Narendra Modi: স্বাধীনতার ইতিহাসে আদৌ গুরুত্ব পাননি আধ্যাত্মিক গুরুরা 

Narendra Modi in kashi

News Desk: দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে (Indian Freedom Struggle) আধ্যাত্বিক গুরুদের বিশেষ অবদানের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)৷

তিনি মনে করিয়ে দিলেন, দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই আধ্যাত্মিক গুরুদের যতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল তাঁরা আদৌ সেটা পাননি। এমন অনেক আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন, যাঁরা আধ্যাত্বিক ক্রিয়াকলাপ ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে। তাদের অবদানের কথা কিন্তু ইতিহাসে সেভাবে পাওয়া যায় না। চলতি বছরে আমরা স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব (amrit mohotsav) পালন করছি। এই উপলক্ষে আমরা সেই সমস্ত অজানা গুরুদের কথা সামনে নিয়ে আসব। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের যুবসমাজের (youth society) সামনে তাঁদের জীবন ও আদর্শের কথা তুলে ধরতে হবে। মঙ্গলবার বারাণসী (varanasi) সফরের দ্বিতীয় দিনে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (narendra modi)।

সোমবার কাশী বিশ্বনাথ করিডোর উদ্বোধন করার পর মঙ্গলবার বিকেলে বেনারসে সদগুরু সদাফলদেও বিহঙ্গম যোগ সংস্থানের ৯৮ তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সাধুসন্তদের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অসহযোগ আন্দোলন করে যারা জেলে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম সন্ত সদাফল দেও। একজন আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু যেভাবে ঈশ্বর সাধনা ছেড়ে দেশের সেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তা ভাবতেও অবাক লাগে। প্রত্যেক সাধুসন্তরা তাঁর এই কাজে গর্ববোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদাফল দেও আমাদের স্বদেশীর মন্ত্র শিখিয়েছিলেন। সেই মন্ত্রকেই আমরা পাথেয় করেছি। সেই মন্ত্রকে সামনে রেখেই আজ আমরা আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার কথা বলছি। এই পরিকল্পনায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অন্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেশের ব্যবসাকে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছি। মোদী বলেন, আমাদের দেশের আধ্যাত্মিক ধর্মগুরুদের অবদান কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। যখনই দেশ কোনও সঙ্কটে পড়েছে তখনই তাঁরা বেরিয়ে এসেছেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

মোদীর এই বেনারস সফরে তার সঙ্গেই আছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার আগে গঙ্গাস্নান করেছিলেন মোদী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকলেও গঙ্গায় ডুব দেননি যোগী। এ প্রসঙ্গেই মঙ্গলবার যোগীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। গঙ্গা দূষণের কথা টেনে অখিলেশ বলেন, যোগী ভাল করেই জানেন যে গঙ্গা কতটা অপবিত্র, নোংরা হয়ে আছে। সে কারণেই তিনি গঙ্গায় স্নান করেননি। যদিও বিজেপি দাবি করে গঙ্গা পরিষ্কার করতে তারা নাকি কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। আসলে সবই মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া। টাকা খরচের নামে সেই টাকা যাচ্ছে বিজেপির পার্টি ফান্ডে। গঙ্গা কি কোনদিনই পরিষ্কার করবে বিজেপি? তবে গতকাল তিনি কেন গঙ্গায় নামেননি সে প্রসঙ্গে কোনও ব্যাখ্যা দেননি মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ।

Kangana Ranayut: গান্ধীর নীতিতে দেশ স্বাধীন হতে পারে না, বিস্ফোরক মন্তব্য কঙ্গনার

Kangana Ranaut

News Desk: ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (kangana ranayut)। এবার মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। সাফ বললেন, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ মেনে দেশ কখনওই স্বাধীনতা পায়নি।

স্বাধীনতার জন্য তিনি যে পথ বেছেছিলেন সেই পথে দেশ কখনও স্বাধীন হতে পারে না। অহিংস নীতিতে কোনও দেশ কখনও স্বাধীন হতে পারে না। অহিংসার মাধ্যমে শুধু ভিক্ষাই পাওয়া যায়। কঙ্গনা আরও বলেছেন, দেশের স্বাধীনতার (independence) জন্য বিশেষ ভূমিকা ছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর, ভগৎ সিংয়ের। কিন্তু তাঁরা কোনও দিনই প্রাপ্য সম্মানটুকু পাননি।

