Helicopter Crash: ৮ দিনের লড়াই শেষে নিয়তির কাছে হার মানলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং

Varun-Singh-dies-in-hospita

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: একটানা ৮ দিন লড়াই চালালেও শেষ রক্ষা হল না। শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে হাসপাতালেই প্রাণ হারালেন কপ্টার দুর্ঘটনায় (Helicopter crash) একমাত্র জীবিত সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং (Varun Singh)। ভারতীয় বায়ুসেনার (indian air force) পক্ষ থেকে বরুণ সিংয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

গত বুধবার তামিলনাড়ু কুন্নুরে (kannur) এমআই-১৭ কপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত (bipin rawat) এবং তার স্ত্রী মধুলিকা। একইসঙ্গে সেদিনের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন আরও ১৩ জন। একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে হাসপাতালে লড়াই চালাচ্ছিলেন বরুণ সিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই তরুণ গ্রুপ ক্যাপ্টেনও মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

কপ্টার দুর্ঘটনায় বরুণের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন তাঁকে ওয়েলিংটনের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে আরও ভাল চিকিৎসার জন্য তাঁকে বেঙ্গালুরু নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তিনি স্থিতিশীল আছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সেই আশ্বাস আর বাস্তবে মিলল না। বরং বরুণকেও কেড়ে নিল নিয়তি।

প্রয়াত গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংয়ের বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল কে পি সিং। কয়েকদিন আগে কে পি সিং জানিয়েছিলেন, তিনি নিশ্চিত যে তাঁর যোদ্ধা ছেলে মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ঘরে ফিরবেন। কিন্তু বাবার সেই আশা পূরণ হল না।

বরুণ সিংয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, বরুণ সিংয়ের প্রয়াণে আমি মর্মাহত। বরুণ সিংয়ের অবদান চিরকাল মনে রাখবে দেশবাসী। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। বরুণ সিংয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও।

Indian Air Force: বায়ুসেনার নয়া প্রধান হচ্ছেন এয়ার মার্শাল ভি আর চৌধুরী

Air marshal v r chaudhari

নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিমান বাহিনী (Indian Air Force) নয়া প্রধান নিযুক্ত হচ্ছেন এয়ার মার্শাল ভি আর চৌধুরী৷ বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়ার ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর নিচ্ছেন৷ তাঁরই জায়গায় নিযুক্ত হচ্ছেন এয়ার মার্শাল ভি আর চৌধুরী৷ তিনি বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ।

কেন্দ্রীয় সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এয়ার মার্শাল ভি আর চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন৷ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন কমান্ড, কর্মী এবং নির্দেশমূলক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন৷

তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং বায়ুসেনা পদক লাভ করেছেন। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এয়ার চিফ মার্শাল ভাদৌরিয়া শীর্ষ পদে বসেন৷ তার ঠিক দুই বছর পর তিনি অবসর নিচ্ছেন৷

এয়ার মার্শাল চৌধুরীর ৩৮,০০০ ঘন্টারও বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ তিনি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমানের বিশেষজ্ঞ৷ তিনি ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বছর শুরুতেই ৩৬ টি রাফালের শেষটি এসে পৌঁছবে ভারতে

নিউজ ডেস্ক: ২০১৬ সালে ফ্রান্সের ড্যাসল্ট কোম্পানি নির্মিত ৩৬ টি ফাইটার জেট রাফাল কিনেছিল ভারত সরকার। তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। ফ্রান্সে এই মামলার পুনর্তদন্ত শুরু হয়েছে ১৪ জুন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন স্বাধীন বিচারককে। এই বিতর্কেই মাঝেই ফ্রান্স থেকে রাফাল এসে পৌঁছাবে ভারতে।

আরও পড়ুন HAL-এর সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল GE Aviation

আগামী তিন মাসে ফ্রান্স থেকে প্রতি মাসে তিনটি করে রাফাল যুদ্ধবিমান পাবে আইএএফ (Indian Air Force)। ড্যাসল্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়া ৩৬ টি রাফালের শেষটি এসে পৌঁছবে আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে। প্রাথমিকভাবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এর সঙ্গে ১২৬ টি ফাইটার বিমান কেনার কথা ছিল। ভারত সরকারের পক্ষে সে চুক্তি ভেঙে ড্যাসল্ট- সঙ্গে চুক্তি করা হয়। বিজেপি সরকার আসার পর নরেন্দ্র মোদি ভারত ফ্রান্সের মধ্যে একটি আন্ত সরকার চুক্তি করেন। ৩৬ টি রাফাল মিডিয়াম মাল্টিরোল কম্বাট এয়ারক্রাফট কেনা হয়।

চলতি বছরের জুলাইতেই হাসিমারায় এসে পৌঁছেছে রাফাল যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়ার পৌরহিত্যে পুনর্গঠিত ১০১ স্কোয়াড্রনে সরকারিভাবে রাফাল যুদ্ধবিমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে হাসিমারায় ভীষণ ভাবনাচিন্তা করেই রাফাল বিমানকে হাসিমারায় মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে, পূর্বাঞ্চলে বায়ুসেনার শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

