Income Tax filing: কর দেওয়াটা সহজ আর ফাঁকি দেওয়া কঠিন করে তুলছে ফর্ম 26AS

Income Tax filing

অনলাইন ডেস্ক: আয়কর (I-T) বিভাগ সম্প্রতি ফর্ম 26AS-এ অন্তর্ভুক্ত করা তথ্যের পরিধি প্রসারিত করেছে , যারফলে এটি সম্মিলিত ভাবে আরও ব্যাপক আকার নিয়েছে। আয়কর বিভাগের (Income Tax department) লক্ষ্য হল যতটা সম্ভব করদতার আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং যারা তাদের প্রাপ্য কর পরিশোধ করছেন না তাদের খুঁজে বের করা। 26AS ফর্ম আপলোড করা নতুন তথ্যের মধ্যে রয়েছে আয়কর ফেরতের সুদ , বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ , মিউচুয়াল ফান্ড থেকে লভ্যাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ক্রয় ইত্যাদি।

ফর্ম 26AS-তে অতিরিক্তভাবে , আপনার বেতনের কোন খাতে কি আছে , আপনার দ্বারা দাবি করা যে কোনও ছাড় , অন্যান্য উত্স এবং বাড়ির সম্পত্তি থেকে আপনার আয় এবং সামগ্রিক ভাবে আপনার করের দায়বদ্ধতার তথ্য সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা থাকবে। নতুন তথ্যের মধ্যে একটি মোটর গাড়ির বিক্রয় বা ক্রয়ের বিবরণ , একটি ডিপোজিটরির সঙ্গে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা , একটি হোটেলে অর্থ প্রদান ইত্যাদির বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা থাকবে ৷ ফর্মটি অফ-মার্কেট লেনদেনের তথ্যও সংযুক্ত করবে ৷

তাহলে, এই ধরনের পদক্ষেপের পিছনে ধারণা কী?
ক্লিয়ার-এর অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রেগুলেশনের পরিচালক প্রীতি খুরানা জানিয়েছেন , ফর্ম 26AS হল আয়কর বিভাগ এবং করদাতা উভয়ের জন্যই সত্যের একক উৎস হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন , ” সময় সময় আপনার ফর্ম 26ASটি পর্যালোচনা করা হলে সেটা থেকে লেনদেন সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা তৈরি করবে ৷” এটি কি তবে ‘ফেসলেস ডিজিটাল অ্যাসেসমেন্ট’এর দিকে একটি পদক্ষেপ? এই প্রসঙ্গে খুরানা জানিয়েছেন ,‘‘ হ্যাঁ, এটি ফেসলেস ডিজিটাল অ্যাসেসমেন্ট -এর দিকে একটি পদক্ষেপ ৷ সরকারও শীঘ্রই আপনার ট্যাক্স ফর্মগুলিতে মূলধনী লাভ জমা করতে শুরু করবে ৷ এটি শুধুমাত্র মূল্যায়নের জন্য নয়, এটির ফলে আপনার আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে আপনার কাছে পুরোপুরি তথ্য দেখতে পাবেন ৷’’

তাহলে, অঘোষিত লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া কি এখন আরও কঠিন হয়ে যাবে? খুরানার মতে, কর ফাঁকি দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে, কারণ আয়কর বিভাগের সামনে সমস্ত রকম লেনদেনের তথ্য দেখতে পাওয়া যাবে ।

উপসংহারে বলা চলে এটি করদাতাদের সঠিকভাবে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে এবং অসঙ্গতি সনাক্ত করতে আয়কর বিভাগকে সহায়তা করবে।

Mumbai: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ১৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

maharashtra deputy cm ajit pawar

News Desk, Mumbai: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ১৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল আয়কর দফতর। জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মধ্যে আছে দক্ষিণ দিল্লির একটি ফ্ল্যাট, জরানদেশ্বরে একটি চিনির কারখানা, গোয়ায় একটি রিসর্ট এবং নির্মলা হাউসে একটি বড়সড় অফিস।

কিছুদিন আগেই আয়কর দফতর মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশকিছু বেনামি জমি উদ্ধার করেছিল। যার আনুমানিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। বেনামি ওই সম্পত্তির মালিকও অজিত পাওয়ার বলেই খবর। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক তিনি নন, এটা প্রমাণ করার জন্য ৯০ দিন সময় পাচ্ছেন উপমুখ্যমন্ত্রী পাওয়ার।

আয়কর দফতরের পক্ষ থেকেই উপ-মুখ্যমন্ত্রী পাওয়ারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এই খবর জানানো হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় সংস্থা উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছে, এই সম্পত্তি যে তাঁর নয় সেটা তাঁকে প্রমাণ করতে হবে। উপ-মুখ্যমন্ত্রীর এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার খবরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

ইতিমধ্যেই শিবসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মহারাষ্ট্রে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা দখল করতে না পেরে ঘুর পথে তারা এ রাজ্যের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। সে কারণেই শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করছে তারা। যার বেশিরভাগই ভিত্তিহীন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজে লাগাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

তবে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পাওয়ারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে কংগ্রেস এবং এনসিপি কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিজেপির তরফেও মেলেনি কোনও প্রতিক্রিয়া।

এর আগে শনিবার রাতেই রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখকে গ্রেফতার করেছে ইডি। অনিলের বিরুদ্ধেও আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রে যেভাবে শাসক জোটের একের পর এক নেতা ও মন্ত্রী দুর্নীতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন রাজ্য রাজনীতিতে তা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই রাজ্যে কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনার জোট সরকার চলছে। কিন্তু যেভাবে একের পর এক এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তাতে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বিব্রত বোধ করছেন।

রাজ্যের বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির চক্রান্ত বলে চালানোর চেষ্টা করলেও সেটা যে সব সময় মানুষ মেনে নেবে তা নয়। বিষয়টি বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রীও। কিন্তু জোট সরকার টিকিয়ে রাখার কারণে মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান শরিক দুই দলকে জোর গলায় কিছু বলতেও পারছেন না। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন। একদিকে তাঁকে রাজ্যে সরকার টিকিয়ে রাখার কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে কিভাবে এই দুর্নীতির মোকাবিলা করা যায় তাও ভাবতে হচ্ছে।