যথারীতি কঙ্গনার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কঙ্গনাকে গান্ধীর বিরুদ্ধে করা এই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় তারা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই পদ্ম সম্মানে ভূষিত হয়েছেন কঙ্গনা। পদ্ম সম্মান (padma award) পাওয়ার পরই অভিনেত্রী বলেছিলেন, দেশ ১৯৪৭ সালে প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। দেশ প্রকৃত স্বাধীন হয়েছে ২০১৪ সালে।

Kangana Ranaut

সেই বিতর্কের রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই নতুন করে ফের এক বিতর্কিত মন্তব্য করলেন কঙ্গনা। বুধবার কঙ্গনা পুরনো একটি খবর শেয়ার করেছেন। ওই খবরে বলা হয়েছে, জওহরলাল নেহরু (nehru), মহাত্মা গান্ধী (mahatma gandhi) ও জিন্না (jinna) নেতাজিকে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছিলেন।

এই খবরটি শেয়ার করে কঙ্গনা বলেছেন, মানুষকে হয় নেতাজিকে সমর্থন করতে হবে, নয়তোবা গান্ধীকে। এই দুইজনকে কখনও একসঙ্গে সমর্থন করা যায় না। তাই কাকে সমর্থন করবেন সেটা মানুষকেই ভাবতে হবে। এর আগেও কঙ্গনা বলেছিলেন, যারাই দেশকে স্বাধীন করার চেষ্টা করেছিলেন তাদেরই ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। লড়াইয়ের ময়দানে যাদের ঘাম ঝরানোর ক্ষমতা ছিল না অথচ চোখে ক্ষমতার বিপুল অভিলিপ্সা তারাই এই কাজ করেছিল।

<

p style=”text-align: justify;”>গান্ধীকে নিয়ে কঙ্গনার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। কংগ্রেস (congress) ইতিমধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। এমনকী, তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছে। নেটিজেনরাও কঙ্গনার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। অনেকেই বলেছেন, অভিনেত্রী বিজেপি ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই গান্ধী সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তবে বিজেপি এদিন কঙ্গনার এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

৯৯ বছরের লিজে স্বাধীনতা পেয়েছে ভারত, দাবি বিজেপি নেত্রীর

BJP youth wing leader Ruchi Pathak

News Desk, Kolkata: ভারত এখনও স্বাধীন হয়নি। আমরা যে স্বাধীন ভারত দেখছি সেটা ব্রিটিশ শাসকের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ পাওয়া। চাঞ্চল্যকর এই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেত্রী রুচি পাঠক। বিজেপি যুব মোর্চার মুখপাত্র রুচির এই মন্তব্যে গোটা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি উঠেছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। কিসের ভিত্তিতে বিজেপি নেত্রী এই মন্তব্য করলেন সেটাই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ঝাঁসিতে একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করেছিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ওই অনুষ্ঠানে রীতিমতো কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেন নেত্রী। সে সময় রুচি বলেন, ভারত এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। ৯৯ বছরের লিজে কংগ্রেস স্বাধীনতা পেয়েছিল। এ ব্যাপারে একটি লিখিত চুক্তিও হয়। ইতিহাস পড়লেই বোঝা যাবে ব্রিটিশরা আমাদের স্বাধীনতা দিতে রাজি ছিল না। দেশের সংবিধান তৈরি হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নেহেরু। তাই এটাকে কখনওই স্বাধীনতা বলা যায় না। আমরা যে স্বাধীনতা ভোগ করছি সেটা ৯৯ বছরের জন্য।