রাফালের জন্য ১০১ স্কোয়াড্রন ‘ফ্যালকন্স অফ ছাম্ব অ্যান্ড আখনুর’- কে পুনর্গঠন করেছে বায়ুসেনা। ১৯৪৯ সালে পালমে এই স্কোয়াড্রনের গঠন হয়েছিল। অতীতে এই স্কোয়াড্রনের আওতায় ছিল হার্ভার্ড, স্পিটফায়ার, ভ্যাম্পায়ার, এসইউ-৭ এবং মিগ-২১এম যুদ্ধবিমানগুলি। এই স্কোয়াড্রন ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১১ সালে এই স্কোয়াড্রন অবসর নেয়। এখন, রাফাল আসায় এই স্কোয়াড্রনকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। বায়ুসেনা সুত্রে জানা গিয়েছে, শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছানো যুদ্ধবিমানগুলি হবে সবচেয়ে মারাত্মক রাফাল, যা বায়ুসেনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

ভারতীয় বায়ুসেনার জনকের নামেই রয়েছে জনপ্রিয় ফুটবল কাপ

Air Marshal Subroto Mukerjee

বিশেষ প্রতিবেদন: স্বাধীন ভারতের বায়ুসেনার প্রথম ‘কমান্ডার ইন চিফ’ ছিলেন একজন বাঙালি। গোটা ভারতবর্ষ তাঁকে চেনে ‘ভারতীয় বায়ুসেনার জনক’ হিসেবে। ভারতীয় বায়ুসেনার দুঁদে এই পাইলট ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে তাবড় তাবড় শত্রুদের। সেই ‘কমান্ডার’ই আবার ছিলেন ফুটবল পাগল। ভারতের ‘জাতীয় ক্লাব’ মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের আজীবন সদস্য। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নামেই নামকরণ করা হয় দেশের একটা গোটা ফুটবল টুর্নামেন্টের।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, যার বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে সহযোদ্ধা এয়ার মার্শাল অ্যাম্পি ইঞ্জিনিয়র তাঁকে ‘ভারতীয়বায়ুসেনার জনক’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর নামেই খেলা হয় ‘সুব্রত কাপ’।

১৯১১ সালে ৭, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের মামাবাড়িতে জন্ম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। বাবা সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ১৮৯২ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পাশ করেন। পরবর্তীকালে ভারতের সিভিল সার্ভিসের প্রধান কর্মকর্তাও হয়েছিলেন। মা চারুলতা দেবী, সেযুগের প্রেসিডেন্সি কলেজের একমাত্র ছাত্রী, কাজ করতেন নারীশিক্ষা নিয়ে। ঠাকুরদা নিবারণ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম সদস্য। দাদু প্রসন্নকুমার রায় প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ। দিদা সরলা রায় প্রায় একার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘গোখেল মেমোরিয়াল স্কুল’।

Air Marshal Subroto Mukerjee

‘সুব্রত কাপ’ না হোক, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা বলতে গেলেই প্রথমেই আসে তাঁর পরিবারের কথা। তাঁর পূর্ববর্তী প্রজন্মের সবাই নিজেদের জায়গায় অসাধারণত্বের ছাপ রেখেছিলেন। ফলে সেই পরিবারের ছেলে ছোটোবেলা থেকেই পেয়েছিলেন দৃড়চেতা মানসিকতা, শৃঙ্খলপরায়ণ মনোভাব। স্কুল জীবন কেটেছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ইংল্যান্ড মিলিয়ে। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর ইংল্যান্ডের ক্র্যানওয়েলে রয়্যাল এয়ার ফোর্স কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ১৯২৯ সালে ওই কলেজের পরীক্ষায় মাত্র ৬ জন ভারতীয় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ছ’জনের মধ্যে তিনি ছাড়াও ছিলেন এইচসি সরকার, এবি আওয়ান, ভুপেন্দর সিং, অমরজিৎ সিং ও জেএন ট্যান্ডন।

২৮ বছর ধরে এয়ারফোর্সকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাকে। ১৯৩২ সালে রয়্যাল এয়ারফোর্সে যোগ দেন। ১৯৩৯ সালে হন এয়ারফোর্সের প্রথম ভারতীয় স্কোয়াড্রন লীডার। তার পাঁচ বছর পরে, ১৯৪৩ সালে এয়ারফোর্সের প্রথম ভারতীয় কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে হব স্বাধীন ভারতের প্রথম ডেপুটি চীফ অফ এয়ার স্টাফ। ১৯৫৪ সালে এয়ার মার্শাল হন। চারবছর এয়ার মার্শাল পদ থাকার পর ১৯৬০ সালে কর্মজীবন শেষ হয় তাঁর। কর্মজীবনের বৈচিত্রের জন্য ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ পুরস্কারও পান তিনি। ১৯৬০ সালে, রিটায়ারমেন্টের পরেই একটি টেকনিক্যাল মিশনের চীফ হয়ে জাপানে যান। সেখানে একটি রেস্তরায় ডিনার খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

Rank Promotions
• Pilot Officer, RAF: 1 September 1932
• Flying Officer: 1936
• Flight Lieutenant: 16 March 1939
• Acting Squadron Leader: 25 August 1939
• Acting Wing Commander: 1 November 1942
• Squadron Leader: 1943
• Wing Commander, RIAF: 1945
• Group Captain: 6 March 1946
• Air Commodore: 15 May 1947
• Acting Air Vice-Marshal: 27 September 1948
• Air Vice-Marshal: 1 February 1949
• Acting Air Marshal (Commander-in-Chief, IAF): 1 April 1954
• Air Marshal (Chief of the Air Staff, Indian Air Force): 1 April 1955