্দযজ্ঞে। একের পর এক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিবানি ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতারা উল্লসিত। যেন আনন্দাশ্রু আর থামতে চাইছে না এমন অবস্থা।

কারণ, রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে গিয়ে খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চাইলেন আফগানিস্তানের তালিবান শাসকদের প্রতি সমর্থন। বিশ্বে প্রথম কোনও সরকারের তরফে রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশন কক্ষে তালিবানের পক্ষে আওয়াজ তোলা হয়েছে। যদিও পাক সরকার এখনও তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি।

ইমরান খান বলেন,আফগানিস্তানের জনগণের স্বার্থে তালিবানকে স্বীকৃতি দিক আন্তর্জাতিক মহল। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের জনগণের স্বার্থে আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের সামনে এখন একটাই পথ আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করা।

আফগানিস্তানের সঙ্কটের কথা তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, আমরা যদি আফগানিস্তানকে অবহেলা করি, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আফগানিস্তানের অর্ধেক মানুষ এখন সঙ্কটে আছেন। পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে ওই দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাবেন।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট য আশরাফ ঘানির সরকারকে হটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গড়েছে তালিবান জঙ্গিরা। মার্কিন সেনা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতেই জঙ্গি সংগঠনটি কাবুল দখল করে নেয়। তাদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নারীর অধিকার খর্ব করার অভিযোগে বিশ্বের অধিকাংশ তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ফলে বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্যের পথ।

এদিকে রাষ্ট্রসংঘে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে মরিয়া তালিবান। তাদের নির্বাচিত দূতকে যদিও স্বীকৃতি দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ। তবে জানানো হয় বিষয়টি বিবেচনাধীন। যতদিন না পাকা সিদ্ধান্ত হবে ততদিন অপসারিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নিযুক্ত দূতকেই মান্যতা দেবে রাষ্ট্রসংঘ।

পাকিস্তানে ইমরান জমানার অবসান হতে চলছে

Pakistan's PM Khan

নিউজ ডেস্ক, ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে ইমরান-সরকারের দিন ফুরিয়ে আসতে চলেছে৷ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনটাই আভাস দিচ্ছে৷ প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি তাঁর কর্মীদের সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন৷ তাঁর এই নির্দেশের পরেই মনে করা হচ্ছে দেশের রাজনীতিতে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। জেনে রাখা ভালো, ইমরান খান সরকার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণে বিরোধীদের পাশাপাশি দেশের জনমনেও ইমরানের ভুমিকায় বেশ ক্ষুব্ধ।

পাকিস্তানের ‘দুনিয়া নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি দলীয় কর্মীদের বলেছেন পাকিস্তানে যে কোনও সময় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে৷ তাই এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিলাওয়াল কর্মীদের আরও বলেছেন, ‘প্রত্যেকের উচিত নিজেদের মধ্যে বসে সমস্ত বিভেদ দূর করে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা৷ কারণ যে কোনও সময় দেশে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে’।

Bilawal tells party workers to be ready for general elections

বিলাওয়ালের এই বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে। তার একটি উদাহরণ কিছুদিন আগে দেখা যায়৷ যখন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াত পিপিপি নেতাকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। ‘ জিও টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজওয়াত অতীতে বিলাওয়াল ভুট্টোকে তাঁর ছেলের ভালিমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কারও কাছে গোপন নয়। অতএব, বিলাওয়ালের বক্তব্যের ফলে জল্পনার বাজার গরম হয়ে উঠেছে।

যারা পাকিস্তানের রাজনীতি সম্পর্কে অবগত, তার মনে করেন, বিলাওয়াল যদি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। একই সঙ্গে পিপিপি নেতার এই বক্তব্যের পর ইমরান খান টেনশনে পড়ে গিয়েছেন৷ ইমরান যদিও এখনও পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন৷ কিন্তু এখন তার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং তাতে বিলাওয়াল ভুট্টো উপকৃত হতে পারেন।