ওই মন্তব্যের পর এই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ট্রোলড হয়েছেন রুচি। নেটিজেনরা সকলেই প্রশ্ন তুলেছেন, কিসের ভিত্তিতে বিজেপির যুব মোর্চা নেত্রী এমন কথা বললেন। কেউ কেউ বলেছেন, বিজেপির সমস্ত নেতারা হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রুচি হলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এই মুহূর্তে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন নেত্রী। নেটিজেনরা সকলের দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য নেত্রী কোন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে করেছেন সেটা তাঁকে জানাতে হবে। শুধু নেটিজেনদের কাছেই নয়, ওই মন্তব্যের জন্য দলের অন্দরে ও চাপের মুখে পড়েন রুচি।

তাই তড়িঘড়ি রুচি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তিনি নতুন এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি আবেগের বশে ওই মন্তব্য করেছিলাম। দেশবাসীর ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমার এই মন্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। আমি কয়েকটি ব্লগের তথ্য পড়ে ওই মন্তব্য করেছি। হতে পারে আমার কাছে ভুল তথ্য ছিল।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেত্রীর এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়েছে, বিজেপি নেত্রী রীতিমতো জেনে-বুঝে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। আসলে কংগ্রেসের গায়ে কালি ছেটানোই তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু বিজেপির নেতৃত্বের এই উদ্দেশ্য সফল হবে না।

লক্ষ্মী সেহগাল: স্বাধীনতার ইতিহাসে রামায়ণের উর্মিলা

Lakshmi Sehgal

অনুভব খাসনবীশ, কলকাতা: নেতাজী সুভাষ বসুর ডাকে লক্ষ্মী সেহগাল আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী ব্রিগেড “ঝাঁসীর রানী”র দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশ থেকে বিতাড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। উদ্বাস্তু শিবির পরিচালনাসহ কলকাতায় বাংলাদেশী শরণার্থীদের চিকিৎসা, সবেতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। যদিও তাঁকে স্বচ্ছন্দে তুলনা করা যায় রামায়ণের উর্মিলার সঙ্গে।

উর্মিলা! রামের অনুজ লক্ষ্মণের স্ত্রী। রাম-সীতা-লক্ষ্মণের বনবাসকালে অযোধ্যায় একাকী কাটিয়েছেন৷ অপেক্ষা করেছেন তাদের জন্য। সরাসরি যুদ্ধে অংশ না-নিলেও মহাকাব্যে তাঁর ভূমিকাও অপরিসীম। অথচ সীতাকে নিয়ে রামায়ণে যে বন্দনা, তার সিকিভাগও জোটেনি তাঁর কপালে। গোটা রামায়ণেই তিনি উপেক্ষিতা। ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীও অনেকটা সেরকম। যদিও উর্মিলার মত তিনি নতুন ভোরের অপেক্ষাই শুধু করেননি, নেতৃত্ব দিয়েছেন রাতের যুদ্ধেও।

লক্ষ্মী সেহগালের জন্ম ২৪ অক্টোবর, ১৯১৪ সালে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই)। ১৯৩৮ সালে মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এক বছর পর গাইনোকোলজি এবং অবস্টেট্রিক্স বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী হন। চেন্নাইয়ের ত্রিপলিক্যান এলাকার সরকারি কস্তুর্বা গান্ধী হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সাবালিকা অবস্থা থেকেই সামনে থেকে দেখেছেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন। বিশেষত প্রাক-স্বাধীনতা আন্দোলন সেই সময় সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। ক্রমশ বাড়ছে ইংরেজদের অত্যাচার! পাল্লা দিয়ে শহিদ হচ্ছেন দেশের একের পর এক সন্তান। ফলে, দেশসেবার বীজ তাঁর মনে বপণ হয়েছিল প্রায় শিশুকালেই। যদিও তা বৃক্ষের আকার নিল ভারতবর্ষের মাটিতে নয়, সিঙ্গাপুরে।

Lakshmi Sehgal

১৯৪০ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি দেন লক্ষ্মী সেহগাল। সেখানেই সাক্ষাৎ হয় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু’র ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে। সেখানে ভারতবর্ষ থেকে আসা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে একটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। শুরু হয় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। এর তিনবছর পর ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুর যান স্বয়ং নেতাজি। প্রস্তুতি শুরু করেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অভ্যুত্থানের। শুধু পুরুষরা নন, যাতে অংশ নিয়েছিল বহু মহিলারাও।

এই প্রস্তুতিকালে নারী রেজিমেন্ট গঠনের কথা বলেন সুভাষচন্দ্র বসু। লক্ষ্মী সেহগাল বিষয়টি শোনেন৷ রেজিমেন্টের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন৷ পরিচিত হন ‘ক্যাপ্টেন’ লক্ষ্মী সেহগাল পরিচয়ে। পরে তাঁর এবং নেতাজির এই নারী বাহিনীই পরিচিতি পায় বিখ্যাত ঝাঁসির রাণী বাহিনী নামে। আজাদ হিন্দ ফৌজ জাপান সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বার্মা অভিমুখে ডিসেম্বর, ১৯৪৪ সালে রওনা দেয়। কিন্তু মার্চ, ১৯৪৫ সালে প্রবল যুদ্ধে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর ফলে আইএনএ নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাদের বাহিনী ইম্ফলে প্রবেশ করবে। ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগাল, ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং পরবর্তী একবছর বার্মায় কারাগারে আটক ছিলেন। দিল্লিতে আইএনএ সদস্যদের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি অবিভক্ত ভারতে ফিরে আসেন।

১৯৪৭ সালে তাঁর স্বপ্ন সফল হয়৷ স্বাধীন হয় ভারতবর্ষ। সেই বছরেই লাহোরে কর্ণেল প্রেম সেহগালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সেহগাল দম্পতির দু’টি কন্যা সন্তান – সুভাষিণী আলী এবং অনিশা পুরী। বিয়ের পরেই সেবার কাজ থামাননি তিনি৷ কানপুরে গড়ে তোলেন দাতব্য চিকিৎসালয়।

১৯৭১ সালে যোগ সিপিআই (এম)-এ, রাজ্যসভায় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। তার দশবছর পর সিপিআই (এম)-এর অখিল ভারতীয় জনবাদী মহিলা সমিতির নারী শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হন। ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ভূপালের গ্যাস দূর্ঘটনায় চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দেন। সেই বছরেই শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে জনসংযোগ করেন।

২০০২ সালে চারটি বামপন্থী দল – বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল এবং অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক, সিপিআই, সিপিআই (এম.এল) লক্ষ্মী সেহগালকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেন৷ যদিও তিনি এপিজে আব্দুল কালামের কাছে পরাজিত হন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগাল হৃদযন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হন। চারদিন হাসপাতালে কাটানোর পর প্রয়াণ ঘটে এই মহীয়সী নারীর।

স্বাধীনতার আন্দোলনে শহিদ হওয়া বিভিন্ন বিপ্লবীর কথা আমরা ইতিহাসে পড়ি৷ তাদের বীরগাঁথা স্মরণও করি বিশেষ বিশেষ দিনে। কিন্তু, এক বীরাঙ্গনাকে সামনে পেয়েও সম্মান জানাতে ব্যর্থ দেশ। অনেকের মতে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিয়েই রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতার বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি। ফলে সীতা নন, স্বাধীনতার ইতিহাসে উর্মিলা হয়েই রয়ে গিয়েছেন তিনি।

মোহনবাগানের শিল্ড জেতা ছাড়াও ১৯১১ সালে আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল

Mohun Bagan and the fight for Indian independence

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯১১ সাল বললেই বাঙালির মনে পড়ে যায় মোহনাবাগানের ব্রিটিশদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জেতার কথা৷ বাঙালিদের কাছে তো বটেই গোটা দেশের কাছে সেদিনের মোহনবাগানের জয়টা স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে গিয়েছে৷ সেই জয়ের মাধ্যমে যেন পরাধীনতার গ্লানি থেকে আলাদা মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল কলকাতার মানুষ৷

এদিকে ওই বছরটায় বাঙালির জীবনে আরও দু’টি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল৷ একটা হল স্বদেশি আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সরকার পিছু হটে বঙ্গভঙ্গ রদ করেছিল৷ অন্যদিকে পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হবে৷

গত শতাব্দীর শুরুতে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছিল বাঙালির নিয়ন্ত্রণে৷ আর তখন বাঙালিই বলতে গেলে গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছে ৷ ভারতের রাজধানী কলকাতায় বাঙালির প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী মনোভাব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লর্ড কার্জন৷ রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন বাঙালিকে দুর্বল করতে ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগকেই একমাত্র উপায় বলে মনে হয়েছিল বড়লাটের ৷ বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চেয়েছিল, একটি মুসলমান প্রধান রাজ্য গঠন করতে ৷ এর আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্য বিভেদ সৃষ্টি করা ৷ কার্জনের পরিকল্পনা বানচাল করতে নড়ে চড়ে উঠল বাঙালি৷

ওই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবীরা যখন লড়ছে তখনই আবার ফুটবল মাঠে গোরাদের বিরুদ্ধে লড়ে গেল মোহনবাগান৷ ১৯১১সালে ২৯জুলাই ব্রিটিশদের দল ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে মোহনবাগান ক্লাব আই এফ এ শিল্ড জিতল৷ বুট পরা গোরাদের সঙ্গে সেদিন খালি পায়ে খেলে ২-১ গোলে জিতেছিল মোহনবাগান ৷ যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলেনর যুগে অন্যমাত্রা পেয়েছিল৷

কিন্তু এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই অবশ্য ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানাস্থরিত করার কথা ঘোষণা করেছিলেন সম্রাট পঞ্চম জর্জ। আর সেদিনই অবশ্য ঘোষণা করা হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ রদের কথা।

দ্বিতীয় ঘোষণা ঘিরে বাঙালির বিজয়োল্লাসের শেষ ছিল না৷ অনেকেই সেদিন গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন-Settle Fact -কে Unsettle Fact করা গিয়েছে৷ কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদের অন্তরালে এই রাজধানী স্থানান্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দিক থেকে চরম আঘাত আনা হয়েছিল কলকাতার উপর। সেদিনের capital shift এর অর্থ শুধুমাত্র রাজধানী স্থানান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা যে আদতে কলকাতা থেকে মূলধনের স্থানান্তরও ঘটিয়েছিল ৷

বক্তৃতা- গান- বোমার মাধ্যমে যারা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে চেয়েছিলেন তাদের যেন উচিত শিক্ষা দিয়ে গেলেন ব্রিটিশ সম্রাট ৷ তাঁর কূটনৈতিক চাল তখন বুঝতে পারেনি আপামর বাঙালি৷ তখন থেকেই আসলে শুরু হল কলকাতার পতন ৷ আর তার আগে দুই শতাব্দী ধরে নানা আক্রমণে জর্জরিত দিল্লি যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেল৷ কলকাতার এসপ্লানেড- ডালহাউসি অঞ্চল থেকে সরকারি দফতর সরল দিল্লিতে৷ আবার ক্লাইভ স্ট্রিট অথবা চৌরঙ্গিতে থাকা ম্যানেজিং এজেন্সিগুলি কেমন যেন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে লাগল প্রতিদ্বন্দ্বী বম্বের সঙ্গে৷

বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও তার আগে অনেক রক্ত ক্ষয়,জেল দ্বীপান্তর ঘটেছিল ৷ অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমা পরিসীমা থাকল না৷ রাজনৈতিক প্রতিবাদের ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গ আবার একত্রিত হল ঠিকই কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিক এক নতুন মাধ্যমে বিহার, ওডিশা, অসমের অঞ্চলগুলো বঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়।

পাট ও অন্যান্য কৃষি পণ্যে সম্বৃদ্ধ সুর্মা ভ্যালি বেরিয়ে গেল৷ বাদ পড়ল খনিজ সম্পদে সম্বৃদ্ধ মানভূম সিংভূম জেলা৷ একদিকে পাটের মতো কৃষি পণ্য অন্যদিকে লোহা কয়লা ম্যাঙ্গানিজ অভ্র সহ কত রকমের খনিজ পণ্য সম্বৃদ্ধ অঞ্চলকে বাংলা হারাল৷ বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে বাঙালির উপর ভালই প্রতিশোধ নিল ব্রিটিশ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি এমনই অস্থির করে তোলা হল যার জেরে সাড়ে তিন-চার দশক পরে বঙ্গভঙ্গকেই মেনে নিল বাঙালি৷